জাতীয় নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টি ও সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্টের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির (এনসিএসএ) পক্ষ থেকে মেটার কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিটি মেটার ভাইস প্রেসিডেন্ট (পাবলিক পলিসি) সাইমন মিলনার, পরিচালক (পাবলিক পলিসি, আঞ্চলিক কার্যালয়) সারিম আজিজ এবং হেড অব হিউম্যান রাইটস পলিসি ফ্রেডেরিক রসকির কাছে পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহিংসতা উসকে দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচালের চেষ্টা চলছে।
এনসিএসএ জানিয়েছে, বাংলাদেশে মেটার কোনো স্থানীয় কার্যালয় না থাকায় জরুরি নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত যোগাযোগ সাধারণত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এনসিএসএর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ফেসবুকসহ মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সহিংসতা উসকানোর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিছু পক্ষ ফেসবুকে প্রকাশ্যে এসব ঘটনার সমর্থন জানিয়ে সহিংসতা উসকিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাস্তব জীবনেও দেখা গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকানিমূলক কনটেন্ট বন্ধে একাধিক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার অনুরোধ জানানো হলেও মেটা সময়মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। চিঠিতে মেটাকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত কনটেন্টে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ, বাংলা ভাষায় কনটেন্ট মডারেশন ও সেন্টিমেন্ট অ্যানালাইসিস জোরদার এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাড়তি নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শুক্রবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতার আহ্বান জানানো যেকোনো পোস্ট সরাসরি রিপোর্ট করা যাবে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি শনিবার থেকে হোয়াটসঅ্যাপ (০১৩০৮৩৩২৫৯২) ও ই-মেইল (notify@ncsa.gov.bd) এর মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে গুগল, মেটা ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ জানিয়ে থাকে। গুগলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সরকারের ২৭৯টি অনুরোধে মোট ১ হাজার ২৩টি আইটেম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইউটিউব জানিয়েছে, একই সময়ে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে। মেটার স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ৩ হাজার ৭৭১টি অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তৈরি পোশাক খাতের (আরএমজি) শ্রমিক ও তাদের শিশুদের অধিকার, কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানীতে একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন দ্য রাইটস অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অব আরএমজি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড দেয়ার চিলড্রেন’ শীর্ষক এই আয়োজন করা হয়। এডুকো বাংলাদেশ ও সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপে উন্নয়ন সংস্থা, সরকারি প্রতিনিধি, শ্রম অধিকারকর্মী, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও সুধী সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলাই এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য। এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদ বলেন, শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণে বিনিয়োগ শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে স্মাইল প্রকল্পের কার্যক্রম ও লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রজেক্ট ম্যানেজার রাফেজা আক্তার। পাশাপাশি প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে উপস্থাপনায় শ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশুদের শিক্ষা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও ডে-কেয়ার সুবিধার অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞ ও অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিকদের অধিকার, মানসিক সুস্থতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, শিশু পরিচর্যা এবং টেকসই কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত দেন। সংলাপে উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগও রাখা হয়। অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সংগঠন প্রতিনিধি ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, শিল্পখাত ও উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, স্মাইল প্রকল্প বর্তমানে দেশের ১৯টি তৈরি পোশাক কারখানায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় ডে-কেয়ার সেন্টার ও কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ও যত্নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সাফল্যভিত্তিক প্রকাশনা ‘ভয়েস অব চেঞ্জ’ এবং এডুকোর বার্ষিক প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এডুকো বাংলাদেশ জানায়, তারা ১৯৯৯ সাল থেকে দেশে শিশুদের শিক্ষা, সুরক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করছে এবং বর্তমানে ১২টি জেলায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। আজ সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে শ্রমিক কল্যাণ, নগর ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরো বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য, শিল্পায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করা প্রয়োজন। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অপরদিকে, চীনের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নির্মাণ খাত এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়। সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসি, উন্নয়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অধীনস্ত দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–কে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রতিও ন্যায়বিচার বা “ইনসাফ” নিশ্চিত করা হবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনো জায়গা নেই। যেকোনো অভিযোগ, মামলা বা বিচারিক কার্যক্রম আইন ও সংবিধানের আলোকে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হবে, আবার যার অধিকার আছে, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের ইনসাফ থাকবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–কে ঘিরে বিভিন্ন মামলা, অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে “ইনসাফ” বা ন্যায়বিচারের আশ্বাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।