ফেব্রুয়ারি ১৬, বেইজিং সময় রাত ৮টা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের চোখ তখন চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আয়োজন—চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজিত ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালার দিকে। ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি, রুশসহ ৮৫টি ভাষার টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩,৩০০টির বেশি গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়েছে।
এ বছর চীনা চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী ‘অশ্ব বর্ষ’।
চীনা সংস্কৃতিতে ঘোড়া আত্মউন্নয়ন, অধ্যবসায় ও অগ্রগতির প্রতীক। সেই দর্শনকে সামনে রেখে এবারের গালার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সুদক্ষ ঘোড়া ছুটে আসছে, তার গতি অপ্রতিরোধ্য’, যা মানুষকে স্বপ্ন পূরণের পথে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অনুপ্রেরণা দেয়।
১৯৮৩ সাল থেকে সম্প্রচারিত হয়ে আসা এই গালা এখন বিশ্বব্যাপী চীনা পরিবারগুলোর পুনর্মিলনী উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ও অঞ্চলে বসন্ত উৎসব সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃত, এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে এই উৎসব উদযাপন করে।
ইয়
প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ
এবারের গালার অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এআইজিসি প্রযুক্তির ব্যবহার। হাজার হাজার ঘোড়ার সম্মিলিত দৌড়ের দৃশ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেশম পথ’-প্রেরণায় নির্মিত নৃত্য পরিবেশনায় প্রাচীন দেয়ালচিত্রের ঘোড়াকে যেন বাস্তব জগতে নিয়ে আসা হয়েছে।
দড়াবাজি বা অ্যাক্রোব্যাটিক পরিবেশনায়ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহার দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
ঐতিহ্যবাহী কসরতের সঙ্গে আধুনিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দর্শকরা একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রযুক্তিগত সৌন্দর্যের নতুন অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে গালার সমাপনী গান হিসেবে পরিবেশিত হয়ে আসা ‘অবিস্মরণীয় আজকের রাত’ গানটিও এ বছর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রোবটের যুগে সাংস্কৃতিক মঞ্চ
২০২৬ সালের গালা শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের প্রদর্শনীও হয়ে উঠেছে। সিএমজি’র স্টুডিওতে চার ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট কাজ করছে—কেউ মঞ্চে পারফর্ম করছে, কেউ নেপথ্যে সেবা দিচ্ছে।
গ্যালাক্সি জেনারেল, সংইয়ান ডাইনামিক্স, ইউশু টেকনোলজি এবং ম্যাজিক অ্যাটম—এই চার প্রতিষ্ঠানের রোবট একসঙ্গে মঞ্চে অংশ নিচ্ছে।
২০২৫ সালের গালায় প্রথমবার রোবট পারফরম্যান্সের সূচনা হলেও এবারের আয়োজন চীনের হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ের হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের একটি বাস্তব উদাহরণ। গালার মঞ্চ থেকে শিল্পক্ষেত্রে রোবটের বিস্তৃত প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
বরফের শহর হারবিনে অনন্য শাখা ভেন্যু
চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর হারবিন এবারের গালার শাখা ভেন্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ। ‘বরফ শহর’ নামে পরিচিত এই শহরের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে বরফ ও তুষার দিয়ে।
হারবিন আইস ওয়ার্ল্ডে নির্মিত মঞ্চে বড় প্রযুক্তিগত পর্দা না থাকলেও বরফের স্বচ্ছতা ও আলোছায়ার অনন্য সমন্বয় দর্শকদের এক বিশেষ আবহ উপহার দিয়েছে। স্থানীয় শিল্পী, অভিনেতা ও গায়কদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো শহরের আন্তরিকতা ও উৎসবমুখর পরিবেশকে তুলে ধরেছে।
দুবাইয়ের আকাশে চীনা উৎসবের আলো
চীনা বসন্ত উৎসবের বৈশ্বিক প্রভাবের আরেকটি প্রতীক দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ খলিফা ভবনে। বসন্ত উৎসবের প্রাক্কালে সেখানে সিএমজি’র বিশেষ আলোক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়, যা টানা সপ্তম বছর অনুষ্ঠিত হলো।
প্রদর্শনীতে গালার মাসকট, প্রাচীন চীনা অক্ষরে ‘ঘোড়া’, এবং দ্রুতগামী ঘোড়ার দৃশ্য ভবনের গায়ে ভেসে ওঠে। আয়োজকদের মতে, এটি নতুন যুগে চীনের সাহসিকতা, সংগ্রাম ও উন্নয়নের প্রতীক।
ঘোড়া চীন ও আরব—উভয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক হওয়ায় এই আয়োজন দুই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংযোগও তুলে ধরেছে। অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এই প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুভেচ্ছা ও কূটনৈতিক বার্তা
চীনা নববর্ষ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা চীনা জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়া-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীনের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এ ছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও চীনের উন্নয়ন ও জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
বিশ্বায়নের প্রতীক
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক বন্ধনের এক অনন্য সম্মিলন।
বেইজিংয়ের মঞ্চ থেকে হারবিনের বরফ নগরী, আবার দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবন পর্যন্ত—চীনা নববর্ষ এখন সত্যিই বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আয়োজন দেখিয়ে দিয়েছে—ঐতিহ্য যখন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সংস্কৃতি যখন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়, তখন একটি উৎসব শুধু একটি দেশের নয়, পুরো মানবসমাজের সম্পদ হয়ে ওঠে।
সূত্র: সিএমজি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা স্মারক সই হবে। এই সমঝোতা স্মারক হবে দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পথে প্রথম ধাপ। আর এনিয়ে আলোচনার একেবারে শেষ মুহূর্তে বড় একটি ছাড়ও আদায় করে নিয়েছে তেহরান। যার আওতায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ফি বা টোল আরোপের সুবিধা আদায় করে নিয়েছে ইরান। একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি সংশোধনীর মাধ্যমে এই সুবিধা নিয়েছে ইরান। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) চূড়ান্ত করার স্বার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথের ওপর কেবল ইরান ও ওমানের যৌথ কর্তৃত্ব বা সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আগামী ৬০ দিনের জন্য তেহরান এই প্রণালী দিয়ে অবাধ ও টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দেবে। তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা, নৌচলাচল, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বীমা সংক্রান্ত সেবার ব্যয় মেটাতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে টোল দিতে হবে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রধান এই তেল সরবরাহ রুটটি "স্থায়ীভাবে টোল-মুক্ত" থাকবে বলে দাবি করার পরই ইরানের পক্ষ থেকে নতুন এই তথ্য সামনে এল। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, "আলোচনার শেষ মুহূর্তে সমঝোতা স্মারকের খসড়াটি সংশোধন করা হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান ও ওমানের যৌথ সার্বভৌমত্বের বিষয়টি পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্টভাবে বজায় থাকে।" মূল ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে তেহরান এই সামুদ্রিক সেবা ফি সংক্রান্ত ধারাটি চুক্তিতে যুক্ত করে। "এখানে 'সামুদ্রিক সেবা' (ম্যারিটাইম সার্ভিসেস) শব্দবন্ধটি ব্যবহারের অর্থ হলো—ইরানকে যে ফি প্রদান করা হবে, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়েছে" –বলে উল্লেখ করে ফার্স নিউজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজে ইরানের পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইনগুলো অপসারণের করার কাজ শেষ হলে, আগামী শুক্রবার থেকেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় পুরোদমে খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাগবিতণ্ডার অভিযোগে এক বিমানবালাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্পাইসজেট। যাত্রীদের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেই বিমানবালাকে বরখাস্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ জুন। সেদিন দিল্লিগামী স্পাইসজেটের এসজি-১৫১ ফ্লাইটটি প্রথমে বিলম্বিত এবং পরে বাতিল করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ যাত্রীদের সঙ্গে এক কর্মীর তর্কের ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। স্পাইসজেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজটি বাগডোগরার পরিবর্তে কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। পরে বিমানবন্দরের নির্ধারিত কার্যক্রমের সময়সীমাজনিত কারণে ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়। ফ্লাইট বাতিলের পর কিছু যাত্রী ও কর্মীদের মধ্যে মৌখিক বিরোধের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। স্পাইসজেট বলেছে, যদিও আবহাওয়া পরিস্থিতি বিমান সংস্থার নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তবুও আমাদের যাত্রীদের এই অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমাদের যাত্রী এবং কার্যক্রমের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। স্পাইসজেট আরও জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং ভিডিওতে দেখা যাওয়া বিমানবালার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য রিফ্রেশার প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী যাত্রীদের প্রতি বিমানবালার আচরণের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ এই বাকবিতণ্ডার পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যালোচনা করবে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। সূত্র : এনডিটিভি
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির খসড়া দেখা ও পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল তেলআবিব। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্পর্কে অবগত নয় ইসরাইল। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হতে যাওয়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো জানে না ইসরাইল। যদিও এ ধরনের কোনো অনুরোধ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। খবর আনাদোলুর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) দেখতে চেয়ে ইসরাইলের করা একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকটি দেখার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। তবে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলুকে তিনি বলেন, তেলআবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে ‘এ ধরনের কোনো অনুরোধই’ জানায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ইসরাইলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সমন্বয়’ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকটির ‘প্রতিটি শব্দ’ পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই নথির বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে ১৪টি ধারা রয়েছে। এসব প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ধারাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরান পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি সই হবে এবং এর পর হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান— কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।