অন্যান্য

নির্বাচনী আসনের খোঁজ নিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬


দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতা ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ নানাভাবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি ঘরোয়াভাবে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। জামায়াত আমিরের একান্ত সহকারী ডা. নজরুল ইসলাম কালবেলাকে এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার সারাদিনই নানারকম কাজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি সকালে তার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর তিনি সকাল ১১ টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।

ডা. নজরুল ইসলাম আরও জানান, এরপর জামায়াত আমির সারাদেশের যেসব স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে জামায়াত আমির ১৫ দিনে প্রায় সারাদেশ সফর করে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। নিজের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫ তে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

ইইউ’র নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক:-

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইইউ’র স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইইউ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন।

এ সময় ইইউ’র পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ’র ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করবে। ভবিষ্যতে ইইউ ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সরকার, ভারত ও প্রতিপক্ষকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের

গণরায়ের বাস্তবায়ন, ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিতের দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দল। সমাবেশ থেকে সরকার, ভারত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।   আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “গণরায় বাস্তবায়ন” এবং “পদ্মায় পানির ন্যায্য হিস্যা” আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন নেতাকর্মীরা।   সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। বিএনপি দলীয় কোটায় ৫২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বেঈমানি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   ভারতের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তি নিয়ে টান দিলে কাউকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। কারো রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে তিস্তা ও পদ্মায় পানি আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, এটি যেন শুধু লোক দেখানো প্রকল্প না হয়। জনগণ এর বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন হঠাৎ করে আসেনি; এর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের ত্যাগ ও রক্ত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ভয়কে জয় করে রাজপথে নেমেছিল বলেই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছে।’   তিনি বলেন, ‘যে তরুণ-তরুণীরা বুক চিতিয়ে গুলির মুখে আন্দোলন করেছে, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’   তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজ যারা ক্ষমতায় বসে আছেন, তারাই এখন আন্দোলনের সেই শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছেন। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে অতীতে যেভাবে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে, বর্তমান সরকারের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।’   সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা সংবিধান সংস্কার ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে এখন সেই প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারাই বলেছিলেন দেশকে মেরামত করতে হবে, সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এখন বলছেন সংস্কার কী জিনিস তা বুঝেন না। তাহলে কি না বুঝেই এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?’   তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।’   বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি বন্ধে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে উল্টো বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। যে পথে অতীতে স্বৈরাচার হেঁটেছিল, আপনারাও একই পথে হাঁটছেন।’   দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশে এখন সর্বত্র চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মহাউৎসব চলছে। ক্ষমতাসীনদের কেউই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে, মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবাই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। না হলে কেন এসব বন্ধ হচ্ছে না?’   বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে শিক্ষা ও প্রশাসন ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্রশাসনে যদি দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে দলকানা লোক বসানো হয়, তাহলে এর খেসারত শুধু জাতিকেই নয়, সরকারকেও দিতে হবে।’   সমাবেশে তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও জোরালো বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা এখন শুকনো মৌসুমে প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং বর্ষায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভোগ। সরকার পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।   একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিস্তার পানি আমাদের ন্যায্য পাওনা, পদ্মার পানিও আমাদের ন্যায্য পাওনা। দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদী আজ মৃতপ্রায় হয়ে গেছে। নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তবে দেশের দিকে ‘লাল চোখ’ দেখানো হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। এটা তিতুমীর ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বাংলাদেশ। আমাদের শান্তিতে আঘাত করলে কারও শান্তি থাকবে না।’   সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষের দেশ। এখানে সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে এবং কোনো সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।’   তিনি বলেন, সংসদে জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু সেখানে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথেই জনগণের পার্লামেন্ট গড়ে উঠবে। তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জান দেব, কিন্তু দেশের মান দেব না ইনশাল্লাহ।’   জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিবির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারের পারফরম্যান্সেই নির্ভর করবে মধ্যবর্তী নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

এনসিপি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি : সংগৃহীত

তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, জানালেন আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত
একসঙ্গে পদত্যাগ করলেন এনসিপির ২২ নেতাকর্মী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি থেকে একযোগে ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে একাধিক যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সদস্য রয়েছেন।   শুক্রবার (১৫ মে) সকালে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নারী কেলেঙ্কারি ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা। পদত্যাগী দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, দলের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমরা এ কমিটির পুনর্মূল্যায়ন চাই। আমরা কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিষয়টি জানাব। পদত্যাগ করা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ বলেন, আদর্শ, নৈতিকতা ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার প্রত্যাশা থেকে আমরা এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক কমিটি গঠন ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ। রাজনৈতিক সংগঠনে দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতেও তারা জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান। পদত্যাগ করা নেতাকর্মীদের মধ্যে আছেন- সৈয়দ এহছানুল হক (যুগ্ম আহ্বায়ক), কামরুল কায়েস (যুগ্ম আহ্বায়ক), মো. সোহরাব চৌধুরী (যুগ্ম সদস্যসচিব), হামিদুল ইসলাম (যুগ্ম সদস্যসচিব), বদিউল আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব), মোহাম্মদ সরোয়ার আলম (যুগ্ম সদস্যসচিব) ও ইকবাল মাসুদ (যুগ্ম সদস্যসচিব), রকিবুল ইসলাম (সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক), ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সাদমানুর রহমান চৌধুরী (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ কারিওল মাওলা (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ আকরাম হোসেন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোশাররফ হোসেন রবিন (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), নুরুল আবছার সাইবান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোস্তফা রাশেদ আজগর (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক), মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ (দফতর সম্পাদক), মো. নুরুদ্দীন (সমাজকল্যাণ সম্পাদক), মোহাম্মদ বেলাল হোসেন (সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক), মো. ওমর সাঈদ (সদস্য) ও তাহজীব চৌধুরী (সদস্য)।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৬, ২০২৬
রংপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির সময় অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতকে কিছুই জানায়নি: জামায়াতের আমির

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটে এক লাখ ৬০ হাজার ডলারসহ যুবক আটক

এনসিপির লোগো ও প্রতীক

এনসিপির ২২ নেতাকর্মীর একযোগে পদত্যাগ

ছবি : সংগৃহীত
এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ, থাকছে না একাধিক শীর্ষ পদ

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলটির ইসি কমিটির সাম্প্রতিক সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বিলুপ্ত করে নতুন কাঠামোয় দল পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।   দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইসি কমিটির সভায় ৬১ সদস্যের মধ্যে অর্ধেকের বেশি সদস্য অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর বর্তমান সাংগঠনিক বিন্যাসে পরিবর্তন আনার বিষয়ে অধিকাংশ সদস্য একমত হন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) ও মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) পদও আর রাখা হচ্ছে না। নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোতে পুরো কমিটি আহ্বায়ক কমিটি হিসেবে পরিচালিত হবে। সেখানে আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা থাকবেন। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ও দুজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়োগের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সভা সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, আগামীকাল অনুষ্ঠেয় সাধারণ সভায় এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সাধারণ সভায় অনুমোদন মিললে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন কাঠামোর কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত এ কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে। তবে সভায় অধিকাংশ সদস্য নতুন কাঠামোর পক্ষে মত দিলেও কয়েকজন সদস্য বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের পাশে মাসুদ সাঈদী

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে গেলেন মাসুদ সাইদী

১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ

0 Comments