খেলাধুলা

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৯২ বছর ধরে অপরাজিত ব্রাজিল

আক্তারুজ্জামান জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিলের একটি অনন্য রেকর্ড এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী বা নিজেদের প্রথম ম্যাচে টানা ৯২ বছর ধরে কোনো পরাজয়ের মুখ দেখেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি।

 

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে সর্বশেষ হার আসে ১৯৩৪ সালে। সেবার ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল সেলেসাওরা। এর আগে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষেও ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।

 

তবে ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া নতুন অধ্যায়ে প্রথম ম্যাচে আর হারেনি ব্রাজিল। এরপর থেকে টানা ২০টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিরা।

 

এই সময়ে খেলা ২০টি উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতে জয় পেয়েছে ব্রাজিল, আর ৩টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সবচেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও তাদের দখলে।

 

ব্রাজিলের এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বেশি প্রতিপক্ষ ছিল মেক্সিকো। ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৬২ ও ২০১৪ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকোর মুখোমুখি হয়েছিল তারা। চার ম্যাচেই জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের জালে মোট ১৪ গোল করেছে ব্রাজিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব ম্যাচে একবারও গোল হজম করেনি সেলেসাওরা।

 

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিটি আসরে অংশ নেওয়া একমাত্র দল ব্রাজিল। সেই ধারাবাহিকতার সঙ্গে উদ্বোধনী ম্যাচে প্রায় এক শতাব্দীর অপরাজিত রেকর্ড যোগ হয়ে তাদের ফুটবল ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে ম্যাচসেরা মিরাজ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। স্রেফ ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ৪ উইকেট শিকারের সুবাদে জিতল গায়ানা। ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের ম্যাচে মিরাজ ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতলেন। ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক গায়ানা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান তোলে। ৪ ওভারে স্রেফ ২৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। পরে লক্ষ্য তাড়ায় ১৮.৪ ওভারে গন্তব্যে পৌঁছে যায় ইমরান তাহিরের নেতৃত্বাধীন গায়ানা। এর আগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো শুরু পেয়েছিল। ৪.৩ ওভারে ৪১ রান তোলার পর তাদের প্রথম আঘাতটা দেন মিরাজ। ১৬ বলে ২৬ রান করা কলিন মুনরোকে বোল্ড করে দেন বাংলাদেশি তারকা। ২২ রান করা অ্যালেক্স হেলসকে থামান আগের ম্যাচে সর্বোচ্চ বয়সে (৪৭) ফাইফারের বিশ্বরেকর্ড গড়া ইমরান তাহির।  জাস্টিন গ্রিভস মাঝে ৩৭ বলে ৩৫ রান করেন। এ ছাড়া ত্রিনবাগোর আর কোনো ব্যাটারই দলের হাল ধরতে পারেননি। নিকোলাস পুরানকে প্রথম বলেই বোল্ড করার পর জিড গুলি ও সুনীল নারিনকেও আউট করেছেন মিরাজ। ত্রিনবাগোকে ১২৬ রানে থামিয়ে দেওয়ার পথে টাইগার স্পিনার ৪টি এবং শামার জোসেফ ২ উইকেট শিকার করেন। পরে লক্ষ্য তাড়ায় গায়ানা দুই ওপেনার মাভেন্দ্র দিনদিয়াল ও গ্লেন ফিলিপসকে হারায় ৩৬ রানের মাথায়। এরপর শিমরন হেটমায়ার (৩৫ বলে ৪২) ও শাই হোপ (১৯ বলে ২৮) দলকে জয়ের পথে টেনে নিয়ে যান। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুই করতে পারেননি মিরাজ। ১৪ বল খেলে করেছেন স্রেফ ২ রান। তবে জয় পেতে অসুবিধা হয়নি গায়ানার। আগে থেকেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটির ৯ ম্যাচে পয়েন্ট ১৬। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে দুই নম্বরে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
সংগৃহীত

রিজওয়ান-ইমামের মোবাইল জব্দ, ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

ছক্কার ঝড়ে পাকিস্তানকে বাঁচালেন রাজাউল্লাহ, ম্যাচ গড়াল চতুর্থ দিনে

ছবি: সংগৃহীত

তিন মাসের চুক্তিতে সান্তোসে কুতিনহো

ছবি: সংগৃহীত
এস্তেহেইজেনের সেঞ্চুরিতে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

আগের ম্যাচে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলা জর্ডান হার্মান এবার থামলেন অল্পেই। তবে জ্বলে উঠলেন আরেক ওপেনার কনর এস্তেহেইজেন। চমৎকার ব্যাটিংয়ে তিনি উপহার দিলেন সেঞ্চুরি। সঙ্গে বাকিদের অবদানে বড় সংগ্রহ গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। ডুয়ান ইয়ানসেন ও ইথান বশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না নামিবিয়া।   উইন্ডহকে শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৫৭ রানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৩৫ রানের পুঁজি গড়ে নামিবিয়াকে ১৭৮ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।   বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ৯৯ রানে জেতে প্রোটিয়ারা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল তারা।   ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে এস্তেহেইজেন করেন ১১৯ রান। তার ১১০ বলের ইনিংসটি সাজানো ছয়টি ছক্কা ও আটটি চারে। প্রথম ম্যাচে সত্তর ছোঁয়া ইনিংস খেলা টনি ডি জর্জি এবার একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে করেন ৭৯ রান।   নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৬৮ রান করেন। দলটির আর কেউ ত্রিশ পার হতে পারেননি।   দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা ডুয়ান ইয়ানসেন ৩১ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন। তিনি মার্কো ইয়ানসেনের যমজ ভাই। কর্বিন বশের ছোট ভাই ইথান ২৭ রান দিয়ে ৩ শিকার ধরেন।   টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন প্রথম ম্যাচে ১৫০ রান করা হার্মান। কিন্তু সপ্তম ওভারে লেগ সাইডে ক্যাচ দিয়ে বাজে তার বিদায় ঘন্টা। পরে ডি জর্জির সঙ্গে ১৮৩ রানের জুটি গড়েন এস্তেহেইজেন।   ৭৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন এস্তেহেইজেন। দ্রুত রান বাড়ানো ডি জর্জির পঞ্চাশ আসে ৫৮ বলে। তাকে বিদায় করে জমে যাওয়া জুটি ভাঙেন জ্যাক ব্রাসেল।   ফিফটির পর রানের গতিতে দম দেন এস্তেহেইজেন। এরাসমাসকে ছক্কায় উড়িয়ে ঠিক ১০০ বলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি। পঞ্চাশ থেকে একশ ছুঁতে তার লাগে ২৭ বল।   রুবেন ট্রাম্পেলমানের বলে মিড-অফে সহজ ক্যাচ দিয়ে থামেন এস্তেহেইজেন। ৩ ছক্কায় ৩৭ রান করে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ৪ ছক্কায় ১৩ বলে ২৯ রানের ক্যামিও খেলেন ইথান।   বড় রান তাড়ায় নামিবিয়ার শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ১ রানে ৩ উইকেট হারায় তারা। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানের কেউ রানের খাতা খুলতে পারেননি।   দলটির ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল চলতেই থাকে। ৫৯ রানে যায় তাদের ষষ্ঠ উইকেট। সেখান থেকে দলের রান একশ পা করেন এরাসমাস ও ইয়ান বাল্ট। দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বাল্টকে রানআউট করে ৭১ রানের জুটি ভাঙেন ব্রেভিস।   ৫৮ বলে ফিফটি করে ইনিংস বড় করতে পারেননি এরাসমাস। একটি ছক্কা ও চারটি চারে ৩০ রান করে ট্রাম্পেলমান।   দুই দলের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী রোববার।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৩৫/৯ (হার্মান ২০, এস্তেহেইজেন ১১৯, ডি জর্জি ৭৯, ব্রিটস্কি ৪, ব্রেভিস ৩৭, স্মিথ ১৮, ইথান ২৯, ইয়ানসেন ২, সুব্রায়েন ৪, পিটার ১*, মোকেয়ানা ৭*; ট্রাম্পেলমান ১০-১-৫৭-২, ব্রাসেল ১০-০-৬৪-৪, বাল্ট ১০-০-৭০-২, স্মিথ ৯-১-৫৬-০, লফটি-ইটন ৭-০-৫৪-১, এরাসমাস ৪-০-২৭-০)   নামিবিয়া: ৪১.৫ ওভারে ১৭৮ (ফন লিঙ্গেন ০, ক্রুগার ০, ফ্রাইলিঙ্ক ০, স্টিনক্যাম্প ১২, এরাসমাস ৬৮, লফটি-ইটন ৬, গ্রিন ১১, বাল্ট ২৬, ট্রাম্পেলমান ৩০, স্মিথ ১০, ব্রাসেল ২*; ইয়ানসেন ৯-২-৩১-৪, ইথান ৭.৫-১-২৭-৩, মোকেয়েনা ৭-০-৩১-১, স্মিথ ৪-১-১৪-১, সুব্রায়েন ৭-০-২৬-০, পিটার ৭-০-৪৭-০)   ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫৭ রানে জয়ী ম্যান অব দা ম্যাচ: কনর এস্তেহেইজেন সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমা চাইতে হবে না, গোল করুক আলভারেস

সংগৃহীত ছবি

মেসি-রোনালদোকে ঘিরে লা লিগায় নতুন চমক, বড় ইঙ্গিত সভাপতির

সংগৃহীত ছবি

মেসির ৭ কীর্তিতে ভাগ বসানোর দৌড়ে রাফিনিয়া

ছবি: সংগৃহীত
নেইমারের সান্তোসে এবার কৌতিনিয়ো, বন্ধুত্বে মিলল দুই ব্রাজিলিয়ান তারকা

ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফেলিপে কৌতিনিয়ো। ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসে যোগ দিয়েছেন সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা তারকা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বন্ধু নেইমার জুনিয়রের সঙ্গে একই ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ তৈরি হলো তার।   ৩৪ বছর বয়সী কৌতিনিয়ো মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে দীর্ঘ সময় কাটালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। এবার ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফিরে সান্তোসের কঠিন সময় কাটানোর দায়িত্ব নিতে হচ্ছে অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে।   সান্তোস বর্তমানে ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা ব্রাসিলেইরাওয়ে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই। ২৫ ম্যাচ শেষে দলটির জয় ও ড্র—দুটিই আটটি করে। পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান ১৩তম। ফলে দলের আক্রমণভাগে অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে কৌতিনিয়োর মতো একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।   নেইমারের চোটে নতুন সমীকরণ: কৌতিনিয়োর সান্তোসে যোগ দেওয়ার সময়টিও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতির পর শৈশবের ক্লাবে ফিরে দলটিকে সাফল্যের পথে ফেরানোর চেষ্টা করছিলেন নেইমার। কিন্তু সম্প্রতি ডান উরুর রেকটাস ফেমোরিস পেশিতে গ্রেড-২বি ধরনের চোট পাওয়ায় তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। গত মৌসুমেও চোটের সমস্যা নিয়েই সান্তোসের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নেইমার। দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এবার তার অনুপস্থিতিতে দলের সৃজনশীলতা ধরে রাখতে কৌতিনিয়োকে দ্রুত দলে টেনেছে সান্তোস। নেইমার ও কৌতিনিয়োর বন্ধুত্ব অবশ্য নতুন নয়। ব্রাজিলের ফুটবলে বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় ও বন্ধুত্ব রয়েছে। যদিও শৈশবে দুজন ছিলেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবে—কৌতিনিয়ো সান্তোসের প্রতিপক্ষ ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলেছেন, আর নেইমার ছিলেন সান্তোসের তারকা। এবার সেই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প পেছনে ফেলে একই ক্লাবের জার্সিতে তাদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি: দলবদলবিষয়ক ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, কৌতিনিয়োর সঙ্গে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে সান্তোস। তবে নেইমারের চোটের কারণে দুজনকে একসঙ্গে মাঠে দেখার জন্য আপাতত অপেক্ষা করতে হবে। নেইমার কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন, সেটিই এখন সান্তোস সমর্থকদের বড় প্রশ্ন। সান্তোসের লক্ষ্য অবশ্য পরিষ্কার—কঠিন মৌসুমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। আর সেই পরিকল্পনায় কৌতিনিয়োর অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা দলটিকে কতটা এগিয়ে নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ফাইল ছবি

স্কালোনিকে রাখতে চায় আর্জেন্টিনা, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কারণ

ছবি: সংগৃহীত

ড্র দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এএস রোমার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন

সংগৃহীত ছবি

সেমিফাইনালেই শেষ বাংলাদেশের এশিয়া কাপ স্বপ্ন

0 Comments