ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর অপেক্ষা এখন শেষ পর্যায়ে। টুর্নামেন্ট শুরু হতে বাকি মাত্র ২৭ দিন। এই উপলক্ষে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা প্রকাশ করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী তথ্য।
ফিফার তথ্যমতে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ২৭ জোড়া বাবা ও ছেলে খেলোয়াড় হিসেবে মূল পর্বে অংশ নিয়েছেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে সবসময়ই বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।
বিশ্বকাপে প্রথম বাবা-ছেলের রেকর্ড গড়েছিলেন মেক্সিকোর লুইস পেরেজ ও তার ছেলে মারিও পেরেজ। লুইস অংশ নিয়েছিলেন ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে, আর মারিও খেলেছিলেন ১৯৫০ সালের আসরে।
ইতিহাসে ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করা বাবা-ছেলের উদাহরণও রয়েছে। মার্তি পান্তোলরা ১৯৩৪ বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে খেললেও তার ছেলে হোসে পান্তোলরা ১৯৭০ সালে প্রতিনিধিত্ব করেন মেক্সিকোর হয়ে।
এদিকে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার লিলিয়ান থুরাম এবং তার ছেলে মার্কাস থুরাম-এর গল্পও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। লিলিয়ান থুরাম ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে মার্কাস থুরাম খেলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে, যদিও সেবার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায় ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে পরিবারভিত্তিক এই ধারাবাহিকতা ফুটবলের আবেগ ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চব্বিশ ঘণ্টার স্পোর্টস টেলিভিশনের ধারণা দিয়ে ক্রীড়া সম্প্রচারের চেহারা বদলে দেওয়া ইএসপিএনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল রাসমুসেন আর নেই; তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। পারকিনসন ডিজিজে আক্রান্ত রাসমুসেন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে মারা যান বলে ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। ২০১৯ সালে রাসমুসেন প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে তার পারকিনসন রোগ ধরা পড়ে। তার মৃত্যুর খবর দিয়ে ইএসপিএন চেয়ারম্যান জিমি পিটারো তাকে ‘দূরদর্শী একজন উদ্ভাবক’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তার ভাষায়, ইএসপিএনের সংস্কৃতিতে তার উদ্ভাবনী চিন্তা, পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা মানসিকতার প্রভাব এখনো রয়েছে। রাসমুসেনের ক্রীড়া টেলিভিশন তৈরির ভাবনার শুরু ১৯৭৮ সালে। ওয়ার্ল্ড হকি অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএইচএ) দল নিউ ইংল্যান্ড হোয়েলার্সের জনসংযোগ কর্মকর্তার চাকরিটা সবে হারিয়েছেন। ওই বছর অগাস্টে এক শুক্রবার বিকেলে কানেটিকাটের ইন্টারস্টেট-৮৪ মহাসড়কে যানজটে আটকে ছিলেন রাসমুসেন ও তার ছেলে স্কট। কেবল টিভিতে সার্বক্ষণিক খেলা সম্প্রচারের এক অভিনব ধারণা নিয়ে তাদের আলোচনা চলছিল। তাদের কাছে তখন আরসিএর কাছ থেকে নেওয়া একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সপন্ডার ছিল। সেটি দিয়ে কী ধরনের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই রাসমুসেন হঠাৎ শুধু খেলাধুলা নিয়ে একটি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব দেন। শুরুতে তাদের পরিকল্পনা ছিল কানেটিকাটের খেলাধুলার খবর ও অনুষ্ঠান ওই অঙ্গরাজ্যের দর্শকদের দেখানো। কিন্তু অঙ্গরাজ্যের অনেক কেবল অপারেটর তাতে আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু পরে সেটি জাতীয় পর্যায়ের ২৪ ঘণ্টার ক্রীড়া নেটওয়ার্কের পরিকল্পনায় রূপ নেয়। মাত্র ৯ হাজার ডলারের ক্রেডিট কার্ড ঋণ নিয়েও বাবা-ছেলে সেই উদ্যোগ এগিয়ে নেন। অনেকেই সে সময় বলেছিলেন, ২৪ ঘণ্টা চালানোর মতো এত খেলাধুলা পৃথিবীতে নেই। কিন্তু বিল রাসমুসেন বিশ্বাস করতেন, অন্যরা ভুল ভাবছেন। গেটি অয়েলের পৃষ্ঠপোষকতা, ন্যাশনাল কলেজিয়েট অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের চুক্তি এবং অ্যানহয়জার-বুশের সঙ্গে বিজ্ঞাপন চুক্তি পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়। ১৯৭৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ লাখ বাড়িতে সম্প্রচার শুরু করে নতুন নেটওয়ার্কটি। প্রথম দিনেই সম্প্রচারিত হয় ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম 'স্পোর্টসসেন্টার', যা আজও ক্রীড়া সংবাদের এক অনন্য মাপকাঠি। তখন এ নেটওয়ার্কের নাম ছিল ‘এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড স্পোর্টস প্রোগ্রামিং নেটওয়ার্ক’; ১৯৮৪ সালে নাম সংক্ষিপ্ত করে ইএসপিএন করা হয়। ইএসপিএনের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রাসমুসেন নেটওয়ার্কটির শুরুর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে চব্বিশ ঘণ্টার ক্রীড়া সম্প্রচারের পাশাপাশি ১৯৮০ সালে এনসিসিএ পুরুষ বাস্কেটবল টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বের সম্প্রচার শুরু করে ইএসপিএন। ওই সম্প্রচার দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে প্রতিষ্ঠার পর ইএসপিএনে রাসমুসেনের ভূমিকা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৮০ সালের অক্টোবরে তিনি নেটওয়ার্কটির সক্রিয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। কারো কারো ধারণা, ইএসপিএনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক গেটি অয়েল তখন রাসমুসেন ও তার ছেলে স্কটকে নেটওয়ার্ক থেকে সরিয়ে দেয়। সে সময় গেটির হাতে ছিল ইএসপিএনের ৮৫ শতাংশ মালিকানা। রাসমুসেনের মৃত্যুর পর ইএসপিএনের সাবেক উপস্থাপক জর্জ গ্রান্ডে বলেন, নেটওয়ার্কটি কতদিন টিকবে, তা তারা জানতেন না। কিন্তু তারা বুঝেছিলেন, তাদের উদ্যোগটি বিশেষ কিছু। ইএসপিএনের আরেক প্রবীণ উপস্থাপক ক্রিস বারম্যান রাসমুসেনকে ‘আমাদের জর্জ ওয়াশিংটন’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, রাসমুসেন ছিলেন অত্যন্ত আশাবাদী মানুষ এবং তার উত্তরাধিকার নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা ‘গর্ব’ করতে পারেন। কানেটিকাটের ব্রিস্টলে অল্প পরিসরে শুরু হওয়া ইএসপিএন এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৯ সালে যাত্রার সময় যেখানে কর্মী ছিল প্রায় ৮০ জন, সেখানে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীসংখ্যা ৫ হাজার ৯০০। যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ক্রীড়া অ্যাপ, সরাসরি গ্রাহকভিত্তিক স্ট্রিমিং সেবা, অডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্টও রয়েছে তাদের। ইএসপিএন থেকে সরে যাওয়ার পরও ক্রীড়া ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাসমুসেন। তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া সম্প্রচারস্বত্বের মালিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন এবং নিজেও বিভিন্ন ক্রীড়া-সম্পর্কিত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে পারকিনসন রোগের কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর তিনি রোগীদের জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে আরও নানা স্বীকৃতি এসেছে। ২০২৫ সালে তিনি স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। এর আগে রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিপাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক তালিকায়ও তার নাম যুক্ত হয়। ১৯৯৪ সালে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড তাকে ২০ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান দেয়। একই বছর ইউএসএ টুডে তাকে ‘দ্য ফাদার অব স্পোর্টস টেলিভিশন’ হিসেবে বর্ণনা করে। রাসমুসেন ১৯৩২ সালের ১৫ অক্টোবর শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। ইন্ডিয়ানার ডিপাও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে কাজ করেন এবং পরে রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। বিজ্ঞাপন ব্যবসায় কাজের পর ১৯৬২ সালে রেডিওতে তার গণমাধ্যম ক্যারিয়ার শুরু হয়। পরে টেলিভিশনে ক্রীড়া ও সংবাদ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড হকি অ্যাসোসিয়েশনের নিউ ইংল্যান্ড হোয়েলার্সে জনসংযোগ পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ইএসপিএনের সঙ্গে তার সম্পর্ক অবশ্য একসময় দূরত্বে গড়ায়। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানোর মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমতে শুরু করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি তাকে তার অবদানের জন্য নিয়মিত সম্মান জানায়। ২০১৯ সালে ইএসপিএনের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিজ ও বস্টন রেড সক্সের একটি ম্যাচে আনুষ্ঠানিক প্রথম বলও ছুড়েছিলেন তিনি। ‘সোর্টস জাঙ্কিস রিজয়েস! দি বার্থ অব ইএসপিএন’ এবং ‘ইএসপিএন: ওয়ান জায়ান্ট লিপ ফর ফ্যানকাইন্ড’ তার লেখা দুটো বই। রাসমুসেনের জীবন ও ইএসপিএনের শুরুর ইতিহাস নিয়ে ২০২৬ সালে একটি তথ্যচিত্র ও বইও প্রকাশিত হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে প্রথম চার দিনের ম্যাচের জন্য বাংলাদেশ 'এ' দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ 'এ' দলের অধিনায়ক করা হয়েছে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে। আগামী ২৩-২৬ আগষ্ট প্রিটোরিয়াতে হবে প্রথম চারদিনের ম্যাচে। পচেস্ট্রুমে দ্বিতীয় চারদিনের ম্যাচ হবে ৩০ আগষ্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর। দুটি ম্যাচই শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে। সাদা পোশাকের লড়াই শেষে ৫০ ওভারের তিনটি ম্যাচ খেলবে দুই দল। ৬, ৯ ও ১২ সেপ্টেম্বর হবে ম্যাচগুলো। প্রথম ম্যাচ ব্লুমফন্টেইনে, দ্বিতীয় ম্যাচ কিম্বার্লিতে ও শেষ ম্যাচটি হবে পচেস্ট্রুমে। বাংলাদেশ এ দল: নাইম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন দীপু, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (অধিনায়ক), জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, পারভেজ হোসেন ইমন, হাসান মুরাদ, নাঈম হাসান, এনামুল হক, আল ফাহাদ, ইকবাল হোসেন ইমন, কালাম সিদ্দিকী অলিন।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বে অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রকাশ্য সমালোচনা করার কয়েক সপ্তাহ পরই তার বিদায়ের খবর এলো। এ বিষয়ে খবর জানিয়েছে রয়টার্স। ফিফা সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানায়, লামুরের সঙ্গে সংস্থাটির কর্মসম্পর্ক ওই দিনই শেষ হয়েছে। বিবৃতিতে তার প্রায় দুই বছরের সেবার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানানো হলেও তার বিদায়ের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। লামুর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে যোগ দেন। এর আগে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত করার প্রচারণায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। তবে গত মাসে বিশ্বকাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বে অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান লামুর। তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পনার বিষয়ে ফিফার কর্মীদের ‘বিভ্রান্ত করা হয়েছে’ এবং এটিকে ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেন। লামুর আরও বলেন, ফিফার লক্ষ্য হওয়া উচিত ফুটবনের সেবা করা, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থের সেবা করা নয়। তার মন্তব্যকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখা হয়। ফিফার মুখপাত্র অবশ্য লামুরের বিদায়ের বিষয়ে এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে তার প্রকাশ্য সমালোচনার সঙ্গে পদত্যাগ বা চাকরির অবসানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। সূত্র: রয়টার্স