রাজধানীর ভাষানটেকে একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন থাকার তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়েছে পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার।
রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বার্তা পাঠানো হয় একটি বিদেশি নম্বর থেকে। একই তথ্য পুলিশ, র্যাব ও ডিবির কাছে পাঠানো হলে তিন সংস্থার সদস্যরা একযোগে ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন।
তবে অভিযানে বার্তায় উল্লেখ করা ১৩টি অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি কিংবা ২৪টি ম্যাগাজিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পিস্তলের মতো দেখতে দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করে অভিযান শেষ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবন’-এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিদেশি একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি চালানো হয়।
বার্তায় প্রেরক নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন। নিজের অতীত সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে একসময় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে অর্থের লোভে অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
বার্তায় ভাষানটেক এলাকার একাধিক ঠিকানার তথ্যও দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৬০/বি, ৩-ই উত্তর ভাষানটেক; ১৬৩/৩ উত্তর ভাষানটেক এবং ৬৫/৩ উত্তর ভাষানটেকের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব ঠিকানার বাসায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে সম্পদ কেনা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে ওই বার্তায় করা দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
১৩ অস্ত্র ও ৩০০ গুলির দাবি:
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি বার্তায় প্রেরক দাবি করেন, ভাষানটেকের ১৬০/বি নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে তার ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি এবং ২৪টি ম্যাগাজিন রয়েছে।
অস্ত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কেও বার্তায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, একটি আলমারিতে কাপড়ের নিচে আটটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ২০০ রাউন্ড গুলি রাখা আছে। একই কক্ষের আরেকটি আলমারিতে বাকি পাঁচটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ১০০ রাউন্ড গুলি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এমনকি প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের কক্ষসহ পুরো বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুরোধ করা হয়।
অভিযান চালায় তিন সংস্থা:
তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ, র্যাব ও ডিবির সদস্যরা একই সময়ে ওই ঠিকানায় উপস্থিত হন। র্যাব-৪-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারে সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র্যাব ও ভাষানটেক থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযানে ভবনটির চতুর্থ তলায় অবস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সার্জেন্ট অহিদুল হকের ই/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
তল্লাশির সময় কেবল পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার পাওয়া যায়। পরে কোনো অবৈধ বস্তু না পাওয়ায় ‘শূন্য জব্দ তালিকা’ তৈরি করে অভিযান শেষ করা হয়।
বিদেশি নম্বরের ব্যবহারকারী কে?
ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে ওই বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বার্তা পাঠিয়েছিল এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় নিজেকে আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও সত্যিই তিনি ওই বার্তা পাঠিয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
একই তথ্য একই সময়ে পুলিশ, র্যাব ও ডিবিকে পাঠানোর বিষয়টিও তদন্তকারীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কাউকে হয়রানি বা ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা ছিল উদ্দেশ্য কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে— এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যা বলছে পুলিশ ও ডিবি:
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, কোন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে র্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো অস্ত্র বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রাকিব খাঁন জানান, ২৯ আগস্ট দুপুরের দিকে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে ডিবির সদস্যরা দেখতে পান মিরপুর বিভাগের পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন। পরে সম্মিলিতভাবে বাসাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, একই বার্তা তিনটি সংস্থার কাছেই পাঠানো হয়েছিল। কেন একই তথ্য একযোগে পুলিশ, র্যাব ও ডিবিকে দেওয়া হলো, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। বিদেশি নম্বরটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, বার্তার উৎস, নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী এবং অস্ত্র থাকার দাবির পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে নিছক ভুয়া তথ্য, কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনার অংশ— সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ২৪ লাখ ডলারের (২৯ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা) চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক প্রেস নোটে এই তথ্য জানিয়েছে। দূতাবাস জানায়, পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রশিক্ষণ মডেল হস্তান্তর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখার ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে FHI 360, Jhpiego, JSI ও ইউনিসেফ-এর মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই সহায়তা বাস্তবভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা সুদৃঢ় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যখাতের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। দেশজুড়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বহুল আলোচিত মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হাসান তারেক। তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। এর আগে ১১ আগস্ট মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন ও আসামির আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতাল নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু আছিয়া। পরে শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে ২০২৫ সালের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। সে রায়ে এ মামলার বাকি তিন আসামি শিশুটির বোনের জামাতা সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে পরে এই মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। এদিকে, দেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য ২০২৬ সালের ১০ জুন একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিশেষ এই বেঞ্চে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বাধীন এই টিমের আইনজীবী সদস্যরা হলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা ও আল আমীন সিদ্দিকী।
ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ চার দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং সংসদীয় কূটনীতির পরিধি বাড়ানোই তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টা ২০ মিনিটে অ্যান্ডা ফিলিপকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে আইপিইউর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন অ্যান্ডা ফিলিপ। পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক সংসদীয় কূটনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও সফরকালে আলোচনা হতে পারে। সফর শেষে আগামী ২ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডা ফিলিপের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।