জাতীয়

বিদেশি নম্বরের ‘অস্ত্রের তথ্য’, ভাষানটেকে অভিযান শেষে মিলল দুই গ্যাস লাইটার

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ভাষানটেকে একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন থাকার তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও কোনো অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়েছে পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার।

 

রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বার্তা পাঠানো হয় একটি বিদেশি নম্বর থেকে। একই তথ্য পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবির কাছে পাঠানো হলে তিন সংস্থার সদস্যরা একযোগে ওই বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন।

 

তবে অভিযানে বার্তায় উল্লেখ করা ১৩টি অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি কিংবা ২৪টি ম্যাগাজিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পিস্তলের মতো দেখতে দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করে অভিযান শেষ করা হয়।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবন’-এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিদেশি একটি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি চালানো হয়।

 

বার্তায় প্রেরক নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন। নিজের অতীত সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে একসময় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে অর্থের লোভে অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

বার্তায় ভাষানটেক এলাকার একাধিক ঠিকানার তথ্যও দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৬০/বি, ৩-ই উত্তর ভাষানটেক; ১৬৩/৩ উত্তর ভাষানটেক এবং ৬৫/৩ উত্তর ভাষানটেকের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব ঠিকানার বাসায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে সম্পদ কেনা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

 

তবে ওই বার্তায় করা দাবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

১৩ অস্ত্র ও ৩০০ গুলির দাবি:

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি বার্তায় প্রেরক দাবি করেন, ভাষানটেকের ১৬০/বি নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে তার ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি এবং ২৪টি ম্যাগাজিন রয়েছে।

অস্ত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কেও বার্তায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, একটি আলমারিতে কাপড়ের নিচে আটটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ২০০ রাউন্ড গুলি রাখা আছে। একই কক্ষের আরেকটি আলমারিতে বাকি পাঁচটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ১০০ রাউন্ড গুলি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এমনকি প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের কক্ষসহ পুরো বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুরোধ করা হয়।

 

অভিযান চালায় তিন সংস্থা:

তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবির সদস্যরা একই সময়ে ওই ঠিকানায় উপস্থিত হন। র‍্যাব-৪-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারে সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র‍্যাব ও ভাষানটেক থানা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে ভবনটির চতুর্থ তলায় অবস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সার্জেন্ট অহিদুল হকের ই/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

তল্লাশির সময় কেবল পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার পাওয়া যায়। পরে কোনো অবৈধ বস্তু না পাওয়ায় ‘শূন্য জব্দ তালিকা’ তৈরি করে অভিযান শেষ করা হয়।

 

বিদেশি নম্বরের ব্যবহারকারী কে?

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে ওই বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বার্তা পাঠিয়েছিল এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় নিজেকে আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও সত্যিই তিনি ওই বার্তা পাঠিয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

একই তথ্য একই সময়ে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবিকে পাঠানোর বিষয়টিও তদন্তকারীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কাউকে হয়রানি বা ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা ছিল উদ্দেশ্য কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে— এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

যা বলছে পুলিশ ও ডিবি:

ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, কোন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো অস্ত্র বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রাকিব খাঁন জানান, ২৯ আগস্ট দুপুরের দিকে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে ডিবির সদস্যরা দেখতে পান মিরপুর বিভাগের পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন। পরে সম্মিলিতভাবে বাসাটিতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।

 

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, একই বার্তা তিনটি সংস্থার কাছেই পাঠানো হয়েছিল। কেন একই তথ্য একযোগে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবিকে দেওয়া হলো, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। বিদেশি নম্বরটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

 

এদিকে, বার্তার উৎস, নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী এবং অস্ত্র থাকার দাবির পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে নিছক ভুয়া তথ্য, কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা নাকি অন্য কোনো পরিকল্পনার অংশ— সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে।    সড়ক নিরাপত্তাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা, নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়ক নিরাপত্তাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   দিবসটি উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেশাদার গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা, মাদক পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, সড়কের সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দক্ষতার ভিত্তিতে পেশাদার চালকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে।   পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও ম্যারাথন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা।    সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব।   বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।   সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ১৪০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে সেফটি ইমপ্রুভমেন্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।   অন্যদিকে, পেশাদার মোটরযানচালকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চালানোর প্রবণতা কমানো এ ধরনের প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।   দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৪০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।    পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যান চলাচল পর্যবেক্ষণে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও রয়েছে।   সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম এবং একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনার রয়েছে।    প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন এবং যানবাহনের গতিসীমা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে স্পিড ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। চালকের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং পথচারীদের অসচেতনতার মতো বিষয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।    পাশাপাশি সড়কের নকশাগত ত্রুটি, পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যালের অভাব, ফুটপাত দখল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও নিরাপদ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।   এ পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।    চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞরা বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিতকরণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।   একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।   সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবার দায়িত্ব। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যাত্রীদের চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা, মোটরসাইকেলে চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।   জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর আইন প্রয়োগ, উন্নত সড়ক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে এমন একটি সড়কব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারকে যেন প্রিয়জন হারানোর বেদনা বহন করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও জোরদার করতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএমইউতে স্থানান্তর

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

ইশরাক এবার বললেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আ. লীগের সময়ে ছিল ‘স্টেট স্পন্সরড’: হাসনাত আবদুল্লাহ

আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাহীন বাংলাদেশে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। এটি নতুন রাষ্ট্র গঠনের সাধনায় নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন বলেও দাবি করেন তিনি।    বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।    হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন আর ধর্মীয় উগ্রবাদ, এই দুটি এলিমেন্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘স্টেট স্পন্সরড’। পূজায় আওয়ামী সুবিধাভোগী বিভিন্ন গ্রুপকে দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারড সাবোটাজ (নাশকতা) ঘটিয়ে সেটার দায় দেওয়া হতো বিভিন্ন পক্ষকে। এতে যেমন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ বাড়তো, তেমনি আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা অন্য কোথাও নিরাপদ নয় বলে জোরদার প্রচারণাও চলতো।’    আওয়ামী শাসনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘দেশে সংখ্যালঘু বাঁচাতে আওয়ামী লীগের কোনও বিকল্প নাই, কিংবা উগ্রবাদের কল্পিত উত্থানে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হবে, আওয়ামী লীগ বহুভাবে এসব গল্প বিক্রি করেছে দেশে ও বিদেশে। সেজন্য তাদের সময়ে একদিকে সাজিয়েছে জঙ্গিবাদের নাটক, অন্যদিকে চলেছে পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর। অথচ আওয়ামী লীগের পলায়নের সাথে সাথে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে এই ঘটনাগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে উধাও হয়ে গেছে।’     তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যেসব অস্থিরতা আছে অথবা চাঁদাবাজি, ব্যবসা ও ভূমিদখল ইত্যাদি অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা আছে, সেটা মোটা দাগে সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়। বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ-সংশ্লিষ্ট।    ‘সাধারণ হিন্দু এবং সাধারণ মুসলমান উভয়েই এসব অপরাধের ভুক্তভোগী। সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতাহীন নাগরিকই ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাবশালীদের ক্ষমতাচর্চার শিকার হচ্ছেন। ক্ষেত্রবিশেষে সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি জবরদখলের শিকারও হচ্ছেন।   ‘এসবের বিপরীতে আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে, সিলেক্টিভলি সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের কেসইগুলোকে পিক করে কিংবা নিজেরাই সেসব স্টেজ করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান উৎপাদন করে গেছে। আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু রাজনীতির মুখোশ আজকে খসে পড়েছে।   ‘বাস্তবে অপরাধকে যত বেশি বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে নাগরিকদের যত বেশি সুরক্ষা দেওয়া হবে, সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিষবাষ্পও তত দ্রুত চলে যাবে।’    তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আওয়ামী লীগবিহীন সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরপর তিন বছর বাংলাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান, দুর্গাপূজা, প্রায় নির্বিঘ্নে উচ্ছ্বাসের সাথে কেটেছে। এটা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ।’     এ অর্জনকে ‘জুলাইয়ের অর্জন’ অভিহিত করে তিনি নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬

সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি ও মন্ত্রী হন: স্পিকার

মহাসড়কে অটোরিকশার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা, নিষেধাজ্ঞা শুধুই কাগজে-কলমে

ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন

মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীকে ‎অনুসরণ করা ছাত্রলীগ নেতা আটক

রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরনের অভিযোগে তানভীর জোমাদ্দার নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।   বুধবার রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম সমকালকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ‎গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ওই ছাত্রলীগ নেতাও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে হাজির হন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে ওই ছাত্রলীগ নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরন করে তার কাছাকাছি জায়গায় যাওয়ার চেষ্ট করে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খুঁজতে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এক পর্যায়ে বুধবার মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরন করতে থাকেন। একপর্যায়ে সবাইকে পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে যান ছাত্রলীগ নেতা তানভীর।   ‎ডিএমপির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনকালে তাকে অনুরণ করেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা তানভীর। এ ঘটনার ভিডিও যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২২, ২০২৬

ঢাকার কাছেই মিলতে পারে গ্যাস, কূপ খননের পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের খোঁজ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রী, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতিতে দেখতে চায় না জনগণ : স্পিকার

0 Comments