ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, ইমেইল ও বাসার ঠিকানা তার অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পরপরই অচেনা নম্বর থেকে কল করে বাজে কথা ও হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একইসঙ্গে বাসার ঠিকানা প্রকাশ পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষক।
অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামী) রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনবলসহ সাংগঠনিক কাঠামোর খসড়া তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাঠাতে বলেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি নিয়ে কাজ শুরু করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে বর্তমানে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বোর্ড অব গভর্নরসের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত হবে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলেও জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। অধিদপ্তর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি ছিল। তবে সম্প্রতি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত ১০ লাখের বেশি ধর্মীয় ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় ও প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো গড়ে তোলা হবে। তৈরি হচ্ছে প্রস্তাব গত ১৭ সেপ্টেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো চিঠিতে অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সেলের সপ্তম সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনবল কাঠামোসহ কার্যালয় স্থাপনের জন্য খসড়া সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চেকলিস্টসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা নীতিনির্ধারণী বিষয়। বোর্ড অব গভর্নরসের কাছে আমরা উপস্থাপন করব। তবে আমরা এটাকে অধিদপ্তর করার প্রক্রিয়াও শুরু করছি। অন্যদিকে বোর্ড কী বলে, না বলে, সেটার জন্যও অপেক্ষা করছি।’ অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর সরকারের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ আরও প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দায়িত্ব বোর্ড অব গভর্নরসের হাতে থাকলেও অধিদপ্তর হলে সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে বর্তমান স্বায়ত্তশাসন আর থাকবে না তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। বোর্ড অব গভর্নরসের মতামত ও অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রস্তাব নিয়ে বোর্ডের বৈঠক কবে হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।’ সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, হারাবে স্বায়ত্তশাসন বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৭৫‘ অনুযায়ী এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বোর্ড অব গভর্নরসের ভূমিকা রয়েছে। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সরাসরি প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হবে। সে ক্ষেত্রে এটি স্বায়ত্তশাসন হারাবে, বোর্ডের বর্তমান কাঠামো আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা জানান, অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর সরকারের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ আরও প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল দায়িত্ব বোর্ড অব গভর্নরসের হাতে থাকলেও অধিদপ্তর হলে সরকার সরাসরি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে বর্তমান স্বায়ত্তশাসন আর থাকবে না। মন্ত্রণালয়ের সংস্থা অধিশাখার যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন অধিদপ্তর হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়তে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জন্য বোর্ডের সভা ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হয়। দীর্ঘদিন বোর্ডের সভা না হওয়ায় কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অধিদপ্তর হলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে পারবে। ’ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাজেট অনুমোদন, বই প্রকাশ এবং গবেষণার মতো বিষয়েও বর্তমানে বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে এসব কার্যক্রমে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। এতে মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করেন যুগ্ম সচিব। ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজস্ব আয় থেকেও ব্যয় নির্বাহ করে। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রণয়ন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বোর্ড অব গভর্নরসের অনুমোদন নিতে হয়। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। বর্তমানে কোন বই প্রকাশ করা হবে, কী ধরনের গবেষণা পরিচালিত হবে, সেসব বিষয়েও অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। অধিদপ্তর হলে এসব কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের গতি বাড়তে পারে। চাকরির সুবিধা বাড়ার সম্ভাবনা, তবে অনিশ্চয়তা জনবল নিয়ে অধিদপ্তরে রূপান্তরের সম্ভাব্য সুবিধা হিসেবে চাকরির নিশ্চয়তা ও রাজস্ব খাতে জনবল বাড়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধাও কতটা বাড়বে এবং বর্তমানে কর্মরত কতজনকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে ২ হাজার ৩১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সম্মানী বা ভাতার ভিত্তিতে ৭১ হাজার ১৮৫ জন সহ সর্বমোট ৮৪ হাজার ২৫৩ জন কর্মরত রয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী বলেন, ‘অধিদপ্তর হলে রাজস্ব খাতে জনবল বাড়ার সম্ভাবনা বেশি আছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব খাতের জনবলের পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক কর্মীরাও কাজ করছেন। অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে কোন পর্যায়ের কর্মীদের রাজস্ব খাতে আনা হবে, তা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। মোট জনবল কত হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। ’পেনশন ও চাকরির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটু সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি হলো, আমরা ফুল পেনশন পাব। এখন সরকার আমাদের বাজেট দেয়, আবার নিজস্ব ইনকাম জেনারেটও করতে হয়। তখন (অধিদপ্তর হলে) তো আর নিজস্ব ইনকাম থাকতে হবে না।’ অধিদপ্তরে রূপান্তরের জন্য আলাদা কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে যে আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে সেই আইন রহিত করতে হবে।- মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অন্যদিকে মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মতে, অধিদপ্তর হলে জনবল বাড়বে নাকি কমবে, সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকবে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। পুরোনো দাবি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের দাবি নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনো ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি। যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন এবং বোর্ড অব গভর্নরসের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এখনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।’ আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে যুগ্ম সচিবের ভাষ্য, অধিদপ্তরে রূপান্তরের জন্য আলাদা কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে এটি করা সম্ভব। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে যে আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হলে সেই আইন রহিত করতে হবে। ধর্মীয় কার্যক্রমে সরকারি নির্দেশনার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অধিদপ্তরে রূপান্তরের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এলেও প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় ও গবেষণামূলক কাজের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমানে বোর্ড অব গভর্নরসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কিছু সিদ্ধান্ত নিজস্ব বিবেচনায় নিতে পারে। সরকারি অধিদপ্তরে পরিণত হলে সেই সুযোগ সীমিত হতে পারে। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ফাউন্ডেশনের কোনো কোনো কর্মকর্তা মনে করেন, স্বায়ত্তশাসন থাকলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এতে কখনো কখনো ইসলামের মূলনীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। তারা এটিও বলেছেন, তাত্ত্বিকভাবে স্বায়ত্তশাসন একটি ভালো ব্যবস্থা হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্নভাবে সরকারের প্রভাবের মধ্যে থাকে। ফলে কাগজে-কলমে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও বাস্তবে সরকারের প্রভাব এড়ানো কঠিন। উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়টিও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধর্মীয় কল্যাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং দেশের বিভিন্ন উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী জানান, উপজেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ রয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন কার্যক্রম মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে মডেল মসজিদ রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কিছু কর্মী ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত জনবলও কাজ করছেন। তবে উপজেলা পর্যায়ে নতুন কার্যালয় স্থাপন, জনবল কাঠামো নির্ধারণ এবং বিদ্যমান কর্মীদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর।
দেশের বাজারে প্যাকেটজাত সুগন্ধি বা পোলাও চালের দাম বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চাল প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপরীতে, খোলা পোলাও চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা। ফলে খোলা চালের তুলনায় প্যাকেটজাত চাল কিনতে ক্রেতাদের অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা পোলাও চালের ধরনভেদে প্রতি কেজি ১০০, ১৬০ ও ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চাষী, প্রাণ, রূপচান্দা, পুষ্টি ও ফ্রেশসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত থেকে আট মাসে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কেজিতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে খোলা চালের দামও বেড়েছে, তবে তুলনামূলকভাবে কম। আগে যে নিম্নমানের খোলা পোলাও চাল ৮০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে তা কিনতে হচ্ছে ১০০ টাকায়। চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুগন্ধি চালের দাম বাড়ার পেছনে রপ্তানির অনুমোদন এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন ও জুলাই মাসে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস সর্বোচ্চ ৫০০ টন, এলিন ফুড প্রোডাক্টস ৪০০ টন এবং খান অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফ্রোজেন ফুড প্রসেসর ৩০০ টন চাল রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইশাকুল হোসেনের দাবি, দেশে বছরে অন্তত ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় চার লাখ টন হওয়ায় উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ছয় লাখ টন। ফলে উদ্বৃত্ত চালের একটি অংশ রপ্তানি করা হলেও দেশের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি হওয়ার কথা নয় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, বাজারের বর্তমান অস্থিরতা দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি চালের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২০০ টাকার সমান। প্যাকেটজাত চালের বাড়তি দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। রাজধানীর মুগদা বাজার থেকে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় খোলা পোলাও চাল কেনা লিয়াকত আলী বলেন, খোলা চালের দাম ১০০ টাকা হলে প্যাকেটজাত চালের দাম সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, বড় শিল্পগোষ্ঠীর সিন্ডিকেটের কারণে চালের দাম বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। তবে চাল রপ্তানির কারণে দাম বাড়ার বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা রপ্তানিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দাম বাড়াচ্ছেন। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের যুক্তিও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ১০ বছরের মধ্যেও দেশে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় নিজ সংসদীয় আসনে বুধবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন’ বলে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন স্পিকার। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সমাজের ভালো ও যোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সমাজে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। ভোলার গ্যাস নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ নিয়েও কথা বলেন স্পিকার। তিনি জানান, জেলাটিতে বিপুল গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে বিদেশি পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভোলার গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।