গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে নামতে গিয়ে একটি পোশাক কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার একটি সাততলা পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে ভবনের ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ফায়ার এলার্ম বাজানো হলে শ্রমিকরা দ্রুত নেমে আসার চেষ্টা করে। হুড়োহুড়ির কারণে পদদলিত হয়ে এবং আতঙ্কে লাফিয়ে নেমে অনেকেই আহত হন।
আহতদের স্বজনরা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইয়িদা আফরোজ ইমা জানান, এখন পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেড স্বল্পতার কারণে অনেককে অন্য হাসপাতালেও স্থানান্তর করা হচ্ছে।
ঘটনার পর কারখানার আশপাশে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লাল গ্রহ মঙ্গলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে সবুজ বিন্দুর মতো একটি ছবি ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে। এটি নাসার মঙ্গলযান বা ‘পারসিভারেন্স রোভার’-এর ছবি। মঙ্গলের বুকে একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথন (২৬.২ মাইল বা ৪২.১৯৫ কিলোমিটার পথ) অতিক্রম করার ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার ঠিক এক দিন আগে এই ছবি তোলা হয়। গত ১৩ জুন নাসার মহাকাশযান ‘মার্স রিকনেসান্স অরবিটার’ (মঙ্গলের কক্ষপথে ঘোরা মহাকাশযান)-এ থাকা শক্তিশালী ক্যামেরা হাইরাইজ এই ছবিটি তোলে। ছবিতে জেজেরো ক্রেটার (মঙ্গলের একটি বিশাল গর্ত)-এর পশ্চিমের এবড়োখেবড়ো জমিতে রোভারটি এবং তার ফেলে আসা চাকার দাগ স্পষ্ট দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা এই এলাকার নাম দিয়েছেন ‘আরবট’। পরের দিন, অর্থাৎ ১৪ জুন পারসিভারেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যারাথনের সমান এই পথ অতিক্রম করে। রোভারটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ০.১ মাইল। এত ধীর গতিতে চলেও এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে এর সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ বছর এবং চার মাস। এর আগে নাসার অপর যান ‘অপরচুনিটি’ এই একই দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় নিয়েছিল ১১ বছর ২ মাস। অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির পরিচালিত হাইরাইজ ক্যামেরাটি মঙ্গলের কক্ষপথে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরাগুলোর একটি। মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে শত শত মাইল ওপর থেকেও এটি এক মিটারের চেয়েও ছোট বস্তুর ছবি নিখুঁতভাবে তুলতে পারে। নাসা ছবিটির আরেকটি সংস্করণও প্রকাশ করেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে রোভারটিকে একটি হলুদ বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযানের গুরুত্ব: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলে প্রাচীন অণুজীব বা প্রাণের সন্ধান করতে এবং তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য পাথরের নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পারসিভারেন্স সেখানে অবতরণ করে। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার মাধ্যমে বোঝা যায় যে, রোভারটি এরই মধ্যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেছে। বর্তমানে এটি প্রায় ৪০০ কোটি বছরের পুরোনো পাথরের নমুনা সংগ্রহ করছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের আদি ইতিহাস এবং সেখানে কোনো একসময় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার মতো পরিবেশ ছিল কি না, তা গভীরভাবে জানার এক অভূতপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন।
গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো আমের মৌসুম। পাকা আমের মিষ্টি ঘ্রাণ আর সুস্বাদু স্বাদ এই সময়ের অন্যতম আকর্ষণ। আম দিয়ে তৈরি ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, জুস কিংবা বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট গরমের দিনগুলোকে আরও আনন্দময় করে তোলে। তবে এই আনন্দ বেশিদিন থাকে না। মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজার থেকে আম প্রায় উধাও হয়ে যায়, আর প্রিয় ফলটি খেতে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী গ্রীষ্ম পর্যন্ত। তবে চাইলে সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে অনেক মাস ধরে আমের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব। ফ্রিজে ঠিকভাবে রাখলে আমের টুকরো ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে এবং স্বাদ-গুণাগুণও অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে। ভালো মানের আম বেছে নিন সংরক্ষণের জন্য এমন আম নির্বাচন করুন, যা পুরোপুরি পাকা, মিষ্টি এবং সতেজ। অতিরিক্ত নরম, পচা বা কালচে দাগযুক্ত আম ব্যবহার না করাই ভালো। ভালো মানের ফল সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন মান বজায় থাকে। ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন আমগুলো প্রথমে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর একটি শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিন, যাতে খোসায় কোনো পানি না থাকে। আর্দ্রতা থেকে গেলে ফ্রিজে বরফ জমে ফলের স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। সমান আকারে টুকরো করুন খোসা ছাড়িয়ে আঁটি থেকে শাঁস আলাদা করে ছোট বা মাঝারি আকারের সমান টুকরো করে কেটে নিন। একই আকারের টুকরো হলে সেগুলো সমানভাবে জমবে এবং পরে ব্যবহার করতেও সুবিধা হবে। ট্রেতে ছড়িয়ে ফ্রিজে রাখুন কাটা আমের টুকরোগুলো একটি ট্রে বা বড় প্লেটে এমনভাবে সাজান, যাতে একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে না থাকে। এরপর ট্রেটি ফুড গ্রেড প্লাস্টিক র্যাপ বা পরিষ্কার পলিথিন দিয়ে ঢেকে ফ্রিজারে রেখে দিন। আগে আলাদাভাবে ফ্রিজ করুন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, অথবা সারা রাত ফ্রিজারে রাখলে প্রতিটি টুকরো আলাদা আলাদাভাবে জমে যাবে। এতে পরে প্রয়োজনমতো টুকরো বের করতে সুবিধা হবে এবং সবগুলো একসঙ্গে আটকে যাবে না। এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন টুকরোগুলো শক্ত হয়ে গেলে সেগুলো একটি জিপ-লক ব্যাগ বা বায়ুরোধী (এয়ারটাইট) পাত্রে ভরে সংরক্ষণ করুন। ব্যাগে যতটা সম্ভব কম বাতাস রাখার চেষ্টা করুন। এতে আমের সতেজতা ও স্বাদ দীর্ঘদিন বজায় থাকবে। কতদিন ভালো থাকবে? এই নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে আমের টুকরো সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এ সময়ের মধ্যে সহজেই ম্যাঙ্গো শেক, স্মুদি, আইসক্রিম, ফলের সালাদ কিংবা বিভিন্ন মিষ্টান্ন তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ যতটুকু প্রয়োজন, কেবল ততটুকু আম ফ্রিজার থেকে বের করুন। অবশিষ্ট অংশ দ্রুত আবার ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যবহার করার প্রায় পাঁচ মিনিট আগে আম বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে এর স্বাদ ও টেক্সচার আরও ভালো থাকবে।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশা ও একটি নোহা মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) আট সদস্য আহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গোশাইপুর ইউনিয়নের ভারেরা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযানে অংশ নিতে শ্রীবরদীর দিকে যাচ্ছিল। পথে ভারেরা বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাদের বহনকারী নোহা মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা আটজন ডিবি সদস্য আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহতদের শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভারেরা বাজার এলাকায় কয়েকদিন ধরে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। রাস্তার একাংশ খোঁড়া থাকায় এবং অন্য পাশে নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। এ কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম খান বলেন, বিশেষ অভিযানে যাওয়ার সময় আমাদের একটি টিম দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। আহত সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, খাদে পড়ে যাওয়া নোহা মাইক্রোবাসটি উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে।