বাংলার শীতের কথা বললে মাথায় আসে পিঠা-পুলি, গরম চা, আর সেইসঙ্গে গুড়ের মিষ্টি স্বাদ। পৌষ মাসে বাজারে পিঠার মৌসুম শুরু হয়। ঘরবাড়িতে পিঠা তৈরি হয়, ছোট-বড় সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। পিঠার স্বাদ নিখুঁত করতে গুড়ের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু সবাই কি জানে, সেই গুড় সব সময় খাঁটি হয় না?
বেশিরভাগ সময় আমরা ভেজাল গুড় ব্যবহার করি, যা দেখতে সাধারণ গুড়ের মতোই লাগে, কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বাজারে নানা ধরনের গুড় পাওয়া যায়—খেজুর গুড়, তাল গুড়, আখের গুড়। তবে এসব গুড়ে কৃত্রিম উপাদান ও রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হয়, যা শরীরে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
আমাদের অজান্তেই পুরো পরিবার সেই ভেজাল গুড় ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভেজাল গুড় খেলে লিভার, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা থেকে শুরু করে এমনকি ক্যান্সারের মতো গুরুতর অসুখও হতে পারে।
ডা. রুদ্রজিৎ পাল, কলকাতার একজন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ভেজাল গুড় শুধু স্বাদকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই এই মৌসুমে গুড় কেনার আগে সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
ভেজাল গুড়ে কী থাকে?
ভেজাল গুড়ে থাকে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম উপাদান, গুড়কে ঘন ও আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য রাসায়নিক। কখনো কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বিপজ্জনক।
স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
লিভারের সমস্যা: নিয়মিত ভেজাল গুড় খেলে লিভারের কাজ প্রভাবিত হতে পারে।
স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: শরীরের নার্ভ সিস্টেমে নেতিবাচক প্রভাব।
ক্যান্সারের ঝুঁকি: দীর্ঘদিন ভেজাল গুড় খেলে ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ে।
পেটের সমস্যা: গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে।
ভেজাল গুড় চেনার সহজ কিছু উপায়
স্বাদে পার্থক্য: খাঁটি গুড় মিষ্টি হয়, ভেজাল গুড় খুব মিষ্টি নয় এবং মাঝে মধ্যে লবণাক্ত স্বাদ থাকে।
পানি পরীক্ষা: এক গ্লাস পানিতে সামান্য গুড় দিয়ে মিশান। খাঁটি গুড় ধীরে ধীরে মিশে যাবে, ভেজাল গুড় গ্লাসের তলায় জমে থাকবে।
দৃঢ়তা ও রঙ: খাঁটি গুড় প্রাকৃতিক, নরম ও মসৃণ হয়। খুব গাঢ় বা চকচকে কালচে রঙ থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো।
আরও কিছু সতর্কতা
- পরিচিত ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে গুড় কিনুন।
- গুড় সংরক্ষণ করতে ঠান্ডা, শুকনো জায়গা বেছে নিন।
- শিশু ও বয়স্কদের জন্য খাঁটি গুড় ব্যবহার করা নিরাপদ।
শীতের মজা যেন স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, তাই একটু সচেতনতা ও সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ রিট করেন। রিটে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে। নাহিদ ইসলামের পক্ষে আইনজীবীরা হলেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী। অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, এ সপ্তাহেই হাইকোর্টে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হবে। এর আগে ঢাকা-১১ আসনে ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক ড. এমএ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ড. এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ ও সেখানে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের ইজ্জত রক্ষার জন্য এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর-০১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের এমপিপ্রার্থী আলহাজ জাকির হোসেন পাটোয়ারীর সমর্থনে রামগঞ্জ পৌর শিশুপার্কে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ার একটা সুযোগ এসেছে। এ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে যখন আমরা আওয়াজ তুলেছিলাম ইসলামের পক্ষে একটা বাক্স, তখন সারা বাংলাদেশের মানুষের সাড়া ও উদ্দীপনা সেভাবে আমরা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে যখন আওয়াজ তুলেছিল, তখন এক শ্রেণির ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামের পক্ষের বাক্সের পরিবর্তে তারা আবার ঘোষণা করল, ‘ইসলামের নীতি-আদর্শ অনুযায়ী তারা দেশ চালাবে না, দেশ চালাবে প্রচলিত আইন এবং নীতি-আদর্শের মাধ্যমে।’ তখন আমরা হতভম্ব হয়ে গেলাম। তখনই ইসলামী আন্দোলনের যে ঘোষণা ছিল - ইসলামের পক্ষের বাক্স ও ইসলামের ইজ্জতকে রক্ষার জন্য হাতপাখা নিয়ে এককভাবে ২৫৮ আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে চুয়ান্ন বছর আগে দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে লাখো মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন—তা হলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু যারা এ চুয়ান্ন বছর দেশ পরিচালনা করেছে, তাদের মাধ্যমে এর একটাও আমরা বাস্তবে দেখতে পাইনি। বরং এদের পরিচালনার মাধ্যমে আমাদের সোনার বাংলাদেশ পাঁচবার চোরের দিক থেকে, দুর্নীতির দিক থেকে ফার্স্ট হয়েছে। হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে। এসব মায়েদের আর্তনাদ আর কতকাল শুনব? এদেশকে আমরা দুর্নীতিতে কতবার চ্যাম্পিয়ন করব? সন্তানগুলো পঙ্গু হবে, চক্ষু হারাবে আমাদের দেশের টাকা বিদেশে পাচার হবে, এটা আমরা কতদিন দেখব? চরমোনাই পীর আরও বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে, আমি সে জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাই না। আজকে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এখানে উপস্থিতি দেখে আমার মন বলছে, ইসলামের পক্ষের প্রার্থী, মানবতার কল্যাণের পক্ষের প্রার্থী এবং দেশকে যারা ভালোবাসে তাদের পক্ষের প্রার্থী, হাতপাখার প্রার্থী আল্লাহর রহমতে বিজয়ী হবে।
দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ডিসেম্বর-২০২৪ থেকে জুলাই-২০২৫ পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা ইএফটি’র মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বকেয়া বিল অনলাইনে সাবমিট করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আজ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য এনআইডি বা ব্যাংকসংক্রান্ত জটিলতায় আগে ‘ইনভ্যালিড’ ছিল কিন্তু বর্তমানে সঠিক হওয়ায় বেতন সচল হয়েছে, তাদের বকেয়া প্রদানের জন্য ইএমআইএস সিস্টেমের বিল সাবমিট অপশনে যুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদের নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের ‘এমপিও-ইএফটি’ মডিউলে লগইন করে বকেয়া মাসের বিল আলাদা আলাদাভাবে সাবমিট করবেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিলকৃত তথ্যেও ভিত্তিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া অর্থ প্রেরণ করা হবে। এতে বলা হয়, ইএফটি চালুর পর ইতোমধ্যে যারা অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে বকেয়া গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ‘পেমেন্ট নেই’ অপশন সিলেক্ট করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মৃত, পদত্যাগকারী বা সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিধিমোতাবেক প্রাপ্যতা নির্ধারণ করে বিল দিতে হবে। কোনো ভুল তথ্য বা অতিরিক্ত অর্থ প্রেরিত হলে তার দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যের ভিত্তিতেই শিক্ষক-কর্মচারীদের স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে ইএফটি-র মাধ্যমে সরাসরি বকেয়া অর্থ প্রেরণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।