অর্থনীতি

ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপে বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন

মারিয়া রহমান মে ২৬, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। ২৭ মে পূর্ণ হতে যাচ্ছে সরকারের প্রথম ১০০ দিন। সাধারণত নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনকে নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তৈরির সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এবারের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। নতুন সরকারকে শুরু থেকেই মোকাবিলা করতে হয়েছে— এক ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক অব্যবস্থাপনার উত্তরাধিকার।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা দাবি করে আসছেন—তারা একটি ‘ক্ষতবিক্ষত অর্থনীতি’ উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারগুলো দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত অবস্থায় রেখে গেছে এবং সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আগের সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে বর্তমান সরকারকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে।

একই সুর শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যেও। জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও জনগণকে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে।’’

১০০ দিনের বাস্তবতা: সংকট সামলানোর লড়াই

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—এই সময়ের বড় অংশজুড়ে ছিল সংকট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের চাপ, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ, শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা—সব মিলিয়ে অর্থনীতি ছিল এক জটিল অবস্থায়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার এখনও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস এড়াতে সক্ষম হলেও স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেনি। বরং অর্থনীতির অনেক সূচক এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ডিম, মাছ, মাংস, সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। সরকার বাজার তদারকি বাড়িয়েছে, কিছু পণ্যে আমদানি শুল্ক কমিয়েছে এবং আমদানি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। তবে এখনও বাজারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি ফেরেনি।

মধ্যবিত্তের নীরব সংকট

অর্থনীতির এই চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। বেতন বা আয় না বাড়লেও শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া, পরিবহন ও খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার সঞ্চয় ভেঙে চলতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন আয়ের মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কিছু সুবিধা পেলেও মধ্যবিত্তের জন্য কার্যকর সহায়তা কম। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

রিজার্ভ ও ডলার সংকট এখনও বড় চাপ

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল চাপের মধ্যে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। শিল্পকারখানাগুলো কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যায় পড়ে এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে এবং সরকার বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের দিকে এগিয়েছে। এতে পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হলেও রিজার্ভ এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় পৌঁছায়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে রফতানি বহুমুখীকরণ এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানো জরুরি।

ব্যাংক খাতে আস্থা সংকট

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ব্যাংকিং খাত। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, খেলাপি ঋণ এবং অর্থপাচারের কারণে ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণের নামে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়েছে, যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, “ব্যাংকিং সিস্টেমের এক-তৃতীয়াংশ টাকাই নেই।” এই বক্তব্য দেশের আর্থিক খাতের প্রকৃত দুরবস্থাকে সামনে নিয়ে এসেছে। কিছু ব্যাংকে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, নজরদারি জোরদার এবং আর্থিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

স্থবির বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংকট

উচ্চ সুদহার, জ্বালানি অনিশ্চয়তা, ডলার সংকট এবং দুর্বল চাহিদার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে গেছে। নতুন শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হওয়ায় সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এমসিসিআই তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি এখনও “ভঙ্গুর ও অসম পুনরুদ্ধারের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন প্রবৃদ্ধি, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রফতানি খাতে বাড়ছে চাপ

বাংলাদেশের রফতানি খাত এখনও মূলত তৈরি পোশাক শিল্পনির্ভর। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি এবং ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে রফতানি খাত চাপের মুখে পড়েছে।

শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার কমাচ্ছেন এবং মূল্যছাড়ের চাপ দিচ্ছেন। অপরদিকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জ্বালানি সংকট: শিল্প উৎপাদনে নতুন চাপ

শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি এখন বড় উদ্বেগের কারণ। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রফতানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারেও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে।

রাজস্ব আদায়ে চাপ

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর থাকায় রাজস্ব আদায়েও চাপ তৈরি হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে। সরকার রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন আলাদা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করের হার না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণ এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

অর্থনীতি চাঙা করতে বড় ঋণ প্যাকেজ

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কৃষি, সিএমএসএমই, রফতানি বৈচিত্রকরণ, যুব কর্মসংস্থান এবং স্টার্টআপ খাতে অর্থায়ন করা হবে।

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। ব্যবসায়ীদের হাতে কার্যকর মূলধন নেই। তাই অর্থনীতিকে ‘বুস্ট’ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে বড় আকারের ঋণ সহায়তা নতুন করে বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই অর্থ নতুন টাকা ছাপিয়ে নয়— ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান তারল্য থেকেই আসবে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রথম ১০০ দিন ছিল মূলত সংকট সামাল দেওয়ার সময়। এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাত সংস্কার, বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক খাত স্থিতিশীল করা—এই পাঁচটি খাতেই দ্রুত অগ্রগতি দেখাতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, বাংলাদেশ এখন ‘ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়েনি, আবার স্থিতিশীলতাও ফেরেনি। ফলে সরকারের পরবর্তী সময়ের নীতি ও বাস্তবায়ন দক্ষতার ওপরই নির্ভর করবে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ঈদের ছুটিতে বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩টি টাস্কফোর্স, কাস্টমসে ১০টি টিম

ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইভাবে কাস্টমসও গঠন করেছে ১০টি বিশেষ টিম।   বন্দর, কাস্টমস, শিপিং, ব্যাংক, সিঅ্যান্ডএফসহ সংশ্লিষ্ট ২৬টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলেই তৈরি হয় জটিলতা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ঈদের ছুটিতে জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সচল রাখতে গঠন করা হয়েছে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে কাস্টম হাউসও শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু রাখতে ১০টি বিশেষ টিম গঠন করেছে।  ঈদের টানা ছুটিতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সচল এবং জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতেই এই টাস্কফোর্স ও বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।  চলতি মে মাসের ২৫ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার ৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টিইইউস কনটেইনার।  তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য খালাস বা ডেলিভারি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। কারণ আমদানি করা কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় না পৌঁছলে এবং প্রস্তুতকৃত পোশাক রপ্তানি করতে না পারলে, উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এদিকে ঈদের ঠিক আগে ২১টি বেসরকারি অফডকে (আইসিডি) আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।  স্বাভাবিক সময়ে আইসিডিগুলোতে প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার রপ্তানি কনটেইনার ও আড়াই হাজার আমদানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও ঈদের আগমুহূর্তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার রপ্তানি ও সাড়ে তিন হাজার আমদানি কনটেইনারে।  বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’র দাবি, ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  সংগঠনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন। এ কারণেই চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। ঈদের ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করবে।  এগুলো হলো- বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। বিজিএমই’র পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, তারা যেন ঈদের ছুটিকে সাধারণ ছুটির মতো বিবেচনা করে বন্দর বন্ধ না রাখেন। রপ্তানি ও আমদানির কার্যক্রমকে যেন পুরোদমে অব্যাহত থাকে। পণ্য সময়মতো ইনহাউস করতে না পারলে পোশাক উৎপাদনে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।’ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, ঈদের সময়ে দুটি টাস্কফোর্স সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে আরো একটি পৃথক টাস্কফোর্স।   চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, শুল্কায়ন ও এক্সামিনেশন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৬, ২০২৬
ফাইল ছবি

ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপে বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন

ছবি: সংগৃহীত

এটিএমে টাকা নেই, ঈদের আগে দুর্ভোগে গ্রাহকরা

ছবি: সংগৃহীত

এআই চিপের ব্যাপক চাহিদায় প্রথম প্রান্তিকে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সিঙ্গাপুরের

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন জুনে

আগামী জুন মাসে প্রথমবারের মতো ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’ এর আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়। আগামী ১৩ জুন ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করছে।  এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ঝুঁকি মোকাবিলা, সক্ষমতার দ্বার উন্মোচন’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বহুজাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা ও বেসরকারি খাতের অংশীজনরা অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নীতি, অর্থায়ন ও মূলধন সংগ্রহ, বাজারে প্রবেশাধিকার, শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠক হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী নভেম্বরে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রাক্কালের সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  এছাড়া পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ আয়োজনে প্রায় ৩৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে ৩ বছর মেয়াদি সংস্কার কর্মসূচিতে সম্মত বাংলাদেশ ও আইএমএফ

ছবি : সংগৃহীত

৯৪.৭০% পোশাক কারখানায় ঈদ বোনাস পরিশোধ: বিজিএমইএ

তারেক রহমানের সঙ্গে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ছবি: সংগৃহীত
হিলি স্থলবন্দর ঈদুল আযহায় ৭ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ

 দিনাজপুর হিলি স্থল বন্দরে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আজ থেকে ৭ দিন পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানি কারক এসোয়েশনের সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী সোমবার সকাল ১০টায় এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেন।  তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে জেলার হিলি স্থলবন্দরে আজ থেকে টানা ৭ দিন পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এ সময় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। গতকাল রোববার বিকেলে জেলার হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৭ দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সকল ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গত ২৩ মে শনিবার সন্ধায় হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সাথে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়,বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি ভারতের ব্যবসায়ীদের পত্র প্রেরণের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। এ সময়ে বন্দরের বেসরকারি ওয়্যারহাউস পানামা পোর্টের অভ্যন্তরে পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। আগামী ১ জুন সোমবার থেকে পুনরায় হিলি স্থল বন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বাসস’কে জানান,বন্দর এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের উভয় দেশে যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। সপ্তাহের ৭ দিনই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খোলা থাকে। হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেন বাসস’কে বলেন, সরকারি ছুটি ছাড়া কাস্টমসের অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু থাকবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে শুল্ক-কর পরিশোধ করে তাদের পণ্য খালাস নিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে কাস্টমস কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কম দামে পোশাক বিক্রি সত্ত্বেও সংকটে পোশাক শিল্প

ইসলামী ব্যাংকের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন খুরশীদ আলম

ছবি: সংগৃহীত

কোমল পানীয়ে কর কমালেই রাজস্ব বাড়বে তিন গুণ: কাজী নাজমুল হাসান

0 Comments