আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর সরাসরি অগ্রিম আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একেবারে খালি হাতে ফিরছে না সংস্থাটি। সরাসরি কর আদায়ের জনপ্রিয়তাবিরোধী পথে না হেঁটে, এবার ‘কৌশলী’ পথ বেছে নিয়েছে এনবিআর। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (সিসি) মোটরসাইকেল এবং একাধিক অটোরিকশার মালিকদের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে করের জালে বাঁধা হচ্ছে এই দুই খাতকে।
সরাসরি কর আরোপ না করলেও যাদের একাধিক অটোরিকশা আছে, নতুন বাজেটে তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এর মাধ্যমে অটোরিকশা ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর সরাসরি আয়কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ১৬৫ সিসির (ইঞ্জিন ক্ষমতা) ওপরের মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এখন থেকে এসব মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন কিংবা নবায়ন করতে হলে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার (পিএসআর) দাখিল করতে হবে।
সাধারণ মোটরসাইকেল মালিকদের রেহাই মিললেও, ১৬৫ সিসির ওপরের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন করতে এখন থেকে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (পিএসআর) দাখিল করতে হবে
এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর বিভাগের দায়িত্বশীল একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়ায় প্রথমে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় আয়কর আরোপের সুপারিশ ছিল। এরপর মোটরসাইকেল মালিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে করের হার কমানো হয়। সর্বশেষ দুই ধরণের যানবাহন থেকে সরাসরি কর আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় সহজ করতে সরাসরি আদায় না করে ভিন্ন কৌশলে কর সংগ্রহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল কিংবা আটোরিকশা উভয় যানবাহন যেহেতু সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে থাকে। তাই এনবিআর বিলাসবহুল মোটরসাইকেল (যেমন-১৬৫ সিসি ওপরে ) মালিকদের আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হবে। কারণ এই ধরনের বাহন রাইড শেয়ারিংয়ে কম ব্যবহৃত হয় বা হয় না বললেই চলে। তাই রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নে রিটার্ন স্লিপ দেখাতে হবে। ফলে আয়কর দিতে বাধ্য হবেন তারা। অন্যদিকে অটোরিকশা শ্রমজীবী মানুষের বাহন হিসাবে আয়কর দিতে হবে না। তবে যারা একাধিক অটোরিকশা দিয়ে দিনের পর দিন ব্যবসা করে আসছে তাদের থেকে আয়কর আদায়ের চেষ্টা থাকবে আগামী বাজেটে। এক্ষেত্রে অটোরিকশা ব্যবসায়ীকে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এনবিআরের প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়ার প্রথম দিকে ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রেখে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি হলে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের প্রস্তাব ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় শেষে কর কমিয়ে আমাদের নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়। ওই প্রস্তাবে ১১০ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৩ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে বছর প্রতি ৫ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এবার সেখানে থেকেও সরে আসলো এনবিআর।
শ্রমজীবী মানুষের বাহন হিসেবে সাধারণ অটোরিকশা চালকদের কর দিতে হবে না; তবে যাদের একাধিক অটোরিকশা রয়েছে এবং যারা এটি দিয়ে ব্যবসা করছেন, তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মোটরসাইকেল কিংবা অটোরিকশার চালকদের কোনো অগ্রিম আয়কর দিতে হয় না। তবে মোটরসাইকেল চালকদের এককালীন নিবন্ধন ফি ও ২ বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়। ৫০ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি এক হাজার ১৫০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট চার হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা। পরবর্তী ২ বছর পরপর প্রতি কিস্তি ২,৩০০ টাকা করে ৪টি কিস্তিতে অবশিষ্ট ৯ হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, গাড়ির মালিকদের প্রতিবছর ফিটনেস নবায়নের সময় নির্দিষ্ট হারে অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় মূল করের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০। গড়ে প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে কর আদায় করা হলে সরকারের কোষাগারে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি কর আদায় করা যেতো। তবে বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর দুই হাজার ৫০০ টাকা, সিসিভেদে প্রাইভেট কার ও জিপে এই কর ২৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত, দোতলা বাস, এসি মিনিবাস ও কোস্টারের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার টাকা, ৫২ আসনের বেশি বাসে ২৫ হাজার টাকা এবং এর কম আসনের বাসে ২০ হাজার টাকা কর দিতে হয়। আর এসি বাসে ৫০ হাজার টাকা এবং নন-এসি মিনিবাস বা কোস্টারের ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭মে এনবিআরের সামনে কর আরোপের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে স্বারকলিপি দিয়েছিল মটরসাইকেল চালকরা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানকে ওই স্মারকলিপি দেয়। যেখানে প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের প্রস্তাব ছিল।
সারা দেশে চলাচল করা ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে এবং শৃঙ্খলায় ফেরাতে শিগগিরই চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’
বাইকারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল বর্তমানে কেবল শখের বাহন নয়; বরং এটি লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত, কর্মসংস্থান ও জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রাইড শেয়ারিং চালকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে অনেক নারীও ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা এবং জ্বালানির ওপর বিদ্যমান কর পরিশোধ করে আসছেন। এর পাশাপাশি নতুনভাবে অগ্রিম আয়কর আরোপ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
স্মারকলিপিতে বাইকারদের চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করা। মোটরসাইকেলকে বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সাধারণ জনগণের প্রয়োজনীয় পরিবহন মাধ্যম হিসেবে মূল্যায়ন করা। বাইকারদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না করে পরিবহন খাতকে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত রাখার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নারী বাইকারদের নিরাপদ ও স্বাধীন চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।
দেশে নিবন্ধিত ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৮০টি মোটরসাইকেল থেকে সরাসরি কর আদায় করা হলে বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসতো। তবে জনস্বার্থে সেই পথে না হেঁটে বিলাসবহুল বাইক ও একাধিক অটোরিকশার মালিকদের পরোক্ষভাবে করজালে বাঁধার কৌশল নিয়েছে সরকার
অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় কোনো ধরনেরই কর দিতে হয় না। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যানুসারে, সারা দেশে ৫০ লাখেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই চলাচল করছে ১০ থেকে ১২ লাখের মতো। এসব রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’র খসড়া করেছিল সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। যা শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
খসড়া ওই নীতিমালায় বলা হয়, গতি ও গাড়ির ধরনভেদে বিআরটিএ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি নিজ নামে মধ্যম গতির তিনটির বেশি বা গঠিত পরিবহণ কোম্পানির নামে ২৫টির বেশি অটোরিকশা ক্রয় ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ধীরগতির অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি কিনতে ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অনুমোদিত ডিলার বা বিক্রেতা নিবন্ধনসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পন্ন না করে মধ্যম ও ধীরগতির বৈদ্যুতিক-অটোরিকশা ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করতে পারবেন না।
বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত হারে কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আওতায় আনা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির যে মূল্য চলছে, তার চেয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মূল্যসূচকের তুলনায় এসব কার্গোর জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি দিতে হয়েছে। গত সপ্তাহে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য একটি এলএনজি কার্গোর দর প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার প্রস্তাব করে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর। একই সময়ে জাপান কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম মূল্য ছিল ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। অন্য একটি কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। ওই সময়ে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আবার ৫ ও ৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য বিটল ইশয়া লিমিটেডের প্রস্তাবিত দর ছিল ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার, যেখানে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আন্তর্জাতিক সূচকের তুলনায় কেন বেশি দাম আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে স্পট মার্কেটে প্ল্যাটস ও জেকেএম সূচকের মূল্য ছিল ২২ দশমিক ৮২ থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলারের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিটি কার্গোর জন্য আন্তর্জাতিক সূচকভিত্তিক মূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ নিয়ে জ্বালানি বিভাগকে দেওয়া ব্যাখ্যায় আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্পট মার্কেটের দামেও। গ্যাসের মান নিয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা পেট্রোবাংলার নির্ধারিত গ্যাসের মান ও হিটিং ভ্যালুর শর্তও এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতাও কমে যায়। আর প্রতিযোগিতা কম থাকলে দর বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। স্বল্প সময়ে সরবরাহের টেন্ডারেও বাড়ছে দাম পেট্রোবাংলার ব্যাখ্যায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্পট মার্কেট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেন্ডার আহ্বান করা হলে অনেক সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী থাকলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি কেনার ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, এলএনজির নির্দিষ্ট মানের প্রয়োজনীয়তা এবং দ্রুত সরবরাহের শর্ত মিলিয়ে বর্তমান সময়ে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার ব্যয় বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৫ দশমিক ১০ ডলারে রয়েছে। এদিন মার্কিন ডলার সূচকও ০.৪ শতাংশ কমেছে। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পেপারস্টোন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই যে বাজারে স্বর্ণের দামের দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রবণতা তৈরি করতে পারে। এর আগে টানা দুই সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছিল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। তবে মার্কিন ডলারের দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৫ দশমিক ১০ ডলারে রয়েছে। এদিন মার্কিন ডলার সূচকও ০.৪ শতাংশ কমেছে। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পেপারস্টোন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই যে বাজারে স্বর্ণের দামের দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রবণতা তৈরি করতে পারে। এর আগে টানা দুই সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছিল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। তবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বিপরীতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে: স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বিপরীতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে: স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমেছে। এ মাসে পণ্য ও সেবার গড় মূল্যবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। তবে একই সময়ে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম। ফলে মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরেনি। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৫ সালের আগস্টে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হতো। সেই একই পণ্য ২০২৬ সালের আগস্টে কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে ৮ টাকা ২৬ পয়সা। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসে তা শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। তবে গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায় এবার কমেছে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। মূল্যস্ফীতির এই সামান্য পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। আগের মাসে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে মাসিক ও বার্ষিক-দুই হিসাবেই খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা কমতির প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উলটো। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। জুলাইয়ে যা ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেড়েছে। অঞ্চলভেদেও মূল্যস্ফীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে। শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জুলাইয়ে এটি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এদিকে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধির হারও আগস্টে কমেছে। বিবিএসের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে আগস্টে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে মজুরি যে হারে বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাবে আগস্টে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্পে এ হার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল। সব মিলিয়ে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির উচ্চহার মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি- বিবিএসের পরিসংখ্যান থেকে এমন চিত্রই পাওয়া যাচ্ছে।