পাহাড়ের মানুষকে শান্ত, ধৈর্য ধারণ, আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায়ের আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে সদ্য পদত্যাগ করা দীপেন দেওয়ান। একইসঙ্গে তিনি কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও পাহাড়ে সম্প্রীতি সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।
পদত্যাগের তৃতীয় দিন বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টায় দীপেন দেওয়ান তার নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই বার্তা দেন। বার্তাটি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও পৌঁছে দেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) আল-আমিন।
কালের কণ্ঠ পাঠকদের জন্য সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হল-
বার্তায় দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আমার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি গভীরভাবে অবগত রয়েছি।’
‘আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল পাহাড়ি, বাঙালি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি যে, আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধারণ করুন এবং আইনশৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন।
কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখুন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের সবার। এই অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই আমার প্রত্যাশা।
মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছি যে, আমার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একজন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার আদর্শ, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা আমার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। আমি দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেছি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমি বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি।’
‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আমার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা।
আমি জীবনের অবশিষ্ট সময়ও এই প্রিয় দল, এর আদর্শ এবং দেশের জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে যেতে চাই। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমি দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট রাখবো। এই দল আমি কখনো ত্যাগ করবো না।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি; ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়। তাই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগণের কাছে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নয়, প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু সংঘাত নয়।’
‘পরিশেষে বলতে চাই—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আমি পূর্ণ আস্থাশীল, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে চাই। আমি আবারও দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করছি—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আমার শেষ ঠিকানা।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজি। তাদের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন ডিএমপিতে, একজন সিআইডিতে এবং আরেকজন নৌপুলিশে। আজ-কালের মধ্যেই তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বাধ্যতামূলক অবসরের সেই প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে। সেখানে রয়েছেন তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার। নথিতে সবাইকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়ার সময় হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা এবং নৌপুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগম সম্পর্কে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন।’ জেসমিন সম্পর্কে নথিতে তাকে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতিপরায়ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। রেবেকা সুলতানার বিষয়ে নথিতে বলা হয়েছে, তার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে যাচ্ছে। তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় ওখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময় হয়েছে, তাই একটি চক্র এমন ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।’ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিন সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পর তার নিজ দায়িত্বে সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে গাড়িতে উঠিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি একই গাড়ির দ্বিতীয় সিটে অবস্থান করেন। এ বিষয়ে তৎকালীন ডিএমপির অফিসারদের কাছ থেকে বাহবা পান এবং সবাই তার প্রশংসা করেন।’ ফরিদা বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন। বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বরে কয়েকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তারা হলেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন এবং পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী ও উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় রয়েছেন। সূত্র: টিবিএস
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিতর্কিত ঘটনার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই শেষে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত বিভিন্ন সংবাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে দল। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দল থেকে আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’ গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও বর্তমানে দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (ডিপফেক) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রীমূলক ফুটেজ। তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক প্রতিষ্ঠান ফুটেজটি পর্যালোচনা করে জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, বরং এটি আসল। ফ্যাক্টচেকারদের প্রতিবেদনের পর ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। পরবর্তী সময়ে আজ দুপুরে এক সামাজিক মাধ্যম বার্তায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার মোছা. মরিয়ম বেগম নামে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’। চলতি বছরের ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিত তাদের বিয়ে হয়। বিবৃতিতে এমপি নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি পরিবারসহ ঢাকার মগবাজারে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর এক আত্মীয় বহিরাগতদের নিয়ে এসে তাদের জিম্মি করে এবং অর্থ দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এবং পূর্বশত্রুতার জেরে ওই সিসিটিভি ফুটেজ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্যের প্রথম ও কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শ্বশুরের বক্তব্যসংবলিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যেখানে তারা বিষয়টিকে পারিবারিক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।
বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সোমবার (২০ জুলাই) বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের সততা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনি (আইনজীবী) যে মামলাটা হাতে নিয়েছেন সেটির প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিচারপ্রার্থী আপনাকে প্রফেশনালি মামলায় এঙ্গেজ করেছেন, তাই আপনি আপনার কর্তব্য পালনে বাধ্য। এটা আপনার লিগ্যাল, ইথিক্যাল ও মোরাল দায়িত্বও। বিচার করবেন বিচারপতিরা। আপনি (আইনজীবী) তার মামলাটা প্রপারলি কোর্টে প্রেজেন্ট করেন। হার-জিত অন্য বিষয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার মো. কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য এবং আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মধ্যে সবসময় একটা আকুতি ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন। একজন মানুষ এক জীবনে এর থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন, ছয়বার এমপি হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, আবার ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন (এমপি) এবং বিএনপির আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)। এছাড়াও বাবার স্মৃতি তুলে ধরেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মেয়ে নিলুফার জমির। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জমিরউদ্দীন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির (এমপি) ও ব্যারিস্টার নওফেল জমির। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কর্তৃক শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে হাইকোর্টের বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের (এমপি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। স্মৃতিচারণ শেষে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।