বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এটা করা সম্ভব হলে বিশাল জনগোষ্ঠী এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীদের এ খাতে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। সৃজনশীলতার পাশাপাশি দেশের খাবার, সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজকে বৈশ্বিক বাজারে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বিশ্বের কোনো কোনো দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ১০ শতাংশে যেতে না পারলেও ২-৩ শতাংশে নিতে পারলে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ এখানে বেশি।
দেশের গ্রাম-গঞ্জের গান, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে পণ্য হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্ববাজারে বিক্রির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক গান ও সৃজনশীল কাজ এতদিন মনিটাইজ করা সম্ভব হয়নি। এগুলোকে সঠিক সহায়তার মাধ্যমে বাজারযোগ্য পণ্যে পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা ছোটখাটো গান যখন হিট হয়, একজন সাধারণ মানুষের একটা গান যখন হিট হয়ে যায়, এটা কি শত শত কোটি টাকার প্রোডাক্ট হয়ে গেল না? আমাদের মধ্যে সেটা আছে, সৃজনশীলতা আমাদের দেশের মধ্যে আছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইসিটি খাতে কাজ করা এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সৃজনশীলতাকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে তুলতে হবে।
থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে আমির খসরু বলেন, তিনি থাইল্যান্ডে দেখেছেন গ্রামের মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে পণ্য তৈরি করছেন। কিন্তু পণ্যের মান ছিল বিশ্ববাজারে বিক্রির উপযোগী। এর পেছনে ছিল সরকারের সহায়তা, কাঁচামাল থেকে শুরু করে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং পর্যন্ত।
তিনি বলেন, গ্রামের তৈরি পণ্যগুলো প্যাকেটজাত করে বিকেলে একটি ভ্যান এসে সংগ্রহ করে সরাসরি বিমানবন্দরে নিয়ে যেত। সেখান থেকে সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে যেত। বাংলাদেশেও এমন সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে গ্রামের সৃজনশীল মানুষকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব মানুষের জীবনযাত্রার মান শুধু পরিবর্তন হবে না, অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে, রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
তিনি কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্দেশে বলেন, শুধু ঋণ দিলেই হবে না, ঋণগ্রহীতাদের পণ্যকে আপগ্রেড করার জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করতে হবে।
অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে অনেক সৃজনশীলতা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে তারা তা কাজে লাগাতে পারেন না। আবার অনেকেই ব্যাংকে যেতে ভয় পান কিংবা ব্যাংকিং সেবায় তাদের প্রবেশাধিকার নেই। এ কারণে ‘অ্যাক্সেস টু ফাইন্যান্স’ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ঋণের সঙ্গে খরচ বা সুদ যুক্ত থাকলে উদ্যোক্তার মধ্যে তা আয় করে পরিশোধ করার একটি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়। অন্যদিকে অনুদানের অর্থ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই ঋণ নিয়ে লাভজনক ব্যবসা করার সক্ষমতা তৈরি করা এবং উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ছোট, মাঝারি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ এবং কুটিরশিল্পই বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। বড় শিল্প ও বড় প্রকল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বহু পরিবার তিন-চার প্রজন্ম ধরে একই ধরনের কাজ করে আসছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে তারা সেই পর্যায় থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না।
সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য সরকারের নেওয়া সহায়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ১০০ টাকার একটি পণ্যকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার পণ্যে উন্নীত করা সম্ভব হতে পারে। এসব পণ্য আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যযোগ্য হয়ে উঠলে অ্যামাজন, আলিবাবাসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বাজারে পৌঁছানো সম্ভব।
সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সৃজনশীল পণ্যের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। বিশ্বের মানুষ এখন বিভিন্ন দেশের গান, সংস্কৃতি ও বিনোদন উপভোগ করছে। তাই বাংলাদেশের প্রতিভাবান শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষদেরও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, এটা তো একটা জিডিপি, এটা অর্থনীতি। এটা কোনো চ্যারিটি না। চ্যারিটির মাধ্যমে কারও জীবনের উন্নয়ন হয় না। এটার একটা ইকোনমিক রিটার্ন পেতে হবে।
অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ব্যাংককে শুধু প্রচলিত খাতের উদ্যোক্তাদের নয়, সংগীত, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতের সম্ভাবনাময় মানুষদেরও ঋণের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ফাইন্যান্সিং ইজ নট এনাফ। আপনি যে ফাইন্যান্সিংটা করছেন, যে মানুষটাকে করছেন, তার সঙ্গে আপনার একটা বন্ধন থাকতে হবে। তাকে সাপোর্ট দিতে হবে। হি ইজ আ পার্টনার, হি ইজ নট আ বোরোয়ার।
অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা এনপিএল কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংকটির এনপিএল প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি এটি আরও কমিয়ে ১-২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এতে ব্যাংকের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের পাইলট প্রকল্পের জন্য ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল একটি পাইলট প্রকল্প। প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের মুনাফা ও প্রফিট প্লাওব্যাকের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আরও উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা কর্মসংস্থান ব্যাংকের রয়েছে। জামানত ছাড়াই এসব জনগোষ্ঠীকে ঋণ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণে সাধারণত ২৪ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নেওয়া হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে এ উদ্যোগটি সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। এ জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হবে, যাতে তারা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ২ শতাংশ সুদে তহবিল সরবরাহ করে, তাহলে কর্মসংস্থান ব্যাংক আরও কম সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
তিনি জানান, বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। ব্যাংকটি কম স্প্রেডে কার্যক্রম পরিচালনা করায় ঋণের সুদের হারও তুলনামূলকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির যে মূল্য চলছে, তার চেয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মূল্যসূচকের তুলনায় এসব কার্গোর জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি দিতে হয়েছে। গত সপ্তাহে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য একটি এলএনজি কার্গোর দর প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার প্রস্তাব করে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর। একই সময়ে জাপান কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম মূল্য ছিল ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। অন্য একটি কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। ওই সময়ে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আবার ৫ ও ৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য বিটল ইশয়া লিমিটেডের প্রস্তাবিত দর ছিল ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার, যেখানে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আন্তর্জাতিক সূচকের তুলনায় কেন বেশি দাম আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে স্পট মার্কেটে প্ল্যাটস ও জেকেএম সূচকের মূল্য ছিল ২২ দশমিক ৮২ থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলারের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিটি কার্গোর জন্য আন্তর্জাতিক সূচকভিত্তিক মূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ নিয়ে জ্বালানি বিভাগকে দেওয়া ব্যাখ্যায় আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্পট মার্কেটের দামেও। গ্যাসের মান নিয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা পেট্রোবাংলার নির্ধারিত গ্যাসের মান ও হিটিং ভ্যালুর শর্তও এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতাও কমে যায়। আর প্রতিযোগিতা কম থাকলে দর বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। স্বল্প সময়ে সরবরাহের টেন্ডারেও বাড়ছে দাম পেট্রোবাংলার ব্যাখ্যায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্পট মার্কেট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেন্ডার আহ্বান করা হলে অনেক সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী থাকলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি কেনার ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, এলএনজির নির্দিষ্ট মানের প্রয়োজনীয়তা এবং দ্রুত সরবরাহের শর্ত মিলিয়ে বর্তমান সময়ে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার ব্যয় বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৫ দশমিক ১০ ডলারে রয়েছে। এদিন মার্কিন ডলার সূচকও ০.৪ শতাংশ কমেছে। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পেপারস্টোন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই যে বাজারে স্বর্ণের দামের দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রবণতা তৈরি করতে পারে। এর আগে টানা দুই সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছিল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। তবে মার্কিন ডলারের দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৫ দশমিক ১০ ডলারে রয়েছে। এদিন মার্কিন ডলার সূচকও ০.৪ শতাংশ কমেছে। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পেপারস্টোন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই যে বাজারে স্বর্ণের দামের দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রবণতা তৈরি করতে পারে। এর আগে টানা দুই সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছিল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। তবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বিপরীতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে: স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বিপরীতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে: স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমেছে। এ মাসে পণ্য ও সেবার গড় মূল্যবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। তবে একই সময়ে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম। ফলে মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরেনি। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৫ সালের আগস্টে যে পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হতো। সেই একই পণ্য ২০২৬ সালের আগস্টে কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে খরচ বেড়েছে ৮ টাকা ২৬ পয়সা। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসে তা শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। তবে গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায় এবার কমেছে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। মূল্যস্ফীতির এই সামান্য পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। আগের মাসে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে মাসিক ও বার্ষিক-দুই হিসাবেই খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা কমতির প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উলটো। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। জুলাইয়ে যা ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেড়েছে। অঞ্চলভেদেও মূল্যস্ফীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে। শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জুলাইয়ে এটি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এদিকে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধির হারও আগস্টে কমেছে। বিবিএসের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে আগস্টে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ আগস্টে মজুরি যে হারে বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাবে আগস্টে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্পে এ হার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল। সব মিলিয়ে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির উচ্চহার মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি- বিবিএসের পরিসংখ্যান থেকে এমন চিত্রই পাওয়া যাচ্ছে।