ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) একটি ‘জরুরি’ চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান। রোববার (১১ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি চিঠিতে বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রই ‘মানবাধিকার’ বা ‘জনগণের প্রতি সমর্থন’-এর অজুহাতে অন্য দেশের ভেতরে সহিংসতা উসকে দেওয়া, সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরির অধিকার রাখে না। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ বিকৃতি এবং এগুলোকে হুমকি বা হস্তক্ষেপমূলক নীতির বৈধতা দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, আন্তর্জাতিক আইনকে বিকৃত করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করা হলে তা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের কথা বলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বিকল্পসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তিগুলো অর্থনৈতিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
পৃথক এক ঘটনায় ইরান জানিয়েছে, লন্ডনে দেশটির দূতাবাসে হামলার ঘটনার পর এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। এ সময় তাকে একটি কড়া প্রতিবাদপত্রও দেওয়া হয়।
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক দাবিতেও রূপ নেয়।
তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, বিক্ষোভের সংখ্যা বর্তমানে চূড়ান্ত সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরের প্রায় ৩০০ স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। তাদের হিসাবে, এসব ঘটনায় প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো নিহত বা গ্রেপ্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক জাতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির খসড়া দেখা ও পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল তেলআবিব। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্পর্কে অবগত নয় ইসরাইল। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হতে যাওয়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো জানে না ইসরাইল। যদিও এ ধরনের কোনো অনুরোধ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। খবর আনাদোলুর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) দেখতে চেয়ে ইসরাইলের করা একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকটি দেখার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা। তবে সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলুকে তিনি বলেন, তেলআবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে ‘এ ধরনের কোনো অনুরোধই’ জানায়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ইসরাইলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সমন্বয়’ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকটির ‘প্রতিটি শব্দ’ পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই নথির বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার কোনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে ১৪টি ধারা রয়েছে। এসব প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ধারাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরান পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি সই হবে এবং এর পর হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান— কোনো পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।
বিশ্বে মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের উৎপাদন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৮৮.২ মিলিয়ন টন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের খাদ্য হিসেবে মাছ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমবারের মতো মৎস্যচাষ বা চাষের মাধ্যমে উৎপাদিত মাছই এখন মানুষের খাবারের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। এটি বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাছ শুধু খাদ্য নয়, বরং মানুষের পুষ্টির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে, যা অনেক মানুষের জন্য সহজে অন্য খাদ্য থেকে পাওয়া কঠিন। বিশ্বে বর্তমানে একজন মানুষ গড়ে বছরে প্রায় ২০ দশমিক ৭ কেজি মাছ খায়। অনেক উপকূলীয় দেশ ও দ্বীপরাষ্ট্রে মাছ প্রাণিজ প্রোটিনের প্রধান উৎস। কিছু দেশে মোট প্রাণিজ প্রোটিনের অর্ধেকেরও বেশি আসে মাছ থেকে। মাছ খাত শুধু খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে নয়, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ সরাসরি মাছ ধরা ও মৎস্যচাষের সঙ্গে জড়িত। পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা মিলিয়ে প্রায় ৬০ কোটি মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৎস্যচাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে এই খাতের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন। এখন মানুষের খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত মাছের বড় অংশই আসে চাষের মাধ্যমে। এশিয়া এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎপাদন অঞ্চল হলেও আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতেও মৎস্যচাষ দ্রুত বাড়ছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। অনেক জায়গায় অনিয়ন্ত্রিত ও ঘন মৎস্যচাষের কারণে পানি দূষণ, রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকে, তাহলে এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়বে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানির অম্লতা বেড়ে যাওয়া এবং মাছের প্রজাতির পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত মাছ ধরা বা অতিরিক্ত আহরণ অনেক অঞ্চলে মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। এতে স্থানীয় জেলেরা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দীর্ঘ ৫৩ বছর পর এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল নিউইয়র্ক। তবে উদযাপনের মধ্যেই টাইমস স্কয়ার এলাকায় গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করে। এসময় উল্লসিত ভক্তরা বাস ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে, যার ফলে অর্ধশাতধিক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক নিক্সের শিরোপা উদযাপনের সময় টাইমস স্কয়ার এলাকায় পরপর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় তাকে পুলিশের গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদযাপন চলাকালে আরও কয়েকজন আহত হন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত চারজন ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন। এদিকে আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে একটি লোডেড আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে পুলিশ। শিরোপা উদযাপন ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বেসবল ব্যাট দিয়ে পুলিশ গাড়িতে হামলা চালায়, গাড়ির কাচ ভাঙচুর করে এবং পাঁচটি স্কুলবাস ও পাঁচটি পুলিশ যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অনেককে সড়কের বাতিস্তম্ভ ও ট্রাফিক সিগন্যালের ওপর উঠে আতশবাজি ফোটাতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলবাসগুলোর কিছু ব্যবহার করা হচ্ছিল ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ উপলক্ষে দর্শকদের পরিবহনের কাজে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন বাসের ছাদে উঠে পড়ে এবং চালকের আসনেও বসে পড়ে। এর মধ্যে একটি হলুদ স্কুলবাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নিক্স। ১৯৯৯ সালের পর এবারই প্রথম তারা এনবিএ ফাইনালে উঠেছিল। এর আগে ১৯৯৪ ও ১৯৯৯ সালে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। নিকসের শিরোপা উদযাপন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র : এনডিটিভি ও বিবিসি