রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সাংবাদিকরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চলে এখন পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কোথাও পানিতে জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, আবার কোথাও ধুয়ে নেওয়া আঁশ সড়কের পাশে বা বাড়ির উঠানে রোদে শুকানো হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাটকাঠিও আঁটি করে সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। চলতি মৌসুমে পাটে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে বাজারে পাটের দাম সন্তোষজনক থাকায় তাদের মধ্যে স্বস্তিও দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, পাট কাটার পর সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন পানিতে জাগ দিতে হয়। এরপর আঁশ ছাড়িয়ে তা পরিষ্কার করে রোদে শুকানো হয়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে এই প্রক্রিয়া। অনেক কৃষককে কোমরসমান পানিতে নেমে পাটের আঁশ ছাড়াতে দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভ্যান বা অন্যান্য যানবাহনে পাটের বোঝা নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়কের ধুলিহর এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে পাটের আঁটি বাঁধছিলেন কৃষক মাজেদ আলী। তিনি জানান, প্রায় ১৯ দিন পানিতে জাগ দেওয়ার পর কয়েক দিন আগে পাটের আঁশ ছাড়িয়েছেন। এখন সেগুলো শুকিয়ে আঁটি বাঁধছেন। ধান কাটার পর জমিতে পাট চাষ করেছিলেন তিনি। খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১১ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেড়েছে ৬৮ হেক্টর। এবার জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বেল পাটে প্রায় ১৮২ কেজি পাট থাকে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক। কয়েকটি এলাকায় এখনো পাট কাটার কাজ চলছে। কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, পাটের পাতা জমির উর্বরতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পাটের আঁশ ও পাটকাঠি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে সাতক্ষীরায় পাটভিত্তিক বড় কোনো শিল্প না থাকায় উৎপাদিত পাট স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিক্রি করেন কৃষকরা। সদর উপজেলার মাধবকাঠি এলাকায় সড়কের পাশে পাটের আঁশ শুকাচ্ছিলেন এক নারী কৃষক। প্রায় ২০ দিন পানিতে জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়িয়ে এখন রোদে শুকানোর কাজ করছেন তিনি। একই এলাকার একটি বিলের পানিতে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন কয়েকজন কৃষক। তাদের একজন আশিকুর রহমান জানান, ১১ শতক জমিতে পাট চাষের জন্য ৩০০ গ্রাম বীজ কিনেছিলেন। তার জমিতে প্রায় দুই মণ পাট হয়েছে। এর সঙ্গে পাওয়া পাটকাঠিও বিক্রি করবেন। প্রতি আঁটি পাটকাঠি ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে বলে জানান তিনি। সদর, তালা, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটখেতে রোগবালাই কম ছিল। সাধারণত গোড়া পচা, পাতা শুকিয়ে যাওয়া এবং বিছা পোকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। তবে এবার এসবের প্রকোপ কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, তিনি পাঁচ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এতে ৩৪ আঁটি পাটকাঠি হয়েছে এবং প্রায় আড়াই থেকে তিন মণ পাট পাওয়ার আশা করছেন। চাষ ও পাট ধোয়ার কাজে তার প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে এবার লাভ থাকবে বলে আশা করছেন তিনি। তালা উপজেলার ইসলামকাটি এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছর পাটে রোগবালাই বেশি হওয়ায় কয়েক দফা কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়েছিল। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাই কম এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারদর নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট। কলারোয়ার হেলাতলা এলাকার কৃষক করিম হোসেন জানান, প্রতিবছর তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন। গত বছর ২৫ মণ পাট পেয়েছিলেন। এবার ফলন ভালো হওয়ায় প্রায় ৩০ মণ পাট পাওয়ার আশা করছেন। পাটের আঁশ শুকানোর পাশাপাশি পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করছেন কৃষকরা। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে সড়কের পাশেও বড় বড় আঁটি করে পাটকাঠি রাখা হয়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দামে কৃষকরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। গত বছরও পাটের দাম কাছাকাছি ছিল। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং শেষদিকে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে পাট বিক্রি হয়েছিল। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সালেহ্ মোহামাদ আবদুল্লাহ বলেন, পাটকেলঘাটা এলাকায় পাটের বড় বাজার রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকেও পাট কিনছেন। বর্তমানে কৃষকরা বিভিন্ন মাধ্যমে সহজেই বাজারদর সম্পর্কে জানতে পারছেন। ভালো ফলন, তুলনামূলক কম রোগবালাই এবং সন্তোষজনক বাজারদর—সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার পাটচাষিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এখন মাঠ থেকে পাট সংগ্রহ করে আঁশ শুকিয়ে তা বাজারজাত করার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
চট্টগ্রামে একটি মামলার জামিন শুনানিতে আইনজীবীর কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তার ডোপ টেস্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শাহেদুল হক নামের ওই আইনজীবী শুনানির সময় অসংলগ্নভাবে কথা বলছিলেন এবং তার পোশাকও অগোছালো ছিল বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালত এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি পরদিন বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়। আদালত ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, নগরের হালিশহর থানায় দায়ের করা একটি নালিশি মামলায় আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শাহেদুল হক। শুনানির শুরুতে বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী আদালতকে জানান, আসামির আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হতে চাচ্ছেন না। তিনি নিজেই আসামির পক্ষে জামিন শুনানি করতে চান এবং এতে বাদীপক্ষের কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান। তবে আদালত জানিয়ে দেন, জামিন শুনানির সময় আসামির আইনজীবীকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। পরে বিকেলের দিকে শাহেদুল হক আদালতের এজলাসে উপস্থিত হন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শুনানির সময় ওই আইনজীবীর কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং তার পোশাকও পরিপাটি ছিল না। এ সময় তিনি অসংলগ্নভাবে আসামি ভুল করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন করবে না—এমন বক্তব্য দিয়ে জামিনের আবেদন করেন। তার শারীরিক অবস্থা ও কথাবার্তার ধরন পর্যবেক্ষণ করে আদালতের কাছে তিনি মদজাতীয় কোনো কিছু পান করে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য শাহেদুল হককে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আইনজীবীকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চমেক হাসপাতালের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন বলেন, আদালত একজন আইনজীবীর ডোপ টেস্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিবেদন তিনি পাননি।
চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত বাবুর্চি ও কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি শনিবার রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের কারণে রেস্তোরাঁগুলোকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও কয়েক মাস পর একই ধরনের সমস্যা আবারও দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। তাই শুধু শাস্তি বা জরিমানার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছে প্রশাসন। তিনি বলেন, শুধু জরিমানা আদায় কিংবা চাপ সৃষ্টি করে রেস্তোরাঁগুলোর কার্যক্রমে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না। বরং মালিক ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা এবং সচেতনতা তৈরি করেই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় খাবার তৈরি ও পরিবেশনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ও নানা অনিয়ম ধরা পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে রেস্তোরাঁ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়। বৈঠকে গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিন রেস্তোরাঁগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। রেস্তোরাঁ মালিকদের পক্ষ থেকে শনিবার দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, আগামী শনিবার রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলোতে নির্ধারিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এদিকে বৈঠকে রেস্তোরাঁ মালিকেরা বাবুর্চি ও খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের তালিকা চেয়েছে জেলা প্রশাসন। জাহিদুল ইসলাম বলেন, খাবার তৈরি ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের হাইজিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কীভাবে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়েও তাদের প্রশিক্ষিত করা হবে। তিনি বলেন, খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করা কিংবা অনিরাপদ খাবার গ্রহণের কারণে এসব কর্মীও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এর আগে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে নির্ধারিত মান নিশ্চিত করার জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কোনো প্রতিষ্ঠান যে গ্রেডের লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, সেই অনুযায়ী নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁর গ্রেড কমিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। নিয়মিত গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতি বুধবার চিকিৎসা সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে অনেক মানুষ আসেন। তাদের মধ্যে কিডনি রোগীর সংখ্যাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে অনিরাপদ ও ভেজাল খাবারের কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। জনস্বাস্থ্য ও দেশের অর্থনীতির পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তার ভাষ্য, একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তার জনগণ। বিপুলসংখ্যক মানুষকে অসুস্থ রেখে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন। নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ মালিক, কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সচেতন, মানবিক ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে চায় প্রশাসন।