সর্বশেষ

কোরবানির শিক্ষা সারা বছর যেভাবে ধরে রাখব

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতির ইতিহাসে কোরবানির দুটি ঘটনা বিশেষভাবে স্মরণীয়। একটি হাবিল ও কাবিলের কোরবানি, অন্যটি নবী ইব্রাহিম ও তাঁর পুত্র নবী ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগের ঘটনা।

 

এই দুই ইতিহাসের মধ্যে নিহিত রয়েছে ইমান, আন্তরিকতা ও আত্মোৎসর্গের গভীর শিক্ষা।

 

পৃথিবীতে প্রথম কোরবানি 

কোরবানির প্রথম ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল হজরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলকে কেন্দ্র করে। তারা উভয়েই আল্লাহর জন্য কোরবানি পেশ করেছিলেন। হাবিল তাঁর উৎকৃষ্ট পশু কোরবানি করেন, আর কাবিল উৎসর্গ করেন নিম্নমানের শস্য।

আল্লাহ–তাআলা হাবিলের কোরবানি কবুল করেন, কিন্তু কাবিলের কোরবানি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে কাবিল ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজ ভাই হাবিলকে হত্যা করে বসে।

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন তারা উভয়েই একটি করে কোরবানি পেশ করেছিল, তাদের একজনের কোরবানি কবুল করা হলো আর অন্যজনেরটি কবুল করা হলো না। তখন সে বলল, ‘আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব।’ জবাবে অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো শুধু পরহেজগারদের (কোরবানিই) কবুল করেন।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২৭)

 

নিয়তের বিশুদ্ধতাই গ্রহণযোগ্য 

এই ঘটনার মাধ্যমে কোরআন আমাদের একটি মৌলিক সত্য শিক্ষা দেয়, তা হলো— আল্লাহর কাছে বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, অন্তরের তাকওয়া ও নিষ্ঠাই গ্রহণযোগ্য।

হাবিলের কোরবানি কবুল হয়েছিল তাঁর আন্তরিকতার কারণে। পক্ষান্তরে কাবিলের কোরবানি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল তার অন্তরের অসততা ও কৃপণতার জন্য।

কোরবানির এই শিক্ষা এখনও সমানভাবে প্রযোজ্য। পশুর আকার বা মূল্য নয়, নিয়তের বিশুদ্ধতাই আল্লাহর কাছে মুখ্য।

 

নবী ইব্রাহিমের কোরবানি 

হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন আল্লাহর খলিল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাপ্ত প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর আদেশে কোরবানি করার নির্দেশ পেয়ে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।

পুত্রকে নিজের স্বপ্নের কথা জানালে ইসমাইল (আ.) অবিচল আনুগত্যের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা-ই করুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ (সুরা সাফ্ফাত, আয়াত: ১০২)

কোরবানির ইতিহাস আমাদের শেখায় যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সবচেয়ে প্রিয় জিনিসও ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের প্রবৃত্তি, স্বার্থ, লোভ ও পার্থিব আসক্তিকে আল্লাহর নির্দেশের সামনে উৎসর্গ করতে পারেন। কোরবানির মূল চেতনা এখানেই নিহিত।

 

কোরবানির শিক্ষা যেভাবে ধরে রাখব

কোরবানি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনের ইবাদত হলেও এর শিক্ষা সারাজীবনের জন্য। কোরবানির প্রকৃত চেতনা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন আমরা ঈদের পরও আল্লাহর আনুগত্য, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের এই আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করব।

নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তির ওপর আল্লাহর বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া, হারাম ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা, মানুষের হক আদায় করা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা কোরবানির শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন।

একই সঙ্গে আমাদের হৃদয় থেকে অহংকার, হিংসা, লোভ ও স্বার্থপরতা দূর করার চেষ্টা করতে হবে। হাবিলের মতো আন্তরিকতা এবং ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো নিঃশর্ত আনুগত্যকে জীবনের আদর্শে পরিণত করতে পারলেই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হবে।

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েও কোরবানির চেতনা জীবন্ত রাখা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ত্রিশালে বাসের ধাক্কায় মাহিন্দ্রা-সিএনজি উল্টে নিহত ২, আহত ৬

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাজিরশিমলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।   স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, মহাসড়কের পাশে একটি মাহিন্দ্রা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। একই দিক থেকে আসা ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিন্দ্রাকে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়।   সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা প্যাসিফিক আইডিয়াল হাই স্কুলের সীমানাপ্রাচীরে আঘাত করে উল্টে যায়। এতে মাহিন্দ্রা ও সিএনজির দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।   আহত ছয়জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহতদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ।   বাসের এক যাত্রী বৃষ্টি আক্তার জানান, চলন্ত অবস্থায় বাসচালক হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পরে চালকের সহযোগী বাসটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি মামলায় ঢাকা ব্যাংকের চার কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

পুতুলের পদে নির্বাচন: মালদ্বীপের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ছাত্রশক্তির কাউন্সিলে দুই পক্ষের হাতাহাতি

ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীতে চেকপোস্টে পুলিশকে ধাক্কা, মোটরসাইকেল নিয়ে পালাল দুই আরোহী

রাজশাহীতে পুলিশের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনরত এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ধাক্কা দিয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। লাল রঙের একটি টিভিএস ফোরভি মোটরসাইকেলে চালকের সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। দুজনের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।   শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর চৌদ্দপাই বিহাস মোড় এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।   ঘটনায় আহত পুলিশ কর্মকর্তা কিবিরয়া আহমেদকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার দুপুরে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান। তিনি নগরীর মতিহার থানায় কর্মরত।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিহাস মোড়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় কাটাখালীর দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে চালক সংকেত উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলটি থামানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে সেটি একটি পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে যান। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত তুলে নেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার একটি অংশ দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া এলাকার অন্য একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে মোটরসাইকেলটিকে চৌদ্দপাই হয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশ দিয়ে বুধপাড়া এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে। তবে ফুটেজে থাকা দুই ব্যক্তির চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।   ঘটনার পর মতিহার থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।   মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবির বলেন, এ ঘটনায় এএসআই সুরুজ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং শনিবার তিনি ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রফতানিতে জোর

ছবি: সংগৃহীত

গঙ্গা-পদ্মায় বাড়তে পারে পানি, সতর্কসীমায় প্রবাহের আশঙ্কা

মধ্যরাতে ফেসবুকে বিদায়ী পোস্ট লিখে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা মেঘমল্লার বসুর

ছবি: সংগৃহীত
সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ দম্পতির সম্পদ বিবরণী যাচাই করছে দুদক

সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম রোববার অনুসন্ধান কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার নিয়োগের তথ্য দিলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারেননি।   এ বিষয়ক দুদকের নথিতে বলা হয়, আজিজ আহমেদের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এবং পরিচালককে (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।   সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।   তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়।   এর আগে জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়টি সামনে আসে ২০২৪ সালের মে মাসে। ওই বছরের ২৯ মে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।   এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিধি মেনে আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নথিতে আজিজ আহমেদের ঠিকানা হিসেবে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসার ঠিকানা দেওয়া হয়েছে।   তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর ক্ষেত্রেও অনুসন্ধান ও তদারককারী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা দুদকের নথিতে বলা হয়েছে।   মিরপুর ডিওএইচএসের বাসিন্দা কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী বিধি অনুযায়ী যাচাই ও অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতলেন ডমিনিকান রিপাবলিকের জোহেইরি মোলা

ছবি: সংগৃহীত

কালিয়াকৈরে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষ, নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত

বাধা এলেও চট্টগ্রামে লং মার্চ পৌঁছাবে: নাহিদ ইসলাম

0 Comments