জাতীয়

রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে নিতে বিলম্ব, ৬ মাস বাড়ল সঞ্চালন প্রকল্পের মেয়াদ

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতিতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিলম্ব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যমুনা ও পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন রিভার ক্রসিংয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের স্টিয়ারিং কমিটি ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরেই প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভার কার্যবিবরণীতে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

 

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

 

প্রকল্পের আওতায় যমুনা নদীতে রূপপুর-ঢাকা ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনের ৭ কিলোমিটার, পদ্মা নদীতে রূপপুর-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সিঙ্গেল সার্কিট লাইনের ২ কিলোমিটার এবং যমুনায় রূপপুর-ধামরাই ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনের ৭ কিলোমিটার রিভার ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

তবে যমুনার ২৩০ কেভি রিভার ক্রসিং অংশে এখনো পাঁচটি টাওয়ার স্থাপন করা বাকি। মোট ১১টি টাওয়ারের মধ্যে ছয়টির স্থাপনকাজ শেষ হয়েছে। এ অংশের অগ্রগতি প্রায় ৯৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। অবশিষ্ট কাজ শেষ করে আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি কমিশনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

 

অন্যদিকে যমুনার ৪০০ কেভি রিভার ক্রসিং অংশে ১১টি টাওয়ারের সবগুলোর ফাউন্ডেশন ও স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ অংশের ভৌত অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

 

পদ্মা নদীর রূপপুর-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি রিভার ক্রসিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত ৫ জুন এ অংশের কমিশনিং সম্পন্ন করা হয়।

 

টাওয়ারের জায়গায় ৩০ ফুট উঁচু বালুর স্তূপ: প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে টাঙ্গাইল প্রান্তের একটি অপ্রত্যাশিত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় জানানো হয়, টাওয়ার নির্মাণের নির্ধারিত জায়গায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু করে বিপুল পরিমাণ বালু মজুত করে রেখেছিলেন।

এর ফলে নির্ধারিত স্থানে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই বালু সরাতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এতে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতিতে প্রভাব পড়ে।

এর পাশাপাশি নদীর মধ্যে ভারী নির্মাণযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। টাওয়ারের ফাউন্ডেশন ও স্থাপনের কাজে বড় ক্রেন বার্জ, টাগবোট, অ্যাঙ্কর বোট এবং ডিজেলচালিত ড্রেজারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়।

 

ডিজেল সংকটেও ব্যাহত কাজ: সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, নদীর মধ্যে ফাউন্ডেশন ও টাওয়ার স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার এবং সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার লিটার এইচএসডি ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার কারণে প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। এতে নির্মাণকাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়।

এরপর মে মাসে যমুনা নদীর পানির স্তর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি থাকায় নদীর ভেতরে কাজ পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে টাওয়ারের ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়নি।

 

বাড়বে না প্রকল্প ব্যয়: সভায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ঠিকাদারের চুক্তির মেয়াদ, প্রকল্পের ব্যয় বা চুক্তিমূল্য বাড়বে কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রকল্প পরিচালক জানান, অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয় এবং ঠিকাদারের চুক্তিমূল্য বাড়বে না। তবে প্রয়োজন হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের মেয়াদ বাড়ানো হবে।

এর আগে গত জুনে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পরিদর্শনের সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছিলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে সরবরাহ দিতে নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। একই সময়ে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক আরেক বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এলএনজির উচ্চমূল্যের কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন কমছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবও পড়ছে।

এ অবস্থায় রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও তা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে উৎপাদন থেকে সঞ্চালন এবং সেখান থেকে বিতরণ—প্রতিটি ধাপের সক্ষমতা ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ: স্টিয়ারিং কমিটির সভায় প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, অবশিষ্ট কাজগুলো অত্যন্ত জটিল ও কারিগরি প্রকৃতির। কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অ্যাকশন প্ল্যানে প্রয়োজনীয় সময়ের সংস্থান রাখা উচিত।

সভায় প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, কাজ পিছিয়ে পড়ার কারণ এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হয়। পরে স্টিয়ারিং কমিটি অতিরিক্ত কোনো ব্যয় ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশ করা হয়।   শুভেচ্ছাবার্তায় তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য শুভকামনা জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য ও মনোবল কামনা করেন।   বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা। জন্মদিনে আপনাকে অনেক অনেক শুভকামনা। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার নিবেদিত সেবার সঙ্গে সব সময় সুস্বাস্থ্য ও উচ্চ মনোবল বজায় থাকুক।’   বার্তার শেষে ‘তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ’ উল্লেখ করা হয়।   নরেন্দ্র মোদি ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার তার ৭৬তম জন্মদিন পালিত হয়েছে।   এদিকে তারেক রহমানের শুভেচ্ছার জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি তারেক রহমানের আন্তরিক শুভকামনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে নিতে বিলম্ব, ৬ মাস বাড়ল সঞ্চালন প্রকল্পের মেয়াদ

ছবি: সংগৃহীত

জরিমানা করেও মিলছে না সমাধান, রেস্তোরাঁকর্মীদের হাইজিন প্রশিক্ষণ দেবে চট্টগ্রাম প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

তদন্তে অব্যাহতি, তবুও জাবির দুই শিক্ষার্থীর নামে ৮০ হাজার টাকা জরিমানার নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত
ভাইরাল অডিও নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবিতে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে প্রত্যাহার হওয়া ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।   বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।   তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তে ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ডিবির একজন কর্মকর্তা এবং ডিএমপি সদরদপ্তরের আরও দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ভাইরাল হওয়া অডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকিবুল হাসানকে কমিটির পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওতে একজন ব্যক্তিকে পুলিশের সক্ষমতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। অডিওতে বলা হয়, রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন এবং শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে তারা কিছু করতে পারবেন না।   এ ছাড়া অডিওতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিএনপির প্রতি ঝুঁকে পড়ার দাবি এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করা হয়।   অডিওটিতে পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির বক্তব্য ও এর সঙ্গে রাকিবুল হাসানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই করতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্তের পর অডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজিজুল হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

বাটেক্সপোর অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান গোলাম পরওয়ার

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের মামলা খারিজ, গ্রেপ্তার হলেন সেই নারী

ছবি: সংগৃহীত
চাকরির বিষয়ে তদবিরের তথ্য ডোসিয়ারে সংরক্ষণের নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

সরকারি চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কোনো কর্মচারীর পক্ষে অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে তদবির করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গে এ ধরনের তদবিরের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়।   চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুসরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।   চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করতে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে যাচ্ছেন। এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২০-এর লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী তার চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করালে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তদবিরের ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করতে হবে।   তবে চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর্মচারীর আবেদন করার সুযোগ থাকছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারবেন।   এ ধরনের আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।   চিঠিতে নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর তিন যুদ্ধজাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত

নারী-পুরুষ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

0 Comments