সারাদেশের ৩০০ আসনে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্রভাবে মোট দুই হাজার পাঁচশত ঊনষাটটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
দল হিসেবে বিএনপি থেকে সর্বোচ্চ ৩৩১টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এছাড়া, জামায়াত ইসলামী থেকে ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন থেকে ২৬৮, জাতীয় পার্টি থেকে ২২৪টি, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১০৪টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এবি পার্টি থেকে ৫৩টি, সিপিবি থেকে ৬১টি,
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে ৪৪টি, বাসদ থেকে ৪১টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। তাছাড়া, সারাদেশে স্বতন্ত্র ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, গতকাল সোমবার ২৯ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। আজ মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। সেই আপীল ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু হবে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই প্রচারণা চলবে। আর ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে। আজ থেকে কেন্দ্রটির চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের অগ্রগতি নয়, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বড় অর্জন। কী ঘটছে রূপপুরে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপন করা হচ্ছে। এই জ্বালানি চুল্লির ভেতরে তাপ উৎপন্ন করবে, যা থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরবে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথম ধাপে এটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত হবে। এরপর ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করা হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাব্য সময়সূচি সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আগামী আগস্টের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। প্রকল্পের গুরুত্ব রূপপুর প্রকল্পটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এখানে দুটি ইউনিটে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০–১২ শতাংশ পূরণ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লা ও গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় এটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব, কারণ এতে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি পারমাণবিক জ্বালানি অত্যন্ত উচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে সংরক্ষণ ও ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিটি জ্বালানি রড ও বান্ডিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর নজরদারিতে রয়েছে। ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়ায় ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থাও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত। বাস্তবায়নের দীর্ঘ পথ রূপপুর প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় কয়েক দশক আগে। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ধাপে অগ্রগতি হয় এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়। ২০১৫ সালে নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরের পর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলে। চ্যালেঞ্জ ও ব্যয় প্রকল্পটি নানা কারণে দেরিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে—যেমন করোনা মহামারি, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ডলার সংকট। এতে ব্যয়ও বেড়ে প্রায় ১.৩৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুর চালু হলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারবে। একই সঙ্গে এটি দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন শুধু একটি প্রকল্প নয়—এটি বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যতের একটি নতুন দিগন্তের সূচনা।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে একটি পেট্রোল পাম্পে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্লাস্টিকের বোতলে তেল নেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে পাম্পে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে পৌর বাসটার্মিনাল এলাকার লাবনী ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুপুর থেকেই পাম্পটিতে তেল নিতে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও কৃষকেরা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি প্লাস্টিকের বোতলে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে লাইনে দাঁড়ানো অন্যরা আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্ষুব্ধ লোকজন পাম্প লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উপস্থিতদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, কিছু ব্যক্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং বাইরে থেকেও পাম্পের দিকে ঢিল ছোড়া হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) অনুস্বাক্ষরের পর এবার ঢাকায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ইইউর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপ। আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারসহ নানা কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পঞ্চম দফার এই সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। অন্যদিকে ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এরিক কুর্জওয়েল, যিনি সংলাপে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছাবেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা, নিরাপত্তা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন, সুনীল অর্থনীতি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনসহ বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি ইইউর সঙ্গে পিসিএ চুক্তিতে অনুস্বাক্ষর করেছে। ফলে এই সংলাপে চুক্তির পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হবে। অভিবাসন ইস্যুকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত আনা এবং বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়েও কথা উঠতে পারে। অন্যদিকে, ইইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখাতে পারে। বিচার বিভাগীয় সংস্কার, শ্রমখাতের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও পিসিএ অনুস্বাক্ষরের পর এই সংলাপ দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। বাংলাদেশ ও ইইউ উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।