মানুষের ভবিষ্যদ্বাণী তো অনেক শোনা হয়েছে, এবার ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে পূর্বাভাস দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। জনপ্রিয় তিন এআই চ্যাটবট—চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট ও জেমিনির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম।
ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম এএস ইউএসএ এই তিন এআই টুলের কাছে জানতে চেয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ কারা জিততে পারে। তাদের বিশ্লেষণে কয়েকটি দেশের নাম এলেও দুটি দলের নাম ছিল অভিন্ন—ফ্রান্স ও স্পেন। চমকপ্রদ বিষয় হলো, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কিংবা পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কেউই এককভাবে সবচেয়ে বড় ফেবারিট হিসেবে দেখায়নি।
মাইক্রোসফটের এআই টুল কোপাইলট প্রথমে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনের নাম উল্লেখ করে। তবে একটি দল বেছে নিতে বলা হলে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের পক্ষেই অবস্থান নেয় এটি।
কোপাইলটের বিশ্লেষণে, ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের স্কোয়াডের গভীরতা ও ধারাবাহিক প্রতিভার যোগান। পাশাপাশি কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো বিশ্বমানের তারকার উপস্থিতিও ফরাসিদের এগিয়ে রাখছে। ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্সকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল হিসেবেও মূল্যায়ন করেছে কোপাইলট।
চ্যাটজিপিটিও ফ্রান্সকে সম্ভাব্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখলেও একে নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেয়নি। বরং ফরাসিদের “সামান্য ফেবারিট” উল্লেখ করে স্পেনকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
চ্যাটজিপিটির মতে, ফ্রান্সের ধারাবাহিক সাফল্য, শক্তিশালী স্কোয়াড ও এমবাপ্পের মতো ম্যাচজয়ী ফুটবলার তাদের এগিয়ে রাখছে। অন্যদিকে স্পেনের শক্তি তরুণ প্রতিভা, বিশেষ করে লামিন ইয়ামালের মতো উদীয়মান তারকারা।
গুগলের এআই জেমিনি সরাসরি ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন বলেনি। প্রথমে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেনকে সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে উল্লেখ করলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের নামই বেছে নেয়।
জেমিনির এই মূল্যায়নের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাসেও। দুই সপ্তাহ আগে অপ্টা ১৬ দশমিক ০৮ শতাংশ সম্ভাবনায় স্পেনকে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখায়। ফ্রান্স ছিল দ্বিতীয়, তাদের সম্ভাবনা ধরা হয় ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
আরও একটি মজার তথ্য হলো, মে মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় ব্যাংকের প্রতিবেদনে কোপাইলট ফ্রান্স ও স্পেনকে প্রায় সমান সম্ভাবনাময় দল হিসেবে মূল্যায়ন করেছিল। ফলে এআই বিশ্লেষণ বলছে—২০২৬ বিশ্বকাপের লড়াইয়ে ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেনই আপাতত সবচেয়ে আলোচিত নাম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্যালেস খেলবে কীভাবে? চলতি মৌসুম শেষে তারা সেরা দশেও নেই। লিগ শেষ করেছে ১৫ নম্বরে থেকে। এরপরও ইউরোপা লিগে জায়গা করে নিয়েছে তারা। কীভাবে সম্ভব হলো? প্যালেস বুধবার (২৭ মে) কনফারেন্স লিগের ফাইনালে রায়ো ভায়েকানোকে হারিয়েছে। ১-০ গোলের এই জয়ের মাধ্যমে ট্রফি তো জিতে নিয়েছেই, পেয়েছে ইউরোপা লিগে খেলার টিকিট। নিয়ম অনুযায়ী, কনফারেন্স লিগ জয়ীরা ইউরোপা লিগে সুযোগ পেয়ে থাকে, ইউরোপা লিগ জয়ীরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ইউরোপা লিগ জয়ী অ্যাস্টন ভিলা পয়েন্ট টেবিলের হিসাবেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ পেয়েছে। তাদের মৌসুম শেষ হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের চার নম্বরে থেকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ পাওয়া বাকি ৪টি দল হলো লিগ জয়ী আর্সেনাল, রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুল। ইউরোপা লিগ খেলবে ৬-এ থাকা বোর্নেমাউথ ও ৭-এ থাকা স্যান্ডারল্যান্ড। ৮ নম্বরে থেকে কনফারেন্স লিগ নিশ্চিত করেছে ব্রাইটন। অর্থাৎ ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় আগামী মৌসুমে ৯টি ক্লাব অংশ নিবে। ৯ সংখ্যাটি রেকর্ড-সংখ্যা। এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের ইউরোপমঞ্চে সুযোগ পাওয়ার নজির নেই। এবারের মতো গত মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগের ৯টি ক্লাব ইউরোপের তিনটি প্রতিযোগিতায় খেলেছিল। লিভারপুল, আর্সেনাল, ম্যানসিটি, চেলসি ও নিউক্যাসল গিয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ইউরোপা লিগে অ্যাস্টন ভিলা, নটিংহ্যাম ফরেস্ট ও টটেনহ্যাম। প্যালেস খেলেছে কনফারেন্স লিগে।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি টানা তৃতীয়বার শিরোপা জেতার (হ্যাটট্রিক মিশন) অভিযানে শুভ সূচনা করল বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। শক্তিশালী আক্রমণভাগের তোপে ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সাবিনা-প্রীতিরা। চমৎকার পাসিং ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে মালদ্বীপের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে মালদ্বীপ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় এবং স্কোরলাইন ২-২ সমতায় নিয়ে আসে। তবে সমতায় ফেরার আনন্দ বেশি দীর্ঘ হতে দেয়নি বাংলাদেশ। কৌশলের পরিবর্তনের পর মাঠের নিয়ন্ত্রণ আবারও নিজেদের হাতে নেয় মেয়েরা। সুরভী আক্তার প্রীতির দুর্দান্ত ফিনিশিং এবং উমেলার আকর্ষণীয় স্ট্রাইকে আরও দুটি গোল করে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। গত দুই আসরের (২০২২ এবং ২০২৪) চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের লক্ষ্য এবার টানা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তোলা। আজকের এই জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের পরও নুনো এসপিরিতো সান্তোকেই প্রধান কোচ হিসেবে বহাল রেখেছেন ওয়েস্ট হ্যাম। এক বিবৃতিতে ক্লাবের পক্ষ থেকে এই ঘোষনা দেয়া হয়েছে। সোমবার পর্তুগিজ কোচ নুনো ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। তার আগের দিন মৌসুমের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যাম ৩-০ গোলে লিডসকে হারালেও, নগর প্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহ্যাম এভারটনকে হারানোয় তারা অবনমিত হয়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনলেও, নুনো লন্ডন স্টেডিয়াম ছাড়তে পারেন- এমন জল্পনা ছিল। ওই সময়ে হ্যামার্সরা ১৩ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল। তবে লিগের শেষ চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হার তাদের জন্য বড় মূল্য হয়ে দাঁড়ায়। আর সেই সুযোগে স্পার্স প্রিমিয়ার লিগে টিকে যায়। ওয়েস্ট হ্যামের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “সপ্তাহের শুরুতে প্রধান কোচ নুনো এসপিরিতো সান্তোর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হযয়েছে এবং আমরা আনন্দের সঙ্গে নিশ্চিত করছি যে তিনি ক্লাবের প্রতি তার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখার কথা জানিযয়েছেন- যেমনটা আমরাও তার প্রতি রেখেছি।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “নুনো খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আগামী মৌসুমেই ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডকে আবার শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি অত্যন্ত অনুপ্রাণিত। আগামী মৌসুমে এটিই হবে আমাদের নিঃসন্দেহ লক্ষ্য।” ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টায়ারের ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে এর আগে একবার কাজ করেছেন নুনো। ২০১৮ সালে উল্ফসকে ৯৯ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতিয়ে প্রিমিয়ার লিগে তুলেছিলেন তিনি।