সারাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গিয়ে জামায়াত-বিএনপির ৫ নেতা থানা হেফাজতে

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রবিউল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গেলে জামায়াত ও বিএনপির পাঁচ নেতাকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।   শনিবার রাতে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। আটক রবিউল ইসলাম মিরপুরের নওদা আজমপুর এলাকার রমজান আলীর ছেলে।   থানা হেফাজতে নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন জামায়াতের এবং একজন বিএনপির নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন— সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা নূর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে এনামুল হক (৪৫), সদরপুর ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত মেম্বার প্রার্থী আলাউদ্দিন (৪৩), আলী আকবরের ছেলে সুজন আলী (৩৩), রমজান মন্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং মৃত ইছাহক মালিথার ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩৯)।   মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসা নির্মূলে কঠোরভাবে কাজ করছে পুলিশ। শনিবার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামকে আটক করার পর রাতে বিএনপি ও জামায়াত নেতা পরিচয়ে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় আসেন।   তিনি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে তদবির করার অভিযোগে জামায়াতের চারজন ও বিএনপির একজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো ১০ বাংলাদেশি নাগরিককে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুলাউড়া থানায় স্বজনদের উপস্থিতিতে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হস্তান্তর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের রাহুল তালুকদার (২৭), খালিয়াজুড়ী উপজেলার যোগীমারা গ্রামের যুবরাজ সরকার (৪২), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাঙাধর গ্রামের হাবুল দাস (৪৮), হাবুল দাসের স্ত্রী সুমিত্রা দাস (৪৪), তাঁদের মেয়ে অনামিকা দাস (১৭) ও ভূমি দাস (৭), ছেলে হেমন্ত দাস (১৬), হামতপুর গ্রামের গোপাল দাস (২৭), সদর উপজেলার বক্তারগাঁও গ্রামের মো. আল আমিন (৩৫) ও আল আমিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুরইছড়া সীমান্তের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। গতকাল সকালে সীমান্তের মুরইছড়া চা-বাগান এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের মুরইছড়া ক্যাম্পের টহল দল। পরে তাঁদের আটক করে ক্যাম্পে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁদের আটক করে পরে সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি তাঁদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে স্বজনেরা থানায় পৌঁছালে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
রোববার টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের শাখা-প্রশাখা কর্তনের কাজ করা হবে। এ কারণে রোববার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেসকো রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ এর আওতাধীন দেওয়ানপাড়া ফিডারের (সোর্স থেকে উকিলের মোড় আইসোলেটর পর্যন্ত) বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ থাকবে না।   যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে সেগুলো হলো— দেওয়ানপাড়া, বাখরাবাজ, আমিনের মোড়, চেয়ারম্যানের মোড়, নজিরের মোড়, বেলঘড়িয়া, পশ্চিমপাড়া ও উকিলের মোড়।   সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে নেসকো রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দফতর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১০, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সেরা ট্রাভেল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নির্বাচিত হলেন সালাহউদ্দিন সুমন

ভ্রমণ জগত ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিংয়ে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিটিডব্লিউএ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ সেরা ট্রাভেল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সুমন। সম্প্রতি রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিডব্লিউএ) তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেয়। সংগঠনটি দেশের ভ্রমণ লেখক, নির্মাতা ও পর্যটন উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। পুরস্কার গ্রহণ শেষে সালাহউদ্দিন সুমন আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে  বলেন, “এমন একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্মাননা পাওয়া আমার জন্য গৌরবের। এখানে উপস্থিত অভিজ্ঞ ভ্রমণপ্রেমী ও গুণীজনদের গল্প ও কাজ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। খ ম হারুন, শাকূর মজিদ, আহসান হাবীব ও জিয়া হকের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এই সম্মাননা ভাগ করে নিতে পেরে আমি আনন্দিত।” অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় বিটিডব্লিউএর সভাপতি আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, “গুণী মানুষকে মৃত্যুর পর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের কাজের মূল্যায়ন তার জীবদ্দশাতেই হওয়া উচিত। এবারের আয়োজনে আরও কয়েকটি বিভাগে সম্মাননা দেওয়া হয়। ভ্রমণ সাহিত্যে পুরস্কার পান মাহফুজুর রহমান, অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণে মুনতাসির মামুন, আলোকচিত্রে মোস্তাফিজ মামুন, সৃজনশীল শিল্প নির্দেশনায় আনিসুজ্জামান সোহেল এবং সেরা ভ্রমণবিষয়ক পত্রিকা হিসেবে নির্বাচিত হয় ‘ভ্রমণ গদ্য’। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উন্মাদ সম্পাদক আহসান হাবীব, কনজ্যুমার রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব খ ম হারুন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন হেলাল। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করতে প্রতি দুই বছর অন্তর এ সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে বিটিডব্লিউএ।

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
বিএসএফের গুলিতে নিহত ২ বাংলাদেশির লাশ হস্তান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দুজনের লাশ হস্তান্তর করেছে বিজিবি। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় দুই দেশের শূন্য রেখায় বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।   বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলাধীন আনুমানিক ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারির সহায়তায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। পরবর্তীতে ভারত হতে চোরাচালালি মালপত্র নিয়ে আসার সময় প্রতিপক্ষ ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল তাদের চোরাচালানে বাধা প্রদান করলে বাংলাদেশি চোরাকারবারি বিএসএফ সদস্যের ওপর চড়াও হয় এবং বিএসএফ সদস্যর সঙ্গে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়।  হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সদস্য চোরাকারবারির ওপর দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছুড়ে। এ সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারি মো. মোরছালিন (২০) নিহত হন। তার বাড়ি ধজনগর। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজন মারা যান। অপর একজনসহ উভয়ে আহত অবস্থায় ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে বিএসএফ নিশ্চিত করেছে।

মারিয়া রহমান মে ০৯, ২০২৬ 0
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন। ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি নেতার কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা ছিনতাই

সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের বহনকারী প্রাইভেটকার আটকে হামলা চালিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।   শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকার লালমাটিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।   পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটরের দায়িত্বে রয়েছেন। শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা পৌঁছে দিতে তিনি বিকাশের কর্মকর্তাদের নিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বহন করে প্রাইভেটকারে রওনা দেন। তাদের বহনকারী গাড়িটি পারাইরচক এলাকার লালমাটিয়ায় পৌঁছালে ৮ থেকে ১০ জনের একটি ছিনতাইকারী দল মোটরসাইকেলযোগে এসে গাড়ির গতিরোধ করে। পরে তারা গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গাড়িতে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।   সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের বিকাশের বহনকারী প্রাইভেটকার আটকে হামলা চালিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   এদিকে, বুধবার নগরীর মিরের ময়দান এলাকায় র‍্যাব পরিচয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুল শিক্ষিকার স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। একই দিনে দক্ষিণ সুরমার চান্দাই পশ্চিমপাড়া পিরবাড়ি এলাকায় এক নারী ও তার শিশুসন্তানকে ছুরি ধরে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম বেতনে বেদে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

দেবিদ্বার উপজেলার পিছিয়ে পড়া বেদে সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা চালিয়ে যেতে সহায়তা দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের প্রথম মাসের বেতন থেকে তিনি ৩৪ জন বেদে শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন।   বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘লেটস মিট জিপসি জিনিয়াস’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কর্মসূচির কথা জানান। সেখানে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের নিয়ে আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক সেশনের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়।   অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে, বেদে সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারে মাধ্যমিকের পর মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা বন্ধ করা প্রয়োজন।   তিনি জানান, যেসব শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যাবে, তাদের প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে। পড়াশোনা অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই সহায়তা নিয়মিত চলবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৩৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রয়োজন ও শিক্ষাগত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হয়।   তবে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্তও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হবে। অবহেলা বা ফল খারাপ হলে বৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।   হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বেদে সম্প্রদায়ের মেয়েদের শিক্ষিত করা শুধু চাকরির জন্য নয়, বরং জীবন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্যও জরুরি। শিক্ষা ছাড়া এই সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এমপিসহ আহত অন্তত ৫০

সুনামগঞ্জের ছাতকে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলসহ ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাউয়া বাজার সংলগ্ন খিদ্রাখাপন গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আখলুছ মিয়ার কাছে প্রায় ২০ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন জাউয়া কোনাপাড়ার মোহাম্মদ আলী। দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত চেয়েও না পেয়ে কয়েকদিন আগে মোহাম্মদ আলী আখলুছ মিয়াকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জেরে জাউয়া বাজারে মোহাম্মদ আলীকে মারধর করেন আখলুছ মিয়ার সমর্থকরা। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাল্টা হামলা চালায় মোহাম্মদ আলীর লোকজন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের লোকজন জাউয়া বাজার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতের আঁধারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। এ সময় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে সংঘর্ষ দেখতে পান। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বা সাধারণ মানুষ এগিয়ে না এলেও এমপি কামরুল নিজেই সংঘর্ষস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি আহত হন। পরে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে এমপি কামরুলের ফেসবুক পেজ থেকেও আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহীত
দীর্ঘ ২১ মাস পর স্কুলে ফিরেই আবেগে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন প্রধান শিক্ষক

দীর্ঘ ২১ মাসের অপেক্ষা, অপমান আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ কর্মস্থল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকড়দীঘি নান্দুলা উচ্চবিদ্যালয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠেই সিজদায় বসে পড়েন।   একসময় যে বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কবির হোসেনের জীবনের স্মৃতি, সেই বিদ্যালয় থেকেই তাঁকে দীর্ঘ ২১ মাস দূরে থাকতে হয়েছিল। প্রিয় কর্মস্থলে ফিরতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অনেকেই এ সময় আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হন। এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়। এলাকায় স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ছিল। আজ স্যার ফিরে আসায় আমরা স্বস্তি অনুভব করছি। তিনি সব সময় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আন্তরিক ছিলেন। সেই সময় স্যার মবের শিকার হয়েছিলেন।’ ‎ ফলো করুন প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন মাঠেই সিজদারত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকড়দীঘি নান্দুলা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন মাঠেই সিজদারত। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকড়দীঘি নান্দুলা উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠেছবি: সংগৃহীত ‎দীর্ঘ ২১ মাসের অপেক্ষা, অপমান আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ কর্মস্থল জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার নিকড়দীঘি নান্দুলা উচ্চবিদ্যালয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠেই সিজদায় বসে পড়েন। একসময় যে বিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট-পাথরের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কবির হোসেনের জীবনের স্মৃতি, সেই বিদ্যালয় থেকেই তাঁকে দীর্ঘ ২১ মাস দূরে থাকতে হয়েছিল। প্রিয় কর্মস্থলে ফিরতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অনেকেই এ সময় আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হন।   এর আগে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একপর্যায়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়। এলাকায় স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ছিল। আজ স্যার ফিরে আসায় আমরা স্বস্তি অনুভব করছি। তিনি সব সময় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আন্তরিক ছিলেন। সেই সময় স্যার মবের শিকার হয়েছিলেন।’ ‎ কবির হোসেন বলেন, ‘মবের শিকার হয়ে ২১ মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসতে পারিনি। আজ আবার বিদ্যালয়ে এসেছি। যোগদান করতে পেরে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আমি যেন আবার নিজের জায়গায় ফিরে এসেছি।’ পাঁচবিবি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিকড়দীঘি নান্দুলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেনকে জোর করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কয়েক মাস তাঁর বেতনও বন্ধ ছিল। পরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে তাঁর বেতন নিয়মিত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এ কারণে তাঁকে বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহীত
কেরানীগঞ্জে অবৈধ সিসা কারখানায় অভিযান, গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি সিসা উৎপাদনকারী কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার করেরগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে কারখানাটি ধ্বংস করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের (দক্ষিণ) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদ। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে অবৈধভাবে সিসা উৎপাদন করা হচ্ছিল। উৎপাদিত সিসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা হতো। কারখানার কারণে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশদূষণ সৃষ্টি হচ্ছিল এবং বিষক্রিয়ায় গবাদিপশুর মৃত্যুর অভিযোগও পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এর আগেও কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে রাতের আঁধারে আবারও কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে পুনরায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক্সকাভেটরের মাধ্যমে কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মালিক ও শ্রমিকদের কাউকে না পাওয়ায় কারখানার মালামাল জব্দ করে তাৎক্ষণিক নিলামের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এসব সিসা গলানোর কারখানা গড়ে উঠেছে। নষ্ট ব্যাটারি ও ধাতব বর্জ্য গলানোর সময় সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্থানীয় মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি ফসলি জমি, পরিবেশ ও গবাদিপশুও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষায় সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক করছে সিএমপি

অনলাইন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষায় ‘সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক’ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। এক আলাপে তিনি চট্টগ্রাম শহরের অপরাধ, যানজট নিরসনসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। দুই যুগ আগে চট্টগ্রাম শহরে পুলিশের চাকরি শুরু করা হাসান মো. শওকত আলীর কাছে প্রশ্ন ছিল আগেকার অপরাধ ও এখনকার অপরাধের ধরণে কোনো পার্থক্য তিনি দেখেন কি না। উত্তরে তিনি বলেন, অপরাধের ধরনটা পাল্টে গেছে। এখন অনেক কিছু অনলাইনে হচ্ছে। কম কষ্টে বেশি তারা সংগঠিত করছে। এক্ষেত্রে তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, নীরবে কিছু অপরাধ হচ্ছে অনলাইনে। এর অন্যতম ভুক্তভোগী নারীরা। অনলাইনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যা নারীরা কাউকে বলতে পারে না। নারীরা যাতে নিঃসংকোচে তাদের কথা বলতে পারেন, সেজন্য আমরা ‘সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক’ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, বলেন তিনি। হাসান মো. শওকত আলী বলেন, এ ডেস্কে দায়িত্বে থাকবেন নারী অফিসাররা, যাতে ভুক্তভোগী নারীরা গিয়ে নির্বিঘ্নে, নির্ধিধায় ও নিঃসংকোচে কথা বলতে পারেন আরেকজন নারীর কাছে। ভুক্তভোগীদের কথা শুনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে। তিনি মনে করেন, বর্তমানে চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সমস্যা ‘কিশোর গ্যাং’। পুলিশ বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। অষ্টাদশ বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা শওকত আলী গত ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ৩৪তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে কাজ করা শওকত আলীর কাছে প্রশ্ন ছিল, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন কী? উত্তরে তিনি বলেন মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির কথা। কিশোরদের মনে একটা ‘ফ্যান্টাসি’ ও ‘হিরোইজম’ কাজ করে। এর থেকে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। এটি একটি সামাজিক অপরাধ। এটা দমনের জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ। তিনি বলেন, “আমরা এ অপরাধটি প্রতিরোধের কাজ করছি। সম্প্রতি চকবাজার এলাকায় যে কলেজ ছাত্র মারা গেছে, সে ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা পুরোপুরি দমনের জন্য পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ।” পুলিশ কমিশনার শওকত আলীর দাবি, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে কিছু ‘মব’ সংগঠিত করার চেষ্টা হয়েছে। পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদা দাবি ও গুলি ছোড়ার কয়েকটি ঘটনা চট্টগ্রামে বেশ আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। শওকত আলী বলেন, আমার মূল টার্গেট চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ। সন্ত্রাসীরা কীভাবে কোন পথে এগোচ্ছে সেটা আগে আমাদের ধরতে হবে। সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।   বায়েজিদ এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর বিষয়টি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সেটা নিয়ে আমি পুরোপুরি খুশি না। আমি আরও বেশি কিছু চাই। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের চাঁদাবাজির মত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা বেশ কিছু কৌশল নিয়েছি। সব কৌশল বলা যাবে না। তবে অচিরেই আপনারা একটা ফলাফল দেখবেন।” নগরজুড়ে সিসি ক্যামেরায় নজরদারি বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন চট্টগ্রাম নগরের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অপরাধ ও ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে আগে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। সিটি করপোরেশন ও সিএমপি যৌথভাবে এ কাজ করবে। চট্টগ্রামের যানজটের সমস্যা নিয়ে তার ভাষ্য, নগরীতে কিছু সড়ক শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো থেকে হকারসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। সড়ক নিয়ে এরকম কিছু কাজের পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি ট্রাফিক সিস্টেমকে সিগন্যাল লাইটের আওতায় আনারও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে গুলিতে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে  রাজু (২৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রেশমি আক্তার (১১) নামের আরও এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাতে থানার রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজুর বাড়ি রাউজানে। তিনি বোনের বাসায় বেড়াতে এসে এ হামলার শিকার হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’ চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চমেক হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমি আক্তারের ভাই ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত আমি জানি না। আমি দোকান করি। আমাদের বাসা রৌফাবাদ এলাকায়। আমার ছোট বোন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। শুনেছি আম্মু তাকে একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে আমার বোন হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়।’

মারিয়া রহমান মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকায় হকারদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা জারি

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়কে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা, যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি কমাতে প্রথমবারের মতো হকার ব্যবস্থাপনাকে নীতিমালার আওতায় নিয়ে এসেছে সরকার। বুধবার (৬ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামের সই করা পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। ‘ঢাকা শহরের হকার পুনর্বাসন নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক এ নীতিমালায় হকারদের নিবন্ধন, নির্দিষ্ট জোনে ব্যবসা পরিচালনা, হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট চালুসহ বিভিন্ন নির্দেশনা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে যেমন নগরীর শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকাও সুরক্ষিত হবে। বর্তমানে রাজধানীতে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশই দখল করে বসেন ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকানদাররা। কোথাও কোথাও ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করতে হয়। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, তেমনি যানজটও তীব্র হয়। এতদিন হকার ব্যবস্থাপনায় কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় যে যেখানে পারছেন দোকান বসাচ্ছেন। এবার সেই অব্যবস্থাপনা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন নীতিমালাটি মূলত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ হকার নীতিমালা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, ফুটপাত ও গণপরিসরে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি হকারদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্দিষ্ট জোনে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করাই এ নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য। নীতিমালায় হকারদের জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। এ জন্য সিটি করপোরেশনের অধীনে ‘হকার ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করা হবে। কমিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য স্মার্টকার্ড বা পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। একটি পরিবার থেকে একাধিক লাইসেন্স দেওয়া হবে না। নিবন্ধিত ব্যক্তিকেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং বরাদ্দকৃত জায়গা অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া বা ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। নীতিমালায় স্থান নির্বাচনের বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা রাখা হয়েছে। যেসব ফুটপাতে হকার বসার পরও পথচারীদের চলাচলের জন্য কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা ফাঁকা থাকবে, শুধু সেসব এলাকাতেই হকার বসার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কের পাশে হকার বসতে পারবেন না। মেট্রোরেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ ফুট দূরে হকার জোন নির্ধারণ করতে হবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়। এছাড়া চালু করা হচ্ছে ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নৈশকালীন মার্কেট’। শুক্র, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকায় হলিডে মার্কেট বসবে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস শেষে বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট পরিচালিত হবে। এসব মার্কেটে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, কোনো হকার স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবেন না। প্রতিদিন নির্ধারিত সময় শেষে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ করলে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স ছাড়া হকারদের বিরুদ্ধে বিনা নোটিসে উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, নগরীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ নীতিমালা করা হয়েছে। তবে সীমিত জায়গার কারণে সব হকারকে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে না। তাই কোন এলাকায় কতজন হকার বসতে পারবেন, তা পরিকল্পনার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে।

মারিয়া রহমান মে ০৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গোপন ‘মিনি ল্যাবে’ তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর নতুন মাদক

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গোপন ‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে ভয়ংকর ও অপ্রচলিত মাদক তৈরি করছে একাধিক চক্র। সম্প্রতি ধারাবাহিক কয়েকটি অভিযানে কেটামিন, কুশ, ইয়াবা ও ভেজাল মদ তৈরির এমন অন্তত চারটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসব চক্র আধুনিক প্রযুক্তি, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে মাদক সরবরাহ করছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ মার্চ রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ভয়ংকর মাদক তৈরির একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে তরল কেটামিন বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করা হচ্ছিল। অভিযানে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ কেটামিন ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অজ্ঞান করার জন্য ব্যবহৃত কেটামিন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে চক্রটি সেই কেটামিনকে কোকেন সদৃশ পাউডারে পরিণত করে মাদক হিসেবে বাজারজাত করছিল। তারা ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিত এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন করত। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, দুবাই ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো এসব মাদক। ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে জানান, গত কয়েক মাসে রাজধানীতে অপ্রচলিত মাদক তৈরির একাধিক ল্যাবের সন্ধান মিলেছে। ইয়াবার সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে নতুন ধরনের ইয়াবা তৈরির কারখানা যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি কুশ চাষ ও ভেজাল মদ উৎপাদনের ল্যাবও শনাক্ত করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির একটি কারখানা উদ্ধার করে ডিএনসি। সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গাজীপুরের পুবাইলে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিতে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করার সময় ট্যাবলেট তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইয়াবা উৎপাদনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে ৫০০ ইয়াবা সংগ্রহ করে তা গুঁড়া করে বিভিন্ন রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন। এসব ইয়াবা ঢাকা, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি বিক্রি করা হতো। অন্যদিকে রাজধানীর ওয়ারীতে একটি বাসায় ‘কুশ’ নামে পরিচিত উন্নত জাতের মারিজুয়ানা চাষের ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তৌসিফ হাসান নামে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ডিএনসি জানায়, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি ঢাকার বাসায় স্থাপিত ল্যাব পরিচালনা করতেন। সেখানে বিশেষ আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে কুশ চাষ করা হতো। ডিএনসির অভিযানে ওই বাসা থেকে কুশগাছ, কুশের বীজ, ক্যানাবিনয়েড রেজিন, মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তৌসিফের সহযোগী হিসেবে এক নারী ও বাসার তত্ত্বাবধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় পৃথক অভিযানে ভেজাল মদ তৈরির দুটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে বিদেশি মদের বোতলে রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল মদ তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ, কেমিক্যাল, বিয়ার ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ডিএনসির মহাপরিচালক হাসান মারুফ গণমাধ্যমকে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা এখন আরও সংগঠিতভাবে মাদক উৎপাদন ও পাচারে জড়িত হচ্ছে। বিদেশি চক্রও এতে সম্পৃক্ত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৭, ২০২৬ 0
অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। ছবি : সংগৃহীত
‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা ১১ বছরের ছাত্রী : সেই মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আখতারুজ্জামান আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। তবে বুধবার আদালতে পাঠাতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় রিমান্ড আবেদনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হয়নি। আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এর আগে বুধবার ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‌্যাব-১৪-এর একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে ময়মনসিংহে র‌্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব তাকে মদন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার’ পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন। ১১ বছরের ওই মাদ্রাসাছাত্রীর মা গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় শিক্ষক সাগরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করছি।

মারিয়া রহমান মে ০৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল (র.) মাজারে প্রধানমন্ত্রীর গিলাফ, ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর বার্ষিক ৭০৭তম ওরস মোবারক উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাজারে গিলাফ ছড়ানো হয়েছে। বুধবার বিকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে এ গিলাফ ছড়ান। গিলাফ ছড়ানো শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুও কামনা করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিসিক প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পবিত্র এই ওরস উপলক্ষে গিলাফ পাঠানো হয়েছে। আমি তার প্রতিনিধি হিসেবে তা মাজারে ছড়িয়েছি। তিনি আরও বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার দেশের কল্যাণে কাজ করছে। একটি পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক সিলেট নগর গড়তে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ উল্লাহ সজিব, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাসসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে বার্ষিক ওরস উপলক্ষে গিলাফ ছড়ানোর এ আয়োজন একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতি বছর জিলকদ মাসের ১৯ ও ২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ওরসের সূচনালগ্নে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে মূল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

মারিয়া রহমান মে ০৬, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনে জলদস্যুর তাণ্ডব: ২২ জেলে অপহরণ, ১৭ জন এখনো জিম্মি

উপকূলীয় সুন্দরবনে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। গত দুই দিনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে ২২ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ১৭ জন এখনো জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতে বেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জেলেদের তুলে নেওয়া হয়। অপহরণের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। অপহৃত জেলেরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মোমনি ফকির (৩০), মুর্শিদ আলম (৪০), ইসমাইল শেখ (২৮), আব্দুল করিম (৪৮), আব্দুস সামাদ (৪০), মনোহর সরকার (৩৪), আল মামুন (১৬), হুমায়ুন (২৬), মনিরুল (২৫), রবিউল (৩০), সঞ্জয় (৫২), আল আমিন (৩৭), শাহাজান (৫০), আবুল বাসার বাবু (৩৫), রেজাউল (৩৫), আব্দুস সালাম (৫৫) ও আবুল কালাম (৪০)। এছাড়া মুক্তিপণের শর্তে ছাড়া পাওয়া পাঁচ জেলে হলেন, ধ্রুব সরকার (৩৮), হৃদয় মণ্ডল (৫৩), সবুর গাইন (৫০), সাইফুল ইসলাম (৩২) ও ইউনুস আলী (২৬)। অপহৃতদের পরিবারের সদস্য ও মহাজনদের ভাষ্য, চার থেকে পাঁচ দিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান জেলেরা। পরে বিভিন্ন খালে ছড়িয়ে মাছ ধরার সময় দস্যুরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্বজন বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা নির্দিষ্ট কোনো মুক্তিপণের অঙ্ক জানায়নি। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলেই তারা যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপহৃতদের নিরাপদে ফেরত পেতে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। ফিরে আসা জেলেদের অভিযোগ, দস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে। শ্যামনগর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি নতুন করে সুন্দরবন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার না করলে জেলেদের জীবিকা ও নিরাপত্তা দুটিই হুমকির মুখে পড়বে।

মারিয়া রহমান মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
শ্বশুরবাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নগরীর দেশওয়ালিপট্টি এলাকার কাসেম গার্ডেন বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জান্নাতুন নাঈম ফারিহার (২৩) মরদেহ উদ্ধার করে। এরইমধ্যে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত জান্নাতুল নাঈম ফারিয়া কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কানগাঁও এলাকার মো. হানিফ মিয়ার মেয়ে। ফারিহা সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের (১২তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে দেশওয়ালিপট্টি এলাকার মেহেদী হাসানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ফারিহার বিয়ে হয়। শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ফারিয়া তাদের ঘুমানোর কথা বলে দরজা বন্ধ করে। রাত ৮টায় দরজা নক করলে ফারিয়া দরজা খোলেনি। পরে থানা পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ জানান, মেহেদীর সঙ্গে বিয়ের পর টাকার জন্য ফারিয়াকে নানা সময় নির্যাতন করা হয়েছে। মেহেদী বেকার ছেলে। কিছুটা নেশাগ্রস্ত ছিল। ফারিয়া কোচিং ও, প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা উপার্জন করে মেহেদির হাতে তুলে দিত। আমার মেয়েকে সে অনেক অত্যাচার করেছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে। কোতোয়ালি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। মামলা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ০৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সূচি ঘোষণা

বরাবরের মতো এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে টিকিট কেনা যাবে। ৫ জোড়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে। রেলওয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারের জন্য ৪টি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে ঈদ উপলক্ষে কেনা টিকিট ফেরত (রিফান্ড) নেয়া হবে না। কোরবানির পশু পরিবহনের লক্ষ্যে ২২ ও ২৩ মে ঢাকা-জামালপুর পরিচালিত হবে দুইটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ কিছু নিয়ম কার্যকর থাকবে: অনলাইনে কেনাকাটা: অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার সব টিকিট কেবল অনলাইনে রেলওয়ের পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। টিকিট সীমা: একজন যাত্রী একবারই টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন এবং সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট নিতে পারবেন। স্ট্যান্ডিং টিকিট: যাত্রার দিন স্ট্যান্ডিং বা আসনবিহীন টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এটি মোট আসনের (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হবে। রিফান্ড: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কেনা টিকিট ফেরত বা টাকা রিফান্ড করা যাবে না। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এবং কালোবাজারি রুখতে এনআইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে টিকিট ইস্যু করা হচ্ছে। যাত্রীদের সঠিক তথ্য দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদযাত্রা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬ 0
সোমবার ভেড়ামারা থানার হলরুমে সাংবাদিকদের চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।
৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে বিএনপি কর্মী হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে (৪০) হত্যা করতে ৫০ হাজার টাকা চুক্তি করেছিল হত্যাকারীরা। বিজ্ঞ আদালতে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত আসামীরা। ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি প্রেস রিলিজ দিয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভেড়ামারা থানার হলরুমে তিনি সাংবাদিকদের চাঞ্চল্যকর সোহেল হত্যা মামলার সর্বশেষ তথ্য দেন। উল্লেখ্য ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর জর্ডান প্রবাসী বিএনপি কর্মী সোহেল রানাকে বিবস্ত্র করে, মুখমন্ডল পুড়িয়ে, শরীরের স্পর্শকাতর অংশ কেটে নিয়ে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ভেড়ামারা থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় সুজন খলিফা ওরফে সুজন কানা, লিমন, মহিন উদ্দিন, জাহাবুল ইসলাম জাবুল ও মো: শাওন এই ৫জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মহিন, জাবুল ও শাওন এই ৩জন আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত তুষার,খোকনসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে ভেড়ামারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্তে ও আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আসামিরা ৫০ টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানায়। হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিন সোহেল রানার ঘনিষ্ঠজন হিসাবে পরিচিত সুজন কানা তার বাড়িতে তুষার, জাবুল, শাওন ও লিমনকে নিয়ে একটি মিটিং করে। এ সময় সুজন অ্যাডভান্স হিসাবে ২৫ হাজার টাকা মহিনকে দেয়, বাদবাকি হত্যাকান্ডের পরে দেবে বলে জানায়। ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যার পর লিমন ও মহিন ভুক্তভোগী সোহেল রানাকে সাতবাড়িয়া বাজার থেকে হত্যাকাণ্ডের স্থল রামচন্দ্রপুর বিলের মাঠের গ্রামের রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকেই জাবুল ও তুষার হাসুয়া, বাটাম, দুটি লোহার রড ও ছুরি নিয়ে অবস্থান করছিল।তুষার হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় পিছনে কোপ মারে এবং অন্যান্য আসামিরা এলোপাথারি মারতে শুরু করে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মহিন তার গলায় একাধিকবার ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তুষার তার শরীরের কাপড় খুলে ফেলে এবং মহিন ও অপর আসামি শাওন পাটখড়ি, পেট্রোল দিয়ে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে বিকৃত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে মহিন, জাবুল ও খোকন সুজন কানার বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগে বাদবাকি টাকা আনতে যায়। পরবর্তীতে সে টাকা তারা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ দেলোয়ার হোসেন কালবেলাকে বলেন, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রায় সম্পূর্ণটাই মিলে গেছে। তবে মূল আসামি সুজন কানা জবানবন্দি দিতে চাইলেও পরবর্তীতে নিজেকে সরিয়ে নেয়। তবে সুজন কানার মাদকদাতা কে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো এই মামলার কিছু রহস্য উন্মোচিত হতে বাকি রয়েছে।’

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত লিমন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জামালপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। লিমনকে শেষ বিদায় জানাতে জানাজায় মানুষের ঢল নামে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ বিন রশিদ, মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, লিমনের বাবা জহুরুল হক এবং ছোট ভাই জোবায়ের আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এর আগে বিকেলে লিমনের মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানটি গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মেধাবী এই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারসহ পুরো গ্রামজুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে। সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহটি জামালপুরে আনা হয়। উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে লিমনের সাবেক রুমমেট ও মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণারত ছিলেন।

মারিয়া রহমান মে ০৪, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের দুই মাস : লাভ হলো কার?

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0