বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে পারফিউম বডি স্প্রের তীব্র ঘ্রাণে ১৩ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে শিবপুর পাবলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রাত ১০টায় নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমী আক্তার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা না নিয়েই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বাকি ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যরা সুস্থবোধ করলে সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে যায়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠীদের শরীরে পারফিউম বডি স্প্রে ব্যবহার করে। এ সময় আশপাশে থাকা শিক্ষার্থীরা তীব্র ঘ্রাণে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও অসুস্থতা অনুভব করতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো— কনা, আনিকা, অন্তরা, ইসরাত, সুমাইয়া, লামিয়া, মারুফ, জিসান, মাহিন, তানজু, তানজিলা, সাদিয়া ও বিথী। তাদের সবার বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান মিয়া বলেন, নবম শ্রেণির এক ছাত্র তার মামার কাছ থেকে পাওয়া একটি পারফিউম সহপাঠীদের শরীরে স্প্রে করে। এ সময় আশপাশে থাকা ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। পরে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যবহৃত বডি স্প্রের বোতলটি পুলিশ জব্দ করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ রাজিবুল হাসানকে সুনামগঞ্জের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে, ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে এপিবিএনে, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকারকে সিআইডিতে, পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাওয়াত হোসেনকে পাবনায়, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হামায়ুন কবিরকে সুনামগঞ্জের দিরাই সার্কেলে এবং পুলিশ সদর দপ্তর ঢাকায় সংযুক্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসানকে র্যাবে বদলি করা হয়েছে।
‘প্রশাসন বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে যে কেউ চাইলেই যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করে কী করে? কীভাবে প্রশাসন টিস্যুর মতো ব্যবহৃত হতে পারে? মামলা করতে চাইলেই কি মামলা করা যাবে? এখানে কি কোনো ভেরিফিকেশন সিস্টেম নেই?’ এই প্রশ্নগুলো করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে শিশির মনির এ কথাগুলো বলেন। ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬১টি ভুয়া মামলা দায়েরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। শিশির মনির জানান, ওই ভুক্তভোগী পেশায় একজন সাধারণ লবণ ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে একে একে মোট ৬১টি মামলা করা হয়। সব কটি মামলাতেই ‘মানব পাচারের’ অভিযোগ আনা হয়। এই আইনজীবীর সহায়তায় সম্প্রতি ওই ব্যক্তি সব মামলা থেকে জামিন পেয়েছেন। শিশির মনির বলেন, আইনি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারই প্রতিফলন। সতর্ক করে তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে এই পুরো ব্যবস্থাটি একটি ‘নির্যাতনের যন্ত্র’ (টর্চার মেকানিজম) হয়েই থাকবে। এমন ব্যবস্থা গড়তে হবে, যেখানে দ্রুততম সময়ে মানুষের বিচার পাওয়া বা না পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। আইনি হেফাজতে মৃত্যু ৪৮৬ আলোচনাসভায় ‘নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রতিকার, ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকারের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মো. সাজ্জাদ হোসেন। প্রতিবেদনে ২০০১ থেকে ২০২৬ সালের ২২ জুন পর্যন্ত আইনি হেফাজতে মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিকার জানায়, এই দীর্ঘ সময়ে দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও হেফাজতে মৃত্যু থামেনি। গত ২৫ বছরে হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ৪৮৬ জন মারা গেছেন। প্রবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি আমলে ১৮৪ জন আইনি হেফাজতে মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ শতাংশ। আর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মারা গেছেন ২১৩ জন বা ৪৪ শতাংশ। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের (৬ শতাংশ)। এ ছাড়া বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আইনি হেফাজতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকার আরও জানায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ৪৮টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন। সংস্থাটির মতে, শাসনামল বদলালেও আইনের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে মানবাধিকার সংকট কাটছে না। নির্যাতন প্রতিরোধে সুপারিশ নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য ‘অধিকার’ ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, স্বাধীন তদন্ত সংস্থা ও মনিটরিং সেল গঠন এবং একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা। এ ছাড়া গুম ও নির্যাতন রোধে বিশেষ আইনি সংস্কার, ‘শূন্য সহনশীলতা নীতি’ বাস্তবায়ন, ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানায় সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এবং ‘ডেইলি ওয়াদা’র এডিটর ইন চিফ শফিকুল আলম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছাড়াও বড় বড় মামলায় নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। এতে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি আদৌ প্রকৃত অপরাধী কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় থেকে যায়। তিনি বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করলেই হবে না; বরং পুরো নিরাপত্তা বাহিনী, তদন্তব্যবস্থা ও প্রসিকিউশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে গণমুখী করতে সংস্কারের বিকল্প নেই। এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পেছনে যারা যুক্ত ছিল, তাদের অপরাধের বিচার না হলে দেশ এগোবে না। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর মানুষের বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রবণতা ফ্যাসিবাদের সময়ে গড়ে উঠেছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র যেভাবে দানব হয়ে উঠেছিল, সংস্কার ছাড়া তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি ন্যায়বিচারের স্বার্থে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে পুরোনো নির্যাতনের সংস্কৃতিই ফিরে আসবে। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ফয়েজুল হাকিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কারের যেসব উদ্যোগ ছিল, নতুন সরকার সংসদকে সব ক্ষমতার উৎস ভেবে সেগুলো বাদ দিয়েছে। তিনি আইনি হেফাজতে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। অধিকারের পরিচালক তাসকিন ফাহমিনার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাইমা ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মিরপুরে নির্যাতনে নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই ইমতিয়াজ হোসেন, জুলাই আন্দোলনের ভুক্তভোগী মুহাইমিন পুলক এবং শহীদ শেখ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম। বক্তারা দলমত–নির্বিশেষে সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও বোনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মেঝো বোন কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে পুলিশে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার কারণ জানাতে পারেনি কেউ। নিহতরা হলেন- মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাদের পিতা কামাল হোসেন ২০১৯ সালে কেরোয়া গ্রামে রাস্তায় পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবক নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের বাসিন্দা কার্তিক মজুমদারের ছেলে অন্তর মজুমদার। নিহতদের রায়পুর ও সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিকে আহত মেঝো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে (১৭) আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। কয়েক বছর আগে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। এরপর থেকে ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহীনুর ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে ওই যুবক। এ সময় ঘটনাস্থলেই মা ও ছোট মেয়ে মারা যান। অপর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর বড় মেয়ে সায়মাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ইকরা নামের একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার আবু তারেক। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এছাড়া তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অভিযুক্ত একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা। তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলে তিনি পথে মারা যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিতরা ইটপাটকেল ছুড়লে ৭ জন সদস্য আহত হয়। পুলিশ সুপার আবু তারেক ৪ জন নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এখনো ঘটনার কারণ জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ–বগুড়া নতুন রেলপথ কোন দিক দিয়ে কোন পর্যন্ত যাবে, আগে থেকেই নির্ধারণ হয়ে আছে। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নতুন রেলপথে কিছুটা পরিবর্তন আনতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর সেই চাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকচ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এটি পরিবর্তন করা যাবে না। আগে থেকে ঠিক করা পথ (রুট) ধরে রেললাইন বসবে। বর্তমান সরকার সিরাজগঞ্জ–বগুড়ার মধ্যে নতুন ৭৬ কিলোমিটার মিশ্র গেজ (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ) রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে। এ রেলপথ নির্মাণ হলে সিরাজগঞ্জ থেকে রেলপথে বগুড়ার দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে আসবে। এখন ট্রেনে ঘুরপথে বগুড়ায় যেতে হয়। ঢাকা থেকে ট্রেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর হয়ে সান্তাহার দিয়ে বগুড়া শহরে যায়। নতুন রেললাইন হলে ট্রেন সিরাজগঞ্জ থেকে কামারখন্দ, রায়গঞ্জ, শেরপুর, শাজাহানপুর ও কাহালু হয়ে বগুড়া শহরে যাবে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। ভারতীয় ঋণের অর্থে এটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতীয় সরকার প্রকল্পে অর্থায়ন না করার কথা জানিয়ে দেয়। ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। ভারত সরে যাওয়ার পর এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। এ কারণে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। সংশোধন প্রস্তাবটি এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আছে। অনুমোদনের পর তা একনেকে ওঠার কথা। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ হলো সময়মতো প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে না পারা। এর মধ্যে ডলারের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে নতুন কিছু সেতু ও উড়ালসড়ক যুক্ত করা হয়েছে। জমির মূল্যও বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। প্রতিমন্ত্রী যা চেয়েছিলেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন রেলপথটি সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়ার রানীরহাট হয়ে বগুড়া শহর পর্যন্ত যাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চেয়েছিলেন, নতুন রেলপথটি বগুড়া শহর অবধি না নিয়ে রানীরহাট থেকে শহরের বাইরে দিয়ে গাবতলী উপজেলা পর্যন্ত যাবে। এর ফলে ১৫ কিলোমিটার বাড়তি রেলপথ নির্মাণ করতে হতো। বিষয়টি নিয়ে ১ জুন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, নতুন যে রেলপথটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি বগুড়া শহরের ভেতর না নিয়ে গাবতলী নিয়ে গেলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। বর্তমানে কাহালু থেকে বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে গাবতলী পর্যন্ত রেলপথ রয়েছে। পুরোনো এ রেলপথ উঠিয়ে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান রেলপথটি ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং আছে। এসব রেলক্রসিংয়ে প্রতিদিন একাধিকবার ট্রেন চলাচলের কারণে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থানে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী আরও লেখেন, রেলক্রসিংগুলোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সেসব এলাকার বাসিন্দারা দুর্ভোগের শিকার হন। সেই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নেই নতুন সরকারের প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন চিঠি পেয়ে খানিকটা বিপাকে পড়েন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ, প্রতিমন্ত্রীর কথা মেনে রেলপথ বসালে প্রকল্পের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ও নকশা করতে গেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে শহর থেকে বেশ দূর দিয়ে রেলপথ যাবে। বিষয়টি জানার পর বগুড়া শহর বিএনপির নেতা–কর্মী ও স্থানীয় লোকজন এর বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৬ জুন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনে। তাঁর পরামর্শ চায়। সব শুনে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের অনুরোধ আমলে না নিয়ে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মৌখিক নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া প্রধানমন্ত্রী নাকচ করার বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। রেলপথে পরিবর্তন আনা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ যা বলছে পুরোনো রেললাইনের কারণে বগুড়া শহরের যানজটের প্রসঙ্গ চিঠিতে লিখেছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ বিষয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রেললাইনের কারণে বগুড়া শহরে যানজটের যে বিষয়টি আছে, সেটি আলাদা প্রকল্প করে সমাধান করা হবে। নতুন রেললাইনে প্রয়োজন অনুযায়ী পাতাল ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করা হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, বগুড়া শহরে থাকা পুরোনো রেলপথ উঠিয়ে ফেলতে গেলে স্থানীয় মানুষ বাধা দেবেন। এ ছাড়া শহরের ভেতর রেলের দামি জমি ও স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোও পরিত্যক্ত হয়ে যাবে। দখল হয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ নাকচ করেছেন। সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব। তিনি বলেন, সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন করা হলেই ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়ছে প্রতিমন্ত্রীর চাওয়া মেনে পরিকল্পনা কিংবা নকশায় বদল না হলেও সিরাজগঞ্জ–বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়ছে। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূল ডিপিপিতে মোট ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের কথা বলা আছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত পথনকশা নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করার পর প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০১ দশমিক ৭৭ একর। পরবর্তী সময় বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসকের চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলনে এ খাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্প–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় অধিগ্রহণ ব্যয়ও বেড়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার প্রশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্পে যা থাকছে প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন ও ৩৭ কিলোমিটার শাখা রেললাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার ও ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট–বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও এ প্রকল্পে রয়েছে। ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস ও ঢাকা–নাটোর মহাসড়কের ওপর আরেকটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এ পথে মোট ১১টি রেলস্টেশন থাকবে। সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রানীরহাটে নতুন আটটি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর রেলস্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রানীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি মুখ বগুড়ার দিকে, অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় করা মামলার ঘটনায় ‘বিব্রত’ হয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুকে আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একথা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ মামলা সম্পর্কে আগে থেকে তিনি কিছুই জানতেন না এবং কে বা কারা এটি দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও তাঁর কোনো ধারণা নেই। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে তাঁর নির্বাচনি এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় চরমোনাই পীর সাহেবের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি বিব্রত হয়েছেন। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “মামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনুরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছে, বাদী মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন।” তিনি আরও জানান, সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তাঁর আইনজীবীকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিবৃতিতে এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে সংঘটিত একটি অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর যে অভিযোগ ছিল, তা তিনি সংসদেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। এর বাইরে কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা হয়রানিমূলক পদক্ষেপে তিনি বিশ্বাসী নন বলেও ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় আইন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে। ” এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে গত ২০ জুন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলা করা হয়। জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় খোকন নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তিনি যুবদলের কোনও স্তরেরই সদস্য নন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।
রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযাগ ব্যবস্থায় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া পদ্মা সেতুর চার বছর পূর্ণ হলো আজ বৃহস্পতিবার। ২০২২ সালের ২৬ জুন পদ্মা সেতু দিয়ে শুরু হয় যান চলাচল। এরপর গত চার বছরে সেতু ব্যবহার করেছে আড়াই কোটিরও বেশি যানবাহন। বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে তিন হাজার ৩৯২ কোটি টাকারও বেশি। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে তার প্রায় অর্ধেক টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। মোট ব্যয়ের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা অর্থ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে দেয় সরকার। বর্তমানে সেতুর ওপর তলায় সড়ক পথে চলছে যানবাহন আর নিচ দিয়ে ছুটছে ট্রেন। পদ্মা সেতুর দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ সমকালকে জানান, পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশিই আদায় হচ্ছে। তারপরও সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এটা মানুষের ভোগান্তি লাঘবের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বহুবিধ সুযোগ করে দিয়েছে। জানা গেছে, পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হলেও পরদিন ২৬ জুন এই দিনে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। পরের বছর ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পদ্মা সেতুর রেলপথ উদ্বোধন হয়। পদ্মা সেতু হয়ে চালু হয় ঢাকা-ভাঙ্গা নতুন রেল নেটওয়ার্ক। আর ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর রেল লিঙ্ক প্রকল্প পুরোপুরি চালু হয়। এদিন রাজধানী থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে ভাঙ্গা হয়ে নতুন পথে নড়াইল ও যশোর অতিক্রম করে খুলনা পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। রাজধানী থেকে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় খুলনা ও বেনাপোল পৌঁছানো যাচ্ছে ট্রেনে। তাই এখন দক্ষিণের মানুষ সড়ক ও রেলপথের সুফল পাচ্ছে। এই সেতু ব্যবহার করে দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের সুযোগও রাখা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে শুরু হয় যানবাহন চলাচলসহ টোল আদায় কার্যক্রম। গত বছর শুরু হয় ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহের কার্যক্রম (ই-টোল)। এ পদ্ধতিতে আর কোনো যানবাহনকে লাইনে দাঁড়িয়ে নগদ টাকায় টোল পরিশোধ করতে হবে না। কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের টোল কর্তন করে নেবে কর্তৃপক্ষ। কত যানে কত টোল সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর ২০২২ সালে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৫টি যানবাহন পদ্মা সেতু ব্যবহার করে। এ থেকে টোল আদায় হয় ৪০২ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৫০ টাকা। পরের বছর আয় হয় ৮১৪ কোটি ৬৮ লাখ। ২০২৪ সালে ৮৩৬ কোটি ৩৫ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৮৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা আদায় হয়। আর চলতি বছরে গত ২৩ জুন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৪৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ওই দিন পর্যন্ত মোট টোল আদায় হয়েছে তিন হাজার ৩৯২ কোটি ১৬ লাখ এক হাজার ৪০০ টাকা। চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করেছে ২০২৫ সালে ৭২ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৭টি। অন্যদিকে সেতু চালুর পর থেকে গেল ঈদুল আজহার সময় এক দিনে টোল আদায় রেকর্ড গড়েছে পদ্মা সেতু। গত ৫ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন সেতু ব্যবহার করে, যা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার। ওইদিন টোল আদায় হয় পাঁচ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এর পরদিন ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ১১৮টি যানবাহন পার হয়। ওইদিন টোল আদায় হয় চার কোটি ৪৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা। যা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ পঞ্চম রেকর্ড বলে জানা গেছে। এক সেকেন্ডেই টোল পরিশোধ পদ্মা সেতুতে স্বয়ংক্রিয় ই-টোল ব্যবহার করা গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত বছর ১৫ সেপ্টেম্বর এই পদ্ধতি শুরু হয়। বর্তমানে পদ্মা সেতুতে ই-টোলে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে টোল আদায়ের পরিমাণ আট কোটি টাকারও বেশি হয়েছে। এক সেকেন্ডের মধ্যেই টোল দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু ব্যবহারকারী কয়েকজন চালক জানান, ই-টোল ব্যবস্থায় নিবন্ধিত গাড়ি ইটিসি লেনে প্রবেশ করলে আরএফআইডি রিডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির ট্যাগ শনাক্ত করে। এরপর গাড়ির তথ্য যাচাই করে, টোলের পরিমাণ নির্ধারণ করে এবং ওয়ালেট থেকে অর্থ কেটে নেয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে সাধারণত এক সেকেন্ডেরও কম। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যারিয়ার খুলে যায় এবং গাড়ি কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সেতু পার হতে পারে। প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্টদের মতে, টোল সংগ্রহ ব্যবস্থায় এই স্বয়ংক্রিয়তা শুধু সময়ই বাঁচাচ্ছে না, একই সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনাকেও আরও দক্ষ করে তুলছে। এতে টোল সংগ্রহ আরও স্বচ্ছ হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এসপায়ার টু ইনোভেটের হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আবদুল্লাহ আল ফাহিম সমকালকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি যানবাহন প্ল্যাটফর্মটিতে নিবন্ধিত হয়েছে এবং আট কোটি টাকার বেশি টোল আদায় করা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে, যানজট কমেছে এবং বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার কিছু বেশি টোল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষোভে হড়াই নদীর পানিতে সেগুলো ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কৃষক। মঙ্গলবার উপজেলার সোনাপুর বাজার সংলগ্ন সেতুর ওপর থেকে নদীতে এসব পেঁয়াজ ফেলেন কৃষক পলাশ মিয়া। পরে এ ঘটনার ভিডিও বুধবার দুপুর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর রেলিংয়ের পাশে পেয়াজের বস্তা ভর্তি একটি ভ্যানের ওপরে উঠেছেন একজন ব্যক্তি। এরপর ভ্যানে থাকা বস্তার রশি খুলে পেঁয়াজ নদীর পানিতে ফেলে দিচ্ছেন তিনি। এ সময় যে কৃষক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছেন তাকে পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে শোনা যায়। নিজের ভাষায় তিনি বলেন, “এই যে পেজ পানিতে ফেলে দিতিচি।পেজ ফেলে দিয়ে খালি বস্তা নিয়ে যাতিছি। যে দাম কয় তাতে কৃষকের পোষায় না এজন্নি পেজ পানিতে ফ্যালা দিয়ে যাতিচি। তিনি আরও বলেন, “কৃষকের মনে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট। এই দেহেন ভালো পেজ। আমরা পেজ ফ্যালা দিছি সোনাপুর ব্রীজির পর। এই দেহেন পানিতে ভাসে যাচ্ছে। কৃষক ম্যালা কষ্টে পেজ ফ্যালা দিচ্ছে, হাটে পেজ চলতেছে না। সোনাপুর বাজারে মঙ্গলবারের দিন।” এরপর ভিডিওতে নদীর পানিতে পেয়াজগুলো ভেসে যেতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর খবর নিয়ে জানা যায় ভুক্তভোগী ওই কৃষকের নাম পলাশ মিয়া। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হলুদবাড়িয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে, ভালো ফলন পেয়েছেন জানিয়ে পলাশ মিয়া বলেন, “বাজারে তো পেজের দাম নাই। যহন পেজ মাঠ থেকে তুলি তহন ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা মণ পেজ বিক্রি করছি। এহন আসে সেই পেজ ৬শ-৭শ টাকায় বিক্রি করা লাগতেছে। “এক মণ পেজ ঘরে তুলতি প্রায় ১৫শ টাকা খরচ হইছে। আর বিক্রি হচ্ছে ৬শ-৭শ টাকায়। এতে তো অনেক লস যাচ্ছে আমাদের।” পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে এ চাষি বলেন, “পেজের তো মেলা গ্রেড আছে। ভালো পেজ বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা মণ। মঙ্গলবার আমি যে পেজ আনছিলাম বাজারে তা ছিলো বি গ্রেডের পেজ। যে কারণে বাজারে কোনো ব্যাপারি দামই কয় নাই। যে কারণে রাগে-দুঃখে ব্রিজের ওপর থেকে পেজ নদী ফেলে দিয়ে খালি বস্তা কয়ডা নিয়ে আসি।” তিনটি বস্তায় চার মণ পেঁয়াজ ছিল বলেও জানান তিনি। ‘পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলার সোনাপুর পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা তাদের পেঁয়াজ বাজারে বিক্রির জন্য আনছেন। কেউ ভ্যানে, কেউ ইঞ্জিন চালিত নছিমনে। স্থানীয় ব্যাপারিরা কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করা পেঁয়াজ তাদের শ্রমিক দিয়ে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। এ বাজারে মানভেদে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। দাম কম থাকায় অনেক কৃষকই তাদের পেঁয়াজ বিক্রি না করেই চলে যাচ্ছে। পেঁয়াজের হাটে কথা হয় কৃষক আয়নাল শেখের সঙ্গে। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কৃষক এবার একদম শ্যাষ। পিজির দাম নাই। এক বিঘেয় পিজি উৎপাদনে ম্যালা খরচ হয়ছে। সারের দাম বেশি, ত্যালের দাম বেশি, শ্রমিকের দাম বেশি। প্রতি বিঘেয় খরচ পড়ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায়। “আর যারা জমি শোনকারি নিছে তাদের তো আরও খরচ বেশি। এই দামে পিজি বেচে খরচ উটতেছে না।” পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আরেক পেঁয়াজ চাষি কাশেম প্রামাণিক। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পিজ এহন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। একে তো মণ প্রতি তিন চারশ করে লস যাচ্ছে তার ওপর বাড়িতে সংগ্রহ করে রাকতে গেলেও খরচ বাড়তেছে। “পিজ যাতে না পচে তার জন্য ঘরে ফ্যান লাগাইছি। বিদুতের দাম বাড়েচে ডাবল। আগে ৫শ টাকা লাগলি এহন লাগে ১ হাজার। তালি কন কোন দিক যাবো।” আরেক কৃষক সুলতান বিশ্বাস বলেন, “যে দাম পাচ্চি আরবছর আমি পিজির আবাদ কম করবো। পিজি যদি লস যায় তালি সেতা তো করা যাবি না। সরকার ব্যাটারে কন আমাগে ইটু বাচাক। পিজির দাম ইটু বাড়ালি আমরা বাচপো না হলি শ্যাষ।” কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ আবাদ না করে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করায় উৎপাদন বেড়েছে। তিনি বলেন, “এখনো কৃষকের ঘরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণে আছে। বর্তমানে বাজারে দাম কম পাওয়ায় কৃষকদের মনটা খারাপ। সাথে সংরক্ষণ খরচও রয়েছে। আমি আশা করি সামনে পেঁয়াজের দাম বাড়বে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে।” রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহম্মেদ বলেন, “পেঁয়াজ নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণ করাটা চ্যালেঞ্জিং। সেক্ষেত্রে ডিমান্ড ও সাপ্লাইয়ের ওপরে মূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। “কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিবছর ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দেয়। তবে এ বছর এখনো মূল্য নির্ধারণ করে দেয়নি।” নাঈম আহম্মেদ আরও বলেন, “আমি মনে করি চাহিদার থেকে উৎপাদন যখন বেশি হয় তখন বাজারটা কমে যায়। এক্ষেত্রে কৃষকের বাজার বুঝে উৎপাদন করাটায় তাদের কমতি আছে। অতিরিক্ত উৎপাদন করেছে এবং চাষিরা সঠিক পেঁয়াজের জাত নির্বাচন না করায় তারা সংরক্ষণ করতে পারছে না। তিনি বলেন, “কৃষক যদি উৎপাদনের আগে কৃষি অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদন করে তাহলে তারা এ ধরণের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে।” পেয়াজ চাষিদের জন্য সরকার কিছু ভালো উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জেলাতে সাড়ে ৫ হাজার ব্লোয়ার মেশিন দিয়েছে। সেটা দিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকার যদি উপজেলা পর্যায়ে বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কালেকশন সেন্টার করে এবং টিসিবির মাধ্যমে সরকার যদি পেঁয়াজ ক্রয় করে তাহলে কৃষকেরা কিছুটা মুক্তি পাবে।”
অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে মানুষজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া নিয়ে ভারত সীমান্তে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো ‘দ্রুত’ সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করতে গিয়ে এ আশার কথা শোনান ঢাকায় ভারতের নতুন এই হাই কমিশনার। এদিন ঢাকা মিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন রাজনীতিক থেকে কূটনীতিক বনে যাওয়া ত্রিবেদী। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় পরিচয়পত্র পেশের পর সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে হাই কমিশনারের সৌজন্য বৈঠক হওয়ার তথ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সমস্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক উদ্যোগের উপর রাষ্ট্রপতি গুরুত্বারোপ করেন। “সীমান্ত সমস্যা সম্পর্কে হাইকমিশনার বলেন যে, সম্প্রতি বিএসএফ ও বিজিবির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তিনি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থানীয় ও উচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের বৈঠক আরও নিয়মিত আয়োজনের উপর গুরুত্বারোপ করে সীমান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।” রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, নবনিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে। প্রেস সচিব বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণের কথা ‘কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন’। রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে সরওয়ার আলম বলেন, “নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।” রাষ্ট্রপতি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব বজায় রাখতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, “আমাদের দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সৌহার্দময় সম্পর্ক বিদ্যমান, আর এটাই স্বাভাবিক।” দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাষ্ট্রপতির ও নেতৃত্বের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে সরওয়ার আলম জানান। রাষ্ট্রপতি হাই কমিশনারের মাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি শুভেচ্ছা জানান। হাই কমিশনার বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তার সফল মেয়াদ কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও সৌহার্দপূর্ণ ও সুসংহত করতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে বঙ্গভবনের তরফে বলা হয়। চব্বিশের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ঘোচানোর জন্য পোড় খাওয়া রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসের সেরা কর্মকর্তাদের ঢাকা মিশনে পদায়নের যে ধারা, সেখান থেকে সরে এসে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী এই রাজনীতিককে পাঠানো ‘কূটনীতির সুর ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে নতুন বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়’। পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি ও বিজেপি নেতা ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে বুধবার অফিস আদেশ জারি করেছে ভারত সরকার। এই মর্যাদা শুধু আনুষ্ঠানিক বা প্রটোকল-সংশ্লিষ্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন এবং দুই বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন। সেতারবাদক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ ত্রিবেদী হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন। প্রবীণ এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। আশির দশকে ছিলেন কংগ্রেস নেতা। পরে ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক। ২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। পরে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ, কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন। বৃহস্পতিবার পরিচয়পত্র পেশের পরপরই ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শনে গিয়ে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকা পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেন নতুন হাই কমিশনার।
জুলাই আন্দোলন ঘিরে হত্যাচেষ্টা মামলার গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে সাবেক এমপি ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে দেখে, আদালতে কেউ কেউ গেয়ে ওঠেন ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’ গানটি। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শুনানির জন্য যখন মমতাজকে নেওয়া হয়, তখন তার মাথায় ছিল হেলমেট এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও পরেছিলেন তিনি। সে সময় কৌতুহলের বশে আদালতে আগত অনেকে জানতে চান কে ‘উনি, কে উনি’। পরিচয় দেওয়া হয় 'উনি মমতাজ।' তখন কেউ কেউ গেয়ে ওঠেন মমতাজের তুমুল জনপ্রিয় গানের কলি 'বুকটা ফাইট্টা যাই’। এজলাশ থেকে ফেরার সময়ও এই ঘটনা ঘটে। অনেকে বলেন, উনি না সংসদে গান গেয়েছেন। এখনো গেয়ে শোনান একবার। এদিন জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মিরপুরে মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মমতাজকে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মমতাজকে সোমবার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই আজিজুল হক। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন এদিন। এদিন শুনানিতে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, "এ আসামি অবৈধ সরকারের সাবেক এমপি। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রামে সহযোগিতা করেছে। তার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তার সংশ্লিষ্টতা পান। এজন্য তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থণা করছি।" মমতাজের পক্ষে কয়েকজন আইনজীবী গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তাদেরই একজন অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, "এ আসামি উচ্চ আদালত থেকে ৬ মামলায় জামিন পান। পরবর্তীতে দুটি স্টে হয়। এরপর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন। তার বিরুদ্ধে মামলায় একটি শব্দ আছে কী না দেখবেন।" তিনি বলেন,"দেড় বছর যাবৎ জেলে আছে। মামলার ঘটনা ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট। একই দিনে তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জসহ কয়েকটি থানায় ৪/৫ টা মামলা হয়েছে। তিনি একই সময় কত জায়গায় গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেছেন। ঘটনার সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থণা করছি।" উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত মমতাজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, চব্বিশের আন্দোলনে ৪ অগাস্ট দুপুরে মিরপুরের সুইমিংপুল ও ফায়ার সার্ভিস রোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন মোক্তার হোসেন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে সুস্থ হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন মোক্তার হোসেন। গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে মমতাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হন। পরবর্তীতে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।
‘অনিয়ম ও দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদের বক্তব্য শুনতে তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নোটিসে তাকে আগামী সোমবার দুপুর ৩টায় সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানালেও মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ এসেছে, তার বিস্তারিত বলতে পারেননি। অবশ্য বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় নিজের একটি গাড়ি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদমাধ্যমেই ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে। তাকে তলবের নোটিসটি পাঠিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান। নোটিসে বলা হয়, “মাহবুব মোর্শেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।” নোটিসে তাকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপিসহ হাজির হতে বলা হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই বছরের ১৮ অগাস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি বাসসে গিয়ে কর্মীদের ‘বিক্ষোভের’ মুখে পড়েন মাহবুব মোর্শেদ। সেদিন অফিস থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর সেখানে ফেরেননি তিনি। পরে ফেইসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ‘মব তৈরি করে’ তাকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে। এর পরদিন তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। কমিটির কাছে তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়ার কথা বলেন বাসসের কর্মীদের কয়েকজন। সবশেষ ১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে মাহবুব মোর্শেদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় মাহবুব মোর্শেদ নিজের একটি গাড়ি আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদমাধ্যমেই ভাড়া দেন বলে অভিযোগ ওঠে। ‘রেন্ট-এ-কার’ নামের গাড়ি ভাড়া দেওয়া ওই কোম্পানি গাড়ি ভাড়ার জন্য মাসে দেড় লাখ টাকা করে পেয়েছিল। কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল কাদের মীনা তখন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “এখানে আমার মাধ্যমে গাড়ি দেওয়ার কারণে আমার কোনো কমিশন ছিল না, আমি এক টাকাও নিইনি। বিলটা আমার নামে পাস হইত, কিন্তু পুরো টাকাই তিনি (মাহবুব মোর্শেদ) নিয়েছেন।” ভাড়া পরিশোধের নথিতে একই কোম্পানির আরেকটি গাড়ি বাসসে ভাড়া দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে সেই গাড়ির ভাড়া ছিল মাসে ৭০ হাজার টাকা। মাহবুব মোর্শেদের নামে থাকা গাড়ি বাসসে ভাড়া দেওয়া বিষয়ক নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর বাসস থেকে একটি কার্যাদেশ দিয়ে ‘রেন্ট-এ-কার সার্ভিস’ নামে একটি কোম্পানির কাছে গাড়ি চাওয়া হয়। ১৬টি শর্ত জুড়ে দিয়ে পরের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘প্রধান সম্পাদকের সার্বক্ষণিক দাপ্তরিক কাজের জন্য’ গাড়িটি চাওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী টয়োটা ব্র্যান্ডের এলিয়ন মডেলের একটি গাড়ি বাসসকে দেয় ‘রেন্ট-এ-কার সার্ভিস’। জ্বালানি, চালক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মাসে দেড় লাখ টাকার বিল মেটানোর নথিতে গাড়ির নম্বরও রয়েছে। বিআরটিএর নথি অনুযায়ী গাড়িটির মালিক মাহবুব মোর্শেদ। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ও ২ ফেব্রুয়ারি বাসস থেকে ওই গাড়ির ভাড়া বাবদ দেড় লাখ করে মোট তিন লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিলেও বাসসের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের পক্ষে উচ্চ আদালতে লড়বেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের এক কর্মকর্তা। তিনি বৃহস্পতিবার বলেন, “গত ১৭ জুন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত হাই কোর্ট বেঞ্চ স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। “সে অনুযায়ী আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই চালাবেন।” যোগাযোগ করা হলে আইনজীবী হাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো আসামিকে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে হাই কোর্টের অনুমোদন ছাড়া তা কার্যকর করা যায় না, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। আর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে আসামির যদি নিজস্ব আইনজীবী না থাকে, তবে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী দেওয়া আইনেরই অংশ। সেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ হিসেবেই আমাকে নিযুক্ত করা হয়েছে।" মামলার বর্তমান অবস্থা ও নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, "মামলার পেপারবুক ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে এবং আমি তা হাতে পেয়েছি। “এখন আমার প্রধান কাজ হলো এই পেপারবুকটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্টাডি (পর্যালোচনা) করা। স্টাডি শেষ করে শুনানির জন্য আমি আদালতে বিষয়টি উপস্থাপন করব।” আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, “আমাকে যেহেতু একিউজডের (আসামির) পক্ষে ডিফেন্ড করার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট (নিয়োগ) দেওয়া হয়েছে, সেহেতু আমাকে মামলার এভিডেন্সের (সাক্ষ্য-প্রমাণ) ওপর নির্ভর করেই কথা বলতে হবে। নিম্ন আদালতে যে সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। “একই সাথে নিম্ন আদালতের জাজমেন্টটি কীভাবে হয়েছে, সেটিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে হবে। পরবর্তীতে অনারেবল সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশন সবকিছু অ্যাসেসমেন্ট (মূল্যায়ন) করে চূড়ান্ত জাজমেন্ট দেবেন।” এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান বলেন, “পেশাগত জীবনে কম-বেশি সব মামলাতেই একধরনের কাজের চাপ থাকে। “তবে এই মামলায় ব্যক্তিগত কোনো বৈরিতা বা চাপের সুযোগ নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন সচেতন ও শিক্ষিত, তারা আইনি প্রক্রিয়াটি বোঝেন।” তিনি বলেন, “এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো আশা-ভরসা বা চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নেই। আইনজীবী হিসেবে আমার মূল দায়িত্ব আসামির আইনগত অধিকারগুলো আদালতের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরা। “মামলার নথিপত্র পর্যালোচনার পর যদি দেখা যায়—নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডে কোনো আইনগত ত্রুটি রয়েছে, তবে অনারেবল হাই কোর্ট ডিভিশন তা কারেক্ট (সংশোধন) করবেন। আর যদি সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও প্রক্রিয়া সঠিক থাকে, তবে আদালত তা অ্যাফার্ম (বহাল) করে দেবেন।” হাফিজুর রহমান খান বলেন, “এর আগে ২৯ নম্বর কোর্টে এই নিয়োগের অর্ডার হয়েছিল। সলিসিটর উইংয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হবে। আমি আইনগতভাবে আসামিপক্ষকে ডিফেন্ড করার জন্য আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাব।” গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। তাতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। রায়ের পর দুই আসামিকে কনডেম সেলে পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন। গত ৯ জুন ৬৯ পৃষ্ঠার রায় ও অন্যান্য নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মাসরুর সালেকীন বলেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ।” নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে এক হাজার আটশতাধিক বিচারাধীন মামলার প্রেক্ষাপটে রামিসার মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে মন্তব্য করে বিচারক বলেছিলেন, “কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।” পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশন এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আসামি সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। গত ১৯ মে দুপুরে সোহেলদের বাসা থেকে রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সেখান থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান। রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ঘটনার দিনই দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে। ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারাদেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন, বিচার দ্রুত শেষ করার। বিচার শুরুর পর ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হয়।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই দৃশ্যটি স্থানীয়দের নজর কাড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর ব্রিজের ওপর কে বা কারা এই পতাকাগুলো টানিয়ে দেয়। সাধারণত ফুটবল উন্মাদনায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি বা স্পেনের মতো দেশগুলোর পতাকা উড়তে দেখা গেলেও, এখানে এর বদলে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা দিয়ে ব্রিজের দুই পাশ সাজানো হয়েছে। রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই ঘটনাকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করছেন। ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদেরও নজর কাড়ছে সারি সারি এই পতাকাগুলো। অনেকেই দাঁড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখছেন, আবার কেউ কেউ স্মৃতি হিসেবে ছবি বা ফটোসেশন করে রাখছেন। ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। ব্যতিক্রমী এই সাজসজ্জা দেখে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করে বরং সবাই একবাক্যেই বলছেন- ‘দৃশ্যটি দেখতে সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে।’
বাংলাদেশের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সুপরিচিত সিলেটের শাহজালাল মাজারে দান হিসেবে আসা অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেটের জেলা প্রশাসন থেকে মাজারে আসা টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের দানের সুনির্দিষ্ট হিসেব না রাখা ও আয় -ব্যয়ের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না থাকার অভিযোগ তোলার পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা বক্তব্য আসছে। শুক্রবার সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শন করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কিছু ব্যক্তি মাজারের আয় নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে খরচ করেন। যদিও মাজার ব্যবস্থাপনায় জড়িত খাদেমরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এসব বিতর্কের মধ্যেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ডেগ বা বড় পাতিল সিলগালা করা হয়,আরেকটি দানবাক্সও বসানো হয়। আগামী এক মাস জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ওয়াকফ এস্টেট ও মাজার কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবে। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসককে বদলির ঘটনাও ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। যদিও তার বদলির সাথে এর আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি-না তা নিশ্চিত নয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলছেন, সম্প্রতি একটি একাউন্ট খোলা হয়েছে এবং এখন থেকে মাজারের টাকা একটি ব্যাংক হিসেবে রাখা হবে। এসব ঘটনার মধ্যেই মাজারকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষ-বিপক্ষে নানা বক্তব্য আসছে। একপক্ষ বলছে, মাজারে আসা 'বিপুল পরিমাণ দান' কিছু ব্যক্তি ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। আবার মাজার ব্যবস্থাপনায় থাকা খাদেমরা বলছেন, এটি খাদেমদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ। ফলে তারাই আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনা করেন এবং তারা মনে করেন প্রশাসনের এখানে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
নাটোরের সিংড়ায় ১২ বছর পর নাতি হওয়ার আনন্দ এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করেছেন নানা মো. হান্নান। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ৭ মাস বয়সী নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে নিজ গ্রাম থেকে জামাইয়ের গ্রাম পর্যন্ত আনন্দ শোভাযাত্রা করেন তিনি। এ সময় প্রায় তিন হাজার পিস মিষ্টি বিতরণ করে এলাকাবাসীর সাথে নিজের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। জানা যায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. হান্নানের কোনো পুত্র সন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে একই ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের পর মেয়ে পান্না ও জামাই মনির হোসেনের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এর দীর্ঘ ১২ বছর পর তাদের কোল আলো করে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান আব্দুর রহমান বিন মুসালিন। এই নাতির আগমনে নানা হান্নানের পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। নিজের পুত্র না থাকার আক্ষেপ ঘুচে যাওয়ায় তিনি এই আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নানা হান্নান। ৭ মাস বয়সী নাতি আব্দুর রহমানকে ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি নানার গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জামাইয়ের গ্রাম শাহবাজপুরে গিয়ে শেষ হয়। ঘোড়ার গাড়ির বহরের সাথে সাথে নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন স্বজন ও গ্রামবাসী। এ সময় রাস্তার দুই পাশের উৎসুক জনতা হাত নেড়ে তাদের অভিবাদন জানায়। উচ্ছ্বসিত নানা হান্নান বলেন, আমার নিজের কোনো ছেলে নেই, কেবল একটি মেয়ে। তার ঘরে এতদিন পর একটা নাতি হয়েছে, আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু নেই। আমার এই আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতেই এই ছোট্ট আয়োজন। সবাই আমার নাতির জন্য দোয়া করবেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া এক প্রতিবেশী জানান, হান্নান ভাইয়ের আনন্দ দেখে আমরাও আনন্দিত। এমন ব্যতিক্রমী ও সুন্দর আয়োজন আমরা আগে দেখিনি। এই ঘটনাটি গ্রামের সবার মুখে মুখে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই আনন্দ অনুষ্ঠানে হান্নানের স্বজন ও বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী অংশ নেয়। ৮ নং শেরকোল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বুলেট হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, দীর্ঘ এক যুগ পর ওই পরিবারে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। এ আনন্দে শিশুটির নানা ঘোড়ার গাড়িতে করে পুরো এলাকায় ঘুরে ঘুরে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে কখনো দেখা যায়নি। এলাকাবাসীসহ আমরাও এ আনন্দে শামিল হয়েছি এবং সবাই খুবই আনন্দিত।
খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের একটি সড়কে ঢালাইয়ের মাত্র তিন দিনেই হাতের চাপে উঠে যাচ্ছে পিচ। কোথাও কোথাও সামান্য টান দিতেই খসে পড়ছে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মঙ্গলবার বিকালে সড়কের সংস্কারকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিয়ম না মেনে কাজ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলজিইডির খুলনা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, কয়রা উপজেলায় বর্তমানে কোনও উপজেলা প্রকৌশলী নেই। পাশের পাইকগাছা উপজেলার প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে মহারাজপুর ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া-রোনবাগ সড়কে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। তিন দিন আগে পিচের বিভিন্ন অংশ ওঠে যেতে শুরু করলে বাকি অংশে পিচ ঢালাইয়ের সময় এলাকাবাসী বাধা দেন। সেইসঙ্গে সড়কের পুরনো কালভার্ট অপসারণ না করেই তার ওপর দিয়ে পিচ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় লোকজন সড়কের দুটি স্থানের কিছু অংশের পিচ তুলে ফেলেন। মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। স্থানীয় লোকজনের প্রতিবাদের মুখে সেই খোয়া অপসারণ করা হয়। “এরপর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা কাজ আবার শুরু হলেও ঢালাইয়ে খুব পাতলা করে পিচ দেওয়া হয়। পিচের নিচের অংশ পরিষ্কার না করেই ধুলাবালি ও মাটির ওপর ঢালাই করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী বাধা দেন”, বলেন তিনি। কয়রা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে জানা গেছে, পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একই প্যাকেজে মাদারবাড়িয়া উত্তর সীমানা থেকে রোনবাগ সড়কের এক কিলোমিটার উন্নয়ন, একটি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও বেদকাশী এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চে ‘মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই কোটি ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাজটি পায়। কাজের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দায়িত্বে থাকা মো. হাসানের দাবি, এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। কাজে বড় ধরনের কোনও ত্রুটি নেই। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলাজুড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে চলমান একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। কোথাও সড়ক খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও ইটের খোয়া কিংবা বালু ফেলে উধাও ঠিকাদার। কয়রার বাসিন্দা সংবাদকর্মী ইউনুস আলী বলেন, উপজেলাজুড়ে এলজিইডির একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকলেও সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেই। তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব কাজ পড়ে থাকায় বর্ষায় কাদা-পানি আর শুকনা মৌসুমে ধুলাবালু-দুই মৌসুমেই চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহান শিক্ষার্থী, রোগী, শ্রমজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকরা। কয়রা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়ক সংস্কারে বরাদ্দ হয় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। কাজ পায় ‘মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ’। কয়েক মাস সড়ক খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পেরিয়ে গেছে, এখনো সড়কটি পড়ে আছে বেহাল অবস্থায়। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বানিয়াখালী থেকে হড্ডা গ্রামের প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের অবস্থাও করুণ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ছয় কোটি ৪৯ লাখ টাকা। কাজ পায় ‘মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স’। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটি খোঁড়াখুঁড়ির পর বালু ফেলে কাজ বন্ধ আছে। আমাদী ইউনিয়নে পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে হুদুবুনিয়া চান্নিরচক সড়কের দুই কিলোমিটার অংশ কার্পেটিং করার জন্য বরাদ্দ হয় এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা। কাজের দরপত্র পায় রাকা সিয়াম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের জুনে তারা কাজ শুরু করেন। কয়েক মাস রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর কাজ ফেলে চলে যান প্রতিষ্ঠানটির লোকজন। ২০২২ সালের ২৬ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় চার বছর হতে চললেও কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই। গিলাবাড়ি-গড়ইখালী জিসি সড়ক, বামিয়া আর অ্যান্ড এইচ-বাঁশখাতি-মালিখালী-বগা বাজার-নারানপুর সড়ক, হরিনগর-নকশা সড়ক ও বায়াল হারনিয়া মাদ্রাসা থেকে শ্রীফলতলা সড়কের কাজও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন দুই দফায় প্রায় দশ বছর একই স্থানে দায়িত্ব পালন করায় একটি নিজস্ব ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন উপজেলা প্রকৌশলী না থাকার সুযোগে তিনি একক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন। এলজিইডির খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, কয়রাতে দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ বন্ধ থাকা তিনটি প্রকল্প এর মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কাজ বন্ধ থাকা কিছু প্রকল্পে আবার টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। সেইসঙ্গে উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেনের নামে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
সরকার ঘোষিত পাঁচ বছরের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে গাছের চারা ও সার বিতরণে জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে গাছের চারা ও জৈব সার বিতরণকালে এমন অভিযোগ করেন কৃষকরা। কৃষকরা জানান, জৈব সার দেওয়ার নামে পলিথিনসহ ময়লা আবর্জনায় ভরা মাটি দেওয়া হচ্ছিল। পরে কৃষকরা বিষয়টি বুঝতে পেরে অধিকাংশ কৃষক জৈব সার না নিয়ে শুধু গাছের চারা ও বাঁশের খুঁটি নিয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২০০ জন কৃষক ও ১০০ প্রতিষ্ঠানে আমের চারা ৫০০টি, জলপাইয়ের চারা ২০০টি, নিম, ঘোড়া নিম এবং মেহগনি গাছের ৮০০টি চারা বিতরণের উদ্বোধন করা হয় বুধবার। বৃহস্পতিবারও এসব চারা বিতরণ করা হবে। একই অর্থ বছরে লেবুর আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০ জন কৃষকের মাঝে ১৫০টি লেবুর চারা বিতরণ করা হবে। ফল, কাঠ বৃক্ষ ও লেবুর চারা বিতরণের পাশাপাশি কৃষকের গাছ প্রতি ৩০ কেজি করে জৈব সার বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে চারা বিতরণের সময় জৈব সারের বদলে মাটি পলিথিন দেখে উপস্থিত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলার বাড়াকান্দি গ্রামের আলতাফ হোসেন সহ কয়েকজন কৃষক জানান, জৈব সার দেওয়ার নামে পলিথিন, ময়লা, আবর্জনায় ভরা মাটি দেওয়া হচ্ছিল। পরে আমরা অনেকেই জৈব সার না নিয়ে শুধু গাছের চারা নিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন জানান, যেসব বস্তায় ভেজাল জৈব সার রয়েছে সেসব বস্তা বাদে ভালো জৈব সার দেখে নিতে কৃষকদের বলা হয়েছে। যেখান থেকে জৈব সার নেওয়া হয়েছে। ভেজাল জৈব সার তাদের ফেরত পাঠানো হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. বিপাশা হোসাইন জানান, ৫ বছরে প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষক ও প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণকালে জৈব সারের অভিযোগ পেয়ে যার কাছ থেকে জৈব সার নেওয়া হয়েছে তাকে এই সার ফেরত দিয়ে নতুন করে ভালো জৈব সার এনে পুনরায় কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মহররম উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর বাসায় দোয়া, ধর্মীয় বয়ান ও নেওয়াজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই আয়োজন করা হয়। বংশানুক্রমে মহররম উপলক্ষে তার বাসায় এই আয়োজন হয়ে আসছেন। ধর্মীয় বয়ান ও নেওয়াজ (শিরনি) বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, সাংস্কৃতিক কর্মী, তরিকতপন্থি ব্যক্তি ও এলাকাবাসী। তবে আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। গত ২৩ জুন ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে দলটির যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ঠেকাতে নগরীতে রাত-দিন টহল দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব কারণে এবার আইভীর বাড়িতে মহররম উপলক্ষে নেওয়াজ বিতরণ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি কম ছিল বলে মনে করছেন অনেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে তার বাড়ির ভেতরে থাকা খানকা শরিফ মুসলিম উম্মাহ ও দেশের জন্য দোয়া করা হয়। এরপর আইভীর বাসায় ও বাসার সামনে রাস্তায় মহররমের ঐতিহ্যবাহী রণ-বাজনা পরিবেশন করে শিশু-কিশোররা। পাশেই চলছে তাজিয়ার প্রস্তুতি। এসব আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, জেলা খেলাঘর সভাপতি ইসলাম জহির, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সাংস্কৃতিক কর্মী ফারুক মহসিন প্রমুখ। রাত পৌনে ১০টার দিকে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একটি মিছিল আইভীর বাসার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় সাবেক মেয়র আইভীর বাসার ফটক লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরদিনই মাঠে নেমেছে তারা। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশান–২ নম্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি রেস্তোরাঁর পরিত্যক্ত পাত্রে এডিস মশার বিপুল পরিমাণ লার্ভা পাওয়া যায়। পরে রেস্তোরাঁটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় গুলশান এলাকার বেশ কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবন, রেস্তোরাঁ, আবাসিক ভবনের ছাদ ও বেজমেন্ট পরিদর্শন করা হয়। এ সময় একটি রেস্তোরাঁয় পড়ে থাকা পাত্রে জমে থাকা পানিতে বিপুল পরিমাণ লার্ভা পাওয়া যায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আঙিনা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়। পরিদর্শনের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, আগামীকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় টাস্কফোর্স সরেজমিনে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অভিযানের সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা ৯৭ থেকে ১০০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত কেউ প্রমাণ করতে পারেননি যে ওষুধটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে বা এটি কাজ করছে না। জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গতকাল মঙ্গলবার এই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে আলোচিত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তাকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে, গত ১৮ জুন বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজার একটি বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য ও বক্তব্য নিতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাদের দেখেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, ধমক দিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং পরে নিজেও কার্যালয় ত্যাগ করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নেয় বিভাগীয় প্রশাসন। পরে রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধায় গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে তদন্তের পরদিন হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নথিপত্রে আরও দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরস্পরবিরোধী এ দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে ভূমি প্রশাসন, খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে।
কুমিল্লার নঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশনে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল ও একই সময়ে গুণবতী এলাকায় মেঘনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। লাকসাম জংশন স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসানপুর স্টেশনের আউটারে ইঞ্জিন বিকল হয় চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের। রাত ৮টার দিকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস অন্য লাইন দিয়ে যাওয়ার সময় হাসানপুর ও গুণবতী রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে এসে লাইনচ্যুত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে দুটি লাইনেই বন্ধ হয়ে যায় রেল যোগাযোগ। তবে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। সেটি আসলেই আবার চালু হবে রেল যোগাযোগ।’ এদিকে নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুর স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আপ লাইনে আটকা পড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এলেই কাজ শুরু হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।