সারাদেশ

মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় নয়: মানিকগঞ্জের এমপি জিন্নাহ কবির

মাদকের বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) এস এ জিন্নাহ কবির। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা কিংবা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ নেই।     দলের কেউ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে শিবালয় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।       এমপি জিন্নাহ কবির বলেন, প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে।       মাদক নির্মূল করা গেলে চাঁদাবাজি ও সামাজিক অপরাধও কমে আসবে।   তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিতীয় বিপ্লবকে সফল করতে হলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হবে। স্বয়ংসম্পূর্ণ আগামীর সোনার বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে। মাদকের বিষয়ে কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।       জিন্নাহ কবির বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আমার সংসদীয় এলাকা শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় অর্ধশতাধিক মাদকবিরোধী সমাবেশ করেছি। বর্তমানেও এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংসদ অধিবেশন ছাড়া অন্য সময়ে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গিয়ে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করছি। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।     মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বাবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরুদ্দিন, কৃষক দলের সভাপতি আনিসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বাদলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।       পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীনগর থানা-পুলিশের একটি দল ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের বাবুল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছাকে গ্রেফতার করা হয়।         এদিকে আবু মুছাকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বেশ কিছুদিন যাবৎ নবীনগরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবু মুছাকেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।       নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সকালে আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বিজয়নগরে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারি গ্রেফতার।
বিজয়নগরে অটোরিকশাসহ পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।     সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের দেওয়ান বাজার এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা জব্দ করা হয়। এ সময় ইয়াবা বহনকারী অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।       গ্রেফতার মাদক কারবারিরা হলেন, উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মো. আজগর আলীর ছেলে মো. কবির হোসেন, একই গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, কাজী আবুল ফায়েজের ছেলে হান্নান কাজী (রুবেল), মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ এবং মৃত নুরুল হক ভূঁইয়ার ছেলে শহিদ ভূঁইয়া।       বিজয়নগর থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় পাঁচ মাদক কারবারি যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, বন্ধ ট্রেন চলাচল

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মালবাহী (পাথরবাহী) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।     রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার গোলাবাড়ি নামক স্থানে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।       ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী ট্রেনটি কাওরাইদ ও মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি গোলাবাড়ী নামক এলাকায় পৌঁছলে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।       গফরগাঁও রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সাইদ হাসান জানান, ঢাকা থেকে রিলিফ ট্রেন এলে উদ্ধার কাজ শুরু হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারত থেকে এলো সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারত থেকে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২২৬ কেজি ইলিশ মাছ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ২৯ হাজার ৮৮০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ এসেছে। অর্থাৎ জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে ইলিশ আমদানি বেড়েছে কয়েক গুণ।   বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজীব সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই মাসে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব মাছ আমদানি করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বেনাপোলের মেসার্স সততা ফিশ, মেসার্স রাব্বি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সততা ফিশ ফিড, মেসার্স ফেমাস ট্রেডার্স, মেসার্স রিয়ান্স হাব, যশোরের মেসার্স এইচ এম আর ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স এন. কে ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স সুরাইয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আরকিন ইন্টারন্যাশনাল, বাগআঁচড়ার মেসার্স জনতা ফিস, ঢাকার মেসার্স স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রুপা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মারিয়াম এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, যাত্রাবাড়ী, খুলনার মেসার্স বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল, সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আশিক এন্টারপ্রাইজ ও পাবনার মেসার্স নোমান এন্টারপ্রাইজসহ ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।   বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই মাসে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ মাছ বাংলাদেশে এসেছে। এ ছাড়া আগস্ট মাসে ১৯টি আমদানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। এরমধ্যে জুলাইতে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশ আমদানি হওয়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ, যশোর বড়বাজারসহ জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মাছ ‌‌‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে পরিচিত। ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি ইলিশ মনে করে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। স্বাদ ও গন্ধে দেশি ইলিশের সঙ্গে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে তা জানানো হচ্ছে না।   যশোরের আড়তদারদের ভাষ্য, মিয়ানমারের এসব মাছ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয় ইলিশ। মিয়ানমার থেকে যে ইলিশ আসছে সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে বাজারে মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।   এদিকে একটি সূত্রের দাবি, অনেক ইলিশ অবৈধভাবেও দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন (প্রায় ৩৬০ কেজি) ভারতীয় ইলিশ মাছ, যা জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।   যশোর বড় বাজারে ইলিশ কিনতে আসা সাজেদুর রহমান বলেন, দেশি ইলিশ মনে করেই তিনি একটি মাছ কিনেছেন। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন, মাছটির স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়। তার অভিযোগ, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।   বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। বিপরীতে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। অর্থাৎ আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যশোরের বাজারে ‘সস্তার’ ক্রেতাদের একটি বড় অংশ কম দামের মাছের দিকে ঝুঁকছেন।   সরেজমিন দেখা গেছে, যশোর বড় বাজারের পদ্মা ফিশ, গৌরব ফিশ, মেসার্স তিতাস ফিশ ও মেসার্স জামান ফিশসহ কয়েকটি আড়তে এসব মাছ ওঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি তথ্য বলছে, আগস্ট মাসেই ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। জুলাইয়ে যেখানে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছিল, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজিতে। এই বিপুল পরিমাণ মাছের একটি অংশ যশোরের বাজারে আসার ফলে দেশি ইলিশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।   বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মেসার্স শেখ পিয়ারু ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ পিয়ারু বলেন, এসব মাছ বার্মা (মিয়ানমার) থেকে ভারত হয়ে আসছে।   দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী সত্যপদ, এরশাদ ও মো. আলমগীরসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের এসব বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা দামের পার্থক্যের কারণে বিদেশি মাছ কিনছেন। এতে প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি করা হলে একই সঙ্গে দুটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা এবং বাজার হারাচ্ছেন দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরা।   যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। তবে ব্যবসায়ীরা আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করলে আমাদের আইনি ব্যবস্থা নিতে পারি না। কারণ বিষয়টি মৎস্য আইনে কাভার করে না।   জানতে চাইলে যশোর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে ২ নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ: আসকের ক্ষোভ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য ডেকে নিয়ে তিতাস নদীর মাঝখানে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।   রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে আসক বলেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ধর্ষণ করা হয়। এ ধরনের ঘটনা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননার পাশাপাশি তাদের পেশাগত অধিকার ও স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারের ওপরও গুরুতর আঘাত।   একজন নারী তার পছন্দের পেশায় যুক্ত থেকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করবেন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাবেন; এটি তার মৌলিক অধিকার বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে আসক। এতে আরও বলা হয়, নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করা বা কোনো অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিবেশনা করা কাউকে তার প্রতি সহিংসতা বা নিপীড়নের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে না। বরং প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে কাজ করার অধিকার রয়েছে এবং এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।   আসক মনে করে, এ ঘটনা শুধু কয়েকজন ব্যক্তির নৃশংস অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা, আইন প্রয়োগ এবং নারীর নিরাপদ চলাচল ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।   আসক দাবি জানাচ্ছে, এ ঘটনায় জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কারণে যেন অপরাধীরা কেউ আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত এবং তাদের পরিচয় ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখতে হবে।   আসক মনে করে, নারীর নিরাপত্তা শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমঅধিকার, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। নারীরা যাতে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াই তাদের পছন্দের পেশায় কাজ করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে বিপুল পরিমাণে ইলিশ মাছ আমদানি করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে এই স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজীব সাহা।   ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ দুই মাসে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব মাছ আমদানি করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, বেনাপোলের মেসার্স সততা ফিস, মেসার্স রাব্বি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সততা ফিস ফিড, মেসার্স ফেমাস ট্রেডার্স, মেসার্স রিয়ান্স হাব, যশোরের মেসার্স এইচ এম আর ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স এন. কে ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স সুরাইয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আরকিন ইন্টারন্যাশনাল, বাগআঁচড়ার মেসার্স জনতা ফিস, ঢাকার মেসার্স স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স শরীফ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স রুপা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মারিয়াম এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, যাত্রাবাড়ি, খুলনার মেসার্স বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল, সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আশিক এন্টারপ্রাইজ ও পাবনার মেসার্স নোমান এন্টারপ্রাইজসহ ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।   বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুলাই মাসে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ মাছ বাংলাদেশে এসেছে। এছাড়া আগস্ট মাসে ১৯টি আমদানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। এরমধ্যে জুলাইয়ে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা এবং আগস্টে ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।   খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশ আমদানি হওয়ায় বেনাপোল, শার্শা, বাগআঁচড়া, নাভারণ, যশোর বড় বাজারসহ জেলার বিভিন্ন মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের কাছে এসব মাছ ‌‌‘মিয়ানমারের ইলিশ’ নামে পরিচিত। ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি ইলিশ মনে করে এসব মাছ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। স্বাদ ও গন্ধে দেশি ইলিশের সঙ্গে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাকে তা জানানো হচ্ছে না।   যশোরের আড়তদারদের ভাষ্য, মিয়ানমারের এসব মাছ ভারত হয়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। তবে বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বেনাপোল দিয়ে আসা ইলিশ ভারতীয় ইলিশ। মিয়ানমার থেকে যে ইলিশ আসছে সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। তবে বাজারে মিয়ানমারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে তারা নিশ্চিত করেছেন।   এদিকে একটি সূত্রের দাবি, অনেক ইলিশ অবৈধভাবেও দেশে এসেছে। গত ২২ জুলাই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সাদা মাছের ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ১২ কার্টন (প্রায় ৩৬০ কেজি) ভারতীয় ইলিশ মাছ। যা জব্দ করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।   যশোর বড় বাজারে ইলিশ কিনতে আসা লোন অফিসপাড়ার বাসিন্দা সাজেদুর রহমান বলেন, দেশি ইলিশ মনে করেই তিনি একটি মাছ কিনেছেন। পরে খাওয়ার পর বুঝতে পারেন, মাছটির স্বাদ ও গন্ধ দেশি ইলিশের মতো নয়। তার অভিযোগ, দেখতে প্রায় একই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বিদেশি ও দেশি ইলিশের পার্থক্য বোঝা কঠিন।   বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি প্রায় ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা দরে। বিপরীতে ১ কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের কথিত মিয়ানমারের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি। অর্থাৎ আকারে বড় হলেও বিদেশি ইলিশের দাম দেশি ইলিশের তুলনায় অনেক কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যশোরের বাজারে ‘সস্তার’ ক্রেতাদের একটি বড় অংশ কম দামের মাছের দিকে ঝুঁকছেন।   সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর বড় বাজারের পদ্মা ফিস, গৌরব ফিস, মেসার্স তিতাস ফিস ও মেসার্স জামান ফিসসহ কয়েকটি আড়তে এসব মাছ ওঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি তথ্য বলছে, আগস্ট মাসেই ইলিশ আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। জুলাইয়ে যেখানে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছিল, আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজিতে। এই বিপুল পরিমাণ মাছের একটি অংশ যশোরের বাজারে আসার ফলে দেশি ইলিশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।   বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মেসার্স শেখ পিয়ারু ফিসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ পিয়ারু জানান, এসব মাছ বার্মা (মিয়ানমার) থেকে ভারত হয়ে আসছে বলে তিনি জানেন। দেশি ইলিশ ব্যবসায়ী সত্যপদ, এরশাদ ও মো. আলমগীরসহ কয়েকজন বলেন, কম দামে বড় আকারের এসব বিদেশি ইলিশ বাজারে আসায় দেশি ইলিশের বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারা দামের পার্থক্যের কারণে বিদেশি মাছ কিনছেন। এতে প্রকৃত দেশি ইলিশ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।   ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদেশি ইলিশকে দেশি ইলিশের নামে বিক্রি করা হলে একই সঙ্গে দুটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা এবং বাজার হারাচ্ছেন দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরা।   যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। তবে ব্যবসায়ীরা আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করলে আমাদের আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারি না। কারণ বিষয়টি মৎস্য আইনে কাভার করে না।   জানতে চাইলে যশোর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, আমদানি করা ইলিশ অবশ্যই ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করতে হবে। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
অপেক্ষার ১৫২ দিন পর বাবার কবরের পাশে শায়িত আফগান নাগরিক হাসমত

মৃত্যুর ১৫২ দিন পর অবশেষে নিজ দেশ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মাদী। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা শেষে বাংলাদেশ থেকে তার মরদেহ কাবুলে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।   গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে হাসমতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন ১৪ এপ্রিল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে আফগানিস্তানে থাকা স্বজনেরা হাসমতের পরিচয় শনাক্ত করেন। ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয় পরিবার।   নিহত হাসমতের ভাই ইমাল মোহাম্মাদী আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের পর গত ১ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হাসমতের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হয়।   প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও এয়ার কার্গো সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি কাবুলে পাঠানো হয়। ১১ সেপ্টেম্বর স্বজনদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে হাসমতকে দাফন করা হয়।   কাবুলে পরিবারের কাছে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ১৫২ দিনের অপেক্ষার পর ভাইকে ফিরে পাওয়ার এই মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের।   ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এবং তার আইনজীবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইমাল মোহাম্মাদী।   তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এই জটিল প্রক্রিয়ায় অনেকের সহযোগিতা ছাড়া আমার ভাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ভাইকে বাবার কবরের পাশে দাফন করতে পেরেছি।’   উল্লেখ্য, হাসমতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জটিলতা নিয়ে গত ২৪ আগস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তার মরদেহ ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। দীর্ঘ ১৫২ দিনের অপেক্ষার পর কাবুলে বাবার কবরের পাশে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হাসমতের মরদেহ দেশে ফেরানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সংকট মোকাবিলায় সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে: আযাদ

সংকট মোকাবিলায় সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।   তিনি বলেছেন, ‘সরকার তেল সংকটের অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। অথচ নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি না করার। সরকার তাদের কমিটমেন্ট রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।   হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকার বিভিন্ন সংকটের ক্ষেত্রে যেভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে, তা জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছয় মাস সরকারের জন্য বেশি সময় নয় কিন্তু বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে অপেক্ষা করার সুযোগও বেশি নেই।’   তিনি বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে জনগণের দাবি, জনস্বার্থ, জনগণের অধিকার, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ১১ দলীয় ঐক্য ভূমিকা পালন করে আসছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘সরকার প্রথম দিনেই জনগণের রায়কে উপেক্ষা করেছে। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে যে শপথ নেওয়ার কথা ছিল, সেটিও উপেক্ষা ও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের ওপর চপেটাঘাত এবং গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা।’   হামিদুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দল ও বিরোধী দলকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০টি প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার সেগুলোর কোনোটি আমলে নেয়নি।’   দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইন্টারিম সরকারের সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর দ্রব্যমূল্য হুহু করে বেড়ে গেছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’   ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটছে। গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলা হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।’   এ অবস্থায় ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তারা রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে প্রথম লংমার্চ শেষ হয়েছে। সেখানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের সাড়া পাওয়া গেছে।’   হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার উদ্বোধনী সভা শেষে লংমার্চ শুরু হবে। পথে পাঁচটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রংপুর জেলা স্কুল মাঠে গিয়ে সমাপনী জনসভা হবে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশে সারের সংকট নেই, বিতরণে মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

দেশে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, কৃষিকাজ অব্যাহত রাখতে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। তবে কৃষকদের মধ্যে সারের সুষ্ঠু ও যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জামালপুর জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সারের বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।   তিনি বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও কৃষকের স্বার্থে পর্যাপ্ত সার মজুত রেখেছে। ফলে সারের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।   আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় জনবল ও যানবাহন সরবরাহ করা হবে।   তিনি বলেন, মাদক সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এবং যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।   মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।   সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এবং ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।   সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সারের সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ২৬ বছর পর আদালতে নুর মুহাম্মদ, আত্মসমর্পণের নেপথ্যে যে কারণ

বয়স ১০৪ বছর। শরীর ভেঙে পড়েছে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা লাগে। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে নুর মুহাম্মদের চাওয়া ছিল খুব সন্তানদের কাছে ফিরে তাদের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটানো। সেই আশাতেই ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।     পরিবারের আশা ছিল, বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন পাবেন। তাহলে জীবনের শেষ কটা দিন সন্তানদের সঙ্গে কাটাতে পারবেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। ২৬ বছর আগের ডাকাতি ও জোড়া খুনের মামলায় আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।   গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন নুর মুহাম্মদ। আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।   নুর মুহাম্মদ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা।   নুর মুহাম্মদের আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ প্রয়োজন। বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় মানবিক কারণে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।   আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আবেদনও করেছিলেন নুর মুহাম্মদ। আদালত সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেন।   নুর মুহাম্মদের ছেলে আবদুল করিম বলেন, বাবা একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। পরে সন্তানদের নিয়ে নরসিংদীতে চলে যান। সেখানে ছেলেদের সঙ্গে জুট মিলে কাজ করতেন। কিন্তু মামলায় জড়িয়ে পড়ার পর স্বাভাবিক জীবন আর ফিরে পাননি।   তিনি বলেন, মামলায় সাজা হওয়ার বিষয়টি প্রথমদিকে বাবা জানতেন না। পরে জানতে পেরে ভয় পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকেও দূরে থাকতে হয়েছে তাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আত্মগোপনের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না, নিয়মিত ওষুধ লাগে। যে বাসায় এতদিন লুকিয়ে ছিলেন, সম্প্রতি সেখানেও থাকা তার জন্য কষ্টকর হয়ে ওঠে। তখনই পরিবারের সবাই মিলে তাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করানোর সিদ্ধান্ত নেন।   করিম বলেন, বাবা আর কয়দিন বাঁচবে। আমাদের সঙ্গে থাকলেও ভয় ছিল, কেউ ষড়যন্ত্র করে তাকে ধরিয়ে দিতে পারে। এ জন্য তিনি আমাদের সঙ্গেও থাকতেন না। এখন আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। জামিন পেলে জীবনের বাকি সময়টা আমাদের সঙ্গে কাটাবেন—এটাই চেয়েছিলাম।’   করিমের দাবি, তার বাবা ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পারিবারিক বিরোধের জেরে ষড়যন্ত্র করে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তার এক ফুফাতো বোনকে বাজিতপুরের পিরিজপুর এলাকার এক ব্যক্তি জোর করে বিয়ে করেছিলেন। পরে নুর মুহাম্মদ তাকে সেখান থেকে এনে অন্যত্র বিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ওই ব্যক্তি পরে বড়বাজারের ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে নুর মুহাম্মদের নাম জড়িয়ে দেন। তার বাবাকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। পরে স্বীকার করলে কিছু হবে না—এমন আশ্বাসে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।   নুর মুহাম্মদের ছোট ভাই জাল মাহমুদও (৮৮) ভাইকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমার ভাই নির্দোষ। ষড়যন্ত্র করে তাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এখন তার বয়স ১০৪ বছর। শেষ বয়সে অন্তত সন্তানদের কাছে থাকার সুযোগ দেওয়া হোক।   জাল মাহমুদ জানান, ৭০-৮০ বছর আগে তার ভাই নুর মোহাম্মদ তাদের বাড়ি ছাড়েন। এরপর তিনি শহরের কানিকাটা রেললাইনের পাশে শশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে বসবাস শুরু করেন। তার ভাইয়ের সাত ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দা চাঁন মিয়া ও আক্কাস মিয়াও নুর মুহাম্মদকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবারের দাবি, ডাকাতির সময় নুর মুহাম্মদ নরসিংদীতে ছিলেন। তবে মামলার নথিতে নুর মুহাম্মদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য রয়েছে।   যে মামলায় ২৬ বছর পর কারাগারে মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নিহত হন। ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।   ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং অন্য আসামিদের সাজা কমিয়ে দেন। ওই রায়ে নুর মুহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।    মামলার নথি অনুযায়ী, রায় ঘোষণার সময়  নুর মুহাম্মদ পলাতক ছিলেন। এর আগে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীতে পুলিশের অভিযানে ২১ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ও মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) ২১ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।   অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশি চোলাই মদ, ৩ বোতল বিয়ার ও ৫৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।   পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী মডেল থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ঘটনায় জড়িত আসামি ফেনীর সোনাগাজীর ছাড়াইতকান্দি এলাকার আবদুল হকের ছেলে আশরাফুলড়া জামান সোহাগকে (২০) মহিপাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এছাড়া ডাকাত দলের সদস্য সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকার নুর খাতুনের ছেলে সাইফুল ইসলাম রিয়াজকে (২৮) ফেনী শহরের এস এস কে রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   একাধিক মাদক মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী ফেনীর ধর্মপুর এলাকার মো. বাবুলের ছেলে মো. সেলিমকে (২৪) ৫০ বোতল বিদেশি মদসহ ফেনীর ধর্মপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।   এছাড়া ফেনী শহরের মধ্যম চাড়িপুর (খাজুরিয়া) জজ কোর্ট কলোনি এলাকা থেকে ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ রাবেয়া আক্তারের ছেলে মো. হৃদয় (২০) ও তার মা রাবেয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযানকালে ৫৭ পিস ইয়াবাসহ শাহরিয়ার হোসেন (২২), নাজমুল ইসলাম (২১), শহিদুল ইসলাম সুমন (৩৪), ইসমাইল হোসেন ইমন (২৬) ও মো. রবেলকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ৩ বোতল বিয়ারসহ আবু বক্কর (২৩) ও মো. ইকবাল হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।   ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ কালবেলাকে জানান, পরবর্তীতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবীসহ সর্বমোট ২১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।   ফেনী মডেল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম কালবেলাকে জানান, ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের দিকনির্দেশনায় জেলার মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফেনী মডেল থানাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে কাভার্ড ভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, নিহত ২

চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজার ফেরার পথে মাইক্রোবাস ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। ক্রসিং মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। আহত হন অন্তত ১১ জন।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।   নিহত দুজনের মধ্যে একজন আনুমানিক ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণী এবং অন্যজন ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ।   প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তাঁদের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ওসি নুর আহমদ বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ফটিকছড়িতে ডেভিড ইমনের সহযোগী শুটার হারুন গ্রেফতার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী শুটার ডাবা হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।   ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।    পুলিশ জানায়, ডাবা হারুন ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীতে ৯ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবুল বাশার গ্রেফতার

পটুয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন বহালগাছিয়া এলাকার আবুল বাশার ওরফে বাশারকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা নয়টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের  দিকে পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকার স্টার রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।   পুলিশ জানায়, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ পৃথক নয়টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট তামিল করতে সদর থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। অবশেষে কৌশল অবলম্বন করে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।   স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি চক্রের সঙ্গে আবুল বাশারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার নেতৃত্বে বা নিয়ন্ত্রণে মাদকের একটি সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সরকারি খাল দখল করে সেখানে মাদকসংশ্লিষ্ট লোকজনকে দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, একসময় অন্যের মুরগির খামারে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আবুল বাশার। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার বিপুল সম্পদ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।   পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে মাদক ও ডাকাতির মামলাও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতারে বিশেষভাবে তৎপর ছিল পুলিশ।   পটুয়াখালী সদর থানার এএসআই রিপন বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থানায় ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব আমার ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’   তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল বাশার। গ্রেফতারের আগে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমি নিরপরাধ। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’   পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান (মনির) বলেন, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ মোট নয়টি পৃথক মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গ্রেফতারের পর ৬৩ বিদেশি নাগরিক যার কথা বলেছেন, এবার সেই কর্মকর্তা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সদস্য ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের পর তাদের কাছে পাসপোর্ট-ভিসা পাওয়া যায়নি। তাদের পাসপোর্ট মোহাম্মদ মহসীন নামে এক ব্যক্তির কাছে রয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন তারা। এবার সেই মহসীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মহসীনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ‘৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আটতলা ভবন তাদের ভাড়া করে দিয়েছিলেন। মহসীনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’   ওসি আরও বলেন, ‘মহসীন কুরিয়ারে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। এগুলো ফেরত আসে। কোকেনের তথ্য খুঁজতে গিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়। মহসীনকে কোকেনের মামলায় আজ সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখাতে আদালতে আবেদন করা হবে। একই সঙ্গে রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে চক্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’   গত বৃহস্পতিবার রাতে খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। শুক্রবার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।   পুলিশ জানায়, ১৪টি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে ভাড়া নিয়ে তারা অবস্থান করছেন। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন তারা। এ কাজে তাদের সহায়তা করেছে দেশীয় একটি চক্র।   সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘গ্রেফতার বিদেশি নাগরিকরা প্রায় দেড় মাস আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নেন। বাড়িটি একজন দুবাইপ্রবাসীর। ওই বাড়িতে অবস্থান করে তারা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গুলশানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে গ্রেপ্তার ২৪ আসামি রিমান্ডে

ঢাকার গুলশানে সরকারবিরোধী মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। তবে আরাফাত নামের এক আসামিকে শিশু দাবি করায় তার বিষয়ে শুনানি না করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।   রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- আ. রহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, সাব্বির হোসেন, কামরুল হাসান (আলম), মুন্না মিয়া, সামিন ইয়াছির (সাদাফ), রাতুল, এইচ এম জাকারিয়া রহমান ওমান, মিনহাজুল ইসলাম ফাহাদ, সোহেল আহম্মেদ, সোহরাব, হযরত আলী, আজহারুল ইসলাম মাসুদ, চাঁন মিয়া, হাবিব সিকদার, জহির হোসেন, মেহেদী হাসান, কবির ভান্ডারী, বাবুল গোপ, ফরিদ আহমেদ, ইন্দ্রনীল দেব শর্মা, নজরুল ইসলাম ও মাসুদ হাসান শামীম।   মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।   শুনানিতে তিনি আদালতকে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারের জন্য তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।   এসআই মোক্তার হোসেন বলেন, আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। এ ছাড়া আরাফাতকে শিশু দাবি করে তার আইনজীবী বক্তব্য দেন। পরে আদালত ২৪ আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আরাফাতকে শিশু দাবি করায় কাগজপত্র দাখিল ও অধিকতর শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করা হয়েছে।   মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ, সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন।   এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তারা পুলিশের উদ্দেশে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। একপর্যায়ে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়।   এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদপুরে ‘কিশোর গ্যাং’ বলে কিছু থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিতই আলোচনায় আসা ঢাকার মোহাম্মদপুরে এবার কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।   তিনি বলেছেন, “এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না, কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না।”   শনিবার বছিলা পুলিশ লাইন্সে মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক ‘বিশেষ মতবিনিময় সভায়’ উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রধান।   সন্ধ্যার আগমূহুর্তে ওই সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘উন্নতির দিকে’।   তবে পরিসংখ্যান দিয়ে বিষয়টি সবসময় ‘বিচার করা ঠিক নয়’ বলেও স্বীকার করেন তিনি।   সভায় মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা এদিন তার এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।   এর প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইকে ‘প্রধান সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন।   সভায় র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনারও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এমন হুঁশিয়ারি দেন।   তিনি বলেন, “আমরা একসাথে ঘোষণা করলাম। তার মানে এই নয় যে, এখনই কিশোর গ্যাং সব আমরা ধরে ফেলব। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা প্রতিদিন এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান করব এবং অতি সত্ত্বর এই মোহাম্মদপুর কিশোর গ্যাং মুক্ত হবে।   “কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ মোহাম্মদপুরে থাকবে না।   একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “মাদক বিরোধী আমাদের যে অপারেশনগুলা প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে…আমাদের অভিযান চলবে।”   ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “ছিনতাইকারী তার হাতে ছুরি, মানে অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র বলেন অথবা চাপাতি বলেন অথবা দেশি অস্ত্র বলেন, যেই ধরনের অস্ত্র যদি কোনো ছিনতাইকারীর কাছে থাকে এবং সেই অস্ত্র দিয়ে যদি সে কারো ওপর আক্রমণ করতে যায়, কারো ব্যাগ ছিনতাই করতে যায়, সেটা পুলিশ হোক, পাবলিক হোক তার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।   “ঠিক যেখানে আমাদের অস্ত্র প্রয়োগ করার প্রয়োজন হবে, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে আমরা অস্ত্র প্রয়োগ করব।”   ঢাকার প্রত্যেক বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সভা করার কথাও বলেন ডিএমপি কমিশনার।   তিনি বলেন, “নাগরিকবৃন্দ চান যে, এই মোহাম্মদপুর এলাকায় একটা ছিনতাইও ঘটবে না। আপনারা চান এখানে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না। আপনারা চান এখানে কোনো মাদক থাকবে না। আপনাদের চাওয়ার সাথে পুলিশ কমিশনার হিসেবে আমি একমত।”   কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন পুলিশের ‘একার পক্ষে সম্ভব সম্ভব নয়’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব। আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন এবং পর্যায়ক্রমে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছবো।”   এজন্য তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক কমিউনিটি পুলিশকে আরও ‘জোরালো ভূমিকা’ রাখার আহ্বান জানান।   মোহাম্মদপুরের মাদকের স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা পুলিশের কাছে আছে জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “আমরা সেই লিস্ট ধরে ধরে অপারেশন করছি। আমি আজ এই সভার মাধ্যমে আমাদের এখানে, মোহাম্মদপুরে যারা আমাদের পুলিশের আছেন, সকল ফোর্সকে এই নির্দেশনা দিচ্ছি, মোহাম্মদপুরের প্রত্যেকটি মাদক স্পটে আমাদের অভিযান আরও জোরালো করতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মো. আসাদুজ্জামান নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশিকে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   নিহত আসাদুজ্জামান (৩৩) ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজ উদ্দীনের ছেলে।   আটকরা হলেন- পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামে আহেদ আলীর ছেলে মো. মোস্তাকিম ও একই উপজেলার বৈরচুনার ইন্দ্রইল গ্রামের মুনষা নারায়ণ ছেলে শ্রী উদা।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের একটি দলের ওপর ৬৩/চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় আরও দুজনকে আটক করে বিএসএফ।   গুলিবিদ্ধ মো. আসাদুজ্জামানকে পরে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানা গেছে।   বৈরচুনার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. শাহাজাহান আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত মো.আসাদুজ্জামান আমার এলাকার ছেলে। আমরা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমি নিহতের বাসায় এসেছি, তার পরিবারের সঙ্গে নিয়ে বিজিবিকে জানাব আমরা।   এ বিষয়ে ৪২ ব্যাটালিয়ন দিনাজপুরের সিইও আব্দুল্লাহ আল মঈনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিকৃবির আন্দোলন স্থগিত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর উপলক্ষে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।   রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তবে এটি আন্দোলন প্রত্যাহার নয়, বরং সাময়িক বিরতি বলে দাবি তাদের।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাদা দল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করেন। এরপর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, অবস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।   আন্দোলনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা তাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।   সিকৃবির জাতীয়তাবাদী সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। তার সফরকে সম্মান জানিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তিন দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছে।   তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রপতির সফর শেষে আগামী বুধবার থেকে নতুন উদ্যমে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
মসজিদে পিস্তল-গুলি পেয়ে থানায় দিলেন মুয়াজ্জিন

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ২০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পিস্তলটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আড়াইহাজার পৌরসভার আড়াইহাজার বাজার মসজিদের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশে কোরআন রাখার তাকের ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র ও গুলি দেখতে পান মসজিদের মুয়াজ্জিন নাসির উদ্দিন। পরে তিনি অস্ত্র ও গুলি আড়াইহাজার থানায় নিয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।   আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা ৯ এমএম পিস্তলটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।   উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬