টেলিকম ও প্রযুক্তি

ছবি : সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সিকিউরিটি ফিচার

ডিজিটাল দুনিয়ায় হ্যাকারদের ফাঁদ দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার নানা কৌশল বহুদিন ধরেই সক্রিয়। লোভনীয় অফার, তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক বা এক্সক্লুসিভ ডিলের নামে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।   এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি সিকিউরিটি ফিচার চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফিচারটির নাম ‘স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস’। এটি একটি ওয়ান-ক্লিক সুরক্ষা ব্যবস্থা—একবার চালু করলেই একাধিক নিরাপত্তা ফিচার একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে যাবে। এই সেটিংস অন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ও সিকিউরিটি নোটিফিকেশন চালু হবে। ফলে কোনো পরিচিত কনট্যাক্টের এনক্রিপশন কোডে পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারী সতর্কবার্তা পাবেন। এছাড়া লাস্ট সিন, অনলাইন স্ট্যাটাস, প্রোফাইল ছবি ও প্রোফাইল লিঙ্ক কেবল পরিচিত কনট্যাক্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল এলে সেটি নিজে থেকেই সাইলেন্ট হয়ে যাবে, ফলে সন্দেহজনক বা বিরক্তিকর কল এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে এই ফিচার চালু করা হবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী বা যাদের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য এই ফিচার বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়—ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজ উদ্যোগেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে পারবেন। সাম্প্রতিক সময়ে মেটা সংস্থার কর্মীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারেন—এমন অভিযোগ ও বিতর্কের আবহে এই নতুন ফিচারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি : এআই
বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলবে গুগলের নতুন এআই টুল

গুগল বুধবার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন টুল উন্মোচন করেছে, যা মানব জিনোমের জটিল রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। ডিপ লার্নিং মডেল আলফাজিনোমকে বাইরের গবেষকেরা ‘একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি বিজ্ঞানীদের কঠিন জেনেটিক রোগগুলোর মূল কারণ বিশ্লেষণ ও এমনকি সেগুলো অনুকরণ করে পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। গুগল ডিপমাইন্ডের গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুশমিত কোহলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০০৩ সালে মানব জিনোমের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র আমাদের হাতে “জীবনের বই” তুলে দিয়েছিল, কিন্তু সেই বই পড়া তখনও ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে লেখা আছে’—অর্থাৎ ডিএনএর তিন বিলিয়ন নিউক্লিওটাইড জোড়ার ক্রম, যা A, T, C ও G এই চারটি অক্ষরে প্রকাশ করা হয়। তবে কোহলির মতে, ‘এই জিনোমের ব্যাকরণ বোঝা—ডিএনএতে কীভাবে তথ্য সঙ্কেতিত আছে এবং তা কীভাবে জীবন পরিচালনা করে—এই বিষয়টিই এখন গবেষণার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত।’ তিনি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণাপত্রের সহলেখক। মানব ডিএনএর মাত্র প্রায় দুই শতাংশ অংশ প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে। প্রোটিনই মূলত শরীর গঠন ও পরিচালনার কাজ করে। বাকি ৯৮ শতাংশ ডিএনএ দীর্ঘদিন ধরে ‘জাঙ্ক ডিএনএ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, কারণ বিজ্ঞানীরা এর কাজ বুঝতে পারছিলেন না। কিন্তু এখন ধারণা করা হচ্ছে, এই তথাকথিত ‘নন–কোডিং ডিএনএ’ একটি অর্কেস্ট্রার কন্ডাক্টরের মতো কাজ করে—আমাদের প্রতিটি কোষে জেনেটিক তথ্য কীভাবে সক্রিয় হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে। এই অংশগুলোর মধ্যেই এমন বহু ভিন্নতা (ভ্যারিয়েন্ট) রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আলফাজিনোম মূলত এসব জটিল জিনগত অংশ বোঝার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
আইওএসের হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ফেসবুকের মতো ‘কভার ফটো’

  ফেসবুক ও লিংকডইনের আদলে ‘কভার ফটো’ ফিচার নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ।   ফেসবুক ও লিংকডইনের আদলে ‘কভার ফটো’ ফিচার নিয়ে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ডব্লিউএবিটা-ইনফো জানিয়েছে, আইওএস বিটা সংস্করণে ফিচারটি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ফিচারটি আগে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। নতুন সুবিধায় ব্যবহারকারীরা প্রোফাইল ছবির পেছনে পছন্দমতো ব্যানার বা কভার ইমেজ যুক্ত করতে পারবেন, যা কনটাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিদের কাছে দৃশ্যমান হবে। শিগগিরই সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আপডেটটি বিশ্বজুড়ে উন্মুক্ত করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর গ্যাজেটস থ্রিসিক্সটি

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার আগে সাবধান

আমাদের অনেকেরই অভ্যাস—ঘরে ফিরে ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্মার্টফোনটি বালিশের পাশে রেখে চার্জে দেওয়া। কেউ কেউ তো ফোন চার্জে লাগিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে, সারারাত ফোন চার্জে রাখা ক্ষতিকর কি না।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস স্মার্টফোনের ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি এটি নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, ফোন চার্জে লাগিয়ে ভিডিও দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন অনেকে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোবার ঘরে, বিশেষ করে বালিশের পাশে ফোন চার্জ দেওয়া এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।   বালিশের নিচে ফোন রাখলে বিপদ কেন আধুনিক স্মার্টফোনে তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও ফোন যদি বালিশের নিচে বা নরম কাপড়ের ওপর রাখা হয়, তাহলে ভেতরের তাপ বের হতে পারে না। এর সঙ্গে চার্জিং যুক্ত হলে তাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ফোন চার্জ দেওয়ার সময় এমন জায়গা বেছে নিতে হবে যেখানে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং তাপ সহজে বের হতে পারে। নিরাপদ জায়গা হিসেবে সমতল টেবিল, কাউন্টার বা শক্ত কোনো পৃষ্ঠ সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে ডিভাইসের চারপাশে ঠান্ডা বাতাস পৌঁছাতে পারে।   শোবার ঘরে ফোন রাখার আরও ক্ষতিকর দিক বিষয়টি শুধু নিরাপত্তার ঝুঁকিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, শোবার ঘরে ফোন কাছাকাছি থাকলে ঘুমের মানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ফোনে থাকা অ্যাপ, গেম বা বার্তার নোটিফিকেশন বারবার মনোযোগ ভেঙে দেয়। এতে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারে না, এখন ঘুমানোর সময় নাকি জেগে থাকার। এর প্রভাব পড়ে ঘুমের গভীরতা ও মানের ওপর। বিশেষ করে ফোন যদি বালিশের পাশেই থাকে, তাহলে ঘুমানোর আগে সেটি ব্যবহার এড়িয়ে চলা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঠিক আগে স্মার্টফোন থেকে নির্গত নীল আলোতে দীর্ঘ সময় থাকলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ঘুমানোর অন্তত কিছুক্ষণ আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ?

এখনকার দিনে পাবলিক ওয়াইফাই যেন নিত্যসঙ্গী। হোটেল, অফিস, শপিংমল, বড় কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমানবন্দর—যেখানেই যান না কেন, ইন্টারনেট সংযোগ হিসেবে ফ্রি ওয়াইফাই প্রায় নিশ্চিত। অনেক সময় মোবাইল ডাটা ব্যবহার না করেই প্রয়োজনীয় অনলাইন কাজ সেরে নেওয়া যায়।   তবে এই সুবিধার আড়ালে রয়েছে কিছু বাস্তব ঝুঁকি, যেগুলো অনেক ব্যবহারকারী জানেন না বা গুরুত্ব দেন না।   কেন পাবলিক ওয়াইফাই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে প্রযুক্তিবিদদের মতে, যেসব ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে শক্তিশালী এনক্রিপশন নেই, সেগুলোর ইন্টারনেট ট্রাফিক নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার চাইলে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। অর্থাৎ ওই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা ডিভাইসগুলো কী ধরনের অনলাইন কার্যক্রম করছে, তার একটি লগ তৈরি হওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব। এর মানে এই নয় যে সব সময় এসব তথ্য দেখা হয়। তবে বিষয়টি সম্ভব—এটাই মূল ঝুঁকি। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অফিস বা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত বা অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজিং এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে বিমানবন্দর বা অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার স্বার্থে অস্বাভাবিক ব্রাউজিং কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আসতে পারে। বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এমন না হলেও সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সহজভাবে বললে, ওপেন বা পাবলিক ওয়াইফাইয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার সব সময় নিরাপদ নয়।   ওপেন ওয়াইফাই কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পাবলিক বা ওপেন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সাধারণত পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত নয় এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী এনক্রিপশনও থাকে না। এই দুর্বলতাই হ্যাকারদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে। একই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর ডাটা ধরে ফেলতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে লগইন তথ্য, ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা এমনকি ক্রেডিট কার্ডের তথ্যও। পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মালিক চাইলে দেখতে পারেন, ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইটে ঢুকছেন এবং কী ধরনের ডাটা পাঠানো বা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ভিপিএন ছাড়া পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   নিরাপদ থাকতে কী করবেন পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কিছু সতর্কতা মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। প্রথমত, পাবলিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত অবস্থায় ব্যাংকিং, কার্ড সংক্রান্ত তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইন এড়িয়ে চলাই ভালো। যদিও ‘এইচটিটিপিএস’ ওয়েবসাইটে তথ্য এনক্রিপ্ট থাকে, তবুও আপনি কোন সাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করছেন—এই তথ্য পুরোপুরি গোপন থাকে না। ডিভাইসে ফাইল শেয়ারিং অপশন বন্ধ রাখা জরুরি, যাতে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইস থেকে আপনার ব্যক্তিগত ফাইল বা ফোল্ডারে প্রবেশ করা না যায়। সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন চালু রাখা। ভিপিএন আপনার ইন্টারনেট ডাটাকে অতিরিক্ত এনক্রিপশন দিয়ে সুরক্ষিত করে। এতে নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী বুঝতে পারেন যে আপনি সংযুক্ত আছেন, কিন্তু আদান–প্রদান হওয়া ডাটার ভেতরের তথ্য দেখা বা বোঝা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
স্টারলিংক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে স্যাটেলাইট কক্ষপথ নিচে নামাবে

স্টারলিংক, স্পেসএক্সের পরিচালিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে ধাপে ধাপে হাজার হাজার স্যাটেলাইটের কক্ষপথ নিচে নামানোর পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। স্টারলিংকের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল নিকলস জানান, বর্তমানে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা স্যাটেলাইটগুলোকে ৪৮০ কিলোমিটারের নিচের কক্ষপথে স্থানান্তর করা হবে। এতে প্রায় ৪,৪০০ স্যাটেলাইট স্থানান্তরিত হবে, যা মোট সক্রিয় স্যাটেলাইটের প্রায় অর্ধেক। নিকলস বলেন, কক্ষপথ নিচে নামালে অকেজো স্যাটেলাইট দ্রুত বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ধ্বংস হবে, যেখানে আগে এ প্রক্রিয়ায় চার বছরেরও বেশি সময় লাগত। এছাড়া, কম স্যাটেলাইট থাকা এবং ধ্বংসাবশেষ কম থাকার কারণে সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমে। স্থানান্তর কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস কমান্ড, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অন্যান্য অপারেটরের সঙ্গে সমন্বয়ে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার ও চীনও হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্যাটেলাইটের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে গেলে ‘কেসলার সিনড্রোম’ দেখা দিতে পারে, যা বিপুল ধ্বংসাবশেষ তৈরি করে নির্দিষ্ট কক্ষপথ ব্যবহার অযোগ্য করে দিতে পারে। ফলে মহাকাশ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় ও কার্যকর নীতিমালার গুরুত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: ফয়েজ তৈয়্যব

মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা হবে না। রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিটিআরসি ভবনে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আমদানি পর্যায়ে শুল্কহার কমিয়েছে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের পরও দোকানপাট বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি মন্তব্য করেন, এভাবে আইন ভঙ্গ করে ‘অপরাধের লাইসেন্স’ দাবি করা যায় না। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন ঘুরে দেখেন। এ সময় বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ভাঙচুরের ফলে সংস্থাটির অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। এদিকে, রোববার কয়েক দফা দাবি আদায়ে কারওয়ান বাজার মোড়ে ফের জড়ো হন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে আবারও সংঘর্ষে জড়ান আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে থেমে থেমে মোবাইল ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনা ও র‍্যাব সদস্যদেরও নামানো হয়। পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে সকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় জলকামান, রায়টকার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ফের সড়কে বসে পড়লে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে আন্দোলনকারীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটি পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা। সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে। শুরু থেকেই এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা, যদিও সরকার বলছে—এনইআইআর কার্যক্রম অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ ও ভোক্তা সুরক্ষার স্বার্থেই চালু রাখা হবে।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ 0
কানে ইয়ারবাড ব্যবহারে হতে পারে যে ক্ষতি, জেনে নিন নিয়ম

  উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং টিনিটাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দরকারী কথাবার্তা, যাতায়াত, শরীরচর্চা কিংবা ঘুমের আগে স্ক্রল—ইয়ারবাড এখন আমাদের প্রায় দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কতক্ষণ এবং কত ভলিউমে আমরা শুনছি, সেদিকে প্রায়ই নজর দেওয়া হয় না অনেকেরই। আজকের দিনে ধীরে ধীরে কিন্তু স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণই হলো দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার ও বেশি ভলিউমের মতো প্রভাব। সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড কানের ভেতরে বসে সরাসরি কানের পর্দায় শব্দ পাঠায়। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি ভলিউমে শব্দ শোনার ফলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ বা শ্রবণ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এই কোষগুলো একবার নষ্ট হলে আর নতুন করে তৈরি হয় না। ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস স্থায়ী হয়ে যায় এবং শুরুতে অনেক সময় কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস) বা ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে অসুবিধার মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়।   ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে! শুধু জোরে গান শোনা নয়, কম ভলিউমেও দীর্ঘক্ষণ শোনা কানের শ্রবণ ব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলে। জিম, বিমানে বা রাস্তায় আশপাশের শব্দ ঢাকতে গিয়ে অনেকে অজান্তেই ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এই নিয়মিত অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বেশি জোরে শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিক শব্দও কম মনে হয় এবং ভলিউম আরো বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়। শ্রবণ সমস্যার পাশাপাশি ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একটানা শব্দ শোনার ফলে মস্তিষ্ক সব সময় সজাগ অবস্থায় থাকে। এতে মানসিক বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়, যার ফলে মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা প্রায়ই নীরবতাকে এড়িয়ে চলি, অথচ মানসিক ভারসাম্য ও চিন্তাশক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য নীরবতা অত্যন্ত জরুরি।   মানতে হবে যে নিয়ম ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলুন! কানের স্বাস্থ্যের আরেকটি উপেক্ষিত দিক হলো সংক্রমণের ঝুঁকি। দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে কানে ময়লা জমা, জ্বালা, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বারবার কানের সংক্রমণ হতে পারে, যা শ্রবণ ক্ষমতাকে আরো দুর্বল করে তোলে।   বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দেন, ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলতে। একটানা ৬০ মিনিটের বেশি নয় এবং ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ওয়াই–ফাই কলিং প্রযুক্তি চালু করল গ্রামীণফোন

ভয়েস ওভার ওয়াই–ফাই (ভিওওয়াই–ফাই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়াই–ফাই কলিং সেবা চালু করল দেশের টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। দেশের ডিজিটাল সংযোগের অগ্রযাত্রায় এটি এক মাইলফলক পদক্ষেপ। ওয়াই–ফাই কলিং চালুর ফলে ভিওএলটিই (ভয়েস ওভার এলটিই) সেবার আওতায় থাকা গ্রামীণফোন গ্রাহকেরা নির্ধারিত স্মার্টফোন ব্যবহার করে আরও মানসম্পন্ন ভয়েস ও কল উপভোগের সুযোগ পাবেন। আজ শনিবার গ্রামীণফোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে এই সেবা উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকেরা। নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে প্রাথমিকভাবে আইএসপি অংশীদার হিসেবে ব্র্যাকনেট, কার্নিভ্যাল ইন্টারনেট, চট্টগ্রাম অনলাইন লিমিটেড ও এমআইমি ইন্টারনেটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে গ্রামীণফোন। কলের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা এই সেবা কোনো অতিরিক্ত অ্যাপ ছাড়াই গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কলিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। গ্রামীণফোনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা (সিপিও) সোলায়মান আলম বলেন, ‘প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সেবা আনার মাধ্যমে সেরা গ্রাহক অভিজ্ঞতা প্রদানে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীণফোন। এ অগ্রযাত্রায় ওয়াই–ফাই কলিং সেবা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন থেকে ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে আরও স্পষ্ট ও উচ্চ মানসম্পন্ন ভয়েস কল উপভোগের সুযোগ পাবেন আমাদের গ্রাহকেরা।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ডি-রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধে চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধ হবে। তবে নিবন্ধিত মুঠোফোন গ্রাহক যদি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে চান সেক্ষেত্রে আগে হ্যান্ডসেটটিকে ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করতে হবে। ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধিত একটি সিম ফোনে থাকতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ চার ডিজিট উল্লেখ করতে হবে। নিবন্ধিত ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া এখন থেকে অনুসরণ করতে হবে।    নিবন্ধিত মুঠোফোন ‘ডি-রেজিস্ট্রেশন’ করার উপায়   সিটিজেন পোর্টাল (neir.btrc.gov.bd)   এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করে ড্যাশবোর্ডে যেতে হবে। তালিকা থেকে ডিভাইস নির্বাচন করতে হবে। ‘ডি-রেজিস্টার’ এ ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় বিবরণ দিয়ে ডি-রেজিস্টার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। ইউএসএসডি চ্যানেল (*১৬১৬১#) মোবাইলের কল অপশনে যেয়ে ডায়াল করুন *১৬১৬১#। এরপর ডি রেজিষ্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। তবে ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে গ্রাহক তার ফোনে যে সিমটি ব্যবহার করছেন তা অবশ্যই নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর যুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হবে।   এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর ঘোষণা দিয়েছিল বিটিআরসি। তবে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সময় বাড়িয়ে ১ জানুয়ারি থেকে সিস্টেমটি চালু করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
আগামী ৯০ দিন অবৈধ বা ক্লোন মোবাইল ফোন বন্ধ হবে না

দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেজে। ফলে চোরাই ও অবৈধ ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে। তবে এনইআইআর চালুর পর কিছু বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা। অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে অনেক সংখ্যক মোবাইল ফোনের রেজিস্ট্রেশন দেখানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানান আগামী ৯০ দিনে কারো কোনো অবৈধ ফোন বন্ধ হবে না। এ ছাড়া একটি এনআইডির বিপরীতে অনেকগুলো মোবাইল ফোনের রেজিস্ট্রেশন দেখা গেলেও সেটি ঠিক হয়ে যাবে। এ নিয়ে কাজ চলমান আছে।  আজ শুক্রবার দুপুরে নিজের ফেসবুকে ফয়েজ তৈয়্যব লিখেছেন, ‘এনইআইআর চালুর পরেও আগামী ৯০ দিন কারো অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। সুতরাং বিনীতভাবে অনুরোধ করছি কেউ প্যানিকড হবেন না।’ এনআইডিতে অনেক ফোন সচল দেখানোর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটা সেট পেয়েছি। অর্থাৎ অপারেটররা হিস্টোরিক ডেটাসহ সবকিছুই সিস্টেমে তুলেছে। তবে মাইগ্রেশনের তারিখটা এখনকার দেখানো হয়েছে বলে, অনেকের এনআইডিতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই নিয়ে কাজ করছে। ধীরে ধীরে হিস্টোরিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো হবে। এজন্য আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। এনইআইআর সংক্রান্ত ভুল ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং সমস্যাগুলোকে সামনে এনে দেওয়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান ফয়েজ তৈয়্যব। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে টেকনিক্যাল প্লাটফর্মে এ ধরনের বেশ কিছু জটিল জটিল ইস্যু দেখা দিবে—আমরা এসব সলভ করব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে আগে ভিএপিটি করা হয়েছিল। তবে নতুন করে  আরেকবার ভিএপিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  এই সিস্টেমটা আমরা নতুন ইন্সটল করিনি, এটা আগে থেকেই ছিল। ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা হয়েছিল। কিছু ফাংশনাল ফিচার বাড়িয়ে এখন সচল করা হয়েছে।’ প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘বাংলাদেশে একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে প্রথমে ২০টি এবং পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল। যা বর্তমানে ১০-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে এনইআইআর ম্যাপিংয়ে এনআইডির বিপরীতে হিস্টোরিক ডেটায় অনেক বেশি হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো স্বাভাবিক।’ ফয়েজ তৈয়্যাব বলেন, ‘এর মাধ্যমে সমাজের সচেতনতা তৈরি হবে, ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে কত সিম ব্যবহার হয়েছিল, সিমের বিপরীতে কত ডিভাইস ব্যবহার হয়েছিল। এসব তথ্য মানুষ জানতে পারবেন এবং সচেতন হতে পারবেন। ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইসে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধ হচ্ছে কিনা, এটা জানা ব্যক্তির নাগরিক অধিকার।’ ডাটাবেজ নিরাপদ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন JWT কাজ করছে। রেট লিমিট করা হয়েছে। এখন থেকে ডাটা পেতে এনআইডি জানতে হবে, এনআইডির বিপরীতে আইএমইআই রেসপন্স করতে বলা হয়েছে। ১৩, ১৭ ও ১০ ডিজিট এনআইডির তিনটা ম্যাপিং করা আছে। একটা এপিআই-এ এনআইডি দেওয়ার পরে যে আইএমইআই রেসপন্স আসছে এটা আমাদের নজরে এসেছে। এনআইডি নাম্বার জানা থাকলে এই ধরনের ডাটা আসবে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য এখানে আরেকটা লেয়ার যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০২, ২০২৬ 0
মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক কমলো

মোবাইল ফোন আমদানি এবং বাংলাদেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীদের জন্য মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় শুল্ক ছাড়ের এই সিদ্ধান্ত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রেস সচিব জানান, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমানো হয়েছে- আগে ছিল ২৫ শতাংশ; এখন দিতে হবে ১০ শতাংশ। এর ফলে সরাসরি মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটের পরিমাণ নামল ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে, যা আগে ছিল ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন সংযোজনের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কেও ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান শফিকুল আলম।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপ নিরাপদ রাখার সহজ ও কার্যকর উপায়

বিনামূল্যে টেক্সট, ভয়েস ও ভিডিও কলের সুবিধার পাশাপাশি ছবি, ডকুমেন্ট ও লোকেশন শেয়ার করার অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বর্তমানে অধিক জনপ্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিনিয়ত সারাবিশ্বে কোটি কোটি মানুষ ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি অফিসের ফাইল পাঠানো এবং অনলাইন লেনদেন করে থাকেন এতে।   তবে একটি ভুল ক্লিক অথবা সামান্য অসতর্কতায় আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চলে যেতে পারে হ্যাকার বা স্ক্যামারদের নিয়ন্ত্রণে। এতে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসসহ আর্থিক ক্ষতির ঘটনার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ সুরক্ষিত রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের বিশেষ কিছু নিরাপত্তা ফিচার ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি। চলুন জেনে নিই, হোয়াটসঅ্যাপ সুরক্ষিত রাখা যায় যে ৭ উপায়ে। ১. হোয়াটসঅ্যাপের রেজিস্ট্রেশন কোড কিংবা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পিন কোনো অবস্থাতেই অন্য কাউকে জানানো যাবে না। হোয়াটসঅ্যাপ বা কোনো প্রতিষ্ঠান কখনোই ফোন বা মেসেজে এসব তথ্য চায় না। ২. হোয়াটসঅ্যাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ফিচার টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখবেন। এই ফিচার চালু থাকলে কেউ আপনার নম্বর ব্যবহার করেও অতিরিক্ত পিন ছাড়া অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। ৩.অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজে যদি জরুরি ভাষায় পিন চাওয়া হয়, তাহলে সেটিকে স্ক্যাম হিসেবে ধরে নেওয়াই নিরাপদ। ৪. ফোনে অ্যাপ লক এবং হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট লক ফিচার চালু রাখলে ফোন অন্যের হাতে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন নিরাপদ থাকবে। ৫. হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব বা অন্য কোনো ডিভাইস আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত আছে কিনা তা নিয়মিত চেক করুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লগআউট করুন। ৬. সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা লিঙ্কে ক্লিক করলে ম্যালওয়্যার ফোনে ঢুকে যেতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে সক্ষম। ৭. সতর্কতামূলক নোটিফিকেশন উপেক্ষা করবেন না। ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তা এখন বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। একটু সচেতনতা আপনাকে রক্ষা করতে পারে বড় বিপদ থেকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
স্পেস ফোর্জ একটি পরীক্ষামূলক ফার্নেস চালু করেছে। সংগৃহীত ছবি
মহাকাশে কারখানা বানাচ্ছে স্পেস ফোর্জ

মহাকাশে হাজার কিলোমিটার উপরে একটি কারখানায় পুরোদমে চলছে কাজ, বানানো হচ্ছে উচ্চমানের উপকরণ, তা শিগ্রই পাঠানো হবে পৃথিবীতে এসব শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মনে হচ্ছে, তাই না! হতেই পারে। কিন্তু এই ধারণা বাস্তব করতে চলছে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেস ফোর্জ।   ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সমান আকারের ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশের কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কারখানাটিতে ফার্নেস চালু করা হয়েছে। স্পেস ফোর্জের লক্ষ্য—মহাকাশে এমন উপাদান তৈরি করা, যা সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত হবে। এসব সেমিকন্ডাক্টর পরে পৃথিবীতে এনে যোগাযোগ অবকাঠামো, কম্পিউটিং প্রযুক্তি এবং পরিবহন খাতে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে আধুনিক ইলেকট্রনিক্সে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর তৈরির জন্য মহাকাশের পরিবেশ আদর্শ। কারণ সেমিকন্ডাক্টরের ভেতরের পরমাণুগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ত্রিমাত্রিক কাঠামোয় সাজানো থাকে। ওজনশূন্য পরিবেশে উৎপাদনের সময় পরমাণুগুলো নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ হয় এবং মহাকাশের শূন্যতায় কোনো ধরনের দূষক ঢোকার সুযোগ থাকে না। ফলে সেমিকন্ডাক্টর যত বেশি বিশুদ্ধ ও সুবিন্যস্ত হয়, তার কার্যক্ষমতাও তত উন্নত হয়। স্পেস ফোর্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জশ ওয়েস্টার্ন বলেন, ‘আমরা যে কাজটি করছি তার মাধ্যমে মহাকাশে এমন সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা পৃথিবীতে বর্তমানে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরের তুলনায় প্রায় ৪,০০০ গুণ বেশি বিশুদ্ধ।’ তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যতে ৫জি টাওয়ার, বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জার এবং আধুনিক উড়োজাহাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হবে। গত গ্রীষ্মে স্পেসএক্সের একটি রকেটের মাধ্যমে কোম্পানিটির এই ক্ষুদ্র কারখানা মহাকাশে পাঠানো হয়। এরপর থেকে কার্ডিফে অবস্থিত মিশন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে নিয়মিত এর বিভিন্ন সিস্টেম পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্পেস ফোর্জের এই সাফল্য ভবিষ্যতে মহাকাশভিত্তিক শিল্প উৎপাদনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতেও সক্ষম হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
যে নম্বর থেকে ফোন এলেই বুঝবেন জিমেইল হ্যাকের চেষ্টা চলছে

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘২৫০ কোটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে’—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাস্তবে জিমেইল বা গুগল ক্লাউডের কোনো তথ্য ফাঁস হয়নি এবং তাদের সিস্টেম অক্ষত রয়েছে। তবে গুগল স্বীকার করেছে, জিমেইল ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে অননুমোদিতভাবে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ফোন কলভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও। গুগলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, তারা কখনোই ফোন করে ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড রিসেট করতে বা অ্যাকাউন্ট সমস্যার সমাধান করতে বলে না। কিন্তু প্রতারকরা গুগলের অফিসিয়াল সাপোর্ট নম্বর +1 650-253-0000 নকল বা ‘স্পুফ’ করে ফোন করছে। ফলে এই নম্বর থেকেই কল এলে সেটিকে হ্যাকিং বা প্রতারণার চেষ্টা হিসেবে ধরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রোটন এক সতর্কবার্তায় জানায়, প্রতারকরা নিজেদের গুগলের কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন করে দাবি করছে—‘আপনার অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত হয়েছে।’ এরপর নিরাপত্তার অজুহাতে ব্যবহারকারীদের দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কেউ একবার এই ফাঁদে পড়লে সহজেই তার অ্যাকাউন্ট দখলে নিয়ে নেয় প্রতারকরা। রেডিটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ান উচ্চারণে কথা বলা ব্যক্তিরা ফোন করে ধাপে ধাপে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাদের কথাবার্তা ও আচরণ এমন ছিল, যেন তারা সত্যিই গুগলের কর্মী। প্রতারকদের কবল থেকে সতর্ক থাকার উপায় ১. কোনো ফোন কল পেলে কখনোই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করবেন না বা কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না। ২. সরাসরি গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করে Security → Review Security Activity অপশন চেক করুন। ৩. নিয়মিত সিকিউরিটি চেকআপ চালান, পুরোনো পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন। ৪. এসএমএসভিত্তিক টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) বাদ দিয়ে অথেন্টিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করুন। ৫. সম্ভব হলে পাসকি (Passkey) সক্রিয় করুন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল পাসওয়ার্ড এখনো সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ফিশিং, ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং ও সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কৌশল ব্যবহার করে হ্যাকাররা সহজেই অ্যাকাউন্ট দখল করছে। কিপার সিকিউরিটির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ শেন বার্নি বলেন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পাসকি ব্যবহার করলে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হলেও হ্যাকারদের জন্য আক্রমণ চালানো অনেক কঠিন হয়ে যায়। সূত্র: ফোর্বস ও সংবাদ প্রতিদিন

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
সাইবার হামলায় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ২০২৫

২০২৫ সাল বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম টেকক্রাঞ্চ।   প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার একাধিকবার সাইবার হামলার শিকার হয়। চীনা হ্যাকারদের মাধ্যমে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগে হামলার পর পারমাণবিক নিরাপত্তা–সম্পর্কিত সিস্টেমসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। এছাড়া রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা মার্কিন আদালতের গোপন নথিও চুরি করেছে। করপোরেট খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ক্লপ র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপ ওরাকলের একটি অজানা নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে বহু প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে নেয়। ত্রুটিটি শনাক্ত হওয়ার আগেই ব্যাপক তথ্য ফাঁস ঘটে। যুক্তরাজ্যে একের পর এক সাইবার হামলায় খুচরা ব্যবসা খাত বিপর্যস্ত হয়। বিশেষ করে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের ওপর হামলার ফলে কয়েক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকে। এতে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে এবং সরকারকে প্রায় ১৫০ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিতে হয়। এশিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় প্রতি মাসেই বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি ও ই-কমার্স জায়ান্ট কুপাংয়ের ওপর হামলায় কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে।   টেকক্রাঞ্চ বলছে, ২০২৫ সালে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকারদের কারণে সাইবার হামলা হয়েছে।  এটি এখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ২০, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সট লিখেই ভিডিও এডিট করা যাবে, নতুন আপডেট অ্যাডোবির

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ভিডিও টুল ফায়ারফ্লাইয়ে বড় ধরনের আপডেট এনেছে অ্যাডোবি। নতুন এই আপডেটের মাধ্যমে এখন ব্যবহারকারীরা শুধু টেক্সট লিখে ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশে পরিবর্তন আনতে পারবেন। পুরো ভিডিও নতুন করে তৈরি করার দরকার হবে না।   টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সংস্করণে কোনো পরিবর্তন করতে হলে ভিডিও আবার শুরু থেকে তৈরি করতে হতো। নতুন এডিটরে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। এখন রং পরিবর্তন, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ঠিক করা কিংবা ভিডিওর ভেতরের কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বদলানোর মতো কাজ সহজেই করা যাবে। নতুন এডিটরে একটি টাইমলাইন সুবিধাও যোগ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ফ্রেম, অডিওসহ ভিডিওর বিভিন্ন কারিগরি দিক আলাদা করে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অক্টোবরে পরীক্ষামূলকভাবে (প্রাইভেট বেটা) চালু হওয়া এই এডিটর এখন সবার জন্য উন্মুক্ত করেছে অ্যাডোবি। একই সঙ্গে ফায়ারফ্লাইয়ে যুক্ত করা হয়েছে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিছু এআই মডেলও। এর মধ্যে রয়েছে ছবি তৈরির জন্য ফ্লাক্স.২ এবং ভিডিওর মান বাড়িয়ে ১০৮০পি ও ৪কে করার জন্য অ্যাস্ট্রা।   এছাড়া ফায়ারফ্লাই ভিডিওতে আরও উন্নত ক্যামেরা মুভমেন্টের সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। নতুন এই আপডেট ভিডিও নির্মাতাদের কাজ আরও সহজ ও দ্রুত করবে বলে মনে করছে অ্যাডোবি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ 0
আপনার ফোনটি অবৈধ প্রমাণ হলে যা করবেন

আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি বৈধ কি না জানেন কি? স্মার্টফোন কেনার সময় এই বিষয়টি অনেকেই খেয়াল করেন না। আসলে এই ব্যাপারটি এমন অনেকেই আছেন যারা এতদিন জানতেনও না, আবার জানলেও গুরুত্ব দিতেন না। তবে এখন এটি খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে সবার জন্য। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-গণপ্রজাতন্ত্রীর (বিটিআরসি) নতুন নেওয়া পদক্ষেপে অবৈধ ফোন ব্যবহারে বিপদে পড়তে পারেন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নিবন্ধনবিহীন বা আন অফিসিয়াল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার আগেই আপনার ফোনটি রেজিস্ট্রেশন করে নিন। তার আগে আপনার ফোন অবৈধ কি না তা পরীক্ষা করুন। এজন্য- ধাপ-১: মোবাইল ফোন থেকে *১৬১৬১# নম্বরে ডায়াল করুন। ধাপ-২: অটোমেটিক বক্স আসলে হ্যান্ডসেট এর ১৫ ডিজিটের আইএমইআই(IMEI) নম্বরটি লিখে প্রেরণ করুন। ধাপ-৩: ফিরতি মেসেজের মাধ্যমে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের/হ্যান্ডসেটের হালনাগাদ অবস্থা জানানো হবে। যদি ফোনটি নিবন্ধিত না হয় তাহলে যেভাবে কাজটি করবেন- অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন (সবচেয়ে সহজ) ধাপ-১: মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর বের করুন ধাপ-২:ডায়াল করুন: *#০৬# ধাপ-৩: এনইআইআর পোর্টালে প্রবেশ করুন ধাপ-৪: ‘আইএমইআই রেজিট্রেশন’ বা ‘ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন’ অপশন নির্বাচন করুন প্রয়োজনীয় তথ্য দিন- আইএমইআই নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, মোবাইল নম্বর, ডিভাইস কেনার তথ্য (যদি থাকে), ফি প্রদান করুন (প্রযোজ্য হলে), আবেদন সাবমিট করুন। যাচাই শেষে ফোনটি বৈধ হলে নেটওয়ার্ক চালু হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ 0
স্মার্টফোনের ব্যাটারি ফুলে ওঠার কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

কিছু ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের ব্যাটারি মাঝে মাঝে ফুলে যেতে পারে, যেমন স্মার্টফোন। এতে ব্যাটারির ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে ডিভাইসের কাভার বা বাইরের আবরণ ফেটে যেতে পারে। পাশাপাশি ভেতরের রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ডিভাইস ব্যবহারযোগ্য থাকে না। ফলে ব্যাটারি প্রতিস্থাপন করতে হয় এবং ফুলে ওঠা ব্যাটারিটি নিরাপদভাবে ফেলে দিতে হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট পকেট-লিন্ট অবলম্বনে এ আলোচনায় স্মার্টফোন ব্যাটারি ফুলে ওঠার কারণ ও কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়, তা তুলে ধরা হলো— স্মার্টফোন ব্যাটারি কেন ফুলে যায়? অধিকাংশ স্মার্টফোনে লিথিয়াম আয়ন পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে এগুলো শক্ত ব্লকের মতো দেখায়। কিন্তু ভেতরে থাকে পাতলা ধাতু ও প্লাস্টিকের স্তর, যা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থে আবৃত এবং একটি অ্যালুমিনিয়াম থলিতে ভরা। এরপর থলিতে ইলেকট্রোলাইট জেল ঢালা হয় এবং এটি ভ্যাকুয়াম প্যাক করা ও সিল করা হয়। সিলটি বাতাস লাগা থেকে রক্ষা করে, তাই সাধারণত ব্যাটারি নষ্ট হলেও কোনো তরল পদার্থ বের হয় না। ফোন ব্যবহার বা চার্জ দেয়ার সময় ব্যাটারির ইলেকট্রোলাইটের খুব সামান্য অংশ কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং ব্যাটারির বয়স বাড়ার অংশ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে কাজ দ্রুত ঘটে, ফলে ব্যাটারি ফুলে ওঠে। ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার চারটি প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত চার্জ, অতিরিক্ত তাপ, দীর্ঘ সময় ব্যাটারি শূন্য শতাংশে থাকা ও সরাসরি ক্ষতি হওয়া, যেমন শটসার্কিট। ব্যাটারি ফুলে যাওয়া রোধে করণীয় ব্যাটারি ফুলে যাওয়া যদিও বিরল ঘটনা, তবে সাবধানতা অবলম্বনে ক্ষতি নেই। অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে ব্যাটারিকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। ফোনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরাসরি রোদে রাখা যাবে না। ফোন বেশি গরম হয়ে গেলে এটি বন্ধ করতে বা স্লিপ মোডে রাখতে হবে। এছাড়া সার্টিফায়েড চার্জার ব্যবহার করাও জরুরি। বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড বা সার্টিফায়েড অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করলে শুধু ব্যাটারি নয়, গোটা ফোনের কার্যকারিতাও ভালো থাকে। অনেকে ফোনের ব্যাটারি একদম শেষ হলে চার্জে দেন। এ অভ্যাস বদলাতে হবে। পাশাপাশি ব্যাটারির সুরক্ষায় এমন সব ফিচারও বন্ধ করতে হবে যা ফোন সুইচ অফ থাকলেও ব্যাটারি খরচ করে, যেমন ডিজিটাল কার কি। এছাড়া ফোন হাত থেকে ফেলে দেয়া, চাপ দেয়ার মতো কাজেও ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শক্তিশালী কেস ব্যবহার করলে ব্যাটারি ক্ষতির আশঙ্কা প্রায় নেই। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি, কোনো অবস্থায়ই ফুলে যাওয়া ব্যাটারি সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলা যাবে না। এটি ই-ওয়েস্ট রিসাইকেল কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিত অথবা ব্যাটারিটি আগুন-প্রতিরোধী কোনো পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। —পকেট-লিন্ট অবলম্বনে

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ১৫, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
অশ্লীল বার্তা পাঠালে শাস্তি দুই বছর কারাদণ্ড ও দেড় কোটি টাকা জরিমানা

ফোনে অশ্লীল বা আপত্তিকর বার্তা পাঠানো এখন থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে।   ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্যের অপব্যবহার রোধে প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, মোবাইল ফোন, মেসেজিং অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা যেকোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশালীন, মানহানিকর বা হুমকিসূচক বার্তা পাঠানো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে যদি অন্য কারও মানসম্মান বা সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   আইনের খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, কেবল বার্তা পাঠানো নয়— এমন কোনো অডিও, ভিডিও বা ছবি পাঠানো বা শেয়ার করলেও একই ধরনের শাস্তি প্রযোজ্য হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সংস্থা প্রয়োজনে ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করতে পারবে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।   সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে রক্ষা করতে এ আইনটি যুগোপযোগীভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইন ও ফোনে যোগাযোগ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় এ ধরনের কঠোর বিধান সময়োপযোগী হলেও এর প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৬, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ের সঙ্গে ভালোবাসা ও একাকীত্ব : নতুন সম্পর্ক

মানুষ এখন শুধু কাজের জন্য নয়, অনুভূতির জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করছে। কেউ বন্ধুর মতো সঙ্গ হিসেবে, কেউ কাজের সহায়ক হিসেবে, আবার কেউ প্রেমের বিকল্প হিসেবেও এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আধুনিক একাকীত্বের নতুন রূপ, যা দ্রুত সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টোরো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট জেমি সান্দভাল জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপের ৩০ শতাংশ ব্যবহার দখল করতে পারে।   তিনি আরও বলেন, “এআইয়ের উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ বড় ভাষা মডেল ব্যবহার করেও আত্মহত্যা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।”   মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অনেকেই একাকীত্ব কাটাতে এআইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। কেউ সামাজিক দক্ষতা অনুশীলন করেন, কেউ মানসিক সান্ত্বনার জন্য এ পথ বেছে নেন। তবে এতে ঝুঁকিও আছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য, কারণ এআই কখনও কখনও ভুল তথ্য দেয়, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেখায় বা বিপজ্জনক প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর ফলে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা এমন সমস্যাকে “এআই সাইকোসিস” আখ্যা দিয়েছেন, যেখানে ব্যবহারকারীরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কল্পিত সম্পর্কের মধ্যে আটকে পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।   তবে সবাই নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। ডিজিটাল কনসালট্যান্ট ডোয়াইট জারিঞ্জার মনে করেন, যদি নৈতিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার নিয়ম ঠিকভাবে মেনে চলা হয়, তবে এআই চ্যাটবট মানসিক সহায়তার বিকল্প হতে পারে।   সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ টেসা গিটলম্যান বলেছেন, মানুষ কেন এআইয়ের সঙ্গে আবেগ গড়ে তোলে, তার মূল কারণ একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। অনেকেই এমন সঙ্গ চায় যা বিচার করবে না। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এআই সম্পর্ক কখনো মানবিক সংযোগের বিকল্প হতে পারে না, কারণ এতে থাকে না সেই উষ্ণতা, বাস্তব অনুভূতি ও সহমর্মিতা যা মানুষকে মানুষ করে।  

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৫ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

Top week

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয়

গণভোট ২০২৬ : সংস্কারের পথে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0