জাতীয়

ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে তিনি অবৈধ স্থাপনা নিয়ে কথা বলেন।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার সৈকত দখল করে গড়ে ওঠা বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা রাখা হবে না। ইতোমধ্যে ভাসমান দোকানসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সৈকতের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।   তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা এবং সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা ভাসমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকায় অভিযানে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন।   উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনের জন্যই তিনি সৈকতে যান। এ সময় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
রামু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা বাড়ানোর তাগিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা জরুরি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রামু একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী উপজেলা হওয়ায় এখানে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো সময়ের দাবি।   রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রামু ফুটবল চত্বরে অবস্থানকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে সীমিত শয্যা ও জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করা প্রয়োজন। এ সময় সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা ডা. মোহাম্মদুল হক জনির নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া রামু ফুটবল চত্বরের অবস্থান পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পূর্বের ন্যায় খালেকুজ্জামান চত্বর বহাল রাখা এবং পুরাতন বাইপাস সড়কের পাশে ফুটবল চত্বর পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কারণ কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা। সবমিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এর আগে, ‘পেট্রোল পাম্পের তেল বিক্রিতে নিরাপত্তার প্রয়োজন’ বলে সংগঠনটি জানায়। তবে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে তাদের দাবি।   সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি। স্বাভাবিক হিসাবে এই মজুত কয়েকদিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়।   এই পরিস্থিতিকে তারা এক ধরনের লুটতরাজ বলে উল্লেখ করেছেন। একেকজন দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে তারা জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করছে পাম্পগুলো। কিন্তু অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।   এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে। এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।   সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে; ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।   সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের আগের দিন রাতে অনেক পেট্রোল পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি। জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল লিফটিং (সংগ্রহ) বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
দুর্নীতি ‘ওয়ান ডিজিটে’ নামানোর প্রত্যয় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি ‘ওয়ান ডিজিটে’ নামিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, অটোমেশন ও ই-সেবা চালুর মাধ্যমে মানবিক নগদ লেনদেন কমিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।   রোববার (২২ মার্চ) বন্দর নগরী চট্টগ্রাম নগরীর চটেশ্বরী রোডস্থ প্রতিমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আমরা ভূমি অফিসগুলোকে পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছি। হিউম্যান ক্যাশলেস সিস্টেম বা সরাসরি অর্থ লেনদেনহীন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা গেলে ভূমির কাজে দুর্নীতি ও মালিকদের হয়রানি একেবারেই কমে আসবে।   প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে ভূমি মালিকদের রেকর্ডপত্র বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য আর সশরীরে অফিসে ভিড় করতে হবে না। নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে নামজারি ও জমা-খারিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।   চট্টগ্রামের ভূমি সেবা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ ভূমি অফিসে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত নেই। সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ই-সেবার মান যুগোপযোগী করার কাজ করছে।   হাটহাজারী ভূমি অফিসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে কোনো ক্যাশ ট্রানজ্যাকশন হয় না। একইভাবে পুরো ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় হলে ভূমি অফিসগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হবে।   ব্যারিস্টার মীর হেলাল স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন চায়। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের অর্থ সহায়তা তলানিতে

বিদেশি সহায়তা নীতিতে বাংলাদেশে এক যুগে বাংলাদেশকে দেড় হাজার কোটি রুপির অর্থসহায়তা দিয়েছে ভারত। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম অর্থসহায়তা এসেছে। পাঁচ বছর আগেও যেখানে বছরে ২০০ কোটি রুপির বেশি অর্থ দিয়েছিল ভারত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা ২৫ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত শুক্রবার ভারতের লোকসভা অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বাংলাদেশকে দেওয়া অর্থসহায়তার তথ্য জানিয়েছেন। সেই অর্থসহায়তার হিসাব থেকে এই চিত্র পাওয়া গেছে।   লোকসভার সদস্য টি আর বালু ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে এই পর্যন্ত কী পরিমাণ সহায়তা বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান। লিখিত উত্তরে অর্থসহায়তার তথ্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লোকসভায় বাংলাদেশকে দেওয়া অর্থসহায়তার হিসাবের কথা জানানো হয়েছে। তবে এই হিসাবে ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় আসা অর্থ বাদ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, লোকসভায় ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিবেশীকেন্দ্রিক ও জনমুখী। ভারত এলওসি ও অনুদানের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করেছে।এর পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচিতে সহায়তা করেছে ভারত। কত দিল ভারত ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশকে কোন অর্থবছরে কত দেওয়া হয়েছে, সেই হিসাব লোকসভায় দেওয়া হয়েছে। ভারতের অর্থবছর এপ্রিল মাস থেকে মার্চ পর্যন্ত। গত এক যুগে ভারত সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫৫৭ কোটি রুপি দিয়েছে। ২০১৪–১৫ অর্থবছরে প্রায় ১৯৮ কোটি রুপি দেওয়া হয়। তবে সর্বোচ্চ অর্থ এসেছে ২০২১–২২ অর্থবছরে। ওই বছরে ২১৯ কোটি ৫৩ লাখ রুপি দিয়েছিল ভারত। এরপর সহায়তা কমতে থাকে। তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসে ৫৯ কোটি রুপিতে নামে। ওই বছরই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। নানা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর ফলে দ্বিপক্ষীয় অর্থসহায়তাও কমে যায়।   চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত (ভারতের অর্থবছরের ১১ মাসের হিসাব) মাত্র ২৫ কোটি রুপি আসে। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে ভারতীয় অর্থসহায়তা আট ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং লোকসভায় বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং সামাজিক সম্পর্ক আছে। একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারত ধারাবাহিকভাবে সমর্থন প্রকাশ করেছে। দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অধীনে উচ্চপর্যায়ের বিনিময় ও বৈঠক অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কীর্তি বর্ধন সিং আরও বলেন, ভারতীয় বন্দরগুলোতে দেওয়া সুবিধার বিষয়ে বাংলাদেশ নিজস্ব রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করে নীতিতে যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এলওসিতে কত এল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারত সব মিলিয়ে এলওসির আওতায় ২১০ কোটি ডলার ছাড় করেছে। ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি এলওসিতে বাংলাদেশকে মোট ৭৩৬ কোটি ডলার ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পরও কাঙ্ক্ষিত হারে অর্থছাড় হয়নি। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ—এসব খাতের প্রকল্পই বেশি নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম এলওসিতে ১০০ কোটি ডলার দেয়। প্রথম এলওসিতে ১৫টি প্রকল্প ছিল। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প শেষ হয়েছে, বাকি তিনটি চলমান। দ্বিতীয় এলওসিতে নেওয়া ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি শেষ হয়েছে, ১০টি চলমান ও ৩টি প্রকল্প প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে। তৃতীয় এলওসির ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি চলমান আছে এবং বাকি ৫টি প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে। ইআরডির একজন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর ভারতীয় ঋণের ছাড় কমেছিল। তবে নতুন সরকার আসার পর এলওসির আওতায় প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড়ে সমস্যা কোথায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
১০০ বছর ধরে এ ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস-ট্রেনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানিতে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে অঝোরে কাঁদলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে টেলিফোনে মন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় ওই সংসদ সদস্যকে।তার কান্নার দৃশ্য রীতিমতো ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই কথোপকথনের একটি ভিডিও মনিরুল হক চৌধুরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্ত্রীকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুরোধ জানান এবং নিজের চিকিৎসা শেষ করে দ্রুত দেশে ফেরার কথাও জানান। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয় জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে এমপি মনিরুল বলেন, গত ১০০ বছর ধরে এ ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেল সচিবের কাছে সব কাগজপত্র আছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারিনি। এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, আপনি সেদিনও বলেছেন, সেদিনও বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী কান্না করে বলেন, আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাল রাতে। ডাক্তার দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করব। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড- আমি শান্তি পাব জীবনে। আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন। এ সময় মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, আমি যাচ্ছি রওনা দিয়ে। আমি যা করার করব। আপনি এভাবে বলছেন।সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। পুরো কথোপকথনের সময়জুড়েই সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে কান্না করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহণ নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন। এ সময় বাসটিকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক প্রকাশ

কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়। তদন্তের মাধ্যমে এ সব দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।   রোববার (২২ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘পবিত্র ঈদ উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। আমি মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। হতাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ ইতোমধ্যে তিনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি। উল্লেখ্য, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অপর কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী, হবিগঞ্জ, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ । আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল, উৎসবমুখর কক্সবাজার

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল থেকেই সমুদ্রসৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।   দীর্ঘ ছুটির সুযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজারে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। বালুকাবেলায় ঘুরে বেড়ানো, সমুদ্রস্নান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকরা।   নরসিংদী থেকে আসা এক পর্যটক জানান, ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে তিনি কক্সবাজারে এসেছেন এবং কয়েকদিন এখানে অবস্থান করবেন।   পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা। রমজান মাসে তুলনামূলক মন্দা থাকলেও এখন ব্যবসা জমে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে বার্মিজ মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে কেনাকাটায় ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে পর্যটকদের।   শহরের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ আবাসিক হোটেল আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং মাসের শেষ পর্যন্ত এমন চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।   পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত ২০ মার্চ কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।   প্রস্তাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞ, বিপুল সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং নারীদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।   এতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের পক্ষ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল বলে উল্লেখ করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।   প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, সে সময়ের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও নথি—বিশেষ করে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বিখ্যাত প্রতিবেদন ‘জেনোসাইড’ এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক আর্চার ব্লাডের পাঠানো ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’—প্রমাণ করে যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।   এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ১৯৭১ সালের এই ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাস সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেও স্বাভাবিক জ্বালানি খালাস, ২২ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫ জাহাজ

বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর-এ জ্বালানি খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম দিন থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৫টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস সম্পন্ন হয়েছে।   রোববার (২২ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।   তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জ্বালানি খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ওমান থেকে আসা একটি জাহাজে এলপিজি গ্যাস খালাস চলছে।   অন্যদিকে থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল বহনকারী একটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।   বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আরও দুটি জাহাজ বন্দরের পথে রয়েছে এবং ২৫ মার্চের মধ্যে সেগুলো পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বন্দর কার্যক্রম সচল থাকায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইইউ বাজারে ধাক্কা: জানুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি কমল ২৫%

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা লেগেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।   ইউরোস্ট্যাট-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে।   পরিসংখ্যান বলছে, এ সময় বাংলাদেশ ইইউতে ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ইউরো।   বিশ্লেষণে দেখা যায়, রপ্তানি কমার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের দাম কমে যাওয়া। জানুয়ারিতে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।   এ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ যেহেতু ইইউ বাজার থেকে আসে, তাই এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।   খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র-এর নীতিগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইইউ বাজারে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিযোগিতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।   অন্যদিকে, ইউরোপে পোশাকের চাহিদাও কিছুটা কমেছে। বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে ক্রেতারা এখন কম দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী, যা রপ্তানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।   ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ইইউ বাজারেই পোশাক আমদানিতে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারিতে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোতে।   এছাড়া অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে রপ্তানি কমেছে ২৯ শতাংশের বেশি। একইসঙ্গে চীন, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াও নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, দামের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।   তারা আরও বলেন, এ অবস্থা মোকাবিলায় দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মান উন্নয়ন এবং বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
সাংবাদিকদের ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ফোন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে এ শুভেচ্ছা বিনিময় হয়।   এ বিষয়ে আনিস আলমগীর জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকে ফোন করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে এবং তার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা তার জন্য ছিল বেশ অপ্রত্যাশিত। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, তিনি শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তার প্রশংসা করেছেন। এর আগে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। জানা গেছে, আনিস আলমগীর ছাড়াও শফিক রেহমান, মোকাররম হোসাইনসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবরও নেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
কোলাকুলিতে হৃদয় জয়, প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদের আনন্দ শুধু উৎসবের রঙে নয়, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধেই যে পূর্ণতা পায়—তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   ঈদের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে দ্রুত এগিয়ে আসেন। তিনি স্যালুট ও হাত মেলাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে তাকে কাছে টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর এমন আন্তরিক ও সাদামাটা আচরণে ওই পুলিশ সদস্যসহ আশপাশের সবার মধ্যেই এক ভিন্নধর্মী উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও সহজ-সরল আচরণে মুগ্ধ হয়েছেন সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি হাজারো মানুষ শেয়ার করে তাদের ভালো লাগা প্রকাশ করছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২২, ২০২৬ 0
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ শনিবার সকালে কুমিল্লার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদ জামাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন
সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য : কৃষিমন্ত্রী

খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে কুমিল্লার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদ জামাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময় পার হলেও একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও টেকসই দেশ গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সরকারের পরিকল্পনা সফল হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিন জেলার প্রধান জামাত শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। প্রধান জামাতে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর

 পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে করতে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া-সহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারগণ একে একে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এর আগে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে দেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা বলেন। বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। দেশের মানুষ ভবিষ্যতে আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাবে। এ লক্ষ্য পূরণে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশ গঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যাবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এ সময় তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। শেষে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২১, ২০২৬ 0
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করেন। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ঈদের দিন বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দুপুরে তিনি তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, তাঁর ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান এবং তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারেক রহমান মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করেন। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলামসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশানের বাসায় ফিরেছেন।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছয় লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে শোলাকিয়ায় ঈদ জামাত

দেশের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল ফিতরের জামাত। প্রায় ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লির উপস্থিতিতে বিশাল এই জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত ১৯৯তম এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পুরো এলাকা ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় জামাত। জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বাসস’কে জানান, এত বড় সমাগম সত্ত্বেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তিনি বলেন, এবারের জামাত ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল আয়োজন। ঈদের আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা কিশোরগঞ্জে আসতে শুরু করেন। অনেকেই খোলা আকাশের নীচে বা অস্থায়ীভাবে রাতযাপন করে ভোরেই ঈদগাহমুখী হন। ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শটগানের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে সংকেত দেয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ে শুরু হয় ঈদের নামাজ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়। জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে দোয়া কামনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শোলাকিয়ার এবারের ঈদ জামাত কেবল বড় সমাগমই নয়, বরং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ আয়োজনের এক সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২১, ২০২৬ 0
লঞ্চে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে টাকা লুট, যাত্রীর মৃত্যু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়ি আসার পথে লঞ্চে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে অচেতন করে তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা এবং পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তবে তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং কোন লঞ্চে তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে তা জানা যায়নি।   গতকাল শুক্রবার তিনি ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আসার পথে লঞ্চে পানির সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য পান করায় দুর্বৃত্তরা। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঈদ উদযাপনের জন্য শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। যাত্রাপথে লঞ্চে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলে এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেয়। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি আরও বলেন, মোস্তাফিজুরের ফোন থেকে অচেতন অবস্থায় ঘাটে পড়ে আছেন—এমন সংবাদ পেয়ে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কে বা কারা লঞ্চে তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়েছে তা জানা নেই।   ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. শামসুল আলম বলেন, গতকাল শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ এবং অচেতন অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমিরণ মন্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে তা জানা যাবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২১, ২০২৬ 0
মীরসরাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, চালক নিহত

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় এনামুল হক আইয়ুব (৪০) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নয়দুয়ারি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক আইয়ুব কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাঘগ্রাম এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে।   ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, এনামুল হক আইয়ুব নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে মীরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারি এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   কুমিরা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির রাব্বানী জানান, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটিও থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
প্রত্যেকে যেন সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারে : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আজকে আমার মনে হয়, আমাদের সবার জন্য ঈদের আনন্দ তো আছেই, এর পাশাপাশি দেশের পরিবর্তিত পরিবেশে ও গণতান্ত্রিক আবহে এবারের আনন্দটা কিছুটা ভিন্ন।  তিনি বলেন, আমরা চাই, প্রত্যেকে যেন সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারে।  শনিবার (২১ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী নাজির বাড়ি মসজিদে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায় করেন তিনি।  এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা চাই, দেশটা যেন এভাবেই থাকে — সবাই মুক্তভাবে থাকতে পারে, মুক্তভাবে কথা বলতে পারে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে।  তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকে যেন তার সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করতে পারে। ঈদের সঙ্গে এই বিষয়গুলোরও একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কারণ মানুষ যদি মুক্ত না থাকে, তাহলে ঈদের প্রকৃত আনন্দ অনুভব করা যায় না। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই আজ আমাদের যে মালিকানা ফিরে পাওয়ার কথা ছিল। মনে হয়, নির্বাচনের পর তার অনেকাংশেই ফিরে পেয়েছি।  আর তাই এই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি এক অনুভূতি। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, এবারের ঈদের আনন্দ সত্যিই ভিন্ন। তাই দেশবাসী সবাইকে জানাচ্ছি ঈদের শুভেচ্ছা। এই ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি যেন আমাদের মাঝে অব্যাহত থাকে— বাংলাদেশের জন্য, সকল মানুষের জন্য।  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার মধ্যে এই অবিরাম বন্ধন অটুট থাকুক।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে বিএনপি নেতা ইসরাফিল খসরুসহ পরিবারের সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীরা। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২১, ২০২৬ 0
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সপ্তাহের সেরা

ছবি : সংগৃহীত
প্রবাসী

যুদ্ধের প্রভাবে কুয়েতে ঈদ ম্লান, চরম অনিশ্চয়তায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৯, ২০২৬ 0