জাতীয়

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সংগৃহীত ছবি
আজ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের এই দিনে তিনি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষ্যে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল করবে বিএনপি।    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।   এতে বলা হয়, সারা দেশে দলীয় কার্যালয়ে অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। আর ঢাকায় বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।   এ কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।   খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও তিনি জলপাইগুড়িতে বোনের বাসায় থেকে পড়ালেখা করেন। সেখানে চা ব্যবসাও করেন তিনি। পরে পরিবার নিয়ে দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানকার একটি মিশনারি স্কুল ও পরে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন খালেদা জিয়া।   ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা রাখেন জিয়াউর রহমান। তখন তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণা শুনে বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।    স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন জিয়াউর রহমান। সে সময় তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভু্যত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া।   ১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জোট ছিল। তারা এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো কখনো সমঝোতায় গেলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোট সমঝোতায় যায়নি। এ কারণেই তিনি আপসহীন নেত্রী উপাধি পান।    ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে তিন আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হন। ওয়ান-ইলেভেনের পর ফখরুদ্দীন-মউনউদ্দিন সরকারের আমলে তিনি কারাবন্দি হন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।   নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। ক্ষমতাসীন দলটির নেতৃত্বে এখন আছেন তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
তেজগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৭

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।   গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. ফরিদ হোনেন (৪৪), মো. নুরে আলম (২৮), মোসা. শাহিনুর বেগম (২০), জয়া মার্কেট কস্তা, উম্মে কুলসুম রানি, মো. ইফতেখারুল আলম, রাকিব হোসেন (২৫), শাহরিয়ার হোসেন মৃদুল (২০), মো. আকাশ হোসেন (২৯), মো. শাকিল (২২), মো. স্বপন, মো. নুরুল ইসলাম (৩০), মো. ইমন হাওলাদার (২৬), মো. সিজান আহমেদ সিহান মাঝি (২৩), আরাফ হোসেন ওরফে দীপ (২০), মো. নুর ইসলাম (৩৩), মো. আতাউল্লাহ মোল্লা (২২), মো. মাহবুব আলম (৫৩), মো. সাগর সরদার (২৪), মো. মামুন (২৫), মো. প্রিন্স (৩৫), সুজন (২২), মো. স্বপন, মেহেদী হাসান সুমন (২২), মো. বাবুল (৪৮), মো. ইমন (২১), মো. জয় (১৮), মো. রানা (২৫), মো. সুজন (২৫), মো. বাবু (২০), মো. রমজান (২৫), মো. নাছির (২০), মো. মফিজ উদ্দিন (৫০), মো. নঈম ওরফে লিয়াকত, মো. সুরুজ খাঁ (৪৫), মো. সাকিল (২৩), মো. হাসনাইন (২১), মো. আব্দুর রউফ (১৮), মো. রাসেল (১৮), মো. রায়হান (১৮), শামীম (১৮), মো. সালমান হোসেন আবির (৩১), মো. রিফাত (২০), মো. মারুফ (২২), মাসুদ রানা শিকদার (২০), মো. সাইদুল ইসলাম ওরফে শুভ (২৩) ও মো. জুয়েল হাওলাদার ওরফে তিল্লা জুয়েল।   তেজগাঁও বিভাগের বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।   গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা ৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানা ৩ জন, মোহাম্মদপুর থানা ১৮ জন, আদাবর থানা ৬ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ২ জন ও হাতিরঝিল থানা ১৩ জন।   গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
মানবাধিকারকর্মী রঞ্জন কর্মকারের শেষকৃত্য আজ

মানবাধিকারকর্মী রঞ্জন কর্মকারের শেষকৃত্যানুষ্ঠান আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরে শ্যামপুরের পোস্তগোলা মহাশ্মশানে তার অন্তিম কৃত্যাদি সম্পন্ন হবে।   রঞ্জন কর্মকার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ আগস্ট সকালে তিনি মারা যান।   আজীবন অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করেছেন রঞ্জন কর্মকার। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।   তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য রঞ্জন কর্মকারের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সবার উপস্থিতি শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের জন্য শক্তি ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় গ্রিডে সামিটের এলএনজি সরবরাহ ফের শুরু

সামিট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।   সামিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুরুতে দৈনিক প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। রাত ২টার মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বেড়ে প্রায় ৫৫০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।   সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নতুন এলএনজি কার্গো আসার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য দুবাইয়ের ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা

আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীরা ‘এমিরেটস হলিডেজ’-এর নির্দিষ্ট প্যাকেজের আওতায় ৯৬ ঘণ্টার দুবাই ট্রানজিট ভিসা পেতে পারেন। এই সুবিধার মাধ্যমে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সর্বোচ্চ চার দিন পর্যন্ত অবস্থান করার সুযোগ পাবেন।   ‘এমিরেটস হলিডেজ’-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মরিশাস, জর্ডান, মিসর ও তুরস্কসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী এবং ওমরাহ পালনে গমনকারীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে উপযোগী।   নতুন এই ব্যবস্থার আওতায়, যোগ্য বাংলাদেশি যাত্রীরা দুবাইয়ে চার দিন অবস্থানের সুবিধাসহ এমিরেটস হলিডেজের নির্ধারিত প্যাকেজ কিনে এই ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।   এই সুবিধার ফলে বাংলাদেশি যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাঝে দুবাইয়ে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সুযোগ পাবেন। এতে মূল যাত্রার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল ও পর্যটন কেন্দ্রে স্বল্পসময়ের বিনোদনমূলক ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।   এছাড়া দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুবাইকে সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য এই ট্রানজিট ভিসা যাতায়াত আরো সুবিধাজনক ও সহজ করবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের ৪৯ ইন্সপেক্টরকে একযোগে অবসরে পাঠাল সরকার

বাংলাদেশ পুলিশের ৪৯ জন পরিদর্শককে (নিরস্ত্র) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।   গতকাল (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তারা বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।   ৭ সহকারী পুলিশ সুপারকেও (এএসপি) বাধ্যতামূলক অবসর   এদিকে, র‌্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ৭ জন সহকারী পুলিশ সুপারকেও (এএসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এতে বলা হয়, তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা প্রাপ্য হবেন এবং জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।   অবসরে পাঠানো ৭ এএসপি হলেন- নূরে আলম সিদ্দিকী (র‍্যাব সদর দপ্তর), ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি-প্যাট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সার্কেলের এএসপি কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের এএসপি মো. সৈয়দুজ্জামান, র‍্যাব-২ এর এএসপি মো. গোলাম কিবরিয়া, ঢাকার আরআরএফের এএসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের এএসপি মো. রবিউল ইসলাম।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করল সামিট এলএনজি টার্মিনাল

দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়েছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে টার্মিনালটি প্রায় ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে।     শুক্রবার রাতে সামিট এলএনজি থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে আগামী ১৫ আগস্ট রাত ২টার দিকে টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রায় ৫৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।       সামিটের বাড়তি গ্যাস সরবরাহের ফলে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ অন্যান্য খাতে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমার পাশাপাশি শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।       সামিট এলএনজি জানিয়েছে, টার্মিনাল ও জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থার কারিগরি সক্ষমতার মধ্যে থেকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে সর্বোচ্চ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে।     কম্পানিটি আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস সংকট মোকাবেলা ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলা ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে সামিট এলএনজি।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরোনো ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর ঘিরে দুই দেশে প্রস্তুতি

আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।     সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি হবে প্রথম ভারত সফর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিনের এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।     সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরটি মূলত দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকেন্দ্রিক হবে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও কর্মসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতেই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত।     এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় দশটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা ব্রিকসের আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।     গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা কালবেলায় ‘দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।     তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।     ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বেশ কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।     তবে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ারও ইঙ্গিত মিলেছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন।     দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।       মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আসামিদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।     চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।       সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকেও প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে দুই দেশই চাইবে, এই বিরোধ যেন সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না করে।     তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বাস্তব ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ।     ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।     পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন নিয়ে আলোচনা সামনে আসতে পারে।     অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়ে আসছে ঢাকা।     বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত।     ঢাকা-নয়াদিল্লি; দুই পক্ষই বর্তমানে সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরেই সব বিরোধের সমাধান হয়ে যাবে; এমন প্রত্যাশা নেই।       শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার প্রয়োজন হবে। তবে মোদি ও তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠক দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে।     সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একইভাবে নরেন্দ্র মোদিও নতুন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারতের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবেন।     সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি হলে আগামী সপ্তাহের তারেক রহমানের দিল্লি সফরই হতে পারে বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ভারতীয় গণমাধ্যম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে বেশ আশাবাদী ভারত। এই ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে জোর আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লি যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  তার এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় রাজধানীতেই জোর প্রস্তুতি চলছে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আজ তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে। সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুদিনের এই সফরটি একটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। মোদি-তারেক প্রথম বৈঠক ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ প্রতিবেদন বরাতে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লি ও ঢাকা—উভয় পক্ষই নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যকার সম্ভাব্য এই প্রথম বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর থেকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুদেশের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছিল। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যেখানে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান ইস্যু: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, এই অনুরোধটি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি উঠে আসে। সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি ব্যাহত না করে কীভাবে এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুটির সমাধান করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকেই পথ খুঁজতে হবে। পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত সংকট উভয় দেশের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা দীর্ঘদিনের বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক সমস্যাও রয়েছে। আসন্ন আলোচনায় মূলত বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত এবং জোরালো অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায়, রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হলে তা দ্রুত এই খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আরেকটি বড় ইস্যু হতে পারে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে সময় ঘনিয়ে আসায় চুক্তি নবায়নের আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে, শুধু দীর্ঘ সীমান্তের কারণেই নয়, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের নতুন দিগন্তের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশই যখন তাদের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী, ঠিক তখনই এই সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি মাত্র সফরেই অমীমাংসিত সব সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক হবে না। শেখ হাসিনার ইস্যু, পানিবণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন পড়বে। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই সফর হয় তাহলে এর মাধ্যমে তারেক রহমান ঢাকার অবস্থান সরাসরি ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যও এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে দিল্লির প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ হবে। প্রতিবেদন বরাত বলছে, সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের এই দিল্লি সফর হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা। আপাতত উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য—পরস্পরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু করা এবং জটিল সংকটগুলো যেন সার্বিক সম্পর্ককে আটকে না ফেলে, সেই পথ তৈরি করা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে চলতি অর্থবছরেই : মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সরবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভাসহ ৫টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার(১৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে পরিচ্ছনতা কর্মীদের আবাসিক ভবন পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। বিগত সংসদে যে বাজেট পাস করা হয়েছে, সেই বাজেটে এই অর্থ সংকোলন করা আছে। কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার থেকে ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া আছে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে কমিশন, স্থানীয় সরকার ও অর্থবিভাগ এই মন্ত্রণালয়ে বসে আমরা সিন্ধান্ত নেব কোন নির্বাচন আগে করবো।   লোডশেডিংয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে নবায়ন যোগ্য বিদ্যুতে যেতে হবে। সোলার প্যানেলের ওপর বেশী করে জোর দিতে হবে। তাহলেই দেখবেন আপাতত যে ক্রাইসিস গুলি আছে, সেই ক্রাইসিস আর থাববে না। আমরা যদি ব্যবসা প্রতিষ্টানে, স্কুলে, বাড়ীতে সবাই সোলার প্যানেল ব্যবহার শুরু করি তাহলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের খরচ এক বছরের মধ্য উঠে আসবে।   এর আগে প্রতিমন্ত্রী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ফলদ গাছের চারা রোপন করেন। পরে তিন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠ, শিশু উদ্যান ও ময়লার ভাগার পরিদর্শন করেন।   এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি মিজান রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, বিসিবির পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।     ঢাকা ও নয়াদিল্লির সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।     প্রতিবেদনে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট। যা ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।       এনডিটিভি বলছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।     সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।     দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।       এদিকে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।     প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।       তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। তারই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।       তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত ও জাপান সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, এই সফর প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬
খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।   কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন।   এতে আরও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।   কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।   দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের এসব আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজই আমার শেষ দিন: নাছির

  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন নাছির উদ্দীন নাছির।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি তার দায়িত্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ, কঠিন ও ঘটনাবহুল সাংগঠনিক একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলার নানা স্মৃতি তিনি তুলে ধরেন নাছির।   বিদায়ের এই সময়ে স্মৃতিচারণ করে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরের সীমাহীন অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন, গুম ও খুনের ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আমাদের পথ চলতে হয়েছে। এই সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সব নেতাকর্মীকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।’   নাছির বলেন, ‘ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আজ শেষ দিন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং একই সঙ্গে গৌরবের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। বিদায়ের মুহূর্তে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে অসংখ্য স্মৃতি সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ, বেদনা এবং সবচেয়ে বেশি করে সহযোদ্ধাদের ভালোবাসা।’   নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সন্তান নাছির উদ্দীন নাছির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তখন একদিন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাবেন, তা ভাবেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘রাজনীতি শুধু পদ-পদবির বিষয় নয়; এটি মানুষের জন্য কাজ করা, সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকার দীর্ঘ যাত্রা।’   নিজের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে নাছির বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, ত্যাগ এবং গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অবস্থান তাদের প্রতিটি সংগ্রামের শক্তি হয়ে থেকেছে।’   ২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে নাছির বলেন, ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন। সে সময় নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, তাদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’   জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন বলে দাবি করেন নাছির। ঢাকার পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ এবং চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি তাদের প্রতি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা জানান।   নাছির বলেন, ‘আমাদের অনেকের নাম হয়তো ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে না। তবে একটি গণআন্দোলনের ইতিহাস শুধু কয়েকজন মানুষের নাম দিয়ে শেষ হয় না। এর পেছনে থাকে হাজারো পরিচয়হীন, নির্ভীক ও দুঃসাহসিক তরুণের ত্যাগ।’   জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে নাছির বলেন, ‘আন্দোলনের সময়ে তারা ছাত্রদলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে ছাত্রদলের অবদান সবসময় সমানভাবে স্বীকার করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সংকটের সময়ে একসঙ্গে কাজ করার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নাছির।’   আন্দোলনের পরপরই নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথাও স্মরণ করেন ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ‘ওই এলাকার সন্তান হিসেবে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাকে নির্দেশ দেন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে আমি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছ থেকেও ফেনীতে গিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা পাই।’   নাছির বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদেশ এবং তারেক রহমানের নির্দেশনা পাওয়ার পর সেদিন রাতেই আমি ফেনীর উদ্দেশে রওনা হই। দু’দিন পর সভাপতি রাকিব ভাইসহ সুপার ফাইভের বাকি নেতারাও ফেনীসহ বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকায় ছুটে যান।’   এই অভিজ্ঞতা থেকে রাজনীতির সংজ্ঞা সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরে নাছির বলেন, ‘রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের বিষয় নয়; মানুষের দুর্দিনে তাদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।’   বেগম খালেদা জিয়ার ওই নির্দেশকে নিজের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে নাছির বলেন, সেটি শুধু একজন নেত্রীর নির্দেশ ছিল না; অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও ছিল। শারীরিকভাবে খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে না থাকলেও তার নির্দেশ, মমতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাদের পথ দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   দায়িত্ব পালনকালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘মব সংস্কৃতি’কেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন জানিয়ে নাছির বলেন, ‘নানা ধরনের প্রচারণা, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ছাত্রদলকে রাজপথে সক্রিয় রাখা সহজ ছিল না। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নিশ্চিত করাও ছিল নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।’   নিজেদের সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে নাছির বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব পালনের সময়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়েছে। তবে এটিকে কোনো ব্যক্তির কৃতিত্ব হিসেবে দেখছি না। এটি ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল।’   তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছু অপূর্ণতা থেকে গেছে বলেও স্বীকার করেন নাছির। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অল্প কয়েকটি কমিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন করতে না পারার আক্ষেপ তার থাকবে বলে জানান তিনি। এ অপূর্ণতার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন নাছির।   কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের প্রতিও নিজের অবস্থান তুলে ধরে নাছির বলেন, যারা কমিটির মাধ্যমে দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের অনেকেই যোগ্য ছিলেন এবং তাদের যোগ্যতার স্বীকৃতিই তারা পেয়েছেন। তবে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যারা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি, তাদের প্রতিও তার সমবেদনা ও শ্রদ্ধা রয়েছে।   একটি পদকে কারও যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে নাছির বলেন, যারা কোনো একটি কমিটিতে দায়িত্ব পাননি, তাদের অনেকেই আগামী দিনের নেতৃত্বে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।   ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়াকেও নিজের দায়িত্বকালের একটি আক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে নাছির বলেন, একজন সংগঠক হিসেবে এই ফলাফল আমাকে প্রায়ই ভাবিয়েছে। কোথায় ঘাটতি ছিল এবং কোথায় আরও ভালো করা যেত, তা নিয়ে আমি নিজের কাছে প্রশ্ন করেছি। রাজনীতিতে পরাজয়ও শিক্ষা দেয়। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্রদল ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠিত ছাত্রসংগঠন হয়ে উঠবে বলে আশা করেন তিনি।   দায়িত্ব পালনের সময়ে পাশে থাকা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান নাছির। তিনি প্রথমেই বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল বকুলসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের সব জ্যেষ্ঠ নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।   ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নেতা এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান নাছির। বিশেষ করে কোনো পদ-পদবির প্রত্যাশা ছাড়াই যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেন তিনি।   নিজের দায়িত্ব পালনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাছির বলেন, আমরা হয়তো সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে পারেননি। ভুল হয়েছে, সীমাবদ্ধতা ছিল এবং কখনো কখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ঘাটতি ছিল। তবে ছাত্রদলের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কাজ করার ইচ্ছা তার কখনো ছিল না, এ বিষয়ে তিনি নিজের কাছে পরিষ্কার।   দায়িত্ব থেকে বিদায় নিলেও ছাত্রদল থেকে বিদায় নিচ্ছেন না বলে স্পষ্ট করে নাছির বলেন, ‘পদ থেকে বিদায় নেয়া যায়, কিন্তু আদর্শ, ভালোবাসা ও সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিদায় নেয়া যায় না।’   আগামী দিনে ছাত্রদলে নতুন নেতৃত্ব আসবে উল্লেখ করে তাদের প্রতি আস্থার কথাও জানান তিনি। তার বিশ্বাস, নতুন নেতৃত্বের অধীনে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী, সংগঠিত ও গতিশীল হবে। নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হলে তাদের ডাকে আগের মতোই পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নাছির।   নিজের রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদলের দেয়া পরিচয়কে কোনো পদ দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংগঠনের পতাকার নিচে পাওয়া মানুষ, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন নাছির।   দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, কোনো সিদ্ধান্তে অন্যায় হয়ে থাকলে কিংবা কারও প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হলে সহযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।   নিজের রাজনৈতিক জীবনের অনিশ্চয়তা, ব্যস্ততা, অনুপস্থিতি ও কঠিন সময়গুলো নীরবে সহ্য করা পরিবারের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান নাছির। একই সঙ্গে বন্ধু এবং সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সাংবাদিকেরা তাদের কার্যক্রম মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন এবং কখনো প্রশংসা, কখনো সমালোচনা করেছেন উভয়কেই প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।   সবশেষে নাছির বলেন, আমি একটি দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, তবে সম্পর্ক, সংগ্রাম ও আদর্শ থেকে নয়। ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে, অন্য কোনো দায়িত্বে বা অন্য কোনো সময়ে দেখা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তার প্রত্যাশা, নিজেদের শক্তি, নেতাকর্মীদের ভালোবাসা এবং আদর্শের ভিত্তিতে ছাত্রদল সামনে এগিয়ে যাবে। পরবর্তী নেতৃত্বের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।   বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হোক এমন প্রত্যাশা জানিয়ে নাছির বলেন, জীবনের কোনো এক প্রান্তে গিয়ে তিনি সুখময়, সমৃদ্ধ ও সফল বাংলাদেশ দেখতে চান। সেই স্বপ্ন তিনি নিরন্তর দেখেন। তার পরিচয়-প্রতীক ছাত্রদল সেই বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে অবিচল থাকুক এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে নিজের বিদায়ী বক্তব্য শেষ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙ্গা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮, আহত বেশ কয়েকজন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার কারখানাটিতে এ ঘটনা ঘটে।   মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারি এলাকার বাসিন্দা।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া পর সেখানে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   ফেরদৌস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গমন হতে দেখে ইয়ার্ডের সেফটি টিমের কয়েকজন সদস্য সেটি পরীক্ষা করতে যান। এ সময় গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।   তিনি আরও বলেন, ‘আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।’ তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে না পারলেও নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম গণমাধ্যমকে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওই কারখানা থেকে ছয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।’   ট্যাঙ্কার থেকে কীভাবে বিষাক্ত গ্যাস লিক হলো এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
সরকারের সমালোচনায় কোনো বাধা নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সরকারের সমালোচনা করতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারের সমালোচনা সবাই করতে পারেন। এমনকি সরকারের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতারই অংশ। তবে রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা হবে।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।   সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনটি কীভাবে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে নারী ও শিশুর সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাইবার বুলিং, মানহানিকর প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনটিতে প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হবে।   তিনি জানান, আইনটি প্রণয়নের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপক জনপরামর্শ গ্রহণ করা হবে। আইনটির অপব্যবহার যেন কেউ করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষা বাড়াতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও ও রিলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।   তিনি বলেন, এসব কনটেন্ট স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচারের পাশাপাশি তথ্য অফিস ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।   ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ এবং মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ খান মো. সাজ্জাদ কবীর।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাধারণ অভিভাবক, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   আলোচনা সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ জেলায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।   এ সময় তিনি সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় জোরদার, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।   মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের যুগে ঢাকা, কমবে কী যানজট?

প্রতিদিনের যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে ভোগান্তি। যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পর এবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এরই অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।   আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক এই সিগন্যাল সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই আধুনিক সিগন্যাল সিস্টেম চালুর লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’   নতুন এই ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও চালকেরা বলেন, ‘সবাই এখন সিগন্যাল ফলো করছে। যে সময় রেড সিগন্যাল, তখন সবাই অটোমেটিকভাবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যে সময় সবুজ সিগন্যাল দিচ্ছে, আবার চলে যাচ্ছে। ডাইরেক্টলি এনফোর্স করার চেয়ে এই যে প্রযুক্তির সুবিধা, এই প্রযুক্তির সুবিধাগুলো এখানে আমরা সরাসরি দেখলাম। একটা প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কীভাবে লাভবান হতে পারি।’   এদিকে বিজয় সরণির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সুজা চৌধুরী বলেন,‘ভয় পাচ্ছে যে তাদের মামলা হচ্ছে এবং মামলার কপি তাদের ঠিকানায় চলে যাচ্ছে। এজন্য যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা একটু সতর্ক হচ্ছে।’   তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার সুফল পেতে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। শুধু স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু করলেই হবে না; সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এআইকে শতভাগ কার্যকরী করতে হলে বৈধ যানবাহন সড়কে থাকতে হবে। তার নাম্বার প্লেটটা থাকতে হবে। যে নাম্বার প্লেটটা আমার এআই লেন্সের মধ্যে ধরা পড়বে। কিন্তু যেহেতু অটোরিকশাগুলোর নাম্বার প্লেটের সমস্যা আছে, নাম্বার প্লেটই আসলে নাই। এখন পর্যন্ত সে জায়গায় আসলে আমরা এখন যেভাবে কাজটা করছি, পুলিশ এখানে এনগেজড আছে। মূলত আমরা এআই সাপোর্টের একটা সফটওয়্যার বানানো হয়েছে, সেখানে পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সড়কে কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তখন একটা ভিডিও ট্রিগার করে। ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ডের একটা ভিডিও চলে আসে। সেটা অ্যানালাইসিস করে, তারপরে মামলাটা দেয়া হচ্ছে।’   প্রযুক্তির এই ব্যবহার রাজধানীর যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-কসোভো বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (ইএফটিএ) এবং সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সিইএফটিএ)-এর মতো আঞ্চলিক বাণিজ্য কাঠামোর সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও কসোভো।   শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় দেশটির শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।   বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় অনুবিভাগের সচিব রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম। অপরদিকে কসোভোর পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির শিল্প, উদ্যোক্তা, বাণিজ্য ও উদ্ভাবনমন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলা।   বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস. এম. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা।   এফটিএসহ নতুন সহযোগিতার পথ খোঁজা আলোচনায় বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে ইএফটিএ ও সিইএফটিএ-সংশ্লিষ্ট সুযোগগুলো কাজে লাগানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষ মনে করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।   ওষুধ, আইটি ও বায়োটেকে সহযোগিতার সম্ভাবনা বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি ওষুধশিল্প, বায়োটেকনোলজি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর আয়োজন এবং যৌথ বিনিয়োগ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।   কসোভোর বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কসোভোর বাজারে তৈরি পোশাক (আরএমজি), পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) এবং শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে কসোভোর উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হয়।   যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের আলোচনা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কার্যকর করতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া কসোভোর বেসরকারি খাতের একটি অনুসন্ধানী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে কসোভো চেম্বার অব কমার্স (ওইকে) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি কসোভোতে বাংলাদেশি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।   কসোভোর বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন মন্ত্রী কসোভোর শিল্পমন্ত্রী মিমোজা কুসারি-লিলা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বাজারের নিকটবর্তী অবস্থান, অনুকূল আর্থিক নীতি, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমশক্তি এবং সিইএফটিএ ও ইএফটিএ-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকারের কারণে কসোভো বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তিনি আরও বলেন, পশ্চিম বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধাও বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে, এফটিএসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ১৪, ২০২৬
‘শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের সমাপ্তি’, নতুন জীবন শুরু করতে চান ছাত্রদলের রাকিব

  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের’ পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। একইসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করে নিজেকে আরও পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি।   স্ট্যাটাসের শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।   এ ছাড়া বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে রাকিব বলেন, তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃত্ব সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।   ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম-ঘামে রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং তারা নানা ষড়যন্ত্র দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।   ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে রাকিব বলেন, আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুধু নিজেরা সৎ ও পরিশ্রমী থাকার পাশাপাশি অধীনস্থ নেতাকর্মীদেরও সততা, নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতে অনুপ্রাণিত করেছেন।   তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিকাশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কারণে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী যেন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেদিকে তিনি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন।   নিজ দলের বাইরের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তার কাছে এলে নিজের জায়গা থেকে তা সমাধানের চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান ছাত্রদল সভাপতি।   রাকিব-নাসির কমিটির সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল এই কমিটির অন্যতম প্রধান সাফল্য।   তিনি বলেন, ৫ আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী বাস্তবতায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত মবকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক বুলিংকে উপেক্ষা করে নেতৃত্ব প্রদান করতে হয়েছে।   দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে রাকিব বলেন, ‘ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ না।’ দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকালে তার কোনও আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।   স্ট্যাটাসের শেষ দিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন রাকিব।   তিনি আরও লেখেন, একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
নেতাকে থাপ্পড় মেরে এমপির সঙ্গে বৈঠক করে দুঃখ প্রকাশ, শেষে ইউএনও প্রত্যাহার

  ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু নামে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান।   এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় অভিযানের সময় সারোয়ার জাহানকে থাপ্পড় মারেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। ওই ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর সঙ্গে আনসার ও র‌্যাব সদস্যরা বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে যান। সেখানে তিনি ইজারাদারের কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় উপস্থিত থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু অভিযানে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চান।    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিচয় দেওয়ার পর কথোপকথনের একপর্যায়ে সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন ইউএনও। পরে র‌্যাবের এক সদস্য তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে সারোয়ার জাহানকে কয়েকবার আঘাত করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ত্রিশালের কালীরবাজার এলাকায় বালু বিক্রির জন্য ইজারা নিয়েছে। বালুমহালটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন।   সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রায় দুই কোটি টাকায় বৈধভাবে বালুমহালটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ইউএনও কাউন্টারে ঢুকে কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র আনার কথা বলা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মী ওই ছাত্রদল নেতাকে মারধর করেন। ঘটনার পর তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও দেখা করতে পারিনি।   এদিকে, ওই ঘটনার পর আজ দিনভর ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী তার কার্যালয়ে ছিলেন না। সকাল থেকে বিভিন্ন কাজে তার কার্যালয়ে আসা সেবাপ্রার্থীদের অনেকেই ফিরে গেছেন। ইউএনওর অনুপস্থিতির কারণও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।   এর মধ্যে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত স্থানীয় ত্রিশাল পৌর এলাকায় সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে একটি হাসপাতালে ওই ঘটনা নিয়ে সমঝোতা বৈঠক হয়। বৈঠকে ইজারাদারের লোকজন ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী সেখানে উপস্থিত হয়ে গতকালের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।   বৈঠক শেষে ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘দুপুরের পর মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের উদ্যোগে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। আমাদের মধ্যে এখন এ ধরনের কোনও বিষয় নেই।’    মারধরের ঘটনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনসংগত কার্যক্রমের মধ্যে চলমান অবস্থায় হঠাৎ করে এ ধরনের একটা ঘটনা, তো অবশ্যই এটার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করবো। আমি দুঃখ প্রকাশ করি, ইভেন এটা আমি ফিলও করি।’   ময়মনসিংহ সদর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বালুমহালের অপর ইজারাদার শাহরিয়ার আহমেদ সেলিম বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের সময় ইউএনওকে দেখে দাঁড়িয়ে সম্মান না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদল নেতাকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিশেষ বেঞ্চে শুনানি রোববার

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। মামলাটি বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত বেঞ্চের রবিবারের (১৬ আগস্ট) কার্যতালিকায় ২২ নম্বরে রয়েছে।   ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত ও মাগুরার শিমু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানির পরই শিশু রামিসা হত্যা মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে বুধবার (১২ আগস্ট) স্টার নিউজকে জানিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।   এর আগে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পর ২৫ জুন এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পান।   মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেন সোহেল রানা। এ অপরাধে তাকে পূর্ণ সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে দু’জনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ের পর দুই আসামিকে পাঠানো হয় কনডেম সেলে। সেখানে থেকেই তারা রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, স্বরাষ্ট্রে অ্যানি ও স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিনের নাম আলোচনায়

বিএনপির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে রদবদল আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।   সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।   সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং এর আগে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।   শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের ঘোষণার পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই এই সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনা সামনে এসেছে।   তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য রদবদল সংক্রান্ত আলোচনা হিসেবেই দেখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৪, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়

রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১২, ২০২৬