জাতীয়

ছবি: সংগৃহীত
সিভিল সার্জনের বিদায়-যোগদান অনুষ্ঠান, নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) সদ্যবিদায়ী ও নবাগত সিভিল সার্জনের বিদায় ও যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের খরচের জন্য নার্সদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়। এ পর্যন্ত নার্সদের কাছ থেকে ৭০ হাজার এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। তবে চাঁদা সংগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান এবং নবাগত সিভিল সার্জন এস এম সাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন। এ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হাসান।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ১২০ জন নার্স কর্মরত। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার কথা ছিল। রোববার বিকেল পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।   চাঁদা সংগ্রহের বিষয়ে হাসপাতালের নার্সদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়েছিল। তবে অনেকেই এ অর্থ দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁদের প্রশ্ন, সিভিল সার্জনের বিদায় বা যোগদান অনুষ্ঠান হাসপাতালের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ নয়; তাহলে এ আয়োজনের জন্য নার্সদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হবে কেন?   এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিখা রাণী মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হাসপাতালের সেবায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জনপ্রতি এক হাজার টাকা চাওয়া হলেও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ দিতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কাউকে জোর করা হয়নি বলেও জানান তিনি।   আরএমও নাজমুল হাসান বলেন, অনুষ্ঠানের উপহার ও খাবারের জন্যই চাঁদা সংগ্রহ করা হচ্ছিল। হাসপাতালের নিজস্ব কোনো ফান্ড না থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিজেদের উদ্যোগে আয়োজনটি করছিলেন। তবে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।   বিদায়ী সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, তিনি কোনো বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করতে বলেননি। তাঁর মতে, বিদায় উপলক্ষে এভাবে চাঁদা তোলা অনৈতিক। তাই তিনি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেবেন না বলে জানান। যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।   অন্যদিকে নবাগত সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, নার্সদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তাঁর ভাষ্য, ঘরোয়া একটি অনুষ্ঠানের কথা হয়েছিল। কিন্তু চাঁদা আদায়ের বিষয়টি জানার পর তিনি বিব্রত হয়েছেন এবং এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সমীচীন হবে না।   উল্লেখ্য, ২০২২ সালের শুরু থেকে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মশিউর রহমান। গত ২০ আগস্ট তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে তাঁর স্থলে নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে এস এম সাখাওয়াত হোসেনকে পদায়ন করা হয়।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাইব্যুনালে হেলমেট-বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো নিয়ে প্রশ্ন পলকের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হ্যান্ডকাফ পরানোর কারণ জানতে চেয়েছেন জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।   রোববার ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে বক্তব্য দেওয়ার সময় পলক বলেন, তাকে হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাথায় ভারী কোনো কিছু না দেওয়ার কথা থাকলেও তাকে এভাবে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।   পলকের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নামানোর পর ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও তাকে একই নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল।   তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি নিরাপদ স্থান। সেখানে স্বল্প সময়ের জন্য প্রবেশের ক্ষেত্রেও কেন তাকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং পেছনে হাত নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।   বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ বক্তব্য দেন পলক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় ওইদিন নবম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।   সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ হওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা পলক ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান। তখন তিনি নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   এ সময় ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে ব্যবহৃত কম্পিউটারের উইন্ডোজ সফটওয়্যার নিয়েও আপত্তি জানান পলক। তিনি সফটওয়্যারটিকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে লাইসেন্স করা উইন্ডোজ ব্যবহারের অনুরোধ করেন।   পলকের বক্তব্যের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আসামিকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের সরাসরি কিছু করার নেই।   কম্পিউটারে ব্যবহৃত উইন্ডোজ সফটওয়্যার প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর বলেন, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনে আইটি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।   পরে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা দেন, কম্পিউটারে যাতে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘আসিফ নজরুলের দুই ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল’ - নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, আসিফ নজরুলের একটি নয়, দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।   সম্প্রতি এক বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের দুটি ছাগলের মধ্যে একটি খাওয়া হয়েছে। তার দাবি, দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একটি ছাগল বাদ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের তিনি ধিক্কার জানান। একই বক্তব্যে আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   নাসীরুদ্দীন আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন। এসব প্রাণী রাখার স্থানে পুলিশের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, যারা একটি ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত, সুযোগ পেলে তারা অন্য ছাগলটিও খেতে পারেন।   এর আগে একটি টকশোতে নিজের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।   আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে তিনি একা থাকতেন। সেখানে তার সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির সঙ্গে ছাগলটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।   তিনি বলেন, মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও বাসায় ফেরার সময় ছাগলটির সঙ্গে তার এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছিল। এমনকি মেয়েটি নিজের মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির বদলে ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করত।   ছাগলটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলেও জানান আসিফ নজরুল। কান্নার সময় বমি করে ফেলা এবং প্রায় দেড় দিন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।   আসিফ নজরুলের ভাষ্য, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে মজা করার উদ্দেশ্যেই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে সেটি খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খাওয়া হয়েছিল—এমন বক্তব্য সঠিক নয়।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল নিখোঁজের ঘটনা ব্যাপক আলোচনায় আসে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল পুনর্বিবেচনার দাবি হেফাজতের

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, বিলের কিছু বিধান কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আইনটি পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।   রোববার সকালে রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুসলিমদের হেবা বা দানসংক্রান্ত বিষয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই বিলটি দ্রুত পাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে হেফাজত।   সংগঠনটির নেতারা বলেন, মুসলিমপ্রধান দেশে মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা, ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে তারা অস্বীকার করেন না; তবে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   হেফাজতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন এবং শরিয়তসম্মত সম্পত্তি বণ্টনব্যবস্থার প্রতি রাষ্ট্রের যথাযথ সম্মান দেখানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।   বিলটি সংশোধনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তারা।   সংগঠনটির ভাষ্য, মুসলিমদের প্রচলিত হেবা প্রথা ও উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় বিতর্কিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।   এদিকে বিলটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনের আমিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ সাক্ষাৎ করবে। ওই দলে হেফাজতের নেতাদের পাশাপাশি ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদেরও রাখা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়। বিলে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তরের পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার রাখার সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতি চলমান

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, প্রক্রিয়াটি আবারও কোনো জটিলতায় আটকে গেল কি না।     নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে সবাই চিন্তিত।’     গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে এখন পর্যন্ত সেটি প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।     তবে সাবেক আমলারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারের মতে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ শেষ হতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে।     কেন সময় লাগছে? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করতে হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করা হয়।     সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এসব বিষয় প্রস্তুত করতেই অনেক সময় লাগে।     খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান বা বিদ্যমান আইন-কানুনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি আইনি ভাষা ও পরিভাষার যথার্থতাও নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না তৈরি হয়।     এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত সপ্তাহে দুই-এক দিনের মধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেটি তাদের কাছে পৌঁছায়নি।     অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি আটকে থাকার বিষয় নয়। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।       অতীতে কত সময় লেগেছিল? সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।        সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বিলম্ব অস্বাভাবিক নয়।       কার কত বেতন বাড়ছে? নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।     ১ম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে প্রায় ১৪২ শতাংশ। সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।   সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।       এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ এবং পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস মিললেও যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকে আছে সিইউএফএলের সার উৎপাদন

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরতে প্রস্তুত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানার ইউরিয়া প্ল্যান্টে দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এখনও সার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।     গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। ত্রুটি মেরামতের কাজ শেষ হলে শিগগিরই ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।       কারখানার মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে কারখানা। ইতিমধ্যে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়েছে।     ইউরিয়া উৎপাদনের প্রধান দুই কাঁচামাল হলো তরল অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালুর আগে যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো মেরামত করা হবে। এ কারণে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরিয়া উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।     সিইউএফএলের এক কর্মকর্তা বলেন, সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয় এবং পাইপলাইনে মরিচা পড়ে লিকেজ তৈরি হতে পারে। এসব মেকানিক্যাল সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হবে।     তিনি আরো জানান, সবকিছু অনুকূলে থাকলে সিইউএফএলে দৈনিকন ১ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হবে। দেশের সার সরবরাহে কারখানাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।     অন্যদিকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বর্তমানে সিইউএফএলে প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।       সিইউএফএল শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) একটি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ প্রিল্ড ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সার উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের কৃষিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিইউএফএল।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি: একনেকে উঠছে নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প

রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনব্যবস্থার আওতায় সংযুক্ত করতে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।     ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) : সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।     পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) একনেকের তৃতীয় সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একনেকের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।     ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুটের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এটি পরবর্তী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।     তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত একটি এমআরটি করিডর চালু হবে। এর মাধ্যমে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার, আফতাব নগর ইস্ট ও নাসিরাবাদ হয়ে গণপরিবহন সংযোগ স্থাপিত হবে।’     সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।     প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।     প্রকল্পের আওতায় মূল এমআরটি লাইন ও স্টেশন নির্মাণ, ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণকাজ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিকব্যবস্থা, রেলওয়েব্যবস্থা, রোলিং স্টক এবং ডিপো সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া ইউটিলিটি স্থানান্তর, পরামর্শকসেবা, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে।     প্রস্তাবিত রুটটি এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সংযুক্ত হবে।   এর ফলে যাত্রীরা বিভিন্ন এমআরটি করিডরের মধ্যে সহজে স্থানান্তর করতে পারবেন এবং সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। পরিকল্পনা কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং ঢাকাবাসী পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থায় উন্নততর সুবিধা পাবেন।     পরিকল্পনা কমিশন আরো বলেছে, অন্যান্য এমআরটি লাইনের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের ফলে যাত্রীরা কম সময়ে বিভিন্ন করিডরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি রাজধানীর যানজট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।       প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে কয়েক দফা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রথমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করে। ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়। পরে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আরেকটি পিইসি সভায় সংশোধিত প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়।     পরবর্তীতে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এরপর ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভার পর প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় আরও ২ হাজার ১৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা কমিয়ে বর্তমান ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।       প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বরাদ্দ ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা মোট ব্যয়ের ৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ এবং ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণকাজে ব্যয় হবে।     বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজ এবং রেলওয়েব্যবস্থায় ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বা মোট ব্যয়ের ২৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জামের জন্য প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।       ভূমি অধিগ্রহণ, পুনঃঅধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ।     এডিবির কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সম্পন্ন করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২২ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। সমীক্ষায় প্রকল্পটিকে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে বাস্তবসম্মত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।     অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেটের ভিত্তিতে প্রকল্পটির এনপিভি ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা, বিসিআর ২ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং আইআরআর ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।     পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজধানীর যানজট নিরসনে সহায়তা করবে। এ কারণে একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।     পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এটি একনেকের অনুমোদনের জন্য উপযুক্ত।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ডিপিডিসিতে আউটসোর্সিং নিয়োগ বাতিলসহ প্রকৌশলীদের ৬ দফা দাবি

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (ডিপিডিসি) আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নিয়োগের উদ্যোগ বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আইডিবি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।     সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ডিপিডিসির গ্রিড, বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং গ্রাহকসেবার পরিধি অনেক বাড়লেও ২০১৩ সালের পুরনো অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামো সংশোধন করা হয়নি। ফলে বর্ধিত কাজের চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী জনবল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি সিএসএস, ডিএসএস বা আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৪০ জন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নিয়োগের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাকে স্থায়ী সংকটের কোনো টেকসই সমাধান বলে মনে করছে না সংগঠনটি।     ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ছয় দফা দাবির মূল বিষয়গুলো হলো— আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নিয়োগের বর্তমান উদ্যোগ বাতিল করা। পূর্বে গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত বর্ধিত অর্গানোগ্রাম অনুমোদন করা। অনুমোদিত কাঠামোর অধীনে সব শূন্য পদে অবিলম্বে নিয়মিত ও স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া। ‘ফিডার অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামের আউটসোর্সিংভিত্তিক বিকল্প পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা। একটি স্থায়ী, দক্ষ ও পেশাদার জনবল কাঠামো গড়ে তোলা। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পেশাগত অধিকার, ন্যায্য কর্মসংস্থান ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত বর্জন করা।   সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিতরণ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কারিগরি সেবা খাত। তাই এর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কোনো অস্থায়ী বা আউটসোর্সিং জনবল নয়, বরং স্থায়ী ও দক্ষ জনবল কাঠামো অপরিহার্য। আউটসোর্সিংয়ের পথ পরিহার করে নিয়মিত নিয়োগের ব্যবস্থা করলে একদিকে যেমন ডিপিডিসির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে তেমনি হাজারো যোগ্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
রামপালের ইউনিট বন্ধে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে নেমেছে অর্ধেকের নিচে

কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।     রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায় বলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান।        তিনি বলেন, বিভ্রাটের আগে কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আসা শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে।         ইউনিটটি কতদিন পর চালু করা যাবে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিট বন্ধের পর শীতলীকরণ করতে হয়। ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তারা আসার পর কাজ শুরু হবে। পুনরায় চালু হতে তিন থেকে চার দিন সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করছি।       রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যালয় থেকে জানা যায়, দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৩০০ মেগাওয়াট। কিন্তু দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ১১০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়ার্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়। একটি ইউনিট চালু থাকলে ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। আর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকগণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এ কথা বলেন।   রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় এ তথ্য জানান।   এসময় রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকারকে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় এবং সজাগ থেকে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।   রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকার জনগণের, সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   এসময় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন।   এছাড়াও তিনি জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। লিফট রেখে সিঁড়ি বেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময়, কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।   বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।   পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।   কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।   একই সঙ্গে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।   কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।   বৈঠকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এজন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও জোর দিতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুই-এক দিনের মধ্যেই সার সংকট কেটে যাবে: কৃষিমন্ত্রী

আগামী দুই থেকে একদিনের মধ্যেই সার সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।   মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   আমিন উর রশিদ বলেন, বিগত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে ২ লাখ মেট্রিক টন সার বেশি রয়েছে। প্রতিটা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি করে দেয়া হয়েছে।   বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় দেশের কৃষির সার্বিক ব্যবস্থা নিয়ে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সকল বিষয়ে দিক নির্দেশনাও দেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় ‘এমআরটি লাইন-৫’ প্রকল্প

রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলকে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থার আওতায় সংযুক্ত করতে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট নির্মাণে প্রকল্প গ্রহন করেছে সরকার।   ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসসকে জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) একনেকের তৃতীয় সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। একনেকের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন।   ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫), সাউদার্ন রুটের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব আজ বাসসকে বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এটি পরবর্তী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।   তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত একটি এমআরটি করিডোর চালু হবে। এর মাধ্যমে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাব নগর, আফতাব নগর সেন্টার, আফতাব নগর ইস্ট ও নাসিরাবাদ হয়ে গণপরিবহন সংযোগ স্থাপিত হবে।’   সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।   প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।   প্রকল্পের আওতায় মূল এমআরটি লাইন ও স্টেশন নির্মাণ, ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণকাজ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, রেলওয়ে ব্যবস্থা, রোলিং স্টক এবং ডিপো সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এছাড়া ইউটিলিটি স্থানান্তর, পরামর্শক সেবা, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনসহ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে।   প্রস্তাবিত রুটটি এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এর ফলে যাত্রীরা বিভিন্ন এমআরটি করিডোরের মধ্যে সহজে স্থানান্তর করতে পারবেন এবং সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতে পারবেন।   পরিকল্পনা কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম করিডোরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে এবং ঢাকাবাসী পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থায় উন্নততর সুবিধা পাবেন।   পরিকল্পনা কমিশন আরও বলেছে, অন্যান্য এমআরটি লাইনের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের ফলে যাত্রীরা কম সময়ে বিভিন্ন করিডোরে যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে এটি রাজধানীর যানজট কমাতেও ভূমিকা রাখবে।   প্রকল্পটি অনুমোদনের আগে কয়েক দফা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রথমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করে। ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়।   পরে প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ৪৭ হাজার ৭২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং বাস্তবায়নকাল ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আরেকটি পিইসি সভায় সংশোধিত প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হয়।   পরবর্তীতে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে ব্যয় ধরা হয় ৪৭ হাজার ৬৪৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এরপর ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভার পর প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় আরও ২ হাজার ১৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা কমিয়ে বর্তমান ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বরাদ্দ ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা মোট ব্যয়ের ৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ এবং ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণকাজে ব্যয় হবে।   বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজ এবং রেলওয়ে ব্যবস্থায় ব্যয় হবে ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বা মোট ব্যয়ের ২৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জামের জন্য প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ।   ভূমি অধিগ্রহণ, পুনঃঅধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ।   এডিবির কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সম্পন্ন করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২২ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। সমীক্ষায় প্রকল্পটিকে কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে বাস্তবসম্মত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।   অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেটের ভিত্তিতে প্রকল্পটির এনপিভি ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা, বিসিআর ২ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং আইআরআর ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।   পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজধানীর যানজট নিরসনে সহায়তা করবে। এ কারণে একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।   পরিকল্পনা কমিশনের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এটি একনেকের অনুমোদনের জন্য উপযুক্ত।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তদন্তের সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপরিহার্য। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।   রবিবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।   পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ’র রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন।   স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ’র অনুষদ সদস্য এবং রিসোর্স পার্সনরা উপস্থিত ছিলেন।   আইজিপি বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি একদিকে যেমন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।   আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি, ডিজিটাল চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধ ঘটাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।   প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিলে আমাদের সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ করতে হবে।   সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।   এ প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ১০ দিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীগণকে প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসময়, কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।   পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলছে।   কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ রয়েছে।   একই সঙ্গে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।   কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।   বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে বলেন।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও জোর দিতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
খালি ভারত-ভারত করলে দেশের খাবার খাবেন কখন: হুমায়ুনের

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা আছে কি না–জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক। উত্তর না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দিলেন ‘ভারত মুগ্ধতা’ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ।   রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “ডেইলি ব্রেকফাস্ট খাইতে ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতে ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতে ইন্ডিয়া–তাহলে ভাই আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন?”   কোনো দেশের সঙ্গে ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে আলোচনা না করার’ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মতভিন্নতা তৈরি হয়।   ওই সাংবাদিক জানতে চান, “আপনি (জাতিসংঘ অধিবেশনের) সাইডলাইনে বিশ্বনেতাদের সাথে বৈঠকের কথা বলছিলেন। বহুপক্ষীয় ফোরামের আগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে আমাদের একটা পর্যবেক্ষণ রয়েছে…।”   তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কে বলছে? এটা কোথা থেকে অবজার্ভেশন আসছে? আপনাকে কেউ বলছে সরকার থেকে?”   তখন ওই সাংবাদিক বলেন, আপনি নিজেই তো বলেছিলেন যে, কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন না।   এরপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি এটা বলিনি। আপনি যত্নের সঙ্গে নোট নেননি। এমন কথা আমি কখনো বলিনি। আপনি আমার কথা বুঝতে পারেননি বা খেয়াল করে শোনেননি। এটাই সমস্যা।   “আমার প্রশ্নের উত্তর ছিল ভারতের জন্য নির্দিষ্ট। ভারতের সাথে ভালো কর্মসম্পর্ক চাই, তো সফরটা হলে প্রথমে ভালো হয়।”   তিনি বলেন, “আপনি যে দেশের সঙ্গে ভালো কর্মসম্পর্ক চান তার সঙ্গে বহুপক্ষীয় সফর করবেন না। এটা ভারতের ক্ষেত্রে বলেছি। আমি কখনোই বলিনি যে কোনো বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানে গেলে আমরা কারো সাথে দেখা করব না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।   “সাংবাদিক হিসেবে আপনাকে শব্দের বিষয়ে সতর্ক ও সঠিক হতে হবে, অন্যথায় এগুলো অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ছড়ায়।”   প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই, আমরা সম্পর্কটাকে পুনর্গঠন (রিসেট) করতে চাই। এতদিন ছিল একটা ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, দুর্নীতিগ্রস্ত, লুটেরা স্বৈরাচারী সরকারের সাথে ১৫ বছরের সম্পর্ক।   “এটা থেকে বের হয়ে এখন একটা নতুন সম্পর্কের দিকে যাবে। এ কারণে এটা দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত, আমরা বহুপক্ষীয় ফোরামে যেতে চাই না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গেলে সাইডলাইনে কারো সাথে বৈঠক করব না। এমন কথা কখনোই বলা হয়নি।”   প্রতিমন্ত্রীর উত্তরের সূত্র ধরে আরেক সাংবাদিক জানতে চান, “সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের এই বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাইডলাইনে আমাদের বৈঠক হচ্ছে না—এমনটাই ধরে নেব?”   এর জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, “না, না, না, আপনার প্রশ্ন… আরে ভাই, ভারত-মুগ্ধতা থেকে বের হয়ে আসুন। ভারত কেবল আরেকটি দেশ, যার সাথে আমরা ভালো কর্মসম্পর্ক বা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই।”   “ডেইলি ব্রেকফাস্ট খাইতে ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতে ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতে ইন্ডিয়া–তাহলে ভাই আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া করেন? নিজের দেশের চিন্তা করেন।”   এ সময় “সবসময় ভারত ভারত করলে দেশের খাবার কখন খাবেন” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “খালি যদি ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া করেন? নিজের দেশের চিন্তা করেন।”   দেশের স্বার্থ বিবেচনায় দ্বিপক্ষীয় সফর ও বহুপক্ষীয় ফোরামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনি সবার সাথে তো আর দেখা করতে পারবেন না। তবে আমাদের অনেক আমন্ত্রণ আছে। সুতরাং আমরা সাইডলাইনে অনেক ইভেন্টে কথা বলব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না: ফারজানা শারমিন

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, ‘দলকে শক্তিশালী করার দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই। আমরা যদি একতাবদ্ধ হয়ে থাকতে পারি, তাহলে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এ জন্য দলীয়ভাবে আমাদের ভিতকে শক্তিশালী করতে হবে।’   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে পাবনা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা বিএনপির আয়োজনে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন‌ বলেন, ‘পাবনার যত সমস্যাই থাকুক না কেন, পাবনায় যে নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। পাবনাবাসীর সকল চাওয়া পাওয়া সরকারের কাছ থেকে আদায় করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।’   জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাসুদ খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।   এ সময় উন্নয়নসহ সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করার জন্য পাবনার দায়িত্ব নেয়ায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন‌ পুতুলকে ফুলেল শুভেচ্ছা দেন পাবনা জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেপ্তার আরও ৯ আসামি কারাগারে

রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও নয় আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন।   কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- রেহানা পারভিন (৪৩), মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), মো. নাজিম উদ্দিন (৩৪), মো. সাহেদ (৩৭), শান্ত শেখ (২৮), মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০) ও মো. সফিকুর রহমান (৫০)।   আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে। তাদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে পৃথক রিমান্ড আবেদন দাখিলের কথা জানিয়েছে পুলিশ।   এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) একই ঘটনায় ২৪ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এসব আদেশ দেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান থানাধীন এলাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২ টায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করা সহ সরকার বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলরে লক্ষ্যে কার্যক্রম স্থগিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন।   এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরন ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন সহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জানমালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তথা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী শ্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।   পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এসময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ সংস্কারে অনিয়মের তদন্ত চেয়ে আইনি নোটিশ

  চট্টগ্রামের ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ এর ক্ষতিগ্রস্ত ভবন নির্মাণে অনভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ নীতিমালা ও বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করে ন্যাশনাল হেরিটেজের চালচিত্র ধ্বংসসহ নির্মাণ কাজে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।   রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালককে এই নোটিশ পাঠান।   জনস্বার্থ বিবেচনায় ও সরকারি সম্পদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে এই হেরিটেজের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— তা নিরূপণ এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদানের সঙ্গে জড়িতদের বের করা এবং কার্যাদেশ প্রদানের সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়ে নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থাপত্য ও পুরোকৌশল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন ও তা তদন্তের আহ্বান জানান নোটিশদাতা এই আইনজীবী। অন্যথায়, জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ এ সংস্কারের নামে হেরিটেজ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।   নোটিশে বলা হয়েছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। দেশের সফলতম রাষ্ট্রপ্রধানের স্মৃতি বিজড়িত চট্টগ্রাম নগরীর পুরোনো সার্কিট হাউজ ভবনকে ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে উদ্বোধন করন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’- এ মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় দর্শনার্থীদের কাছে যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।   নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সংস্কার কাজের জন্য ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে অদ্যাবধি ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ বন্ধ হয়ে আছে। তবে সংস্কার কাজে প্রত্মতাত্ত্বিক স্থাপনা নির্মাণে অনভিজ্ঞ ও ভুইফোঁর প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ, কাজে অবহেলা ও ধীরগতি, নিয়ম-নীতি না মেনে সংস্কারের নামে হেরিটেজ ধ্বংস করে অবকাঠামোর রূপান্তর, সংস্কার কাজে বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা ও আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে বেসরকারি টেলিভিশন ‘নিউজ২৪’ এ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে।   নোটিশে বলা হয়েছে, প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্বলিত ভবনটি পুনর্নির্মাণে বুয়েট ও চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) পরামর্শ নেওয়া হয়। তবে তাদের মতামত উপেক্ষা করে ‘মেসার্স ইসমত এন্টারপ্রাইজ’ নামে অনভিজ্ঞ ও ভুঁইফোর একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর ৩ ফেব্রুয়ারি ভবনটি নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ মতামত উপেক্ষা করে কার্যাদেশ প্রদানের দিনই জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের মূল ভবনে সংস্কার কার্যক্রম শুরুর নামে পুরোনো অবকাঠামো ভাঙচুর করে ঐতিহ্য বিনষ্ট করা হয়।   নোটিশে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজরিত জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের জন্য তড়িগড়ি করে কার্যাদেশ প্রদান, বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে আনাড়ি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কারের নামে ঐতিহ্য বিনষ্ট, স্থাপনার অবকাঠামোগত পরিবর্তন, সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।   নোটিশের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক, জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালককে পাঠানো হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
এআই মডেলের গতি ধীর করার আহ্বান অ্যানথ্রোপিকের সিইওর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি মডেল উন্নয়নের গতি কিছুটা শ্লথ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই। এআইয়ের সব ঝুঁকি মোকাবিলায় অধিক সময় বিনিয়োগ ও সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে তিন ধাপের একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।   শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা দীর্ঘ এক নিবন্ধে আমোদেই বলেছেন, ‘‘আমাদের অবশ্যই এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে আনতে হবে। এরপরও এআইয়ের উন্নতির গতি বেশ দ্রুত বলেই মনে হবে। তবে গতি শ্লথের মাধ্যমে আমরা যে সময়টুকু পাব, তা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।   আমোদেইয়ের প্রস্তাবিত তিন ধাপের পরিকল্পনায় রয়েছে :  • স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারী দল নিয়োগ : এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারীদের স্থায়ীভাবে যুক্ত করা; যাদের ভেতরের কর্মীদের মতো সর্বাত্মক প্রবেশাধিকার থাকবে   • প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় : ফ্রন্টিয়ার এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার মানদণ্ড ঠিক করা এবং অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির লাগাম টানা   • আন্তর্জাতিক সহযোগিতা : এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা   এক্সের পৃথক পোস্টে এক্সএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, তারা আমোদেইয়ের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। অল্টম্যান বলেন, কর্মীদের মতো স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার চিন্তাটি দারুণ এবং আমরাও একই পদক্ষেপ নেব। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক গত বৃহস্পতিবার এআইয়ের ক্রমবর্ধমান হুমকি বিষয়ক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয়, কীভাবে বিভিন্ন অসাধু চক্র তাদের ক্লড এআই মডেলগুলোকে অনৈতিকভাবে অস্ত্র তৈরি, সাইবার হামলা, নজরদারি ও প্রতারণার মতো বিপজ্জনক কাজে ব্যবহার করেছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই আমোদেই এক্সে দীর্ঘ ওই নিবন্ধ প্রকাশ করেন।   মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির লাগাম টানার প্রধান কারণ হিসেবে আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিজের সক্ষমতা নিজে বাড়ানোর ক্ষমতাকে চিহ্নিত করেন। এতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার যে দীর্ঘদিনের ভয়, সেটির পাশাপাশি ওপেনএআই ও হাগিং ফেস সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকেও গতি কমানোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   • আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে চলতি সপ্তাহে অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জেকবস কক্সন পদত্যাগ করার পর এআইয়ের সম্ভাব্য বিধ্বংসী প্রভাব নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পদত্যাগপত্রে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এআই তৈরি করছেন, তারা সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এ প্রযুক্তি আমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিতে পারে।   ওপেনএআইয়ের একাধিক শীর্ষ নির্বাহীও বলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর তা নিশ্চিতে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে সব কয়েকটি শীর্ষ ল্যাবের যৌথ সম্মতিতে এআইয়ের অগ্রগতির গতি শ্লথ করা উচিত।   নিজেদের বেশ নিরাপত্তাসচেতন ফ্রন্টিয়ার ল্যাব হিসেবে দাবি করলেও অ্যানথ্রোপিকও এই সংকটের বাইরে নয়। গত জুলাইয়ে এক সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাদের কয়েকটি ক্লড মডেল অনধিকার চর্চা করে তিনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ে। এরপর গত সপ্তাহেও এআই মডেল দিয়ে বাহ্যিক সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের আরেকটি ঘটনার কথা প্রকাশ করে সংস্থাটি।   আমোদেই বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উন্মাদ গতি দেখে আমার ভয় হচ্ছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই হয়তো স্বায়ত্তশাসিত এআইয়ের এমন কোনো সংঘাতময় ‘ঝাঁক’ তৈরি হতে পারে, যা পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা দখলে নিতে সক্ষম এবং যার ফলে কয়েক শ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।   তবে আমোদেই বলেছেন, তিনি এআই মডেলের প্রশিক্ষণ কিংবা কারিগরি উন্নয়ন একবারে বন্ধ করার কথা বলছেন না। বরং কোম্পানিগুলো যাতে মডেলের নিরাপত্তা ও সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণে পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেন, সেটি সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।   • আইপিও ও চরম প্রতিযোগিতা তবে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার এই লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে বিপুল আর্থিক স্বার্থ। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক; দুই প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেকোনো নতুন সক্ষমতা বা সাফল্যই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ আনা, নতুন অবকাঠামো গড়া কিংবা আইপিওর মূল্যায়নে বিশাল ভূমিকা রাখে।   আমোদেই বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ হিসেবে অ্যানথ্রোপিক তাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচক বসাবে; যাদের প্রয়োজনীয় সব টুলস ও ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকবে।   গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত একদল এআই এজেন্ট জার্মানির একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে ঢুকে সেটিকে অন্য এআই এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য নোটিশবোর্ডে পরিণত করে। ওপেনলেবেল প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে জুলাইয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধাক্কা সামলানোর মধ্যেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে জনসমক্ষে না এনে গোপন রেখেছিল।   ওপেনএআইয়ের মতো ডেভেলপারদের তৈরি এআই এজেন্টদের দ্বারা বাহ্যিক সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মতো একের পর এক ঘটনা এআই মডেলগুলোর লাগামহীন সক্ষমতা এবং নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।   আমেরিকাজুড়ে আইনপ্রণেতারা এআই ব্যবস্থার জন্য নতুন নতুন কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি তুলছেন। আমোদেই বলেন, এআই কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই স্বেচ্ছায় একযোগে কাজ করে নিরাপত্তার সর্বজনীন মানদণ্ড তৈরি করা উচিত।   সূত্র: রয়টার্স।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।   নতুন অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা গেছে, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   দুদক জানায়, নিয়োগ–পদায়নে কমিশন গ্রহণ ও মেগা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে এই ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়টিও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে এমন খবর সামনে আসার পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।   এনসিপির এ মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সপ্তাহের সেরা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জাতীয়

বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে ঢাকায় বৈঠক

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬