ম্যানচেস্টার ডার্বিতে বিতর্ক, ভিএআর নাটক আর লাল কার্ডের মধ্যেও শেষ হাসি হাসল ম্যানচেস্টার সিটি। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচের ২৩তম মিনিটেই ঘটে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। বল দখলের লড়াইয়ে ম্যানইউ অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস ও সিটির ফিল ফোডেন দুজনই মাটিতে পড়ে যান। একপর্যায়ে বলের ওপর পড়ে থাকা ফোডেনকে সরাতে গিয়ে ফার্নান্দেস বল লাথি মারেন, যা গিয়ে লাগে ইংলিশ মিডফিল্ডারের পিঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফোডেন পাল্টা ফার্নান্দেসের পেটে লাথি মারেন। ঘটনাটি পর্যালোচনা করে রেফারি মাইকেল অলিভার সরাসরি লাল কার্ড দেখান ফোডেনকে। একজন কম নিয়ে খেললেও ম্যাচের ৬০তম মিনিটে এগিয়ে যায় সিটি। জোসকো গাভার্দিওলের দিক পরিবর্তন করা ক্রস থেকে পেছনের পোস্টে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন আর্লিং হালান্ড। প্রথমে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হলেও দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলানো হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, ইউনাইটেডের প্যাট্রিক ডরগুর বাড়িয়ে দেওয়া পায়ের কারণে অল্পের জন্য অনসাইডে ছিলেন হালান্ড। এদিকে অফসাইড অবস্থানে থাকা এঞ্জো ফার্নান্দেস বলের দিকে হেড করার চেষ্টা করলেও সেটি স্পর্শ করতে পারেননি। ভিএআর কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি খেলায় সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেননি। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। গোল হজমের পর ম্যাচের শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ চালায় ইউনাইটেড। তবে সিটির রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গার্দিওলার শিষ্যরা। এই জয়ে চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সমান ম্যাচে এক ড্র ও দুই হারে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ব্যাট হাতে শিরোপার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। এরপর বল হাতে সেই মঞ্চে জয়গান গাইলেন ভারতের বোলাররা। ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। তাদের ছুড়ে দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এ জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে ভারতের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটের চারটি আসরেই—২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্লে তে লঙ্কান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৫৭ রান তুলে নেন এই দুই ব্যাটার। এই ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ রান পেরোয় ভারত। এরপরও চলতে থাকে ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি। শেফালি ও স্মৃতির মারমুখী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০.৩ ওভারেই দলীয় এক শ পেরিয়ে যায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন এই দুজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের গড়া ছয়টি শতরানের জুটিকে স্পর্শ করেছেন তারা। শেফালির পর ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। চামুদি প্রভোদার বলে শেফালি ফিরলে ভাঙে ১২৯ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেফালি ও স্মৃতির ১২৯ রানের জুটি নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, কমপক্ষে পাঁচ দল অংশ নেওয়া নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটিও। শেফালি ফেরার পরের ওভারেই ফিরে যান স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার। চলতি টুর্নামেন্টে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রানআউটের শিকার স্মৃতি। ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাহায্যে ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। দুই ওপেনার ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন লঙ্কান বোলাররা। দলীয় ১৬০ রানের মাথায় ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন হারমানপ্রীত। রিচি ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৭ রান। রানআউট হয়ে ফেরার আগে দিপ্তি শার্মা করেন ৭ বলে ৫ রান। শেষদিকে গুণালন কমলিনীর পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন। ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় চার রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু। ৩৬ রান করে আতাপাত্তু ফেরার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নেও আউট হন। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা। ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শ্রী চরণী। চার ওভারে ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
লেভান্তেকে হারাতে খুব বেশি বেগ পেতে হলো না বার্সেলোনার। তবে শেষ দিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল তারা। লামিনে ইয়ামালের জোড়া গোলের সঙ্গে জাভি এসপার্ত ও করিম আদেয়েমির গোলে লেভান্তেকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় টানা পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে শীর্ষস্থান আরো মজবুত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। লেভান্তের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল বার্সেলোনার কাছে। ৫ মিনিটেই রাফিনিয়ার পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এসপার্ত। ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইয়ামাল। রাফিনিয়ার তৈরি করে দেওয়া আক্রমণ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। বিরতির পরও বার্সেলোনার দাপট অব্যাহত থাকে। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ইয়ামাল। তিন গোলে এগিয়ে গিয়ে তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় বার্সা। তবে শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচ কিছুটা জমে ওঠে। ৭৯ মিনিটে লেভান্তের ইভান রোমেরো ব্যবধান কমান। ৮৮ মিনিটে রজার ব্রুগে গোল করলে ব্যবধান নেমে আসে ৩-২ এ। শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর শঙ্কা তৈরি হলেও তা দূর করেন আদেয়েমি। যোগ করা সময়ে গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা। পাঁচ ম্যাচেই ২১ গোল করে ফেলেছে তারা।
শুরুতেই ধাক্কা, ৪৩ রানেই পাঁচ উইকেট নেই! সেখান থেকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও মোহাম্মদ নবি মিলে আফগানিস্তানকে টেনে তুললেন। দুজনের ব্যাটে ১৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পেল দলটি। কিন্তু সেই পুঁজি নিয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারল না আফগান বোলাররা। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। ১৫৭ রানের লক্ষ্য মাত্র ১৩.৪ ওভারে পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। নতুন বলে আর্শদীপ সিংয়ের দাপটে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ৪৩ রানেই পাঁচ ব্যাটারকে হারায় আফগানরা। পরে ওমরজাই-নবির জুটিতে ঘুরে দাঁড়ালেও ভারতের সামনে সেটি যথেষ্ট হয়নি। ওমরজাই ও নবি মিলে ৫৬ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়েন। নবি ২৭ বলে ৩৩ রান করেন, আর ওমরজাই ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। ভারতের হয়ে আর্শদীপ সিং ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। জাসপ্রিত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী নেন একটি করে উইকেট। জবাবে ১৮ রানে সঞ্জু স্যামসানকে হারায় ভারত। তবে এতে থেমে থাকেনি ভারতের আগ্রাসী ব্যাটিং। আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মা ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২২ বলে তুলে নেন ফিফটি। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৮২ রান করেন অভিষেক। তার ইনিংসে ছিল সমান ৭টি ছক্কা ও চার। অভিষেকের বিদায়ের পর জয়ের পথে কোনো সমস্যা হয়নি ভারতের। ইশান কিশান ৩৩ বলে ৪২ রান করে ভারতের জয়কে সহজ করে দেন। তার আউটের পর বাকি কাজটুকু সারেন শ্রেয়াস আইয়ার ও তিলক ভার্মা। ৩৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য পেরিয়ে ভারত। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। একই মাঠে মঙ্গলবার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
নারী এশিয়া কাপের ১০ম আসরের ফাইনালে ভারতের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করেছে ভারত। জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে শ্রীলংকাকে। কারণ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এশিয়া কাপের ফাইনালে এর আগে এত বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। রোববার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে উড়ন্ত সূচনা করে ভারত। উদ্বোধনী জুটিতে স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা ৭৭ বলে ১২৯ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার ভীত গড়েন তারা। এরপর মাত্র ৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন দুই ওপেনার। ২৯ বলে ৯টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করে ফেরেন শেফালি ভার্মা। ৩৯ বলে ৫টি চার আর তিনটি ছক্কার সাহায্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করে ফেরেন স্মৃতি মান্ধানা। টুর্নামেন্টের চলতি আসরে দুই গ্রুপে ৪টি করে মোট ৮টি দল অংশ নেয়। এ গ্রুপ থেকে পাকিস্তান, হংকং ও থাইল্যান্ডকে টপকে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর বি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ, আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়াকে টপকে ফাইনালে খেলছে শ্রীলংকা। সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় ভারত। আর পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে উঠে যায় শ্রীলংকা। টুর্নামেন্টের চলতি আসরের শুরু থেকে ফাইনালের আগ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলংকা কোনো ম্যাচে হারেনি। অপরাজিত থেকেই শিরোপার দুয়ারে দুই দল। আজ ফাইনালে কারা জিতবে তা সময়ই বলে দেবে। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হয় নারী এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ৬ আসরে টানা জয় পায় ভারত। তবে দুইবারের হ্যাটট্রিক জয়ী ভারতকে ২০১৮ সালে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এরপর ২০২২ সালে শ্রীলংকাকে হারিয়ে সপ্তমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সবশেষ ২০২৪ সালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলংকা। এবার তারা শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেমেছে। আর ভারত চায় অষ্টমবারের মতো শিরোপা নিশ্চিত করতে।
আগের চেয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের গতি একটু কমলেও, তা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচের বিশ্বাস, অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় থাকা ভিনিসিউস শিগগির নিজের সেরা গতি স্পর্শ করবেন। গত মৌসুম থেকে প্রায়ই সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দুয়ো শুনছেন ভিনিসিউস। আবার ভালো পারফরম্যান্সের জন্য করতালিও পাচ্ছেন তিনি। রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচেও দেখা গেছে এই চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে ভক্তদের একটি অংশ থেকে দুয়ো শোনেন রেয়ালের খেলোয়াড়রা। আবার ৮৮তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় তুমুল করতালিও শোনেন ভিনিসিউস। ম্যাচে গোল পাননি ভিনিসিউস। তবে ৩৫তম মিনিটে তার চমৎকার কাট ব্যাক থেকেই দলের তৃতীয় গোলটি করেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো বলেন, সেরা ছন্দে ফেরার পথেই আছেন ভিনিসিউস। শারীরিকভাবে সে যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। নিজের সেরা গতির খুব কাছেই আছে। সে বারবার চেষ্টা করতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় সে দক্ষ হয়ে উঠছে। মানসিকভাবে, সে খুবই দৃঢ়। সে এই ক্লাবের অন্দর-বাহির জানে এবং সবসময়ই দায়িত্ব নিয়ে খেলে। সে শান্ত, নিজের শরীর সম্পর্কে জানে এবং নিজের সেরা অবস্থায় ফেরার পথে আছে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তবে কখনই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পাননি তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশি কোচদের আনা হয়েছে জাতীয় দলের কোচিং প্যানেলে। কিন্তু বিসিবির কোনো কোচিং প্যানেলে নেই সুজন। সাবেক এই অধিনায়ক অবশ্য জাতীয় দলকে কোচিং করাতে প্রস্তুত। যদি বোর্ড প্রয়োজন মনে করে, তাহলে জাতীয় দলকে কোচিং করাবেন সুজন। আজ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সেটা তো আমি বলতে পারব না। যদিও আমার ব্রেড অ্যান্ড বাটার কোচিং। বোর্ড যদি মনে করে, আমি সামর্থবান, তারা যদি অফার করে আমি অবশ্যই দায়িত্ব নেব।’ আপাতত বিসিবি তাকে যে পরামর্শকের দায়িত্ব দিয়েছে সেখানেই মনোযোগ সুজনের, ‘এখন তো একটা দায়িত্ব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট- গেম ডেভেলপমেন্টের কনসালটেন্ট। উনি হয়ত ভেবেছে, আমি এখানে অবদান রাখতে পারব। আমাকে যোগ্য মনে করার জন্য তাকে ধন্যবাদ। আমি যতটা সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করব। ফাহিম এখানে চেয়ারম্যান, তার সঙ্গেও আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে।’ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে নাকি সুজনের সম্পর্ক ভালো নয়। সুজন অবশ্য এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘এটা তো মানুষ বলে। কী ঝামেলা? আমি আর সালাউদ্দিন তো এটা মনে করি না। ছোট বেলা থেকে দুজন দুজনকে ভালোভাবে চিনি, একসঙ্গে খেলেছি। এরপর দুজনই কোচিংয়ে এসেছি। ওর সঙ্গে সবসময় আমার সুসম্পর্ক। ‘সে কোচ হিসেবে নিজেকে অনেক পরিণত করেছে, অনেক বড় পরিসরে কোচিং করাচ্ছে। আমার মনে হয় না তার সঙ্গে কখনও কোনো সমস্যা ছিল। সালাউদ্দিনই এটা বলবে। আমাদের সবসময়ই কথা হয়, ফোনেও কথা হয়। কোচিংয়ে দুজন দুই দলকে কোচিং করিয়েছি। কখনও সে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, কখনও আমি। এটার জন্য তো সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কথা না। বরং সে ভালো করলে আমি খুশি হই।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন জো রুট। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতক হাঁকানোর কীর্তিতে ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠেছেন তিনি। রান তাড়ার ম্যাচে দলের প্রয়োজনের সময় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক। তার ৬২ রানের ইনিংসটি ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারের ৬৯তম ফিফটি। টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ ম্যাচ খেলে ৬৮টি অর্ধশতক করেছিলেন টেন্ডুলকার। রুট অবশ্য তার চেয়ে ৩১টি ম্যাচ কম খেলেই এই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। সিরিজের প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ৬৬ রান করে টেন্ডুলকারের ৬৮ ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই ইংলিশ ব্যাটার। এবার এজবাস্টনে আরও এক ফিফটি করে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন। টেস্টে সর্বাধিক অর্ধশতকের তালিকায় রুটের পর আছেন টেন্ডুলকার (৬৮), শিবনারাইন চন্দরপল (৬৬), অ্যালান বর্ডার (৬৩), রাহুল দ্রাবিড় (৬৩) এবং রিকি পন্টিং (৬২)। তবে ফিফটি প্লাস ইনিংসের হিসাবে এখনো রুটের ওপরে রয়েছেন টেন্ডুলকার। ৫১ সেঞ্চুরি ও ৬৮ ফিফটি মিলিয়ে টেন্ডুলকারের এমন ইনিংসের সংখ্যা ১১৯টি। রুটের রয়েছে ১১০টি—৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি ফিফটি নিয়ে। এই তালিকায় জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিং ১০৩টি করে এবং রাহুল দ্রাবিড় ৯৯টি ফিফটি প্লাস ইনিংস নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন। এজবাস্টনে রুটের এই ইনিংসটি আরও দুটি মাইলফলক এনে দিয়েছে। প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই মাঠে টেস্টে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এজবাস্টনে ১১টি টেস্ট খেলে রুটের সংগ্রহ এখন ১ হাজার ১৮ রান। একই মাঠে ১০ টেস্টে ৮৬৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অ্যালেন কুক। এ নিয়ে ইংল্যান্ডের চারটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্টে এক হাজারের বেশি রান করার কীর্তি গড়লেন রুট। এর আগে লর্ডসে ২ হাজার ২০৩, ম্যানচেস্টারে ১ হাজার ১২৮ এবং ওভালে ১ হাজার ৫০ রান করেছিলেন তিনি। বিশ্বের আর মাত্র দুই ব্যাটার—জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিং—চারটি ভিন্ন মাঠে এক হাজারের বেশি টেস্ট রান করেছেন। বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটে রুটের মোট রান ১৪ হাজার ২৭৮। শচীন টেন্ডুলকারের ১৫ হাজার ৯২১ রানের সর্বোচ্চ টেস্ট রানসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দৌড়েও এগিয়ে চলেছেন ইংল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার।
গোল করছেন, করাচ্ছেন– তবুও কিছুতেই মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) চলতি আসরটা ঠিকঠাক যাচ্ছে না লিওনেল মেসিদের। তার দৃষ্টিনন্দন একটি গোলে ইন্টার মায়ামি লিড নিলেও শেষটা ছিল হতাশার। যোগ করা সময়ে ন্যাশভিলের কাছে গোল হজম করে (২-২) পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে বাঁ পায়ের শটে গোল করে মেসি যখন মায়ামিকে ন্যাশভিলের বিপক্ষে চলতি মৌসুমে প্রথম জয়ের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড় আসে। যোগ করা সময়ে প্রথম মিনিটেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ন্যাশভিলেকে সমতা ফেরান স্যাম সারিজ। ফলে চলতি মৌসুমে মায়ামির বিপক্ষে খেলা চারটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখল ন্যাশভিলে। এ ছাড়া সর্বশেষ ড্র’র কল্যাণে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মায়ামির চেয়ে ন্যাশভিলে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেল। এর আগে ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই অ্যান্ডি নাজারের পাস পেয়ে মায়ামির জাল কাঁপান সারিজ। চলতি মৌসুমে এটি তার ১৪তম গোল। ১৯তম মিনিটে মায়ামি সমতায় ফেরে প্রতিপক্ষের রিড বাকের-হোয়াইটিংয়ের আত্মঘাতী গোলে। ২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির একটি শট বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ৬২ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় মায়ামি। রদ্রিগো ডি পল বক্সের বাইরে কয়েকজনের মাঝে থাকা মেসিকে বল বাড়ালে, তিনি একমুহূর্তও দেরি না করে প্রথম স্পর্শেই বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে ন্যাশভিলের জালে জড়ান। যা চলতি মৌসুমে এমএলএসে আর্জেন্টাইন মহাতারকার ১৯তম গোল। তবে যোগ করা সময়ে সেই স্বস্তি উড়ে যায় মায়ামির। তবে মেসির দুটি শট গোলবারে লেগে না ফিরলে দৃশ্যটা অন্যরকম হতে পারত।
পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট তিন দিনেই শেষ হবে—এমন হিসাব ধরেই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবকে ক্যারিবিয়ানে ফেরাতে বিমানের টিকিট কেটেছিল ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) দল জ্যামাইকা কিংসমেন। তবে পাকিস্তানের ব্যাটার রাজাউল্লাহর দুর্দান্ত ইনিংস ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই ফ্লাইটে ওঠা হয়নি সাইমের। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সাইমের যুক্তরাজ্য থেকে বার্বাডোজে ফেরার কথা ছিল। এ জন্য জ্যামাইকা কিংসমেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনুমতিও নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু রাজাউল্লাহর রেকর্ড গড়া ইনিংসে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে ম্যাচ গড়ায় চতুর্থ দিনে। ফলে সাইমের নির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় দিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হলে সাইমকে ওই রাতেই ক্যারিবিয়ানে ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল জ্যামাইকার। ম্যাচ চতুর্থ দিনে গড়ানোয় তার ফেরার সময় একদিন পিছিয়ে যায়। জাতীয় দলের হয়ে হঠাৎ ডাক পাওয়ার আগে সিপিএলে জ্যামাইকার হয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন সাইম। পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলে অপ্রত্যাশিতভাবে জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। এরপর ক্যারিবিয়ান ছেড়ে সরাসরি যুক্তরাজ্যে দলের সঙ্গে যোগ দেন। তবে সাদা পোশাকে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। বল হাতেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি। এদিকে সাইমের ফ্লাইট পিছিয়ে গেলেও জ্যামাইকা কিংসমেন শেষ পর্যন্ত বার্বাডোজের কাছে পরাজিত হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের হয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাইমের অনুপস্থিতিতে দলটি গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের কাছেও হেরেছিল।
প্রথমার্ধে দারুণ আক্রমণাত্মক খেলে ৩৫ মিনিটেই তিন গোল করল রেয়াল মাদ্রিদ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় পর্যন্ত তারাই উপহার দিল ছন্দহীন ফুটবল। দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে বাঁচালেন তিবো কোর্তোয়া। শেষ দিকে আরেকটি গোল করে অবশ্য বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল জুজে মরিনিয়োর দল। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে শনিবার লা লিগার ম্যাচে রায়ো ভাইয়েকানোকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে প্রতিযোগিতাটির সফলতম দলটি। ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপে করেন জোড়া গোল। একটি অ্যাসিস্টও করেন তিনি। রেয়ালের অন্য দুই গোলদাতা আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহ্যাম। ভাইয়েকানোর একমাত্র গোলটি করেন সের্হিও কামেয়ো। এবারের লা লিগায় প্রথম তিন ম্যাচে জয়ের পর, রেয়াল বেতিসের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যায় রেয়াল। পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারায় তারা। এবার ঘরোয়া লিগে জয়ে ফিরল মাদ্রিদের দলটি। পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় দুই নম্বরে উঠেছে রেয়াল মাদ্রিদ। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে শীর্ষে বার্সেলোনা, গত দুইবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা একটি ম্যাচ কম খেলেছে। সপ্তম মিনিটে প্রথম ভাইয়েকানোর রক্ষণে ভীতি ছড়াতে পারে রেয়াল মাদ্রিদ। দারুণ নৈপুণ্যে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে, প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন জানান তিনি, তবে রেফারির সাড়া মেলেনি। ত্রয়োদশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়া আলভারো কারেরাস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দেরি করেননি রেফারি। ঠাণ্ডা মাথার স্পট-কিকে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে। এর তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে রেয়াল। একটু আগে পেনাল্টি আদায় করে নেওয়া কারেরাস এবার নাম লেখান স্কোরশিটে। বক্সে এমবাপের সঙ্গে দারুণভাবে বল দেওয়া-নেওয়া করে জাল খুঁজে নেন তিনি। রেয়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের মধ্যে ব্যবধান ছিল দুই মিনিট ৫৫ সেকেন্ড। ২৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউস জুনিয়রের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ভাইয়েকানো গোলরক্ষক। বল তখনও বিপদমুক্ত হয়নি, ছুটে যান এমবাপে, তবে বলটি গোললাইন থেকে দূরে ঠেলে দেন গোলরক্ষক। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রেখে ৩৫তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে রেয়াল। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে চমৎকার পাস দেন ভিনিসিউস, আর প্রথম স্পর্শে ডান পায়ের শটে লক্ষ্যভেদ করেন বেলিংহ্যাম। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এমবাপের জোরাল শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, পোস্টে লাগে বল। একটু পর ৩০ গজ দূর থেকে ভাইয়েকানোর পেদ্রো দিয়াসের বুলেট গতি শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন কোর্তোয়া। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে দুর্ভাগ্যের ফেরে গোল পায়নি ভাইয়েকানো। বক্সের বাইরে থেকে দিয়াসের শট পোস্টে লাগে। পরক্ষণে বক্সের বাইরে থেকেই আদ্রিয়া পেদ্রোসের শট অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে যায়। ৫১তম মিনিটে জাল আর অক্ষত রাখতে পারেনি রেয়াল। রক্ষণের দুর্বলতায় গোলটি হজম করে তারা। আন্টোনিও রুডিগার পাস দেন ভিনিসিউসের উদ্দেশে, কিন্তু এই ব্রাজিলিয়ান তারকার পেছন থেকে ছুটে গিয়ে পায়ের টোকায় বল বক্সে বাড়ান ভাইয়েকানোর এক খেলোয়াড়, আর জালে পাঠান কামেয়ো। এই অর্ধে ভালো খেলতে পারছিল না রেয়াল, বরং তাদের রক্ষণে বারবার ভীতি ছড়াতে থাকে ভাইয়েকানো। ৫৫তম মিনিটে ফ্লোরিয়ানের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া। ১০ মিনিট পর আরেকটি দুর্দান্ত সেভ করেন রেয়ালের বেলজিয়ান গোলরক্ষক। বক্সের বাইরে থেকে জর্জির শট রুখে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে দলের ছন্দহীন খেলা দেখে তখন দুয়ো দিতে থাকে রেয়ালের সমর্থকদের একটা অংশ। ৭২তম মিনিটে ইয়ান ডিওমান্ডেকে তুলে আর্দা গুল্যারকে নামান মরিনিয়ো। তাতে রেয়ালের খেলায়ও প্রাণ ফেরে আবার। ৭৮তম মিনিটে গুল্যারের ক্রসে কাছ থেকে রুডিগারের হেড দারুণ নৈপুণ্যে বল বাইরে পাঠান ভাইয়েকানো গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর গুল্যারের শটও ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৮৩তম মিনিটে রুখে দেন এমবাপের আরেকটি ভলি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। গুল্যারের পাস বক্সে পেয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ফরাসি তারকা। এবারের লা লিগায় এমবাপের গোল হলো ছয়টি, আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ছয় ম্যাচে সাতটি।
সুযোগ এলো অনেকগুলো, কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগাতে পারলেন না আলেকসান্দার ইসাক, দমিনিক সোবোসলাইরা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফের পয়েন্ট হারাল লিভারপুল। ফুলহ্যামের সঙ্গে শনিবার গোলশূন্য ড্র করেছে আন্দোনি ইরাওলার দল। এবারের প্রিমিয়ার লিগে চার ম্যাচে এটি লিভারপুলের তৃতীয় ড্র। টানা তিন হারের পর প্রথম পয়েন্ট পেল ফুলহ্যাম। ঘরের মাঠে নবম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় লিভারপুল। বাহডলে বাহকোলার চমৎকার পাস পেয়ে দুরূহ কোণ থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ইসাক। দুই মিনিট পর গোলরক্ষক আলিসন বেকারের দুর্বল পাসে বিপদে পড়ে যায় লিভারপুল। তবে গোললাইন থেকে গন্সালো গার্সিয়ার শট ঠেকিয়ে দলকে বাঁচান জেরেমি জেকে। ২২তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল। সোবোসলাইয়ের গতিময় শট ফেরে ক্রসবারে লেগে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে কোনো দলই আর তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের সুযোগ পান ইসাক। ৫২তম মিনিটে শট লক্ষ্যে রাখেন সু্ইডিশ স্ট্রাইকার। তবে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ফুলহ্যাম গোলরক্ষক। ১৪ মিনিট পর সোবোসলাইয়ের শটও ব্যর্থ করে দেন তিনি। ৭৬তম মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে সুযোগ পায় ফুলহ্যাম। তবে জশ কিংয়ের গতিময় শট ঠেকিয়ে সমতা ধরে রাখেন আলিসন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন ইসাক। সোবোসলাইয়ের কর্নারে বিপজ্জনক জায়গা থেকে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। অন্তিম সময়ে আরেকটি সুযোগ পায় লিভারপুল। দূরের পোস্টে বল পেয়ে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রিও নুগোমোহা। একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। ৪ ম্যাচে তিন ড্র ও এক জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত ছয় নম্বরে আছে লিভারপুল। ১ পয়েন্ট নিয়ে ১৭ নম্বরে উঠে এসেছে ফুলহ্যাম।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিন ম্যাচের প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ১১ ওভার খেলে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতেই ভেস্তে গেছে। তাই তৃতীয় ম্যাচটিই ছিল সিরিজ নির্ধারণী। আর এই ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারানোর পাশাপাশি সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ১৮৩ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৯২ রান। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় সফরকারীরা। দুই ওপেনারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। ৫৩ বলে ৬১ রান করেন সাইফ হাসান। আর ৭৭ বল খেলে ৬০ রান করতে পেরেছেন মোহাম্মহ নাঈম শেখ। এদিকে আউট হওয়ার আগে পারভেজ হোসেন ইমন ১৭, নুরুল হাসান সোহান ১৬ ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ৩ রান করেন। পরে রিশাদ হোসেনকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন আফিফ হোসেন। ৬ রানে আফিফ ও ৫ রানে রিশাদ অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। কিন্তু আলিস এবং রিশাদের ঘূর্ণিতে দাঁড়াতেই পারেনি প্রোটিয়া ব্যাটাররা। আসা-যাওয়ার মিছিলে রিভালদো মুনসামি ১, সিনেথেম্বা ৫, ম্যাথিউ ডি ভিলিয়ার্স শূন্য, মিহলাই ৪ ও ডিয়ান ফরেস্টার ৬ রান করেন। দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো ইনিংস খেলেন মার্কুয়েস অ্যাকেরম্যান ও ইমরান মানাক। ফিফটি পূরণের পর ৫৪ রানে থামেন অ্যাকেরম্যান। শেষদিকে ৪৩ রান করেন ইমরান। এছাড়া কাইল সিমন্ডস ১৫, মারেকি ৯ ও ওকুহলে চেলে ৪ রান করেন। ১৮২ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার রিশাদ হোসেন। ৪৫ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তিনি। মাত্র ৩৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন আলিস আল ইসলাম। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।
ইংল্যান্ডে হোয়াইটওয়াশ হলো পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরে যায় বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সফরের শুরুতে গা গরম করার ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলেও আনুষ্ঠানিক সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি বাবর আজমরা। লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে হেরে যায় পাকিস্তান। দুই ইনিংসে ১৭১ ও ১৩৫ রানের বেশি কারতে পারেনি বাবর আজমরা। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজে ফেরার প্রত্যয়ে মাঠে নেমে ১১০ ও ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে; পাকিস্তান হেরে যায় ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে। বার্মিংহামে সদ্য শেষ হওয়া এজবাস্টন টেস্টে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে যায় পাকিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে যাওয়া পাকিস্তান; শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রানে অলআউট হয়। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৫টি ফিফটির সাহায্যে ৪৫৩ রান করে ইংল্যান্ড। ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চারটি ফিফটির সাহায্যে ৪৪৯ রান করে পাকিস্তান। শনিবার এজবাস্টন টেস্টের চতুর্থ দিনে ১৩০ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্তিনায় যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তরুণ তারকা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো। সেখানে যোগ দিয়েই চমক দেখিয়েছেন তিনি। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ফিওরেন্তিনার ৪-২ গোলের জয়ে ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন মাস্তানতুনো। এতে ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসির একটি রেকর্ড। মাস্তানতুনোর অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ভর করেই চলতি মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেলো ফিওরেন্তিনা। ভেনেজিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে একাই তিন গোল করে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ১৯ বছর ২৮ দিন বয়সে ফিওরেন্তিনার জার্সি গায়ে এই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক পেলেন মাস্তানতুনো। ক্লাবের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মাস্তানতুনো ভেঙেছেন মেসির একটি রেকর্ডও। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ ১৯ বছর ২৫৯ দিন বয়সে বার্সার হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়েছিলেন মেসি। ইউরোপের শীর্ষ লিগে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা ফুটবলার। তার চেয়ে ২৩১ দিন কম বয়সেই এবার হ্যাটট্রিক পেলেন আর্জেন্টিনার মাস্তানতুনো।
২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে এবারও পুরস্কারটির ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। তবে টানা দ্বিতীয়বার ব্যক্তিগত মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে তিনি কতটা এগিয়ে, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। এর মধ্যেই নিজের পছন্দের তিন ফুটবলারের নাম জানিয়েছেন ফরাসি তারকা। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেম্বেলে জানান, নিজের হাতে ব্যালন ডি’অরের ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি পিএসজির সতীর্থ খভিচা কভারাৎস্খেলিয়াকে বেছে নিতেন। তার পছন্দের তালিকায় পরের দুই অবস্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবং তার সাবেক পিএসজি সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে। নিজেকে ভোট দিতেন না দেম্বেলে: ব্যালন ডি’অরের জন্য নিজের নাম বিবেচনা করতেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে দেম্বেলে সরাসরি না বলেন। তার ভাষায়, সুযোগ পেলেও তিনি নিজের নাম তালিকায় রাখতেন না এবং নিজেকেও ভোট দিতেন না। অন্যদিকে, এমবাপে সম্প্রতি জানিয়েছেন, একই পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকেই ভোট দেওয়ার পক্ষপাতী। ব্যালন জয়ের পর বেড়েছে চাপ: ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রত্যাশা ও সমালোচনা দুটোই বেড়েছে বলে মনে করেন দেম্বেলে। তবে বিষয়টিকে ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি। দেম্বেলে বলেন, ফুটবলে খেলোয়াড়দের সবসময় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। আর কোনো খেলোয়াড় যখন ব্যালন ডি’অরের মতো বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতে ফেলেন, তখন তাকে ঘিরে নজরদারি ও প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তার মতে, সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের পর এখন প্রতিটি ম্যাচেই তার পারফরম্যান্সের দিকে বাড়তি নজর থাকে। তবে এ নিয়ে তিনি অতিরিক্ত চিন্তিত নন। প্রতিটি ম্যাচে ভালো করার তাগিদ: ২০২৫-২৬ মৌসুমে পিএসজির হয়ে ৪০ ম্যাচে ২০ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অর জয়ের পর প্রতিটি ম্যাচেই গোল বা ভালো পারফরম্যান্স করার বাড়তি চাপ অনুভব করেছেন বলে জানান তিনি। ফরাসি ফরোয়ার্ডের মতে, একজন শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলারকে সবসময় মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হয়। একটি ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না এলেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে এসব সমালোচনা তার কাজের ধরন বা মানসিকতায় বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি। দেম্বেলের বক্তব্য, সমালোচনা ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। তাই সেটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ রাখতে চান তিনি।
গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই দেশের সাবেক ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। মন্টসেরাটের সাবেক ফুটবল প্রধান ভিনসেন্ট ক্যাসেল এবং মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে এ শাস্তি দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার নৈতিকতা কমিটির বিচারকরা গুরুতর আর্থিক অনিয়মের দায়ে দুজনকেই আজীবন নিষিদ্ধ করেছেন। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বার্থের সংঘাত এবং ফিফার তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও নির্দিষ্ট। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ফিফার দেওয়া কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহামারির সময়ে সদস্য দেশগুলোর জন্য ফিফা সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা দিয়েছিল। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জালিল ১২ লাখ ডলার আত্মসাৎ করে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার কাজে ব্যবহার করেছিলেন। এ ঘটনায় তাকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে অবশ্য এর আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মন্টসেরাটের দীর্ঘদিনের এই ফুটবল কর্মকর্তা ও তার সাধারণ সম্পাদক ট্যান্ডিকা হিউজ গত এপ্রিলে কর ফাঁকির মামলায় দেশটির আদালতে দোষ স্বীকার করেন। এর আগে ২০১১ সালেও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় ফিফার নৈতিকতা কমিটির তদন্তের মুখে পড়েছিলেন ক্যাসেল ও হিউজ। ওই অর্থ তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারকে চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ বিন হাম্মামের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। এসব ঘটনার পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাটের ফুটবল পরিচালনা করে আসছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় থেকে দেশটির ফুটবল সংস্থাটি বছরে অন্তত ২০ লাখ ডলার পাওয়ার অধিকারী। তবে অসাধারণ সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ফিফা সেখানে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে। আজীবন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্যাসেলকে আরও ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনিয়মিত লেনদেনে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজ করার অভিযোগে তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানাও করা হয়েছে। জালিলকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ফিফা। একই ঘটনায় মালদ্বীপের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, আগিলের বিরুদ্ধে ফিফার অর্থের অপব্যবহারে সহায়তা ও তা গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং ফিফার নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
ফুটবল মাঠে ফাউল বা অসদাচরণের জন্য হলুদ ও লাল কার্ডের ব্যবহার দেখে সবাই অভ্যস্ত। তবে এবার ফুটবলের সবুজ গ্যালারিতে নতুন সংযোজন হিসেবে যোগ হতে যাচ্ছে ‘ব্ল্যাক কার্ড’ বা কালো কার্ড। ইউরোপীয় ফুটবলে প্রথমবারের মতো রোমানিয়ার ফুটবল ফেডারেশন (এফআরএফ) তাদের যুব ও বয়সভিত্তিক ফুটবলে অভিভাবকদের আক্রমণাত্মক ও অনুপযুক্ত আচরণ নিয়ন্ত্রণে এই বিশেষ কার্ড চালুর যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে। মাঠের কোনো ফুটবলার বা কোচিং স্টাফকে শাস্তি দেওয়া এই কার্ডের উদ্দেশ্য নয়। বরং গ্যালারিতে থাকা উগ্র অভিভাবক ও দর্শকদের কুরুচিপূর্ণ আচরণ রুখতেই ব্যবহৃত হবে নতুন এই ‘ব্ল্যাক কার্ড’। ক্ষুদে ফুটবলারদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নিয়েছে রোমানিয়ান ফুটবল কর্তৃপক্ষ। প্রায়শই বয়সভিত্তিক ম্যাচগুলোতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত আবেগের বহিঃপ্রকাশ, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গালিগালাজ, এমনকি প্রতিপক্ষ দলের কোমলমতি শিশুদের মানসিক চাপে ফেলার ঘটনা দেখা যায়। এফআরএফ-এর মতে, বড়দের এই অসদাচরণ শিশুদের মানসিক বিকাশে চরম বাধা সৃষ্টি করে। ইউরোপীয় অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলে গ্যালারি নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একেবারে নতুন এক নজির। যদিও আয়ারল্যান্ডের গেইলিক ফুটবলে কৌশলগত ফাউলের জন্য কালো কার্ডের প্রচলন রয়েছে, কিন্তু ইউরোপের মূলধারার ফুটবলে দর্শকদের লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ সত্যিই ব্যতিক্রমী। বিশ্বজুড়েই যুব ফুটবলে অভিভাবকদের বাড়াবাড়ি ও অপ্রীতিকর আচরণ এক বড় উদ্বেগ। রোমানিয়ার এই অভিনব চেষ্টা যদি সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে ইউরোপের অন্যান্য দেশের বয়সভিত্তিক ফুটবলেও গ্যালারির শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্ল্যাক কার্ড চালুর নতুন পথ খুলে যেতে পারে।
জয় দিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির মিশন শেষ করলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের মেয়েরা। চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোন দল। তৃতীয় কোয়ার্টারে গোলের সুযোগ কাজে লাগায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনা আক্তার। দারুণ এক ফিল্ড গোলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেন। তবে ম্যাচের শেষ দিকে ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করে মালয়েশিয়া। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি তারা। ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। সেই হারে আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সরাসরি সুযোগও শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হলে অন্তত সেমিফাইনালে উঠতে হতো বাংলাদেশকে। তবে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। যদি আগামী বছর মেয়েদের জুনিয়র বিশ্বকাপ ভারতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে আরেকটি দেশ সুযোগ পায়। যেহেতু বাংলাদেশ পঞ্চম হলো, তাই সুযোগটা বাংলাদেশই তখন পাবে।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ। স্রেফ ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে তার ৪ উইকেট শিকারের সুবাদে জিতল গায়ানা। ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের ম্যাচে মিরাজ ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতলেন। ঘরের মাঠ প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক গায়ানা। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান তোলে। ৪ ওভারে স্রেফ ২৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। পরে লক্ষ্য তাড়ায় ১৮.৪ ওভারে গন্তব্যে পৌঁছে যায় ইমরান তাহিরের নেতৃত্বাধীন গায়ানা। এর আগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো শুরু পেয়েছিল। ৪.৩ ওভারে ৪১ রান তোলার পর তাদের প্রথম আঘাতটা দেন মিরাজ। ১৬ বলে ২৬ রান করা কলিন মুনরোকে বোল্ড করে দেন বাংলাদেশি তারকা। ২২ রান করা অ্যালেক্স হেলসকে থামান আগের ম্যাচে সর্বোচ্চ বয়সে (৪৭) ফাইফারের বিশ্বরেকর্ড গড়া ইমরান তাহির। জাস্টিন গ্রিভস মাঝে ৩৭ বলে ৩৫ রান করেন। এ ছাড়া ত্রিনবাগোর আর কোনো ব্যাটারই দলের হাল ধরতে পারেননি। নিকোলাস পুরানকে প্রথম বলেই বোল্ড করার পর জিড গুলি ও সুনীল নারিনকেও আউট করেছেন মিরাজ। ত্রিনবাগোকে ১২৬ রানে থামিয়ে দেওয়ার পথে টাইগার স্পিনার ৪টি এবং শামার জোসেফ ২ উইকেট শিকার করেন। পরে লক্ষ্য তাড়ায় গায়ানা দুই ওপেনার মাভেন্দ্র দিনদিয়াল ও গ্লেন ফিলিপসকে হারায় ৩৬ রানের মাথায়। এরপর শিমরন হেটমায়ার (৩৫ বলে ৪২) ও শাই হোপ (১৯ বলে ২৮) দলকে জয়ের পথে টেনে নিয়ে যান। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুই করতে পারেননি মিরাজ। ১৪ বল খেলে করেছেন স্রেফ ২ রান। তবে জয় পেতে অসুবিধা হয়নি গায়ানার। আগে থেকেই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটির ৯ ম্যাচে পয়েন্ট ১৬। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে দুই নম্বরে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স।
ঘোর দুঃসময় যাচ্ছে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকের। ইংল্যান্ড সফর থেকে এই দুজনসহ সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। জব্ধ করা হয়েছে মোবাইল। সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন দুজন। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা- এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের দরজাও বন্ধ হয়ে গেল ইমাম ও রিজওয়ানের জন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের ফিটনেস টেস্ট করিয়ে তার প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু রিজওয়ান ও ইমাম তাদের নিজ নিজ বিভাগীয় দলের সঙ্গে ফিটনেস টেস্টে অংশই নেননি। ফলে দুই খেলোয়াড়ই পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবেন না। এদিকে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবর, রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করছে সেদেশের জাতীয় সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিসিআইএ)। তাদের মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় দুজনকে। আগেই তাদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এবার তারা সেই ফোন দুটি জমা দিয়েছেন এনসিসিআইএ’র কাছে। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় তাদের। জিও নিউজ জানায়, দুই ক্রিকেটারকে তলব করে এনসিসিআইএ। একটি তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। আরও এক ক্রিকেটার নোটিশ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ক্রিকেটারদের মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তা খতিয়ে দেখা হবে। কেন ক্রিকেটারদের মোবাইল নেওয়া হলো, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পিসিবি বা এনসিসিআইএ। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এ দুই ক্রিকেটার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।