আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি আলোচনার তৃতীয় দিনেও থামেনি ইসরায়েলের হামলা

Unknown অক্টোবর ০৮, ২০২৫

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মিসরে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা তৃতীয় দিনেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা ঘিরে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী।

বুধবার মিসরের রেড সি উপকূলীয় শহর শার্ম আল-শেখে বৈঠকে যোগ দেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি, এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন

তবে আলোচনার মাঝেই গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে আট ফিলিস্তিনি নিহত৬১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইতিবাচক মনোভাব ও বন্দি বিনিময়ের প্রস্তাব

হামাস জানিয়েছে, তারা আলোচনায় ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির তালিকা জমা দিয়েছে। ওই তালিকায় আছেন দুই প্রভাবশালী ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারগুতিআহমাদ সাদাত

বারগুতিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হয়। তিনি বর্তমানে ইসরায়েলে পাঁচটি যাবজ্জীবন ও ৪০ বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়েই মূল মতভেদ

বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাখ্যায় এখনো বড় ফারাক রয়ে গেছে। মূল বিতর্কের বিষয়গুলো হলো— স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, জিম্মি-বন্দি বিনিময়, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা, ও যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো।

হামাসের প্রধান আলোচক খালিল আল-হায়া বলেন, “আমরা চুক্তিতে রাজি হতে প্রস্তুত, তবে চাই যুদ্ধ সত্যিই শেষ হবে— এই দৃঢ় নিশ্চয়তা।”

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইসরায়েল যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে।”

মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় ৬৭ হাজার ১৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত, এর মধ্যে ২০ হাজার ১৭৯ জন শিশু। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও শত শত মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অবরুদ্ধ গাজায় অপুষ্টিতে ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে; যাদের মধ্যে ১৮২ জন গত আগস্টে জাতিসংঘ ঘোষিত দুর্ভিক্ষের পর মারা গেছেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে অভিযোগ

গাজার গণহত্যায় ইসরায়েলকে সহযোগিতা করার অভিযোগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলা হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলকে মারণাস্ত্র সরবরাহে ভূমিকা রাখার অভিযোগে ইতালির ৫০ জন বিশিষ্ট নাগরিক—আইনজীবী, অধ্যাপক ও মানবাধিকার কর্মী—এই মামলা করেছেন।

ট্রাম্প ও জাতিসংঘের আহ্বান

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প বলেন, “হামাস ও ইসরায়েল যদি একমত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যাতে সবাই সেই চুক্তি মেনে চলে।”

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি এই ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
১৫ বিলিয়ন ডলারে তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের ‘ভাসমান শহর’

এমন এক শহরের কথা কল্পনা করুন যা কখনও এক জায়গায় স্থির থাকে না। ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, পার্ক, শপিং সেন্টার থেকে শুরু করে যার নিজস্ব বিমানবন্দর পর্যন্ত রয়েছে! সাগরে ভাসমান এমন এক অবিশ্বাস্য মহানগরের স্বপ্ন নিয়েই তৈরি হয়েছে ফ্রিডম শিপ প্রজেক্ট। ১ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড বা প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো বিশ্বের প্রথম প্রকৃত ‘সমুদ্র নগরী’ তৈরি করা।   ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন প্রথম এই উচ্চাভিলাষী ধারণাটি নিয়ে আসেন। বর্তমানে ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনাল-এর সিইও রজার গুচের নেতৃত্বে এই প্রকল্প নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এটি নির্মিত হলে তা সামুদ্রিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় সৃষ্টি করবে, যা বর্তমানের যেকোনও বৃহৎ প্রমোদতরিকে অনায়াসে বামন বানিয়ে দেবে।   ঐতিহ্যবাহী ক্রুজ লাইনারগুলোর মতো নির্দিষ্ট রুটে চলার পরিবর্তে ফ্রিডম শিপ একটি স্থায়ী সমুদ্রগামী জনপদ হিসেবে কাজ করবে। জাহাজটি প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করবে এবং প্রতি দুই থেকে তিন বছরে একবার পুরো পৃথিবী প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করবে। কোনও একক দেশের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বাইরে এর বেশির ভাগ সময়ই কাটবে আন্তর্জাতিক জলসীমায়।   কোম্পানির সিইও রজার গুচ দ্য টেলিগ্রাফ-কে বলেছেন, আমরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে এটি আমরা তৈরি করতে পারব, তবে এর জন্য মূল চাবিকাঠি হলো অর্থায়ন।   কী কী থাকছে এই দানবীয় জাহাজে? জাহাজটির দৈর্ঘ্য হবে বর্তমানের সবচেয়ে বড় ক্রুজ শিপগুলোর (১.৮ কিলোমিটার বা ৫ হাজার ৯০০ ফুট) চেয়ে চার গুণেরও বেশি। এটি চওড়ায় হবে প্রায় ২৫০ মিটার (৮০০ ফুট) এবং জলরেখা থেকে ২৫ তলা ভবন সমান উঁচু হবে। এর আনুমানিক গ্রস টনেজ হবে ২৩ লাখ।   এই ভাসমান শহরে প্রায় ৫০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা বসবাস করতে পারবেন, যাদের সেবায় থাকবেন ২০ হাজার ক্রু সদস্য। এ ছাড়া যেকোনও সময় ১০ হাজার হোটেল অতিথি সেখানে থাকতে পারবেন এবং উপকূলের কাছাকাছি নোঙর করা অবস্থায় প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এটি দেখার সুযোগ পাবেন।   জাহাজের ভেতরেই থাকবে আবাসিক এলাকা, স্কুল, ব্যাংক, অফিস স্পেস এবং একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হাসপাতাল। বিশাল এই ডেকের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত যাতায়াতের জন্য থাকবে নিজস্ব দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা।   পরিকল্পনা অনুযায়ী এতে থাকবে ১৫ হাজার আসনের একটি স্টেডিয়াম, কনভেনশন সেন্টার, শপিং ডিস্ট্রিক্ট, মিউজিয়াম, সিম্ফনি হল, একটি দোতলা ফুড কোর্ট এবং কয়েক একর আয়তনের চমৎকার ইকো-পার্ক। মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি স্বনির্ভর সমাজ তৈরি করা, যেখানে মানুষ স্থলভাগে না ফিরেই জীবনযাপন, পড়াশোনা ও চাকরি করতে পারবেন।   জাহাজের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর ছাদের ওপরের রানওয়ে। ছোট আকৃতির উড়োজাহাজ ও ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য এই রানওয়ে ডিজাইন করা হয়েছে, পাশাপাশি থাকবে আটটি হেলিপ্যাড। সামনে যত চ্যালেঞ্জ এই আকর্ষণীয় প্রকল্পের সামনে রয়েছে বিশাল প্রকৌশল ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় একটি জাহাজ সচল রাখতে নজিরবিহীন জ্বালানির প্রয়োজন হবে, যার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে পারমাণবিক চালিকাশক্তি।   আরেকটি বড় সমস্যা হলো এর আকার। ফ্রিডম শিপ এতটাই বিশাল হবে যে বিশ্বের কোনও বিদ্যমান বন্দরেই এটি প্রবেশ করতে পারবে না। তাই এটিকে সব সময় মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে সাগরে নোঙর করে রাখতে হবে। মানুষ ও মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য উচ্চগতির ফেরি এবং ছোট ছোট পরিবহন জাহাজের ওপর নির্ভর করতে হবে।   তবে সব মিলিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করার আগেই প্রয়োজন হবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, যা এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় বাধা। বিগত কয়েক দশক ধরে এই প্রজেক্ট মানুষের কল্পনাকে আচ্ছন্ন করে রাখলেও, একে বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে সামুদ্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও কঠিনতম এক পরীক্ষা। সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত বহু যাত্রী ও কর্মী

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজা ও দাফনের সময়সূচি ঘোষণা ইরানের

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান জিলহজ মাসের শেষভাগ ও মহররমের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তেহরান মিউনিসিপ্যালিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিকবিষয়ক উপপ্রধান মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এ হিসাবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের মেট্রোপলিটনগুলোর ৫২তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তাভাকোলিজাদেহ। তিনি জানান, দাফনসংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘পিপলস প্যারেড’ বা শোক মিছিল আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদায় অনুষ্ঠান শেষে জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যা তেহরানে অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে। তাভাকোলিজাদেহ বলেন, রাজধানী তেহরানে দেড় থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তেহরানের পাশাপাশি কোম ও মাশহাদ শহরেও জানাজার আয়োজন নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও একই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য অনুরোধ এসেছে। পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে বলে জানান তেহরানের এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, কাশ্মীরসহ পূর্বাঞ্চলীয় ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও শোকাহত মানুষ মাশহাদে উপস্থিত হতে পারেন।   উল্লেখ্য, ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শুরুর দিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ কার্যালয়ে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। তাদের স্মরণে গত সপ্তাহে তেহরানে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগে তেহরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদের প্রধান মহসেন মাহমুদ বলেছিলেন, খামেনির জানাজা এমন একটি বৈশ্বিক আয়োজন হবে, যা ইরান ও সমগ্র ইসলামি বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ইতোমধ্যে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন ও প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পর ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনি জীবিত, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়: মার্কো রুবিও

ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন এক ফিলিস্তিনি। ছবি : সংগৃহীত

সাইবার হামলায় ফাঁস গাজার ৬ লাখ পরিবারের গোপন তথ্য

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কেশম দ্বীপে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। বুধবার সকালে আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে সেগুলোর কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।   সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ে বা পথেই অকার্যকর হয়ে যায়। এছাড়া বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে।   এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত (এয়ার রেইড সাইরেন) বেজে ওঠার খবর পাওয়া গেছে।   অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কেশম শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।   ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও হামলার আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লেবানন থেকে ছোড়া দুই ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি ইসরায়েলের

ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহ হামলা না থামালে বৈরুতে আঘাত হানবে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুর ওপর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প

0 Comments