দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় অ্যাপেক সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হল বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির নেতা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহু প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এই বৈঠক থেকে চীনের ফেন্টানিল সম্পর্কিত পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এপি।
ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে ঘোষণা করেছেন যে, ফেন্টানিল সংকটের মোকাবেলায় চীন যে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা আমদানির উপর আরোপিত শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এটি তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে।
বিমানবন্দরের বৈঠক স্থল থেকে ট্রাম্প ও শি জিনপিং দুজনেই বিদায় নিয়েছেন। ট্রাম্প এশিয়া সফরের ইতি টেনে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি এপেক সম্মেলনের মূল আয়োজনে থাকছেন না। অন্যদিকে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার মোটরকেডে করে গিয়ংজু শহরের দিকে যাচ্ছেন। সেখানে আগামীকালের মূল এপেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এটি ১১ বছরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় তার প্রথম সফর।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠককে 'অসাধারণ বৈঠক' বলে অভিহিত করেন এবং চীনের নেতা শির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ফেন্টানিল শুল্ক তাৎক্ষণিক কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন এবং বেইজিং 'অনেক বিষয়ে একমত হয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্য, ‘এটি ছিল অসাধারণ এক বৈঠক। তিনি (শি জিনপিং) একজন মহান নেতা। আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত হয়েছি এবং আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সেগুলো আপনাদের হাতে তুলে দেব।‘
ট্রাম্প আরো উল্লেখ করেন যে, চীন তাদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিপুল পরিমাণে সয়াবিন কেনা শুরু করবে। চীনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। এটি মার্কিন কৃষকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
শি জিনপিংয়ের জন্য বিমানবন্দর সংলগ্ন রাস্তায় অভ্যর্থনা কমিটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। চীনা কর্মকর্তারা ম্যান্ডারিন ভাষায় নির্দেশ দিয়ে উপস্থিত জনতাকে কখন এবং কোথায় পতাকা নাড়তে হবে তা বলে দিচ্ছেন। চীনা নেতার বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের প্রতিবাদ খুব সতর্কতার সঙ্গে দূরে রাখা হয়েছিল।
বিশ্ব নেতারা আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া এপেক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের জন্য গিয়ংজুতে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লিবিয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ ভেসে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের নৌকাডুবির পর এই মৃতদেহগুলো ভেসে আসে। শনিবার (২০ জুন) রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহে তুবরুক শহরের বিভিন্ন উপকূলীয় স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় নৌবাহিনীর এক সূত্রের বরাতে বলা হয়, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন। বেঁচে যাওয়া ১০ জনের তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা জানা গেছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, উপকূলের একাধিক জায়গা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক মরদেহ ইতোমধ্যেই পচে গেছে এবং আরও দেহ পাওয়া যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুবরুক রেড ক্রিসেন্টের ফেসবুক পোস্টে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবীরা সাদা সুরক্ষা পোশাক পরে সমুদ্রসৈকত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ব্যাগে রাখছেন। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ এই বিপজ্জনক পথ বেছে নেন। এদিকে, রাজধানী ত্রিপোলির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করা খুমাস শহরের ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, একই ঘটনায় নৌকাডুবির পর ১৩ জন অভিবাসীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আরব আমিরাত এখন আর আগের মতো শুধু বিলাসবহুল ভ্রমণের গন্তব্য নয়। গ্রীষ্মকালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের জন্য এটি হয়ে উঠছে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী একটি শহর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ট্যুরিস্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। শনিবার (২০ জুন) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ছাড়। হোটেল, আউটডোর অ্যাক্টিভিটি এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাচ্ছে, যা ভ্রমণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। গ্রীষ্মকালে আমিরাতের হোটেলগুলো সাধারণত পর্যটকদের জন্য ভাড়া কমিয়ে দেয়। কিছু হোটেলে রুম ভাড়া ১৩৯ দিরহাম থেকে শুরু হচ্ছে। ফলে দুই রাতের থাকার খরচ ৩০০ দিরহামের নিচেও নেমে আসতে পারে। এটি শীতকালের তুলনায় অনেক কম। আরব আমিরাতে ভ্রমণে ডেজার্ট সাফারি অন্যতম জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা। সাধারণত এর খরচ ১৫০ দিরহাম বা তার বেশি হলেও গ্রীষ্মকালে অনেক অপারেটর ৫০ দিরহাম থেকে প্যাকেজ দিচ্ছে। সমুদ্র থেকে বুর্জ আল আরব বা আটলান্টিস দেখার জন্য জেট স্কি রাইড পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। গ্রীষ্মে এই খাতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও, গ্রীষ্মকালে থিম পার্ক, মিউজিয়াম, অ্যাকুয়ারিয়াম, ইনডোর এন্টারটেইনমেন্ট সেন্টারসহ অনেক স্থানে অনলাইন ছাড় ও কম্বো টিকিট পাওয়া যায়। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য কিডস অফার ও ফ্যামিলি প্যাকেজ খুঁজে দেখা লাভজনক। ভ্রমণ এজেন্টরা বলছেন, ৪৮ ঘণ্টায় ভিসা প্রক্রিয়ার সুবিধা, হোটেল ভাড়ায় ছাড় এবং বিভিন্ন আকর্ষণে ডিসকাউন্টের কারণে দুবাই এখন শুধু শীতকালীন নয়, বরং গ্রীষ্মকালেও জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন শান্তি চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অনেক নাগরিক ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, এ চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের রেহোভোত শহরের অনেক বাসিন্দা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং ভবিষ্যতে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা আভি পেরেজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অন্য আরেক বাসিন্দা শাহাম নোভিক বলেন, একদিন আমরা সন্তানদের নিয়ে বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম, আর পরের দিন বলা হচ্ছে সব স্বাভাবিক। কিন্তু আসলে কোনো সমস্যারই সমাধান হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ইসরায়েলির আশঙ্কা, এই চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার ওপরও সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে তারা এখনো বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন। সমালোচকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর যে লক্ষ্য তিনি নির্ধারণ করেছিলেন, তার অনেকটাই এখন অধরা থেকে গেছে। তবে এখনো নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন রয়েছে। অনেক ইসরায়েলি মনে করেন, নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় তিনিই সবচেয়ে অভিজ্ঞ নেতা। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানের মতো জটিল ইস্যু মোকাবিলায় এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখছেন। অন্যদিকে, দেশটির অনেক নাগরিক মনে করেন, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইসরায়েলের সমাজ আগের চেয়ে বেশি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, নিরাপত্তার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বাড়ির দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সমস্যাগুলোও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রেহোভোতের বাসিন্দা দালিয়া পেরেজ বলেন, আমি একসময় শান্তির আশা করতাম। এখন মনে হয়, আমাদের সব সময় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েই বাঁচতে হবে। আমরা বুঝেছি, কাউকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি এবং লেবাননের পরিস্থিতি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান