টেলিকম ও প্রযুক্তি

এআইয়ের সঙ্গে ভালোবাসা ও একাকীত্ব : নতুন সম্পর্ক

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৬, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষ এখন শুধু কাজের জন্য নয়, অনুভূতির জন্যও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করছে। কেউ বন্ধুর মতো সঙ্গ হিসেবে, কেউ কাজের সহায়ক হিসেবে, আবার কেউ প্রেমের বিকল্প হিসেবেও এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আধুনিক একাকীত্বের নতুন রূপ, যা দ্রুত সামাজিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টোরো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট জেমি সান্দভাল জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপের ৩০ শতাংশ ব্যবহার দখল করতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, “এআইয়ের উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি এর নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ বড় ভাষা মডেল ব্যবহার করেও আত্মহত্যা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।”

 

মনোবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অনেকেই একাকীত্ব কাটাতে এআইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। কেউ সামাজিক দক্ষতা অনুশীলন করেন, কেউ মানসিক সান্ত্বনার জন্য এ পথ বেছে নেন। তবে এতে ঝুঁকিও আছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের জন্য, কারণ এআই কখনও কখনও ভুল তথ্য দেয়, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেখায় বা বিপজ্জনক প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর ফলে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞরা এমন সমস্যাকে “এআই সাইকোসিস” আখ্যা দিয়েছেন, যেখানে ব্যবহারকারীরা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কল্পিত সম্পর্কের মধ্যে আটকে পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

 

তবে সবাই নেতিবাচকভাবে দেখছেন না। ডিজিটাল কনসালট্যান্ট ডোয়াইট জারিঞ্জার মনে করেন, যদি নৈতিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার নিয়ম ঠিকভাবে মেনে চলা হয়, তবে এআই চ্যাটবট মানসিক সহায়তার বিকল্প হতে পারে।

 

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ টেসা গিটলম্যান বলেছেন, মানুষ কেন এআইয়ের সঙ্গে আবেগ গড়ে তোলে, তার মূল কারণ একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। অনেকেই এমন সঙ্গ চায় যা বিচার করবে না। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এআই সম্পর্ক কখনো মানবিক সংযোগের বিকল্প হতে পারে না, কারণ এতে থাকে না সেই উষ্ণতা, বাস্তব অনুভূতি ও সহমর্মিতা যা মানুষকে মানুষ করে।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

টেলিকম ও প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সিকিউরিটি ফিচার

ডিজিটাল দুনিয়ায় হ্যাকারদের ফাঁদ দিন দিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে প্রতারণার নানা কৌশল বহুদিন ধরেই সক্রিয়। লোভনীয় অফার, তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক বা এক্সক্লুসিভ ডিলের নামে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।   এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন একটি সিকিউরিটি ফিচার চালু করতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফিচারটির নাম ‘স্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্ট সেটিংস’। এটি একটি ওয়ান-ক্লিক সুরক্ষা ব্যবস্থা—একবার চালু করলেই একাধিক নিরাপত্তা ফিচার একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে যাবে। এই সেটিংস অন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ও সিকিউরিটি নোটিফিকেশন চালু হবে। ফলে কোনো পরিচিত কনট্যাক্টের এনক্রিপশন কোডে পরিবর্তন হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারী সতর্কবার্তা পাবেন। এছাড়া লাস্ট সিন, অনলাইন স্ট্যাটাস, প্রোফাইল ছবি ও প্রোফাইল লিঙ্ক কেবল পরিচিত কনট্যাক্টদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো ছবি, ভিডিও বা অডিও ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হয়ে যাবে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল এলে সেটি নিজে থেকেই সাইলেন্ট হয়ে যাবে, ফলে সন্দেহজনক বা বিরক্তিকর কল এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে এই ফিচার চালু করা হবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী বা যাদের সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য এই ফিচার বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক নয়—ব্যবহারকারীরা চাইলে নিজ উদ্যোগেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে পারবেন। সাম্প্রতিক সময়ে মেটা সংস্থার কর্মীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে পারেন—এমন অভিযোগ ও বিতর্কের আবহে এই নতুন ফিচারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি : এআই

বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলবে গুগলের নতুন এআই টুল

আইওএসের হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ফেসবুকের মতো ‘কভার ফটো’

ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার আগে সাবধান

ছবি : সংগৃহীত
পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ?

এখনকার দিনে পাবলিক ওয়াইফাই যেন নিত্যসঙ্গী। হোটেল, অফিস, শপিংমল, বড় কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমানবন্দর—যেখানেই যান না কেন, ইন্টারনেট সংযোগ হিসেবে ফ্রি ওয়াইফাই প্রায় নিশ্চিত। অনেক সময় মোবাইল ডাটা ব্যবহার না করেই প্রয়োজনীয় অনলাইন কাজ সেরে নেওয়া যায়।   তবে এই সুবিধার আড়ালে রয়েছে কিছু বাস্তব ঝুঁকি, যেগুলো অনেক ব্যবহারকারী জানেন না বা গুরুত্ব দেন না।   কেন পাবলিক ওয়াইফাই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে প্রযুক্তিবিদদের মতে, যেসব ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে শক্তিশালী এনক্রিপশন নেই, সেগুলোর ইন্টারনেট ট্রাফিক নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার চাইলে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। অর্থাৎ ওই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা ডিভাইসগুলো কী ধরনের অনলাইন কার্যক্রম করছে, তার একটি লগ তৈরি হওয়া প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব। এর মানে এই নয় যে সব সময় এসব তথ্য দেখা হয়। তবে বিষয়টি সম্ভব—এটাই মূল ঝুঁকি। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অফিস বা পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত বা অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজিং এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে বিমানবন্দর বা অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তার স্বার্থে অস্বাভাবিক ব্রাউজিং কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আসতে পারে। বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এমন না হলেও সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সহজভাবে বললে, ওপেন বা পাবলিক ওয়াইফাইয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার সব সময় নিরাপদ নয়।   ওপেন ওয়াইফাই কেন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ পাবলিক বা ওপেন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সাধারণত পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত নয় এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মতো শক্তিশালী এনক্রিপশনও থাকে না। এই দুর্বলতাই হ্যাকারদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে। একই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর ডাটা ধরে ফেলতে পারে। এর মধ্যে থাকতে পারে লগইন তথ্য, ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা এমনকি ক্রেডিট কার্ডের তথ্যও। পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মালিক চাইলে দেখতে পারেন, ব্যবহারকারী কোন ওয়েবসাইটে ঢুকছেন এবং কী ধরনের ডাটা পাঠানো বা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ভিপিএন ছাড়া পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   নিরাপদ থাকতে কী করবেন পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কিছু সতর্কতা মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। প্রথমত, পাবলিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত অবস্থায় ব্যাংকিং, কার্ড সংক্রান্ত তথ্য বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে লগইন এড়িয়ে চলাই ভালো। যদিও ‘এইচটিটিপিএস’ ওয়েবসাইটে তথ্য এনক্রিপ্ট থাকে, তবুও আপনি কোন সাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করছেন—এই তথ্য পুরোপুরি গোপন থাকে না। ডিভাইসে ফাইল শেয়ারিং অপশন বন্ধ রাখা জরুরি, যাতে একই নেটওয়ার্কে থাকা অন্য ডিভাইস থেকে আপনার ব্যক্তিগত ফাইল বা ফোল্ডারে প্রবেশ করা না যায়। সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের সময় ভিপিএন চালু রাখা। ভিপিএন আপনার ইন্টারনেট ডাটাকে অতিরিক্ত এনক্রিপশন দিয়ে সুরক্ষিত করে। এতে নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী বুঝতে পারেন যে আপনি সংযুক্ত আছেন, কিন্তু আদান–প্রদান হওয়া ডাটার ভেতরের তথ্য দেখা বা বোঝা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

স্টারলিংক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে স্যাটেলাইট কক্ষপথ নিচে নামাবে

ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: ফয়েজ তৈয়্যব

কানে ইয়ারবাড ব্যবহারে হতে পারে যে ক্ষতি, জেনে নিন নিয়ম

ওয়াই–ফাই কলিং প্রযুক্তি চালু করল গ্রামীণফোন

ভয়েস ওভার ওয়াই–ফাই (ভিওওয়াই–ফাই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়াই–ফাই কলিং সেবা চালু করল দেশের টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। দেশের ডিজিটাল সংযোগের অগ্রযাত্রায় এটি এক মাইলফলক পদক্ষেপ। ওয়াই–ফাই কলিং চালুর ফলে ভিওএলটিই (ভয়েস ওভার এলটিই) সেবার আওতায় থাকা গ্রামীণফোন গ্রাহকেরা নির্ধারিত স্মার্টফোন ব্যবহার করে আরও মানসম্পন্ন ভয়েস ও কল উপভোগের সুযোগ পাবেন। আজ শনিবার গ্রামীণফোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে এই সেবা উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকেরা। নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে প্রাথমিকভাবে আইএসপি অংশীদার হিসেবে ব্র্যাকনেট, কার্নিভ্যাল ইন্টারনেট, চট্টগ্রাম অনলাইন লিমিটেড ও এমআইমি ইন্টারনেটের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে গ্রামীণফোন। কলের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা এই সেবা কোনো অতিরিক্ত অ্যাপ ছাড়াই গ্রাহকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কলিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। গ্রামীণফোনের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা (সিপিও) সোলায়মান আলম বলেন, ‘প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন ও ডিজিটাল সেবা আনার মাধ্যমে সেরা গ্রাহক অভিজ্ঞতা প্রদানে সংকল্পবদ্ধ গ্রামীণফোন। এ অগ্রযাত্রায় ওয়াই–ফাই কলিং সেবা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন থেকে ওয়াই–ফাই নেটওয়ার্কে আরও স্পষ্ট ও উচ্চ মানসম্পন্ন ভয়েস কল উপভোগের সুযোগ পাবেন আমাদের গ্রাহকেরা।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0

নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ডি-রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

আগামী ৯০ দিন অবৈধ বা ক্লোন মোবাইল ফোন বন্ধ হবে না

মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক কমলো

0 Comments