টেলিকম ও প্রযুক্তি

ইমেইল-পাসওয়ার্ড ছাড়াই হারানো ফেসবুক আইডি ফিরিয়ে আনার উপায়

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ০৯, ২০২৫ 0

আমাদের অনেকেরই এমন একটি ফেসবুক আইডি আছে, যা একসময় নিয়মিত ব্যবহার করা হতো কিন্তু এখন ভুলে যাওয়া স্মৃতির অংশ হয়ে গেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আইডির পাসওয়ার্ড, ফোন নম্বর বা ইমেইল হারিয়ে যায়, ফলে প্রিয় অ্যাকাউন্টটি চিরতরে হারিয়ে গেছে মনে হয়।

কিন্তু হতাশ হওয়ার কিছু নেই—ফোন নম্বর, ইমেইল বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়া সম্ভব। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি তুলে ধরা হলো।

 

ধাপ ১: ব্রাউজার প্রস্তুত করুন

 

মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকেই কাজটি শুরু করুন, কারণ ফেসবুক অ্যাপের চেয়ে ব্রাউজারে বেশি অপশন পাওয়া যায়।

 

মোবাইলে Chrome খুলুন।

 

অ্যাড্রেস বারে m.facebook.com লিখে প্রবেশ করুন।

 

এরপর ব্রাউজারের থ্রি-ডট মেনু (⋮) থেকে ‘Desktop Site’ চালু করুন। এতে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন দেখা যাবে, যা আইডি খুঁজতে সহজ করে। 

 

ধাপ ২: ‘Forgotten Password’ অপশন ব্যবহার করুন

 

লগইন পেজে গিয়ে ‘Forgotten Password?’ বা ‘পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?’ লিঙ্কে ক্লিক করুন।

 

যদি ফোন নম্বর বা ইমেইল মনে না থাকে, তবে ‘Search by your email address or name instead’ বেছে নিন।

 

এরপর নির্দিষ্ট বক্সে আপনার ফেসবুক আইডির পুরোনো নামটি লিখে সার্চ করুন—প্রোফাইলে যেভাবে নামটি লেখা ছিল, ঠিক সেভাবেই লিখুন।

 

ধাপ ৩: নিজের আইডি শনাক্ত করুন

 

সার্চের পর একই রকম নামের একাধিক প্রোফাইল দেখা যেতে পারে।

 

তালিকা থেকে আপনার প্রোফাইল ছবি ও তথ্য দেখে সঠিক আইডিটি শনাক্ত করুন।

 

পাওয়া গেলে ‘This is my account’ বাটনে ক্লিক করুন।

 

ধাপ ৪: পুনরুদ্ধারের উপায় নির্বাচন করুন

 

ফেসবুক এখন আপনার পরিচয় যাচাই করবে। এ সময় নিচের এক বা একাধিক বিকল্প আসতে পারে—

 

 কোড পাঠানো: পূর্বের ফোন নম্বর বা ইমেইলে OTP পাঠানো হবে। যেটিতে অ্যাক্সেস আছে সেটি বেছে নিন।

 

ভিডিও ভেরিফিকেশন: পূর্বে যদি জাতীয় পরিচয়পত্র বা সরকারি আইডি দিয়ে ফেসবুক ভেরিফাই করা থাকে, তাহলে মুখের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও আপলোড করে যাচাই করতে হতে পারে।

 

পুরোনো ডিভাইস ব্যবহার: যদি কোনো পুরোনো ডিভাইসে আগে লগইন করা থাকে, ফেসবুক সেই ডিভাইসে নোটিফিকেশন পাঠিয়ে লগইনের সুযোগ দিতে পারে।

 

ধাপ ৫: নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন

 

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন পাসওয়ার্ড সেট করতে বলা হবে।

 

সঠিক কোড ইনপুট করে ‘Continue’ চাপুন এবং একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করুন।

 

লগইন করার সময় ‘Trust this device’ অপশনটি চালু রাখলে ভবিষ্যতে সহজে প্রবেশ করা যাবে।

 

এভাবেই আপনি আবার ফিরে পাবেন আপনার হারানো ফেসবুক আইডি।

 

বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ

 

ধৈর্য ধরুন: একাধিক ভুল প্রচেষ্টায় ফেসবুক আপনার আইপি সাময়িকভাবে ব্লক করতে পারে।

 

নামের ভিন্নতা: ইংরেজি বা বাংলা বানানের ভিন্নতা চেষ্টা করুন।

 

বন্ধুদের সহায়তা নিন: বন্ধুর প্রোফাইল থেকে আপনার পুরোনো আইডি লিংক বা ইউজারনেম দেখে নিতে পারেন।

 

ইন্টারফেস পরিবর্তন: ফেসবুক নিয়মিত আপডেট দেয়, ফলে অপশনগুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

 

ভিডিও ভেরিফিকেশন: এই ফিচারটি মূলত আগে ভেরিফাই করা আইডির জন্যই প্রযোজ্য।

 

সতর্কভাবে ধাপগুলো অনুসরণ করলে পাসওয়ার্ড ছাড়াই আপনার পুরোনো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়া সম্ভব।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

টেলিকম ও প্রযুক্তি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
অনুবাদে গুগলকে টেক্কা দিতে চ্যাটজিপিটির নতুন ঘোষণা

২০২২ সালের নভেম্বরে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল চ্যাটজিপিটি। প্রথম থেকেই চমক দিতে থাকে ওপেনএআই নির্মিত চ্যাটবটটি। গুগলকে টেক্কা দেওয়াই লক্ষ্য স্যাম অল্টম্যানের এই সংস্থার। আর সেই লক্ষ্যে এগোতে এবার চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট নিয়ে বিবৃতি দিল ওপেনএআই। জানা গেছে, এই ট্রান্সলেশন টুলের লক্ষ্যই হলো এমন এক পরিষেবা, যার সাহায্যে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা যাবে। কার্যত গুগল ট্রান্সলেটরকে বড়সড় টক্কর দেওয়াই লক্ষ্য এই টুলের, মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। ওপেনএআইয়ের ঘোষণার পর থেকেই এই নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে বলে রাখা ভালো, চ্যাটজিপিটিতে অনুবাদ আগে থেকেই লভ্য। কিন্তু নতুন টুলে বদলে যাবে অভিজ্ঞতা। ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘চ্যাটজিপিটি ভাষা ব্যবহারে বরাবরই পারদর্শী। সঠিক ভাব ও সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা বজায় রেখে ৪০টিরও বেশি ভাষায় নির্ভুল অনুবাদ করতে পারে এটি। চ্যাটজিপিটি ট্রান্সলেট সেই সক্ষমতাকেই তুলে ধরবে এবং আমরা একে আরো উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।   মনে করা হচ্ছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে যেন বুঝিয়ে দেওয়া হলো গুগল একা নয়। চ্যাটজিপিটিও এখনো অনুবাদে দক্ষ হয়ে উঠছে এবং ভবিষ্যতে আরো জনপ্রিয় হবে। সোজা কথায়, নাম না করলেও নতুন বিবৃতিতে টেক জায়ান্ট সংস্থাকেই যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল তারা। প্রসঙ্গত, ২৪৯টি ভাষা নিয়ে কাজ করে গুগল ট্রান্সলেটর। সেখানে এখনো পর্যন্ত চ্যাটজিপিটি স্বচ্ছন্দ ৪৭টি ভাষায়। নাম না করলেও নতুন বিবৃতিতে টেক জায়ান্ট সংস্থাকেই যেন নতুন করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ল ওপেনএআই। যুগটা এআইয়ের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দুনিয়ায় চমকের পর চমক সৃষ্টি করে চলেছে। ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়ে গেছে অনেক দিন ধরেই। গত নভেম্বরে অল্টম্যান লিখেছিলেন, ‘আমরা একটি সংস্থা হিসেবে যথেষ্ট শক্তি নির্মাণ করেছি। এতে দুর্দান্ত মডেল তৈরি করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারি। সুপার ইন্টেলিজেন্সে পৌঁছানোর জন্য আমাদের গবেষণা দলের বেশিরভাগ সদস্যকে আরো বেশি মনোনিবেশ করতে হবে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’    পাশাপাশি গুগলের সঙ্গে ‘রেস’ নিয়েও তিনি প্রতিক্রিয়া দেন। স্বীকার করে নেন, এই ‘লড়াইয়ে’ এগিয়ে গেছে গুগল। তবে সেই সঙ্গে তার দাবি, এই এগিয়ে থাকা সাময়িক। এবার নতুন ঘোষণায় সেটাই আবারও প্রতিফলিত হলো। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সিকিউরিটি ফিচার

প্রতীকী ছবি : এআই

বিভিন্ন রোগের নতুন চিকিৎসার পথ খুলবে গুগলের নতুন এআই টুল

আইওএসের হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ফেসবুকের মতো ‘কভার ফটো’

ছবি : সংগৃহীত
স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার আগে সাবধান

আমাদের অনেকেরই অভ্যাস—ঘরে ফিরে ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্মার্টফোনটি বালিশের পাশে রেখে চার্জে দেওয়া। কেউ কেউ তো ফোন চার্জে লাগিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে আলোচনা চলছে, সারারাত ফোন চার্জে রাখা ক্ষতিকর কি না।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস স্মার্টফোনের ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি এটি নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, ফোন চার্জে লাগিয়ে ভিডিও দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েন অনেকে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোবার ঘরে, বিশেষ করে বালিশের পাশে ফোন চার্জ দেওয়া এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।   বালিশের নিচে ফোন রাখলে বিপদ কেন আধুনিক স্মার্টফোনে তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও ফোন যদি বালিশের নিচে বা নরম কাপড়ের ওপর রাখা হয়, তাহলে ভেতরের তাপ বের হতে পারে না। এর সঙ্গে চার্জিং যুক্ত হলে তাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ফোন চার্জ দেওয়ার সময় এমন জায়গা বেছে নিতে হবে যেখানে বাতাস চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং তাপ সহজে বের হতে পারে। নিরাপদ জায়গা হিসেবে সমতল টেবিল, কাউন্টার বা শক্ত কোনো পৃষ্ঠ সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে ডিভাইসের চারপাশে ঠান্ডা বাতাস পৌঁছাতে পারে।   শোবার ঘরে ফোন রাখার আরও ক্ষতিকর দিক বিষয়টি শুধু নিরাপত্তার ঝুঁকিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, শোবার ঘরে ফোন কাছাকাছি থাকলে ঘুমের মানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ফোনে থাকা অ্যাপ, গেম বা বার্তার নোটিফিকেশন বারবার মনোযোগ ভেঙে দেয়। এতে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারে না, এখন ঘুমানোর সময় নাকি জেগে থাকার। এর প্রভাব পড়ে ঘুমের গভীরতা ও মানের ওপর। বিশেষ করে ফোন যদি বালিশের পাশেই থাকে, তাহলে ঘুমানোর আগে সেটি ব্যবহার এড়িয়ে চলা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঠিক আগে স্মার্টফোন থেকে নির্গত নীল আলোতে দীর্ঘ সময় থাকলে ঘুম আসতে দেরি হয় এবং ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ঘুমানোর অন্তত কিছুক্ষণ আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পাবলিক বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার কতটা নিরাপদ?

ছবি : সংগৃহীত

স্টারলিংক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে স্যাটেলাইট কক্ষপথ নিচে নামাবে

ছবি : সংগৃহীত

অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: ফয়েজ তৈয়্যব

কানে ইয়ারবাড ব্যবহারে হতে পারে যে ক্ষতি, জেনে নিন নিয়ম

  উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং টিনিটাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দরকারী কথাবার্তা, যাতায়াত, শরীরচর্চা কিংবা ঘুমের আগে স্ক্রল—ইয়ারবাড এখন আমাদের প্রায় দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কতক্ষণ এবং কত ভলিউমে আমরা শুনছি, সেদিকে প্রায়ই নজর দেওয়া হয় না অনেকেরই। আজকের দিনে ধীরে ধীরে কিন্তু স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণই হলো দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার ও বেশি ভলিউমের মতো প্রভাব। সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড কানের ভেতরে বসে সরাসরি কানের পর্দায় শব্দ পাঠায়। দীর্ঘ সময় ধরে বেশি ভলিউমে শব্দ শোনার ফলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ বা শ্রবণ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এই কোষগুলো একবার নষ্ট হলে আর নতুন করে তৈরি হয় না। ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস স্থায়ী হয়ে যায় এবং শুরুতে অনেক সময় কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া (টিনিটাস) বা ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে অসুবিধার মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়।   ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে! শুধু জোরে গান শোনা নয়, কম ভলিউমেও দীর্ঘক্ষণ শোনা কানের শ্রবণ ব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলে। জিম, বিমানে বা রাস্তায় আশপাশের শব্দ ঢাকতে গিয়ে অনেকে অজান্তেই ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এই নিয়মিত অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে থাকলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে বেশি জোরে শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে স্বাভাবিক শব্দও কম মনে হয় এবং ভলিউম আরো বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়। শ্রবণ সমস্যার পাশাপাশি ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একটানা শব্দ শোনার ফলে মস্তিষ্ক সব সময় সজাগ অবস্থায় থাকে। এতে মানসিক বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়, যার ফলে মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা প্রায়ই নীরবতাকে এড়িয়ে চলি, অথচ মানসিক ভারসাম্য ও চিন্তাশক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য নীরবতা অত্যন্ত জরুরি।   মানতে হবে যে নিয়ম ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলুন! কানের স্বাস্থ্যের আরেকটি উপেক্ষিত দিক হলো সংক্রমণের ঝুঁকি। দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে কানে ময়লা জমা, জ্বালা, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বারবার কানের সংক্রমণ হতে পারে, যা শ্রবণ ক্ষমতাকে আরো দুর্বল করে তোলে।   বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দেন, ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলতে। একটানা ৬০ মিনিটের বেশি নয় এবং ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0

ওয়াই–ফাই কলিং প্রযুক্তি চালু করল গ্রামীণফোন

নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ডি-রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

আগামী ৯০ দিন অবৈধ বা ক্লোন মোবাইল ফোন বন্ধ হবে না

0 Comments