জাতীয়

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দিকে চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দেশে নেই উপদেষ্টা-সচিব

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়াসহ তিন দফা দাবিতে টানা তিনদিন ধরে আন্দোলন করছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ আর্থিক হওয়ায় তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

 

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

 

দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৃদ্ধি ও মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দাবি করে আসছেন।

 

গত ৫ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয় মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকেরা ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ৫০% থেকে ৭৫% এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ বিভাগে। বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের শতকরা হারে নির্ধারণে সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব হিসাব করা হয়েছে:

২০% হারে দিলে ব্যয় হবে প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকা,

১৫% হারে ২,৪৩৯ কোটি টাকা,

১০% হারে ১,৭৬৯ কোটি টাকা,

৫% হারে ১,৩৭১ কোটি টাকা।

 

অর্থ উপদেষ্টা ও সচিব যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।

 

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “শিক্ষকদের আন্দোলন রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে। সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা দিতে পারে।”

ড. রাশেদা রওনক খান মনে করেন, “শিক্ষকদের ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত না করলে মানসম্মত শিক্ষা আশা করা যায় না।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই আন্দোলন দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। শিক্ষকদের দাবি বাস্তবসম্মত, এখন সরকারের দ্রুত সংলাপ ও সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন নিরাপদ রাখতে মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী টহল জোরদার

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনী বিশেষ ফুট প্যাট্রোল পরিচালনা করছে।   শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৪৬ স্বতন্ত্র ব্রিগেডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বসিলা ও শেরেবাংলা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা রায়েরবাজার ও আদাবর এলাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এই ফুট প্যাট্রোল পরিচালনা করেন।   বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকা ও সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের আশপাশে এই তৎপরতা জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য আসন্ন নির্বাচনের আগে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ভোটাররা ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।   সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা আরও জানান, ফুট প্যাট্রোল চলাকালে সেনাসদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পায়।   স্থানীয়রা জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে তারা নিজেদের আরও নিরাপদ অনুভব করছেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী।   সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র ব্রিগেডের কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন পর্যন্ত দিনে ও রাতে এ ধরনের নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা যায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি

ছবি : সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসব ভাতা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি

ছবি : সংগৃহীত

হজযাত্রীদের ভিসা আবেদন শুরুর তারিখ জানা গেল

ছবি : সংগৃহীত
ফেব্রুয়ারিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য দুই দফায় টানা চার দিনের ছুটি

ফেব্রুয়ারিতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা চার দিনের ছুটি কাটানোর সুবিধা তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে যদি কেউ ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) একদিনের ছুটি নেন, তবে ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় টানা চার দিন অবকাশ কাটানো সম্ভব হবে। এছাড়াও, ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার দীর্ঘ ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন হিসেবে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচন পরবর্তী ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায়, এই দুই দিনে মিলিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আবারও টানা চার দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়েছে। এছাড়া ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন ছাড়াও অন্যান্য ছুটি রয়েছে। ফলে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ও জাতীয় নির্বাচনের কারণে সরকারি কর্মচারীরা সহজেই টানা চার দিনের দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুবিধা পাবেন, যা অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

শাহ মোঃ সিজু মিয়া জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি, জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামার কার্যক্রম প্রায় অচল

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি-জামায়াতের ভোট কত শতাংশ, জানাল জরিপ সংস্থা

ছবি : সংগৃহীত

ভোটের মাঠ সরগরম, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ

ছবি : সংগৃহীত
ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মানা হচ্ছে না আচরণবিধি

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ভোটগ্রহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আচরণবিধি অমান্যের প্রবণতা চোখে পড়ছে। বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নিষিদ্ধ পোস্টার ও রঙিন ব্যানারের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-৫ ও ঢাকা-৮ আসনে এখনো প্রকাশ্যে রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। পাশাপাশি, আচরণবিধি ভেঙে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।   নির্বাচন কমিশনের ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা’ অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যানার ও ফেস্টুন শুধুমাত্র সাদা-কালো রঙের হওয়ার কথা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসব লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনকে দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ২১৩টি সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ১৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ২১টি সংসদীয় আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১৮টি মামলা করা হয়েছে, জরিমানা হয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। পাশাপাশি পোস্টার ছাপানো বন্ধে প্রিন্টিং প্রেসগুলোকে নির্দেশনাও দিয়েছে কমিশন। বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিগুলো মাঠে কাজ করছে।   এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা বা থানায় দুজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন এবং প্রতিটি আসনে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি সক্রিয় আছে। কমিশনের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।   তবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও কঠোর ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক সংগঠনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সারা দেশে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে এবং সামনে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এর জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু মনোভাব দায়ী। ক্ষমতায় যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় প্রার্থীরা নিয়ম মানতে অনাগ্রহী হলেও নির্বাচন কমিশনের কঠোরতা তেমনভাবে চোখে পড়ছে না।   সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঢাকা-৮ আসনের মালিবাগ মোড়, শান্তিনগর, কাকরাইল ও মতিঝিল এলাকায় সড়কের মোড়ে মোড়ে বিশাল আকারের রঙিন সাইনবোর্ড ঝুলছে। নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারি সারি রঙিন সাইনবোর্ড পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মতিঝিলের জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচেও একাধিক রঙিন ব্যানার দেখা গেছে। এসব প্রচারে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি সরকারি স্থাপনা ও পুলিশ বক্সের ওপরও রঙিন ব্যানার টানানো হয়েছে। একই ধরনের চিত্র পুরানা পল্টনের অলিগলিতেও দেখা গেছে, যেখানে ডিজিটাল সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে বিধি লঙ্ঘন করে।   এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল বিচ্ছিন্ন করেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, নির্দিষ্টসংখ্যক রঙিন ব্যানার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, আচরণবিধিতে রঙিন ব্যানার বা সাইনবোর্ড ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই।   ঢাকা-৫ আসনের ডেমরা-রামপুরা সড়কেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের বড় আকারের রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার বিদ্যুতের খুঁটি এবং সড়কের আশপাশে সাঁটানো রয়েছে। ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের পোলেও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে।   রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায়ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রামে একাধিক প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহীতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খুলনায় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে চারজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।   সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের এই প্রবণতা নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সরকার পরিবর্তন হলেও চীন-বাংলাদেশের মধ্যে কাজ চলমান থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে ১৬ দেশ

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

0 Comments