মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরানের কট্টরপন্থী মহলের একটি প্রচারণা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–কে হত্যা করতে পারলে মোট ৫৮ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু উগ্রপন্থী প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের প্রচারণা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এটি ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তেহরানের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরাসরি কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-ইরান বৈরিতা, গাজা যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি ঘিরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষোভ নতুন নয়। ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছে দেশটির কট্টরপন্থী মহল। ইরানের অনেক নেতা ও সামরিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যেও সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–কে ঘিরেও ইরানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে কঠোর। গাজা যুদ্ধ, সিরিয়ায় হামলা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনের হত্যার আহ্বান বা পুরস্কার ঘোষণার প্রচারণা বাস্তবে সহিংসতা উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে অনলাইনে উগ্রপন্থী সমর্থকদের মধ্যে এমন বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতীতেও এ ধরনের হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন একাধিকবার সতর্কতাও জারি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহে এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরলে দেশটির প্রায় ২৩ শতাংশ নাগরিক নিজেরা দেশ ত্যাগ করার কথা ভাবছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) ইসরায়েলের প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি নতুন জনমত জরিপের বরাতে মিডল ইস্ট আই এই তথ্য জানিয়েছে। প্রকাশিত ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী দেশের অন্য ৬৮ শতাংশ নাগরিক জানিয়েছেন যে তারা এই মুহূর্তে দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন না এবং অবশিষ্ট উত্তরদাতারা এই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। নেতানিয়াহুর নতুন সম্ভাব্য শাসনকাল নিয়ে নাগরিকদের এই বড় অংশের নেতিবাচক মনোভাবের বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই জনমত জরিপে আরও দেখা গেছে যে দেশটির প্রায় ৬৭ শতাংশ নাগরিক চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পাস করা বিতর্কিত নতুন আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বিতর্কিত এই নতুন আইনের মাধ্যমে তাওরাত অধ্যায়নকে আধা-সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে সামরিক সেবা বা সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান এড়ানো কট্টর অর্থোডক্স ইসরায়েলিদের গ্রেপ্তার হওয়া থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের সাধারণ জনগণের মাত্র ২১ শতাংশ এই ধর্মীয় ও সামরিক ছাড় সংক্রান্ত নতুন আইনি পদক্ষেপের প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং বাকি অংশ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইসরায়েলের বর্তমান জোট সরকারের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণেই মূলত সাধারণ নাগরিকদের একাংশের মধ্যে দেশ ছাড়ার তীব্র প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সৌদি আরবের মাটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালেস্টিক বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বিগত প্রায় চার মাসের মধ্যে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে তেহরানের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম সরাসরি কোনো সামরিক আক্রমণ। আমেরিকার একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার সূত্র উল্লেখ করে অ্যাক্সিওসের একজন বিশেষ সংবাদদাতা মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্যটি প্রথম প্রকাশ করেন। তবে আজ শনিবারের এই আকস্মিক হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ঠিক কোন ঘাঁটিকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেই বিষয়ে ওই পোস্টে বিস্তারিত কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। এর আগে গত এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবের জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে শেষবারের মতো সরাসরি সামরিক আঘাত হেনেছিল তেহরান। সেই ঘটনার দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর আজ সৌদি আরবের ভেতরের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি সামরিক সংঘাত চলছে, যার ধারাবাহিকতায় এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসলামাবাদকে আহ্বান জানান। আসন্ন আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মাস থেকে চলা সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ী ও আন্দোলনকর্মীদের একটি সমন্বিত সংগঠন জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করছে। যদিও আন্দোলনটি প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং পরিষেবা শুল্কের প্রতিবাদে গঠিত হয়েছিল, বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত বিধানসভার আসন নিয়ে একটি আইনি বিরোধ। জেএএসি এই আসনগুলো বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, এই আসনগুলো অনাবাসীদের স্থানীয় রাজনৈতিক ফলাফল পরিবর্তন করার সুযোগ করে দেয়। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে জেএএসিকে ‘একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বৈশ্বিক সংস্থাটি সতর্ক করেছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে এবং ব্যাপক ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহার করা সংগঠন গঠনের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ৪৫ পাকিস্তান সেনা নিহতের দাবি পাকিস্তানে একটি সেনা বহরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির ৪৫ জন সেনার প্রাণ গেছে। বেলুচিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গত এক মাসে এ নিয়ে চতুর্থ বারের মতো সেনা বহরে হামলার ঘটনা ঘটল। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২৪ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) বিবৃতি অনুযায়ী, অশান্ত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বহরের ওপর হামলায় ৪৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। বিএলএর দাবি, তাদের বিশেষ ইউনিট ‘ফতেহ স্কোয়াড’ ও ‘মাজিদ ব্রিগেড’ যৌথভাবে এই হামলা চালায়। মুস্তং জেলার খডকোচা এলাকায় সেনা সদস্যদেরকে বহনকারী বাসের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রথমে একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি সোজা সেনা কনভয়ে গিয়ে ধাক্কা মারে। তাতেই ছোট গাড়ির ধাক্কায় বিস্ফোরণ ঘটে ঐ গাড়িতে। এরপরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার বিকালে সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নু জেলা ও এর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৪ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্র্রতি বান্নুতে পুলিশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং আত্মঘাতী বোমা হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনাগুলোতে ভারতের মদদপুষ্ট ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সূত্র: আলজাজিরা, ডন ও ইন্ডিয়া টাইমস