বিনোদন

টেইলর সুইফটের কনসার্টে হামলার পরিকল্পনা, তরুণের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

 

মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফটের কনসার্টে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার দায়ে ২১ বছর বয়সী এক অস্ট্রিয়ান তরুণকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে টেইলর সুইফটের বিশ্বখ্যাত ‌‘ইরাস ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আয়োজিত কনসার্টে এই ভয়াবহ নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। অস্ট্রিয়ার কঠোর গোপনীয়তা আইনের কারণে বেরান এ নামে চিহ্নিত ওই তরুণকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত আরও বেশ কয়েকটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

 

ভিয়েনার আর্নস্ট হ্যাপল স্টেডিয়ামে টেইলর সুইফটের টানা তিনটি কনসার্টের সব টিকিট ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রথম কনসার্টটি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র কাছ থেকে একটি অত্যন্ত গোপন ও জরুরি তথ্য পায় অস্ট্রিয়ান প্রশাসন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ বেরান এ-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই সন্ত্রাসী হুমকির মুখে প্রায় দুই লাখ ভক্ত অনুরাগীর পাশাপাশি স্বয়ং টেইলর সুইফটকে চরম হতাশায় ডুবিয়ে ভিয়েনার তিনটি শো-ই তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে টেইলর সুইফট এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, তার এই রেকর্ড গড়া ইরাস ট্যুরটি সে যাত্রায় একটি বড় ধরনের গণহত্যামূলক পরিস্থিতি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল। একটি তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে যে, অস্ট্রিয়া ভ্রমণের পথেই এই বোমা হামলার পরিকল্পনার কথা প্রথম জানতে পেরেছিলেন এই মার্কিন পপস্টার।

 

আদালতের সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত বেরান এ ইন্টারনেটের মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত হয়েছিল এবং উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রতি আনুষ্ঠানিক আনুগত্যের শপথ নিয়েছিল। সে কনসার্টে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে একটি মেশিনগান ও হ্যান্ড গ্রেনেডসহ বেশ কিছু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র অবৈধভাবে কেনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। 

 

আদালতের কাছে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পিটার হফম্যান জানিয়েছেন, বেরান এ-র মধ্যে কোনো মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ ছিল না এবং তার এই উগ্রপন্থী হয়ে ওঠার পেছনে কোনো মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়নি। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরের দক্ষিণে অবস্থিত উইনার নয়স্টাট শহরের একটি আদালতে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

 

এই একই মামলায় আরদা কে নামে স্লোভাকিয়ার আরেক ২১ বছর বয়সী তরুণকেও বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল, যে আইএসের ওই একই জঙ্গি সেলের সক্রিয় সদস্য ছিল। তবে টেইলর সুইফটের কনসার্টে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে আদালত তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার সকালে জুরিরা যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দীর্ঘ বৈঠকে বসেন, তখন বেরান এ আদালতের কাছে নিজের কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।

 

এই ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ হওয়ার কিছুদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন টেইলর সুইফট। তিনি লিখেছিলেন, এই ঘটনাটি তার মনে এক নতুন ধরনের গভীর ভয়ের জন্ম দিয়েছিল এবং কনসার্টগুলো বাতিল করতে বাধ্য হওয়ায় তিনি এক চরম অপরাধবোধে ভুগছিলেন। তবে নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এই মার্কিন তারকা যোগ করেন, তিনি অস্ট্রিয়ান প্রশাসনের কাছে চিরকৃতজ্ঞ, কারণ তাদের তৎপরতার কারণেই আজ লাখ লাখ ভক্তকে কোনো লাশের স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করতে হয়নি, বরং তারা কেবল বাতিল হওয়া কনসার্টের জন্যই দুঃখ প্রকাশ করতে পেরেছেন।

 

সূত্র: বিবিসি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অহনা-তুহিনের নতুন নাটক ‘নালিশ’

জনপ্রিয় জুটি অহনা রহমান ও তুহিন চৌধুরী আবারও নতুন নাটক নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হয়েছেন। বউ-শাশুড়ির সম্পর্কের নানা জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝি, পারিবারিক টানাপোড়েন ও আবেগের গল্প নিয়ে তাদের নতুন নাটক ‘নালিশ’ প্রকাশ হয়েছে লেজার ভিশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে।    জিয়াউদ্দিন আলমের পরিচালনায় নির্মিত নাটকটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   এর আগে ‘ভুল মানুষের ঘর’ নাটকে অহনা-তুহিনের জুটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল। সেই সাফল্যের পর নতুন গল্প নিয়ে তাদের আবারও একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাচ্ছে ‘নালিশ’-এ।   বউ–শাশুড়ির সম্পর্কের গল্প নিয়ে পরিচালক বলেন, ‘নালিশ’ মূলত একটি পারিবারিক আবেগঘন গল্প। বউ–শাশুড়ির সম্পর্কের নানা জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝি, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং বাস্তব জীবনের কিছু কঠিন সত্যকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে নাটকের গল্প।   গল্পের বিভিন্ন ঘটনায় সম্পর্কের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব এবং সেই দূরত্ব থেকে জন্ম নেওয়া নানা প্রশ্নকে সামনে আনা হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিবেক ও মানবিকতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে।   নাটকটির গল্প দর্শকদের শুধু বিনোদন দেবে না, বরং বউ–শাশুড়ির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করবে—এমনটাই প্রত্যাশা নির্মাতা সংশ্লিষ্টদের।   ‘নালিশ’ রচনা করেছেন জান্নাতারা ফেরদৌস মিলা এবং পরিচালনা করেছেন জিয়াউদ্দিন আলম। নাটকটিতে অহনা-তুহিন ছাড়াও কামরুন নাহার রুমা, নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া, জাহিরুল হক, দীপ রাজ, সামিয়া আফরিন মৌ ও ফারহানা ইভা অভিনয় করেছেন।   নাটকটির চিত্রগ্রহণ করেছেন হাসানুজ্জামান রাজীব। আবহসংগীত করেছেন সৌম্য সোহানুর। সম্পাদনা ও রং বিন্যাস করেছেন নেহাল আফ্রিদি।   প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে ছিলেন আইমান হোসেন শুভ। মেকআপে মো. টিটু সিকদার এবং ফটোগ্রাফিতে ছিলেন জনি আহমেদ।   নাটকটির প্রযোজক মিজানুর রহমান বাকুল। প্রডাকশন ও লেবেল—লেজার ভিশন লিমিটেড।   দর্শকদের জন্য নতুন প্রত্যাশা: ‘ভুল মানুষের ঘর’-এর সাফল্যের পর অহনা রহমান ও তুহিন হোসেনের নতুন নাটক ‘নালিশ’ দর্শকদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে পারিবারিক সম্পর্কের আবেগ, ভুল বোঝাবুঝি ও বাস্তবতার গল্প নিয়ে নির্মিত নাটকটি দর্শকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও ঐন্দ্রিলা বোস। সংগৃহীত ছবি

‘সিনিয়র তো এমনই হওয়া উচিত’, স্বস্তিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ঐন্দ্রিলা

ছবি: সংগৃহীত

আবারও রাজ-সাবিলা জুটি, নতুন সিনেমায় ভিন্নধর্মী গল্প

ছবি: সংগৃহীত

প্রসূন আজাদকে নিয়ে আবেগঘন প্রভার স্ট্যাটাস

ছবি: সংগৃহীত
প্রেম, বিচ্ছেদ পেরিয়ে বিয়ের গল্প বললেন বিজয় দেবরাকোন্ডা

জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবরাকোন্ডা। প্রেমে পড়া, হৃদয় ভাঙা থেকে শুরু করে বিয়ের অভিজ্ঞতা—জীবনের নানা বাঁকের কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন এই অভিনেতা।   সম্প্রতি সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ভাই প্রণয় রেড্ডি ভাঙ্গার প্রযোজনায় নির্মিত ‘রোমাঞ্চকম’ সিনেমার প্রচার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিজয় দেবরাকোন্ডা। সেখানে সঞ্চালক ও ভক্তদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।   অনুষ্ঠানে চলতি বছরের সবচেয়ে স্মরণীয় বা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সদ্য বিবাহিত স্ত্রী রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরেই কোনো ঘটনা শোনাবেন বিজয়। তবে ভক্তদের চমকে দিয়ে তিনি নিজের জীবনের দীর্ঘ পথচলার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   তেলুগু ভাষায় বিজয় বলেন, ১৯৮৯ সালে জন্মের পর থেকে তার জীবনের প্রতিটি বছরই নানা রোমাঞ্চে কেটেছে। জীবনে কখনো অর্থ ছিল, কখনো ছিল না—তবুও নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সময় কেটেছে বলে জানান তিনি।   অভিনেতা আরও জানান, জীবনে প্রেম এসেছে, হৃদয়ও ভেঙেছে। পরবর্তী সময়ে বিয়ের মাধ্যমে জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে জীবনের পথচলাকে দারুণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন বিজয়।   নিজের বর্তমান পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্ত্রী রাশমিকা মান্দানা ভালো আছেন জানিয়ে বিজয় বলেন, কয়েক দিন আগে শুটিং সেটে সামান্য চোট পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রামে আছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।   নিজের জীবনযাপন নিয়েও একটি তথ্য জানান বিজয়। একসময় অ্যালকোহল পান করলেও বর্তমানে তা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানান এই অভিনেতা।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিতর্ক এড়িয়ে চার দিনেই ২৫৪ কোটি আয় ইয়াশের ‘টক্সিক’র

৫০ বছর বয়সের পর সুস্থ থাকতে পরিহার করুন ৬ খাবার

অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা

ছবি: সংগৃহীত
সোহেল রানার ইচ্ছা পূরণে ৪০ বছর পর রুবেলের দামি উপহার

চিত্রনায়ক সোহেল রানা ও চিত্রনায়ক রুবেল দুই ভাই। বড় ভাইয়ের প্রতি রুবেলের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা অনেকবারই প্রকাশ্যে এসেছে। এবার প্রায় ৪০ বছর আগের একটি ইচ্ছের কথা মনে রেখে সোহেল রানাকে দামি একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছেন রুবেল। সেই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পুরোনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন সোহেল রানা।   সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রায় চার দশক আগের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেছেন সোহেল রানা। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য একসময় তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি, শহীদুল ইসলাম খোকন ও ছোট ভাই রুবেল।   সোহেল রানা লেখেন, “প্রায় ৪০ বছর আগের কথা। চিকিৎসার জন্য আমাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল। সমস্ত কিছু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বললেন, “তুমি সম্পূর্ণ সুস্থ।” মনের আনন্দে হাসপাতাল ছেড়ে হোটেলে উঠলাম। বিকেলে বেরিয়ে গেলাম।   অভিনেতা জানান, দামি ঘড়ি কেনার প্রতি তার বরাবরই আগ্রহ ছিল। তখন তার হাতে রাডোর একটি ঘড়ি ছিল। সেটি অত্যন্ত টেকসই হওয়া সত্ত্বেও নতুন একটি দামি ঘড়ি কেনার ইচ্ছা হয়েছিল তার।   সোহেল রানা বলেন, ‘দামি ঘড়ি কেনার আমার একটা শখ ছিল। রাডো হাতে ছিল, যার ওপর দিয়ে ট্রাক গেলেও ঘড়ির কিছুই হতো না। তারপরও মনে হলো আরও একটা দামি ঘড়ি কিনব। দোকানে গেলাম। সঙ্গে রুবেল এবং খোকন।’   দোকানের বিশাল শোরুমে সবচেয়ে দামি একটি ঘড়ি তার সামনে আনা হয়েছিল। কিন্তু দাম শুনে চমকে যান সোহেল রানা। তার কাছে তখন সেই ঘড়ি কেনার মতো অর্থ ছিল না। শেষ পর্যন্ত ঘড়িটি না কিনেই ফিরতে হয় তাঁকে। তবে ঘড়িটির প্রতি তাঁর মুগ্ধতা রুবেলের চোখ এড়ায়নি।   প্রায় ৪০ বছর পর সেই পুরোনো স্মৃতিই আবার ফিরিয়ে আনলেন রুবেল। সেই একই ঘড়ি না হলেও রুবেল যে ঘড়িটি উপহার দিয়েছেন, সেটিও অত্যন্ত দামি।   সোহেল রানা লেখেছেন, “গতকাল আমার বাসায় এসে আমার হাতটা টেনে নিয়ে একটা ঘড়ি পরিয়ে দিল বলল, ‘যে ঘড়িটার দিকে তুমি তাকিয়েছিলে তার দাম এখন আমার নাগালের বাইরে এক কোটি থেকে দেড় কোটি। কিন্তু তারপরেও যে ঘড়িটা আমাকে দিল, দাম বলবো না।”   তিনি লেখেন, ‘দাম দিয়ে সবকিছু কেনা যায় না, হৃদয় থাকতে হয়, ভালোবাসা থাকতে হয়। আমার সেই ইচ্ছেটা মনে রেখে চল্লিশ বছর পরে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক অনেক দামি একটা ঘড়ি নিয়ে এলো।   রুবেল ঘড়িটি পরিয়ে দিয়ে তাকে সব সময় সেটি পরে থাকার কথাও বলেন। ছোট ভাইয়ের এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘আমি শুধু তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, কথাটা না বললেও চলত। আমৃত্যু এই ঘড়ি আমার হাতেই থাকবে।’   প্রায় চার দশক আগের একটি ছোট্ট ইচ্ছেকে মনে রেখে ছোট ভাইয়ের এমন উপহার যে সোহেল রানার কাছে শুধু দামি ঘড়ি নয়, বরং ভালোবাসার স্মারক—তাঁর আবেগঘন লেখাতেই সেটি স্পষ্ট।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
অভিনেত্রী তানজিন তিশা।

তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পিবিআই, তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে

কিয়ারা আদভানী (বাঁয়ে) ও স্বস্তিকা মুখার্জী। সংগৃহীত ছবি

টক্সিক’-এর ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, কিয়ারার পাশে স্বস্তিকা

মায়ার বাঁধন’ সিনেমায় প্রসেনজিৎ ও ৮ বছরের শ্রাবন্তী (বাঁয়ে) এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (ডানে)। সংগৃহীত ছবি

৮ বছর বয়সেই প্রসেনজিতের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শ্রাবন্তী

0 Comments