ফ্লাইট আর ড্রিফটের সঙ্গে তীক্ষ্ন টার্ন। ডিন ফক্সক্রফটের ডেলিভারিটির কোনো জবাব পাননি লিটন কুমার দাস। বোল্ড হয়ে বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। হয়তো বিস্ময়ে, হয়তো হতাশায়। তবে যেটিই হোক, লিটনের ওই প্রতিক্রিয়াই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একটি প্রতীকি দৃশ্য। একটি জায়গায় আছেন লিটন, আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্তরা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত লিটনের ব্যাটিং ছিল মন্দের ভালো। ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। যদিও ফিফটি করা সাইফ আউট হওয়ার পর লিটনের দায়িত্ব ছিল ইনিংস আরও টেনে নেওয়া। তিনি সেটি তিনি পারেননি। তবে কিছু রান তো অন্তত করেছেন।
সমস্যা হলো, ৪৬ রানের এই ইনিংসটি ১৮ ইনিংসের মধ্যে তার সর্বোচ্চ স্কোর!
সেই ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পুনেতে ৬৬ রানের ইনিংসের পর এই সংস্করণে আর পঞ্চাশের দেখা পাননি তিনি। মাঝে টানা ৯ ইনিংস তো দু অঙ্কই ছুঁতে পারেননি।
ফিফটি খরার এই ১৮ ইনিংসে মোট ২৯৫ রান করেছেন স্রেফ ১৮.৪৩ গড়ে। স্ট্রাইক রেট ৭১.৪২।
দলে জায়গাও হারিয়েছিলেন এই পরিক্রমায়। বাইরে থাকার সময় তেমন কিছু না করলেও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আবার তাকে ফেরানো হয়। এবার নতুন ভূমিকায়। এখন আর তিনি টপ অর্ডার নন, ৪ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যান।
মিডল অর্ডারে নেমে অবশ্য রানে ফিরতে পেরেছেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে এই ৪৬ রানের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডেতে ৪১ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলেন। টানা ৩ ইনিংসে ৪০ ছোঁয়া ইনিংসে তার ফর্মে ফেরার আশা জেগে উঠেছে আবার। কিন্তু ফিফটির পর্যন্ত তো যেতেই পারছেন না!
এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান লিটন। দেশের চতুর্দশ ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি হবে পরের ম্যাচেই। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের বয়স ১১ বছর হতে চলেছে। অথচ ব্যাটিং গড় মোটে ৩০.৩৩। এত বছর পরও দলে জায়গা নড়বড়ে। এত অভিজ্ঞ হয়েও টানা ১৮ ইনিংসে ফিফটি নেই। তবু তার ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে নির্বাচকদের ও টিম ম্যানেজমেন্টকে। দেশের ক্রিকেট বাস্তবতার টুকরো ছবি যেন।
মিরপুরে শুক্রবার লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে যান আফিফ হোসেন। বাংলাদেশের ইনিংসও যেন থমকে যায়! তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে আফিফের জুটির সময় টানা ১১ ওভারের বেশি সময় কোনো বাউন্ডারিই হয়নি। নাগালে থাকা ম্যাচটি তখনই কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ।
সেখানে বড় দায় আফিফের। প্রায় এক ঘণ্টা ক্রিজে কাটিয়ে ৪৯ বল খেলেও কোনো বাউন্ডারি আদায় করতে পারেননি তিনি। এর চেয়েও দৃষ্টিকটূ ব্যাপার ছিল, কিছু করার চেষ্টা করেছেন বলেও মনে হয়নি। উইকেট যদিও মন্থর ছিল, বল থমকে এসেছে কিছুটা। বাউন্স ছিল একটু অসম। কিন্তু আফিফের ব্যাটিংয়ে কোনো তাড়নাই দেখা যায়নি। কিউই বোলাররা তাকে ড্রাইভ করার বল দেননি খুব একটা, লাইন-লেংথ রেখেছেন আঁটসাঁট। তিনিও উইকেটে স্রেফ পড়ে থেকেছেন, বাড়তি কিছু করার ইচ্ছে তার ব্যাটিংয়ে দেখা যায়নি।
অথচ দ্রুত রান তোলার চাপ এ দিন ছিল না, প্রতিপক্ষের বোলিং ছিল না খুব ক্ষুরধার। তবু সময়ের দাবি তিনি মেটাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ২৯ রানে।
এই চিত্রও নতুন নয়। ওয়ানডেতে এই নিয়ে টানা ১৭ ইনিংস পঞ্চাশের দেখা পেলেন না আফিফ।
সবশেষ ২০২২ সালের অগাস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে ৮১ বলে ৮৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ছয়ে নেমে। পরের ১৭ ইনিংস এমনকি ৪০ ছুঁতেও পারেননি তিনি। এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৫.৪৬, স্ট্রাইক রেট ৭৬.৩১।
আগের দুই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় ম্যাচেই তাকে টানা খেলানো হয়েছে। এই সিরিজের শুরুতেও সুযোগ পেলেন। প্রতিদান দিতে পারছেন সামান্যই।
লিটন-আফিফদের আগে এই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তও। বাজে শট খেলে বোল্ড হয়েছেন তিনি প্রথম বলেই।
অনেক সময় প্রথম বলে আউট হয়ে গেলে আসলে বলার মতা কিছু থাকে না। তবে এই ম্যাচই তো শুধু নয়, ব্যর্থতা এই সংস্করণে এখন তার নিয়মিত সঙ্গী।
তার সবশেষ ফিফটি ছিল গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ৭৭ রানের সেই ইনিংসর পর টানা ১৩ ইনিংস আর ফিফটির ছোঁয়া পাননি তিনি।
এর মধ্যে দুটি ইনিংস তিনি ব্যাট করেছেন চার নম্বরে, বাকিগুলোয় তিনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ব্যাট করে এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৪.৯২, স্ট্রাইক রেট ৬৭.৫৯।
ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম ৬ জনের ৩ জনেরই যদি থাকে এমন চিত্র, সেই দলের তো ম্যাচ জেতাই কঠিন।
নজর দেওয়া যেতে পারে অন্যদের ওপরও। সাম্প্রতি সময়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক বলা যায় তাওহিদ হৃদয়কে। সবশেষ ১১ ইনিংস ৫টি ফিফটি করেছেন তিনি, আরেকটিতে অপরাজিত ছিলেন ৪৮ রানে। বাংলাদেশ দলের বাস্তবতায়, এমন একজনের দিকে আঙুল তোলার উপায় নেই।
সমস্যা হলো, এই ৫ ফিফটির কোনোটিতেই ৬০ পর্যন্ত যেতে পারেননি তিনি। ৩ বার ফিরেছেন ৫১ রানে, এছাড়া আর ৫৫ ও ৫৬। কে না জানে, যে কোনো সংস্করণেই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যানের কাছেই বড় ইনিংসের দাবি থাকে। হৃদয় তা পারছেন না। তার ফর্ম আছে, কিন্তু বড় ইনিংস নেই।
তানজিদ হাসান গত সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন অপরাজিত ৬৭, শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১০৭। এবারের সিরিজ শুরু করলেন বাজে শটে ২ রান করে। ৩২ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি ফিফটি করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট বাংলাদেশের বাস্তবতায় দারুণ (১০১.৫১)। কিন্তু টানা দুই ম্যাচে ফিফটি ছুঁতে পারেননি একবারও।
সাইফ হাসান মোটে ১০টি ওয়ানডে খেললেন। এখনও কোনো নির্দিষ্ট ধারায় তাকে ফেলা কঠিন।। তার টেকনিক ও ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে যদিও প্রশ্ন ও সংশয় আছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮০ রানের ইনিংসের পর এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছেন। ইনিংসটি আরও বড় হওয়া উচিত ছিল ম্যাচের বাস্তবতায়। তবু আপাতত তাকে আলাদাই রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান না হলেও মেহেদী হাসান মিরাজের কাছেও রানের চাওয়া থাকে দলের। সবশেষ ১২ ইনিংসে বাংলাদেশ অধিনায়কের ফিফটি ১টি। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর লোয়ার-মিডল অর্ডারে নেমে এসেছেন তিনি। ওপরের দিকে ব্যাটসম্যানদের বেশ কজন ভালো ফর্মে নেই বলে মিরাজের দায়িত্বটা বেশি ও ভূমিকা ভিন্ন। কিন্তু তিনি পারছেন কম সময়েই।
সব মিলিয়েই ব্যাটিংয়ের চিত্র নাজুক। সবশেষ দুটি সিরিজ বাংলাদশ জিতেছে। কিউইদের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়ের সুযোগও এখনও আছে। তবে তাতে আড়াল হচ্ছে না ব্যাটিংয়ের বাস্তবতা। ওয়ানডে ক্রিকেট যেভাবে বদলে যাচ্ছে, বিশ্ব ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই ব্যাটিং দিয়ে খুব একটা তাল মেলাতে পারার কথা নয় বাংলাদেশের।
স্কোয়াডে বিকল্প আছেন সৌম্য সরকার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। নিজের সবশেষ সিরিজে দলের সর্বোচ্চ রান করার পরও সুযোগের অপেক্ষায় হাপিত্যেশ করছেন সৌম্য। অঙ্কন এখনও মাঠে নামারই সুযোগ পাননি একবারও।
সিরিজ চলার সময় এসব নিয়ে গভীর আলোচনায় যেতে চাইলেন না নতুন নির্বাচক কমিটির প্রধান হাবিবুল বাশার। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি শুধু শোনালেন তাদের দল নির্বাচনী নীতির কথা।
সিরিজের মাঝপথে এসব নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে একটা ব্যাপার বলতে পারি, দল ঘোষণার সময় যেমন বলেছিলাম, আমরা ধৈর্য রাখতে চাই, আপাতত অতীতে তাকাচ্ছি না। যাদের ওপর আস্থা রেখেছি, তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে চাই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফ্লাইট আর ড্রিফটের সঙ্গে তীক্ষ্ন টার্ন। ডিন ফক্সক্রফটের ডেলিভারিটির কোনো জবাব পাননি লিটন কুমার দাস। বোল্ড হয়ে বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। হয়তো বিস্ময়ে, হয়তো হতাশায়। তবে যেটিই হোক, লিটনের ওই প্রতিক্রিয়াই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের একটি প্রতীকি দৃশ্য। একটি জায়গায় আছেন লিটন, আফিফ হোসেন, নাজমুল হোসেন শান্তরা। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত লিটনের ব্যাটিং ছিল মন্দের ভালো। ৪৬ রানের ইনিংস খেলেছেন। যদিও ফিফটি করা সাইফ আউট হওয়ার পর লিটনের দায়িত্ব ছিল ইনিংস আরও টেনে নেওয়া। তিনি সেটি তিনি পারেননি। তবে কিছু রান তো অন্তত করেছেন। সমস্যা হলো, ৪৬ রানের এই ইনিংসটি ১৮ ইনিংসের মধ্যে তার সর্বোচ্চ স্কোর! সেই ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পুনেতে ৬৬ রানের ইনিংসের পর এই সংস্করণে আর পঞ্চাশের দেখা পাননি তিনি। মাঝে টানা ৯ ইনিংস তো দু অঙ্কই ছুঁতে পারেননি। ফিফটি খরার এই ১৮ ইনিংসে মোট ২৯৫ রান করেছেন স্রেফ ১৮.৪৩ গড়ে। স্ট্রাইক রেট ৭১.৪২। দলে জায়গাও হারিয়েছিলেন এই পরিক্রমায়। বাইরে থাকার সময় তেমন কিছু না করলেও গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে আবার তাকে ফেরানো হয়। এবার নতুন ভূমিকায়। এখন আর তিনি টপ অর্ডার নন, ৪ নম্বর পজিশনের ব্যাটসম্যান। মিডল অর্ডারে নেমে অবশ্য রানে ফিরতে পেরেছেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে এই ৪৬ রানের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডেতে ৪১ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলেন। টানা ৩ ইনিংসে ৪০ ছোঁয়া ইনিংসে তার ফর্মে ফেরার আশা জেগে উঠেছে আবার। কিন্তু ফিফটির পর্যন্ত তো যেতেই পারছেন না! এই দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান লিটন। দেশের চতুর্দশ ক্রিকেটার হিসেবে ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি হবে পরের ম্যাচেই। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের বয়স ১১ বছর হতে চলেছে। অথচ ব্যাটিং গড় মোটে ৩০.৩৩। এত বছর পরও দলে জায়গা নড়বড়ে। এত অভিজ্ঞ হয়েও টানা ১৮ ইনিংসে ফিফটি নেই। তবু তার ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে নির্বাচকদের ও টিম ম্যানেজমেন্টকে। দেশের ক্রিকেট বাস্তবতার টুকরো ছবি যেন। মিরপুরে শুক্রবার লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে যান আফিফ হোসেন। বাংলাদেশের ইনিংসও যেন থমকে যায়! তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে আফিফের জুটির সময় টানা ১১ ওভারের বেশি সময় কোনো বাউন্ডারিই হয়নি। নাগালে থাকা ম্যাচটি তখনই কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। সেখানে বড় দায় আফিফের। প্রায় এক ঘণ্টা ক্রিজে কাটিয়ে ৪৯ বল খেলেও কোনো বাউন্ডারি আদায় করতে পারেননি তিনি। এর চেয়েও দৃষ্টিকটূ ব্যাপার ছিল, কিছু করার চেষ্টা করেছেন বলেও মনে হয়নি। উইকেট যদিও মন্থর ছিল, বল থমকে এসেছে কিছুটা। বাউন্স ছিল একটু অসম। কিন্তু আফিফের ব্যাটিংয়ে কোনো তাড়নাই দেখা যায়নি। কিউই বোলাররা তাকে ড্রাইভ করার বল দেননি খুব একটা, লাইন-লেংথ রেখেছেন আঁটসাঁট। তিনিও উইকেটে স্রেফ পড়ে থেকেছেন, বাড়তি কিছু করার ইচ্ছে তার ব্যাটিংয়ে দেখা যায়নি। অথচ দ্রুত রান তোলার চাপ এ দিন ছিল না, প্রতিপক্ষের বোলিং ছিল না খুব ক্ষুরধার। তবু সময়ের দাবি তিনি মেটাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ২৯ রানে। এই চিত্রও নতুন নয়। ওয়ানডেতে এই নিয়ে টানা ১৭ ইনিংস পঞ্চাশের দেখা পেলেন না আফিফ। সবশেষ ২০২২ সালের অগাস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে ৮১ বলে ৮৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ছয়ে নেমে। পরের ১৭ ইনিংস এমনকি ৪০ ছুঁতেও পারেননি তিনি। এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৫.৪৬, স্ট্রাইক রেট ৭৬.৩১। আগের দুই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় ম্যাচেই তাকে টানা খেলানো হয়েছে। এই সিরিজের শুরুতেও সুযোগ পেলেন। প্রতিদান দিতে পারছেন সামান্যই। লিটন-আফিফদের আগে এই ম্যাচে ব্যর্থ হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তও। বাজে শট খেলে বোল্ড হয়েছেন তিনি প্রথম বলেই। অনেক সময় প্রথম বলে আউট হয়ে গেলে আসলে বলার মতা কিছু থাকে না। তবে এই ম্যাচই তো শুধু নয়, ব্যর্থতা এই সংস্করণে এখন তার নিয়মিত সঙ্গী। তার সবশেষ ফিফটি ছিল গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ৭৭ রানের সেই ইনিংসর পর টানা ১৩ ইনিংস আর ফিফটির ছোঁয়া পাননি তিনি। এর মধ্যে দুটি ইনিংস তিনি ব্যাট করেছেন চার নম্বরে, বাকিগুলোয় তিনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ব্যাট করে এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় ১৪.৯২, স্ট্রাইক রেট ৬৭.৫৯। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম ৬ জনের ৩ জনেরই যদি থাকে এমন চিত্র, সেই দলের তো ম্যাচ জেতাই কঠিন। নজর দেওয়া যেতে পারে অন্যদের ওপরও। সাম্প্রতি সময়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক বলা যায় তাওহিদ হৃদয়কে। সবশেষ ১১ ইনিংস ৫টি ফিফটি করেছেন তিনি, আরেকটিতে অপরাজিত ছিলেন ৪৮ রানে। বাংলাদেশ দলের বাস্তবতায়, এমন একজনের দিকে আঙুল তোলার উপায় নেই। সমস্যা হলো, এই ৫ ফিফটির কোনোটিতেই ৬০ পর্যন্ত যেতে পারেননি তিনি। ৩ বার ফিরেছেন ৫১ রানে, এছাড়া আর ৫৫ ও ৫৬। কে না জানে, যে কোনো সংস্করণেই থিতু হওয়া ব্যাটসম্যানের কাছেই বড় ইনিংসের দাবি থাকে। হৃদয় তা পারছেন না। তার ফর্ম আছে, কিন্তু বড় ইনিংস নেই। তানজিদ হাসান গত সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন অপরাজিত ৬৭, শেষ ম্যাচে করেছিলেন ১০৭। এবারের সিরিজ শুরু করলেন বাজে শটে ২ রান করে। ৩২ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি ফিফটি করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট বাংলাদেশের বাস্তবতায় দারুণ (১০১.৫১)। কিন্তু টানা দুই ম্যাচে ফিফটি ছুঁতে পারেননি একবারও। সাইফ হাসান মোটে ১০টি ওয়ানডে খেললেন। এখনও কোনো নির্দিষ্ট ধারায় তাকে ফেলা কঠিন।। তার টেকনিক ও ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে যদিও প্রশ্ন ও সংশয় আছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮০ রানের ইনিংসের পর এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি করেছেন। ইনিংসটি আরও বড় হওয়া উচিত ছিল ম্যাচের বাস্তবতায়। তবু আপাতত তাকে আলাদাই রাখা যায়। বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান না হলেও মেহেদী হাসান মিরাজের কাছেও রানের চাওয়া থাকে দলের। সবশেষ ১২ ইনিংসে বাংলাদেশ অধিনায়কের ফিফটি ১টি। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর লোয়ার-মিডল অর্ডারে নেমে এসেছেন তিনি। ওপরের দিকে ব্যাটসম্যানদের বেশ কজন ভালো ফর্মে নেই বলে মিরাজের দায়িত্বটা বেশি ও ভূমিকা ভিন্ন। কিন্তু তিনি পারছেন কম সময়েই। সব মিলিয়েই ব্যাটিংয়ের চিত্র নাজুক। সবশেষ দুটি সিরিজ বাংলাদশ জিতেছে। কিউইদের বিপক্ষে এই সিরিজ জয়ের সুযোগও এখনও আছে। তবে তাতে আড়াল হচ্ছে না ব্যাটিংয়ের বাস্তবতা। ওয়ানডে ক্রিকেট যেভাবে বদলে যাচ্ছে, বিশ্ব ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই ব্যাটিং দিয়ে খুব একটা তাল মেলাতে পারার কথা নয় বাংলাদেশের। স্কোয়াডে বিকল্প আছেন সৌম্য সরকার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। নিজের সবশেষ সিরিজে দলের সর্বোচ্চ রান করার পরও সুযোগের অপেক্ষায় হাপিত্যেশ করছেন সৌম্য। অঙ্কন এখনও মাঠে নামারই সুযোগ পাননি একবারও। সিরিজ চলার সময় এসব নিয়ে গভীর আলোচনায় যেতে চাইলেন না নতুন নির্বাচক কমিটির প্রধান হাবিবুল বাশার। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি শুধু শোনালেন তাদের দল নির্বাচনী নীতির কথা। সিরিজের মাঝপথে এসব নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে একটা ব্যাপার বলতে পারি, দল ঘোষণার সময় যেমন বলেছিলাম, আমরা ধৈর্য রাখতে চাই, আপাতত অতীতে তাকাচ্ছি না। যাদের ওপর আস্থা রেখেছি, তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে চাই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ফুটবল ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তান বনাম আর্জেন্টিনার প্রীতি ফুটবল ম্যাচের কথা। তা নিয়ে কথাবার্তাও নাকি অনেক দূরে এগিয়েছে। তবে কবে-কোথায় সেই ম্যাচ হবে, কারা খেলবেন সেসব কিছুই ঠিক হয়নি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের মতে, পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ) এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তারা অনলাইন বৈঠকে একাধিক বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে কোচিং উন্নয়ন, কাঠামোগত বিভিন্ন কর্মসূচি ছাড়াও রয়েছে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের কথা। আর্জেন্টিনায় অবস্থিত পাকিস্তানের মিশনের পক্ষ থেকে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল। জানা গেছে, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, যাতে পাকিস্তানি কোচেদের আর্জেন্টিনায় নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। এই মিটিংয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ছিলেন ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান সৈয়দ মহসিন গিলানি ও অ্যাম্বাসেডর হাসান আফজল খান। আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে ছিলেন ফ্রান্সিসকো লেম্মি। আলোচনা যদিও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তবে মনে করা হচ্ছে, ফুটবল বিশ্বকাপের পর কোনও একসময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে পারে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে কি মেসিও খেলবেন? তা নিয়ে কোনও পক্ষই মুখ খুলেনি। তবে এই ধরনের প্রীতি ম্যাচে মেসির খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাছাড়া আলোচনা এখনও প্রাথমিক স্তরে। আদৌ কথাবার্তা কোন দিকে এগোয়, সেদিকে নজর থাকবে। যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে আশা করা হয়েছে, সব ঠিকঠাক চললে সে দেশের ফুটবল অগ্রগতির পথ খুলে যাবে।
আইপিএল ২০২৬ আসরে হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না কলকাতা নাইট রাইডার্স। শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এখনও পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে ৫টিতেই হেরেছে কেকেআর। এক ম্যাচে বৃষ্টির কল্যাণে ঝুলিতে এক পয়েন্ট। তাদের মত দুর্দশা এবারের আসরে আর কারও নেই। ১০ দলের মধ্যে এখনও জয়হীন থাকা একমাত্র দল কলকাতা নাইট রাইডার্স। রয়েছে পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানিতে, ১০ম স্থানে। প্লেয়ার, কোচিং স্টাফ ঢেলে সাজিয়ে এবারের আসরে নতুন চেহারায় মাঠে নামার অপেক্ষায় ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রথমবার প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন অভিষেক নায়ার। সাথে সহকারী কোচ হিসেবে শেন ওয়াটসন, বোলিং কোচ হিসেবে টিম সাউদিকে নেয় কেকেআর। মেন্টর হিসেবে আগে থেকেই ছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো। নিলামের টেবিলেও দেদারসে টাকা খরচ করেছে কেকেআর।তবে মাঠের ক্রিকেটে ফল আসছে না কেকেআরের পক্ষে। শুক্রবার কেকেআরের দেওয়া ১৮১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌছে গেল গুজরাট টাইটান্স। অধিনায়কোচিত ৮৬ রানের ইনিংস খেললেন শুভমান গিল। যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিল কেকেআকেক তাকে ছাড়াটা কত বড় ভুল ছিল। এই ম্যাচ হারের ফলে লজ্জার নজির গড়ল কেকেআর। এর আগে কোনও দিন মৌসুমে প্রথম টানা ৬ ম্যাচে জয় পায়নি কেকেআর এমনটা হয়নি। কেকেআরের পরের ম্যাচ ১৯ এপ্রিল, রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে। এমন লেজেগোবরে দশা থেকে দলকে উদ্ধার করতে দরকার কেবল একটি জয়, তবে এমন পরিস্থিতিতে সেই ত্রাণকর্তা কে হবেন তা এক বড় প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তরের মাঝেই হয়ত মিশে আছে কেকেআরের এবারের আসরের গতিপথ।