চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।
আজ শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিÑ এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রুটিন প্রকাশ করা হবে। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’
সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষায় আলোচিত ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল প্রথা বাতিল বিষয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, পরীক্ষা পরিচালনার ১৯৬১ সালের নীতিমালায় থাকা বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে রহিত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। কাউকে শাস্তি দিতে হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দিতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল প্রমাণিত হলে সেখানেই ব্যবস্থা নিতে হবে, নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করা আইনগতভাবে প্রযোজ্য নয়।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য, যাতে তারা মানসম্মত শিক্ষা ও সঠিক পরীক্ষা নিশ্চিত করেন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ক্ষমতার দুই মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই আজ জনগণকে দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে হয়েছে। রাজপথের আন্দোলন কিন্তু আপনাদের জন্য ভালো বার্তা দেবে না। জনগণের ভাষা বুঝুন, তাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করবেন না।’ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির টাংক মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে’ এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে গণমিছিল রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সরকারের উদ্দেশে এ টি এম আজহার বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর এখন সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। কোন সংবিধানের বলে আপনারা ক্ষমতায় আছেন, এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন? একটা আইন মানবেন আর একটা আপনাদের বিরুদ্ধে গেলে মানবেন না, এটা জনগণও মেনে নেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দেশের মানুষ ১৬ বছর আন্দোলন করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন পেটুয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমন করবেন, তবে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে রাখবেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাউকে আজীবন ক্ষমতায় রাখে না। আওয়ামী লীগ ভুয়া নির্বাচন করে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেনি, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘আমরা যখন সাংবাধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, দুদক, বিচার বিভাগের সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, পুলিশ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীদের সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার চিরাচরিত অভ্যাস হাওয়া ভবনের ভাই-ব্রাদারদের নিয়ে এসেছে কাউকে দুদকে, কাউকে বাংলাদেশ ব্যাংকে, কাউকে বিচারালয়ে বসিয়েছে, কাউকে পুলিশ প্রশাসনে, কাউকে সংসদে নিজের মুখ বন্ধ করে তাকে গ্রিন কার্ড দিয়ে বলেছে, তুমি যা ইচ্ছা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করতে পার। তোমাকে আমি গ্রিন কার্ড দিয়ে দিলাম।’ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই যদি হয় জিয়াউর রহমানের সন্তানের ভবিষ্যৎ, তাহলে তার ভবিষ্যতে সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাবে না।’ জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। কিন্তু সরকারের সমালোচনা করলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সরকারকে কঠিন ভাষায় কথা বললে তো কাল আবার বাসায় হামলা করবে। তাই বিনয়ের সঙ্গেই জিজ্ঞেস করছি, এতই যদি জ্বালানি মজুদ থাকে, তবে তেলের জন্য কেন দীর্ঘ লাইন? এই মজুদ আপনারা কোথায় রেখেছেন? নতুন হাওয়া ভবন কোথায় সৃষ্টি করেছেন?’ বক্তব্যে তাকে দেওয়া অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, ‘আমাকে যারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন, তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করে দিল্লির সামনে মাথা নত করে আপনাদের মতো প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে মরব না। আল্লাহ নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু দেবেন। তার আগ পর্যন্ত ইনসাফের লড়াই চালিয়ে যাব।’ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর আযাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, এবি পার্টির সহসভাপতি ড. ওহাব মিনার, ডেভলপমেন্টমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চাঁন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতা খন্দকার মেরাজুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মসলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী প্রমুখ।
ইত্যাদি ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। আজ সকালে স্থানীয় শহীদ আমান উল্যাহ উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে এই সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুরের কৃতী সন্তানদের অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থা ইত্যাদি ফাউন্ডেশন। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন, এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। প্রতিবছর এই বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট, স্কুলব্যাগ ও সনদপত্র তুলে দেন। শহীদ আমান উল্যাহ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু নাছের টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভুলুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু জাফর মুহাম্মদ হারুন, ইত্যাদি ফাউন্ডেশনের স্থায়ী পরিষদ সদস্য কাজী আসাদ উল্লাহ দিদার এবং বৃত্তির পৃষ্ঠপোষক প্রবাসী ব্যবসায়ী মো. কামরুল হাসান ওরফে বাবু। জেলার বেগমগঞ্জ, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়া ৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীর মাঝে এসব বৃত্তি প্রদান করা হয়।
স্থানীয়দের মারধরে সময় টিভির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রতিনিধি জাহিন সরকার আবিরসহ চার শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভ শেষে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্থানীয়দের হামলার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি পহেলা বৈশাখে এক সিএনজি চালকের হামলা এবং গত বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয়দের হামলায় শত শত শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও কার্যকর উপস্থিতি নেই, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীন করে তুলছে। দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতব্বার বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য ক্যাম্পাসে আসে, কিন্তু বারবার তাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। তিনি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চবির রেলক্রসিং এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মারধরে চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন আলীমুল শামীম, মাহবুব হোসেন ফরহাদ, জাহিন সরকার আবির এবং আশিকুর ইসলাম।