যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো সামরিক যন্ত্রাংশের দুটি চালান বেলজিয়ামে জব্দ করা হয়েছে। দেশটির আকাশসীমা ও মাটি ব্যবহার করে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে ব্রিটিশ অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ডিক্লাসিফাইড’, বেলজিয়ামের মানবাধিকার সংগঠন ভ্রেইডেসাক্টি, আইরিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিচ’ এবং প্যালেস্টাইন ইয়ুথ মুভমেন্ট বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দর হয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে ব্রাসেলসকে সতর্ক করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ মার্চ লিয়েজ বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে চালান দুটি জব্দ করা হয়, যা আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে রওয়ানা হয়েছিল।
জব্দ করা সরঞ্জাম পরীক্ষা করে বেলজিয়ামের এক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সেখানে অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জাম যথাযথ ঘোষণা ছাড়াই পাঠানো হয়েছিল। ইতোমধ্যে ঘটনাটির বিষয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ।
তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ না করলেও দক্ষিণ বেলজিয়ামের ওয়্যালুন আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনায় যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হলো মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানি মুগ ইনকর্পোরেটেড.। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটন কারখানা থেকে আগেও বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চালানগুলো যুক্তরাজ্যের একটি ‘ওপেন ইন্ডিভিজুয়াল এক্সপোর্ট লাইসেন্স’-এর আওতায় রপ্তানি করা হচ্ছিল এবং সেগুলোকে সামরিক সরঞ্জাম না দেখিয়ে সাধারণ ‘বিমানের যন্ত্রাংশ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একইভাবে অন্তত ১৭টি চালান যুক্তরাজ্য থেকে লিয়েজ হয়ে ইসরায়েলে পাঠানো
মুগ ইনকর্পোরেটেড. মূলত এম-৩৪৬ প্রশিক্ষণ বিমানের জন্য অ্যাকচুয়েটর তৈরি করে, যা ইসরায়েলি পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বেলজিয়াম হয়ে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে নির্দিষ্ট কোনো নথি নেই।
এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির ৩৫০টি লাইসেন্সের মধ্যে ৩০টি স্থগিত করে। গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও দেশটির বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, গাজায় সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সরঞ্জামের লাইসেন্স স্থগিত থাকলেও এফ-৩৫ কর্মসূচির জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়্যালুন সরকারের মুখপাত্র জানান, এই ধরনের মালামাল পরিবহনের জন্য ট্রানজিট লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই চালানের ক্ষেত্রে কোনো লাইসেন্সের আবেদনই করা হয়নি। এমনকি আবেদন করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অনুমোদন দেওয়া হতো না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইউরোপজুড়ে অস্ত্র রপ্তানি ও ট্রানজিট নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং ইসরায়েল-গাজা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নজরদারি আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইউক্রেন থেকে চুরি করা শস্য বহনকারী একটি রুশ জাহাজকে বন্দরে ভিড়তে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউক্রেন। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইভজেন কর্নিচুক বলেন, জাহাজটিতে চুরি করা শস্য রয়েছে—এমন প্রমাণ আগেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছিল। তবুও সেটিকে বন্দরে ভিড়তে দেওয়ায় ইউক্রেন হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তার ভাষায়, “আমরা যদি ইরান থেকে কেনাকাটা শুরু করতাম, তাহলে ইসরায়েল তা ভালোভাবে নিত না। আমরা তা এড়িয়ে চলি। একইভাবে রাশিয়ার বিষয়েও আপনাদের কাছ থেকে একই ধরনের অবস্থান প্রত্যাশা করি।” কর্নিচুক জানান, গত ২৭ মার্চ তিনি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগে এ বিষয়ে প্রমাণ জমা দেন। তবে ইসরায়েল ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের অপেক্ষায় ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত Mikhail Brodsky ইউক্রেনের আদালতের নির্দেশনা ও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। তবুও জাহাজটি থামানোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ইউক্রেনের। ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও বিচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিল। অন্তত অতিরিক্ত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজটির প্রবেশ বিলম্বিত করা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তির লঙ্ঘন। বিষয়টির সমাধানে ইউক্রেন কূটনৈতিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর দপ্তর সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের উদ্যোগ নেয়। তবে সময়সূচির জটিলতার কারণে সেই অনুরোধ আপাতত নাকচ করা হয়েছে। তবুও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইসরায়েল-ইউক্রেন সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
দক্ষিণ লেবানন সফরকালে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ঘোষণা দিয়েছেন, লেবানন ও ইরান—উভয় ফ্রন্টকে সামনে রেখে নতুন রণপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার জেনারেল স্টাফ ফোরামের সঙ্গে এক বৈঠকে এই ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত করা হয় বলে তিনি জানান। পরে বেত লিফ এলাকায় আইডিএফ-এর ১৬২তম ডিভিশন পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “গতকাল ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলো অনুমোদন করেছি। আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত মূল্যায়ন করছি এবং লেবানন ও ইরান—উভয় ক্ষেত্রেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত করা হয়েছে। তার ভাষায়, “ইরানের সামরিক কাঠামোকে দুর্বল করা হয়েছে এবং তাদের কৌশলগত সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” ইয়াল জামির জানান, আইডিএফ বর্তমানে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো সম্পূর্ণ সজ্জিত এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অভিযান শুরু করার সক্ষমতা রাখা হয়েছে। লেবানন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে হিজবুল্লাহর এক হাজার সাতশোর বেশি সদস্য নিহত হয়েছে। তার মতে, এটি সংগঠনটির জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। পাশাপাশি তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকাকে হিজবুল্লাহর জন্য “চাপপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল” হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থির করে তুলতে পারে।
লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে তথা ইসরায়েলের দখল-করা উত্তর ফিলিস্তিনের উত্তরাঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। খবর পার্স টুডে। আল জাজিরাসহ সংবাদ সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে হিজবুল্লাহ নতুন করে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করলে সীমান্তবর্তী কিরিয়াত শামুনা শহর ও আশপাশের অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে। মাত্র ১০ মিনিটে হিজবুল্লাহর ত্রিশটি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর ইসরায়েলে এবং বিশেষ করে আল-জালিল বা গ্যালিলি অঞ্চলের পশ্চিম অংশে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে কোনো কোনো সূত্র উল্লেখ করেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ইসরায়েলের কিরিয়াত শামুনা শহর ও আশপাশের অঞ্চলে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়াও ইসরায়েলের দখল-করা আক্কা, নেহারিয়া, আলজালিল আলিয়া ও পশ্চিম আলজালিল অঞ্চলে সাইরেন।