মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন প্রয়োজন পূরণে অন্যের সহযোগিতার দরকার হয়। কখনো ব্যবসার প্রয়োজনে, কখনো চিকিৎসার জন্য, আবার কখনো পারিবারিক সংকট মোকাবিলায় ঋণ বা ধার নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। ইসলাম মানবজীবনের এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করেনি; বরং ঋণ গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের জন্য সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। একদিকে যেমন প্রকৃত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণকে বৈধ করা হয়েছে, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধে অবহেলা, তালবাহানা এবং অসততাকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে। একইসঙ্গে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঋণ দেওয়াকে সওয়াবপূর্ণ ও মহৎ আমল হিসেবে উৎসাহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মূল্যবান দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়— কাউকে টাকা ধার দেওয়া-নেওয়ার ইসলামি বিধান কী?
শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন— ‘শরীয়া দৃষ্টিকোন থেকে টাকা ধার নেওয়া, কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়া এটা জায়েজ আছে যদি কারো প্রয়োজন হয়। খোদ নবী করীম (সা.) ঋণ গ্রহণ করেছেন, সাহাবিদের মধ্যে ঋণ গ্রহণ করা দেওয়া— এগুলো প্রচলন ছিল। অতএব কারো প্রয়োজন হলে ঋণ গ্রহণ করতে কারো কাছ থেকে কোনো অসুবিধা নেই। তবে ঋণ হতে হবে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। যেন তেন কারণে একান্ত প্রয়োজন না হলে মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া— এটা খুব ভালো কোনো কাজ না।
মানুষের কাছে ঋণের জন্য হলেও যে হাত পাতা হয়, চাওয়া হয়; সে চাওয়াটা হবে একান্ত প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে। যদিও এটা তার কাছ থেকে দান বা দক্ষিণা চাওয়া নয় বরং ঋণ চাওয়া। কিন্তু তারপরও এটা যখন প্রয়োজন হবে তখনই চাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আজকাল দেখা যায় অনেকে ঠুনকো কোনো কারণে যেটা আসলে খুব বেশি একান্ত প্রয়োজনের সীমানায় ফেলার মতো না; সে রকম বিষয়ের জন্য যেন তেনো কারণে ঋণ করে। অতএব জরুরতের ভিত্তিতে কোনো প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ঋণ গ্রহণ করা ঋণ নেওয়া এটা জায়েজ আছে তবে তার জন্য শর্ত হলো— সুদমুক্ত ঋণ নেওয়া। এবং সেই সাথে শর্ত হলো— ঋণ আদায়ে সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে।
আজকাল অনেকে ঋণ নেন কিন্তু আদায় করার ব্যাপারে সদ্বিচ্ছা নেই। কারো কাছ থেকে সরাসরি চাইতে অসুবিধা, সে জন্য ঋণের কথা বলে চান, ওনার নিয়ত হলো দেবেন না। যে তার অনেক আছে, ডাইরেক্ট চাই কীভাবে। এ জন্য ঋণের কথা বলে চাই। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার সময় নিয়তই হলো এটা আর ফেরত দেবো না। তো এ রকম উদ্দেশ্যে যদি ঋণ গ্রহণ করা হয় তাহলে সেটা জায়েজ নেই।
তিনি আরও বলেন, পরিশোধ করার পাক্কা এরাদা আছে, নিয়ত আছে, প্ল্যান-পরিকল্পনা আছে এবং সুধভিত্তিক কোনো ঋণ নিচ্ছেন না এ রকম যদি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে একান্ত জরুরতের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করা জায়েজ আছে।
আর যিনি ঋণ দেবেন, তার জন্য এটা সর্বাবস্থায় প্রসংশনীয়; বিশেষ করে কাউকে যদি ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে তার কোনো বিপদ দূর হয়, তার কোনো কষ্ট দূর হয়, তার কোনো বিশেষ উপকার হয়; তাহলে সেক্ষেত্রে ঋণ দেওয়াটা এটা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি কাজ।
অনেক ওলামায়ে কেরাম ঋণ দেওয়াটাকে মুস্তাহাব বলেছেন।
বিশেষ করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দান করার চাইতেও ঋণ দেওয়ার সওয়াবের পরিমাণ বেশি বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত রয়েছে। এখন প্রশ্ন ওঠতে পারে— দানের ক্ষেত্রে তো একটা মানুষকে পুরোপুরি দিয়ে দেওয়া হয়। আর ঋণের ক্ষেত্রে তো পুরোপুরি দেওয়া হয় না। তাহলে পুরোপুরি দিয়ে দিলে তার চাইতে আবার ঋণের ফজিলত সওয়াব বেশি কীভাবে হতে পারে।
এর উত্তর হলো— এটা সব ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থে হয়তো প্রযোজ্য না। এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা মুহাদ্দিসিনেকেরাম দিয়েছেন। এর একটা প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা হলো— কোনো ব্যক্তিকে দান করা হয়েছে; এ দানটা না হলে তার যে অনেক অসুবিধা হতো এ রকম না। এমত পরিস্থিতিতে বা এ ধরনের পরিস্থিতিতে যে দান হয়ে থাকে সেই দানের তুলনায় ওই ঋনের সওয়াব বেশি, যে ঋণ একটা মানুষের অনেক উপকার করবে। তার অনেক বড় বিপদ থেকে রক্ষা হবে। তাহলে একজনকে আপনি দশ বিশ পঞ্চাশ একশ টাকা দান করলেন; এটা না করলেও আসলে এটা তার তেমন কিছু হতো না; এটা নেয়াতে তার উপকার হয়েছে কিন্তু আহামরি কিছু না। আর এর বিপরীতে একই পরিমাণ টাকা যদি আরেকজনকে ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে তার বিরাট উপকার হবে। এমত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে কোনো কোনো জায়গায় দানের চাইতে ঋণের, ঋণ দেওয়ার উপকারিতা ঋণ গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য হয়; সে রকম পরিস্থিতিতে দানের চাইতেও ঋণের সওয়াব বেশি হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তাহলে খোলাসা কথা হলো— জরুরত হলে কোনো বিশেষ প্রয়োজন হলে কারো কাছ থেকে ধার নেওয়া, ঋণ নেওয়া জায়েজ আছে; কিন্তু সেটা পরিশোধ করার সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। ঋণ দেওয়ার অনেক মানুষের সদ্বিচ্ছা আছে, অনেকে ঋণ দিতে চান কিন্তু ঋণ গ্রহিতারা তালবাহানা করেন, পরিশোধ করতে চান না, ঘুরান; এ বদঅভ্যাস এবং এই খারাপ কালচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ঋণ দেওয়ার যে আমলটা আছে, এটা সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এবং মানুষ সুদী ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে হচ্ছে। তো এই জন্য যারা ঋণ নিয়ে সেটা তালবাহানা করেন, ঘুরান, দিতে চান না; তারা মূলত সুদকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখছেন। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম।
নবী করীম (সা.) বলেছেন—
‘একজন স্বচ্ছল মানুষ, সে ঋণ নেওয়ার পরে যদি তালবাহানা করে এবং দিতে না চায়, ঘুরাঘুরি করায়; তাহলে সেক্ষেত্রে সেটা স্পষ্ট জুলুম।’
এ জন্য কারো কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পর সেটা পরিশোধ করার জন সদ্বিচ্ছা থাকতে হবে। স্পষ্ট সময় দেওয়ার জন্য নিয়ত থাকতে হবে, পরিকল্পনা থাকতে হবে; তাহলে ঋণ নেওয়াটা জায়েজ আছে।
ঋণ কোনো খেলাচ্ছলে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের হক এবং একটি গুরুতর আমানত। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ করা যেমন অনুচিত, তেমনি ঋণ নিয়ে পরিশোধে গড়িমসি করাও বড় ধরনের অন্যায় ও জুলুম। একজন মুমিনের উচিত ঋণ গ্রহণের সময় তা পরিশোধের দৃঢ় নিয়ত ও বাস্তব পরিকল্পনা রাখা। অন্যদিকে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যথাসম্ভব সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে তাদের কষ্ট লাঘব করা। ব্যক্তি ও সমাজ উভয় পর্যায়ে এই ইসলামী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, মানুষের কষ্ট কমবে এবং সুদভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে মানুষের হক আদায় করার, আমানত রক্ষা করার এবং ইসলামের সুন্দর অর্থনৈতিক শিক্ষার ওপর চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সূত্র: শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিডিও থেকে নেওয়া।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং তার বন্ধুমহল কেমন, সে বিষয়ে বাবা-মাকে খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ আহ্বান জানান। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান বলেন, সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, তার বন্ধু সার্কেল কেমন, সেটার খোঁজখবর রাখা আমাদের প্রত্যেক বাবা-মায়ের দায়িত্বও বটে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড সেটি আমাদের আরও স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে, তারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের শিকার অপ্রতিমকে ঘাতক তুহিনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যায়। রাশেদ খান আরও বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপ্রতিম একটু সিনিয়র ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করত। সেই জায়গা থেকে তুহিনদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। আমরাও ছোটবেলায় এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে ওঠাবসা করেছি। কিন্তু এলাকার খারাপ ছেলেদের থেকে সবসময় দূরে থাকার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শাসন ও নৈতিক নির্দেশনাও বড় একটি ব্যাপার ছিল। তিনি বলেন, দেশের সব এলাকাতেই তুহিনদের মতো কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে। তারা ফেসবুকে চটকদার ছবি ও সিনেমাটিক ভিডিও প্রকাশ করে অল্পবয়সী তরুণদের আকৃষ্ট করে নিজেদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। রাশেদ খান বলেন, গণমাধ্যমের খবরে এসেছে, আইফোনের লোভ দেখিয়ে ছবি তোলার কথা বলে তারা শিশু অপ্রতিমকেও বিভ্রান্ত করে ঘর থেকে বের করে আনে। বাবা-মায়ের কর্মব্যস্ততার কারণে হয়তো শিশুটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তৈরি হওয়ার বিষয়টি বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, অপ্রতীমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কিশোর গ্যাং নির্মূলের বার্তা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব, এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নতুবা আগামীকাল আপনার-আমার সন্তানের পরিণতিও অপ্রতীমের মতো হতে পারে। এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে মন্তব্য করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, সব ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করতে পারেন, যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি বর্তমান বিরোধী দলের দেশব্যাপী নিত্যনতুন কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত থাকবে, নাকি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধে মনোযোগ দেবে, নাকি সামাজিক অপরাধ বন্ধে বেশি গুরুত্ব দেবে? কোথায় অগ্রাধিকার থাকা দরকার? কারণ জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। আর ১৬ বছরে বাহিনীগুলোকে দলীয়করণ করার অপচেষ্টার ইতিহাসও কারও অজানা নয়। তিনি বলেন, এ কারণে যেখানে বিরোধী দলের দায়িত্ব ছিল ১৬ বছর ধরে তৈরি হওয়া জঞ্জাল, অপসংস্কৃতি, অপরাধ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দমনে সরকারকে সহযোগিতা করা, সেখানে উলটো অসহযোগিতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ বাসে আগুন দিচ্ছে, ককটেল মারছে। আবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এক দফার হুমকি দিয়ে রাজপথ গরম করছে। রাশেদ খান বলেন,অর্থাৎ বিএনপি সরকারকে একসঙ্গে দুটি বিরোধী দলের অপতৎপরতা সামলিয়ে দেশ চালাতে হচ্ছে। এটা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিতভাবে সরকারকে সহযোগিতার বিকল্প নেই।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য রাজশাহীতে ‘ফাউন্ডার্স গেট-টুগেদার অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং সেশন’ আয়োজন করেছে নেক্সট লিডার্স। আজ শনিবার নগরের হোটেল এক্স, ইনডেক্স প্লাজায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০ জন উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক অংশীদার, পরিচালক এবং মার্কেটিং ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতের পেশাজীবী অংশ নেন। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালনার নানা সমস্যা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিক্রয় ও বিপণন, ব্র্যান্ডিং এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাজার গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যবসা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন অংশগ্রহণকারীরা। আয়োজকেরা জানান, নিজেদের ব্যবসার অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলাই ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। নতুন পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেক্সট লিডার্সের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ওমর শরীফ ইবনে হাই। ই-কমার্স, ব্যবসা উন্নয়ন ও বিপণন খাতে তাঁর ২২ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। আয়োজনে হোয়াটসঅ্যাপ এ পি আই সলিউসন পার্টনার হিসেবে ছিল ওয়াসেনসি। রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টনার ছিল পাথফাইন্ডার রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার (পিআরসিসি) এবং অফিসিয়াল লোকাল কমিউনিটি পার্টনার ছিল জেসিআই রাজশাহী। এআই অটোমেশন পার্টনার হিসেবে ছিল সেলোরাএক্স এবং কৌশলগত অংশীদার ছিল নূর গার্মেন্টস। গিফট পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করে হারামাইন স্টোর, জৌদ, গ্রো অর্গানিক, কাজীরহাট গ্যালারি ও বিসকাট। নেক্সট লিডার্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করা হবে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা-রংপুর লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন- বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন- বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। উল্লেখ্য, সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশ্যে লং মার্চটি শুরু হবে বলে জানা গেছে।