বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিদেশি কম্পানির সঙ্গে দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরামর্শ দেন তিনি।
আজম জে চৌধুরী বলেন, সুযোগ দিলে দেশের বেসরকারি খাত নিজেই প্রবৃদ্ধি করবে। আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যা হয়েছে, সবই বেসরকারি খাতের অবদান। তাহলে বাংলাদেশে গ্যাস-তেল অনুসন্ধান তারা (বেসরকারি প্রতিষ্ঠান) পারবে না কেন। আমি বিশ্বাস করি সুযোগ দিলে আমরা পারব।
তিনি বলেন, যারা তেল কম্পানি তারা নিজেরা অনুসন্ধান করে না। অনুসন্ধানের জন্য ড্রিলিংটা করে একটা ভেন্ডর। আপনি একটা ভেন্ডর নিয়োগ করবেন সে ড্রিলিং করবে।
ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের উচিত হবে ডিপিএম মেথডে প্রধান তেল কম্পানি এক্সন মবিল, শেল এবং বিপিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা।
এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে বেসরকারি দুইটা কম্পানিকে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেওয়া। তারা (বেসরকারি কম্পানি) যদি ১০ শতাংশ থাকে ওদের সঙ্গে তাহলে এদের (বেসরকারি কম্পানি) সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তারা (বেসরকারি কম্পানি) জানবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কিভাবে হয়। আমি জানি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়াররা প্রধান তেল কম্পানিতে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা অনুসন্ধানের কাজ করতে পারব না এরকম কথা না।
কথা হচ্ছে আমাদের ক্যাপিটাল এত স্ট্রং না। প্রধান তেল কম্পানির সঙ্গে একটা শর্ত করে দেওয়া যায় যে তাদের চুক্তির সঙ্গে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাংলাদেশের বেসরকারি কম্পানি থাকবে। তাহলে ওই কম্পানিগুলো দক্ষতা অর্জন করে ফেলবে। ভারত আগে থেকে শিখে আসে নাই। ভারতের কম্পানিগুলোও নিজেরা অনুসন্ধান করছে। আমরাও সেটা করতে পারি বলে আমার বিশ্বাস।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় নারী-পুরুষ সমতায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) 'গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬'-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলার পর থেকে টানা ১২ বছর ধরে এই অঞ্চলে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে ঢাকা। গতকাল বুধবার প্রকাশিত সূচকটির ২০তম সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সার্বিক লিঙ্গ বৈষম্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭১.২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৭৭.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে লিঙ্গসমতার সূচক কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট। অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ ৬৬.৯ শতাংশ সমতা নিয়ে ১১৯তম, নেপাল ৬৬.৯ শতাংশ নিয়ে ১২০তম, ভুটান ৬৬.৩ শতাংশ নিয়ে ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ৬৪.৬ শতাংশ নিয়ে ১২৯তম এবং ভারত ৬৪.৫ শতাংশ সমতা নিয়ে ১৩১তম স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম লিঙ্গসমতা থাকা দেশ পাকিস্তান। বিশ্বেও দেশটির অবস্থান তৃতীয় সর্বনিম্ন। দেশটি তার লিঙ্গবৈষম্যের ৫৯.৫ শতাংশ কমাতে পেরেছে। তবে ২০২৫ সালের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ ক্ষেত্রটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ খাতে বৈষম্য দূর হয়েছে ৪১.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৪৫.৭ শতাংশ। কাজের ক্ষেত্রে অর্জিত আনুমানিক আয়, শ্রমশক্তিতে নারীদের মোট অংশগ্রহণ এবং উচ্চপদস্থ নেতৃত্বে নারী কর্মী কমে যাওয়ার কারণে এই পতন হয়েছে। এই তিনটি ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৫, ৫.৭ এবং ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট সমতা কমেছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন খাতে গত বছর বিশ্বের ৩ নম্বরে থাকলেও এবার বাংলাদেশ নেমে গেছে ১২তম স্থানে। এই খাতে অর্জিত সমতার হার ৫০.৯ শতাংশ। বিশেষ করে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সমতার হার পরিমাপের পুরো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্নে (২.৪ শতাংশ) নেমে এসেছে। এদিকে, বৈশ্বিক লিঙ্গসমতা সূচকে টানা ১৭তম বছরের মতো শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি তার লিঙ্গবৈষম্যের ৯৩ শতাংশ কমিয়েছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি লিঙ্গসমতা অর্জন করা একমাত্র দেশ হিসেবে রয়েছে। ফিনল্যান্ড ৮৭.২ শতাংশ এবং নরওয়ে ৮৫.৭ শতাংশ সমতা নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং টানা তৃতীয় বছর ধরে দেশ দুটি একই অবস্থান ধরে রেখেছে। আর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তম। ডব্লিউইএফের এই সূচকে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য পরিমাপ করা হয়—অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। ক্ষেত্রগুলোর অধীনে ১৪টি ১৪টি উপ-সূচকের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আগস্ট মাসে ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই সময়ে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের হিসাবে, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উত্তরায় এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগস্ট মাসের অভিযানের এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি (অ্যাডমিন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান। এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৫২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট, ২০৯ পিস ভেপ সিগারেট এবং মাদক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এপিবিএন। এ ঘটনায় একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার ২৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত ও ১৫ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া ছয়জন সন্দেহভাজন আসামি, পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ছয়জন, অন্যান্য মামলায় ৩০ জন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে স্বর্ণের পাশাপাশি ২০০ গ্রাম রুপার বার, ১ দশমিক ৭৬ কেজি প্রসাধনী, ১১৫টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ২৬৮ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ১৭টি ঘড়ি, ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি এবং বিভিন্ন ধরনের আরও ৩৩৭ কেজি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় ১৭টি মামলা করে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে সৌদি আরবের ৫ হাজার ৬৮৫ রিয়াল, কাতারের ৬০০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৩ হাজার ২৯০ রিঙ্গিত, অস্ট্রেলিয়ার ১ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩৫ দিরহাম ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজার ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকাও। জাল টাকা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারও করেছে এপিবিএন। আগস্টে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৭৪৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২০টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, দুটি হ্যাকড ই-মেইল এবং একটি হ্যাকড টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে বাহিনীটি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫৭২ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। জুয়া খেলার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে ১৮টি মোবাইল ফোন, চুরি করা দুটি মোবাইল ফোন ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একজন নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে এপিবিএন। এসব ঘটনায় দুটি মামলা করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাতেও অভিযান চালিয়েছে এপিবিএন। আগস্টে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়। এ সময় বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী ও পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে বাহিনীটি। সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকসেবা আরও সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিকসেবা আরও সহজ করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্ট দিয়ে লেকে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে। লেকের দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়। লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানোর যন্ত্র (এরেটর) স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।