দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উচ্ছ্বাস আর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে তারেক রহমান নিজেই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শঙ্কিত নয় বিএনপি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেয়া হচ্ছে সার্বিক প্রস্তুতি।
দলের শীর্ষ নেতা আর বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি প্রভাব ফেলবে আগামী নির্বাচন ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতায়।
রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, যত কিছুই বলি না কেন, ভাবি না কেন, তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর, তার আগমন তো অবশ্যই বড় ফ্যাক্টর দলের উজ্জীবিত হওয়ার ক্ষেত্রে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ যে সংকট তা নিরসনের ক্ষেত্রে তার উপস্থিতি একটা টনিক হিসেবে কাজ করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বের দলটা তো ভাঙতে পারে নাই। শুধু তাই নয়, দলটা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। দে বিলং টু বাংলাদেশ, তাদের কাছে বাংলাদেশ প্রথম। বাংলাদেশ ফার্স্ট স্লোগান হচ্ছে। এই ধরনের নেতা দেশে ফিরবে, জনগণ অপেক্ষা করছে। উনার নেতৃত্বে আমরা আগামী দিনে নির্বাচনে যাবো।
২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরলেও প্রশ্ন থেকে যায়। মায়ের চরম সংকটকালে দেশে ফিরতে না পারা সেই আক্ষেপের কথা জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে নিজের যে প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছিলেন তা কি কাটলো? বিশ্লেষকরা বলছেন, সমাধান হয়েছে বলেই, ফিরছেন তিনি।
বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, তার আসার ব্যাপারে যদি কিছু প্রতিবন্ধকতা থেকে থাকে, সেগুলোর ব্যাপারে হয়তো একটা সমঝোতা বা ইতিবাচক বন্দোবস্ত হয়েছে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে-পরে চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্ল্যাহ এবং ঢাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা শঙ্কিত করেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের।
পুলিশ বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রটোকলের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। ২৫ তারিখ দেশে আসা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বললেন, কোনও শঙ্কার কথা আমরা দেখছি না। এই উপলক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিমানবন্দর থেকে তার পরবর্তী গন্তব্যস্থলে যাতায়াতের সম্ভাব্য রুটগুলো বিবেচনা করে আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছি।
তারেক রহমান দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুট এলাকায় জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে। থাকবেন গুলশান এভিনিউর বাসায়। পুরো যাত্রাপথে তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর বিএনপি। সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে রয়েছে আলাদা চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বিশেষ আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কার্যকর উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম। এ ছাড়া সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উভয় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ ধরনের সভা এটিই প্রথম। সভায় বক্তারা বলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি ও বিদেশে উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, শিল্প প্রদর্শনী, বইমেলা, লোকসংগীত অনুষ্ঠান, রন্ধনশৈলী প্রদর্শনী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান পরিদর্শনের মতো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও শতাধিক দেশের মধ্যে বিদ্যমান ও স্থগিত থাকা বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি (সিইপি) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সভায় বর্তমান চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অপেক্ষমাণ চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, কার্যকর সাংস্কৃতিক কূটনীতি বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
রমজান মাসের পরপরই সরকার সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সন্ত্রাস দমনে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ভারতে গ্রেফতার হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী শিগগিরই তাদের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সব ঘটনার “মব” হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। অনেক বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ভুলভাবে মব হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তবে সরকার কোনোভাবেই মব সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না এবং তা বন্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, রমজান মাসের পরপরই সারাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হবে। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা সংঘবদ্ধ অপরাধী আইনের বাইরে থাকবে না। এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং জনগণের প্রত্যাশা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যাতে স্বস্তিতে থাকতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা ও ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র, তাই সমুদ্র সৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অপরিহার্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে আইনমন্ত্রীকে আহবায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করেছে সরকার। মামলাসমূহ প্রত্যাহার কার্যক্রম গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় এ কমিটির সদস্য মোট ৬ জন। গতকাল (রোববার) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটি বিষয়ক অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, সরকার 'বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার কার্যক্রম গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি' গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক হবেন মন্ত্রী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন-১ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন।