অন্যান্য

তামার পাত্রে রাখলে বিপদ ডেকে আনতে পারে এই ৩ ধরনের খাবার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২০, ২০২৫

তামার বোতল বা গ্লাসে জল খাওয়া অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও, তামার পাত্রে খাবার রাখা সবসময় নিরাপদ নয়। কিছু খাবার আছে, যা এই ধাতুর পাত্রে রাখলে স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

কোন ধরনের খাবার তামার পাত্রে রাখা চলবে না?

অম্লজাতীয় খাবার
লেবুর রস, ভিনিগার, তেঁতুল বা টমেটো দিয়ে তৈরি খাবার তামার পাত্রে রাখবেন না। এতে খাবারের স্বাদ বদলে যায় এবং তামার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে পারে।

ফার্মেন্টেড খাবার
দই, ইডলি-ধোসার ব্যাটার, আচারের মতো ফার্মেন্টেড খাবার তামার পাত্রে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। ফার্মেন্টেড খাবারে থাকা অ্যাসিড তামার পাত্রের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটায় এবং খাবার অযোগ্য হয়ে যেতে পারে।

তরলজাতীয় খাবার
দুধ, ডাল, সাম্বার, স্যুপ বা ঝোল তামার পাত্রে রাখা উচিত নয়, বিশেষ করে গরম অবস্থায়। তাপমাত্রা বাড়লে তামা থেকে ক্ষতিকর পদার্থ খাবারের সঙ্গে মিশতে পারে। এমনকি গরম জলও তামার বোতলে রাখা নিরাপদ নয়।

তামার পাত্রে শুধু ঠাণ্ডা পানি বা সাধারণ জল রাখা নিরাপদ। খাবার সংরক্ষণের জন্য স্টিল, মাটির বা কাচের পাত্র ব্যবহার করা বেশি স্বাস্থ্যকর। স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে চলুন, ছোটখাটো সতর্কতা অনেক বড় সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

সূত্র : এই সময় অনলাইন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রেস্তোরাঁ–হোটেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‍্যাম্প ও টয়লেট না থাকলে লাইসেন্স বাতিল হবে

হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী একজন মানুষ পরিবারের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গেলেন, কিন্তু প্রবেশমুখে সিঁড়ি থাকায় ভেতরে ঢুকতেই পারলেন না। কোনোভাবে ঢুকলেও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট নেই। দেশের অনেক রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এমন ভোগান্তি এখনো নিত্যদিনের বাস্তবতা।   এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। সিটি করপোরেশন এলাকায় থাকা রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা র‍্যাম্প ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল বা নবায়ন বন্ধ রাখা হতে পারে।   এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১৪ মে দেশের সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৩ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতকরণ–সংক্রান্ত সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   সরকার জানিয়েছে, নগরের সেবা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তাই রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ক্যাফেগুলোতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি নাগরিক অধিকার।   বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ ২০২১ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছেন। শহরাঞ্চলেও প্রতিবন্ধী মানুষের হার উল্লেখযোগ্য। ফলে নগরের গণব্যবহার্য স্থাপনাগুলোতে তাঁদের সহজ চলাচল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।   আইনগতভাবেও বিষয়টি বাধ্যতামূলক। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ৩৪ ধারায় গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডেও গণব্যবহার্য ভবনে র‍্যাম্প, চলাচলের পথ ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট রাখার নির্দেশনা রয়েছে।   সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু নামমাত্র র‍্যাম্প নির্মাণ করলেই হবে না। র‍্যাম্পের ঢাল, দরজার প্রশস্ততা, টয়লেটের ভেতরে হুইলচেয়ার ঘোরানোর জায়গা—সবকিছুই ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। কারণ অনেক স্থানে নিয়ম মানার জন্য র‍্যাম্প তৈরি করা হলেও বাস্তবে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকে।   বিবিএসের ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৪টি। এর বেশির ভাগই বেসরকারি মালিকানাধীন। সরকারের নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো শুরু থেকেই প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।   স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “নগরের সেবা সবার জন্য। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যদি রেস্তোরাঁ, হোটেল বা ক্যাফেতে স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে না পারেন, সেটি শুধু অবকাঠামোগত ঘাটতি নয়, এটি নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন।”

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ভাঙন নিয়ে যা বললেন চরমোনাই পীর

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা, সিইসির কপালে চিন্তার ভাঁজ

বিএনপির কোণঠাসা প্রবীণ নেতারা ঠাঁই পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়

কলেজ নয় যেন সনদ জালিয়াতির কারখানা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নাসরিন আক্তার ২০১৫ সাল থেকে এইচএসসির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। কিন্তু তাঁর পড়াশোনার গণ্ডি এইচএসসি পর্যন্ত; তাও আবার নিয়মিত নয়। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাস সনদ দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চাকরি নেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তাঁর অনার্স পাস করা দূরে থাকুক, অনার্সে ভর্তির সুযোগই নেই। কারণ নাসরিন ২০০৪ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে প্রাইভেটে এইচএসসি পাস করেছেন। নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তির সুযোগ মেলে না।   নাসরিনের মতো একইভাবে নানা প্রতারণা করে চাকরি করছেন খোদ কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকও। ২০০০ সালে এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক থাকাকালে তিনি নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় ওই পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল বিএ, বিএড। অথচ তিনি বিএড পাস করার আগেই ওই পদে যোগদান করেন। এরপর এমপিওভুক্তির সময় স্নাতকোত্তর পাসের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সনদ দিয়েছেন সেটিও জাল। সম্প্রতি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে তদন্তকালে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর পাসের আরেকটি সনদ জমা দেন তিনি। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কালো তালিকাভুক্ত। দুটি সনদ জালিয়াতি করে চাকরির জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।   একইভাবে প্রভাষক (পালি) হিসেবে চাকরি করছেন শেফালী খাতুন। তিনি বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড থেকে স্নাতক পাসের যে সনদ দিয়েছেন সেটি ভুয়া। এ ছাড়া পালি বৌদ্ধ দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক একটি বিশেষায়িত বিষয়। সেখানে শেফালী খাতুন মুসলিম হয়েও এ বিষয়ে পাঠদান করছেন। আবার বিষয়টি খোলার অনুমতি না থাকলেও অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে তাঁকে। এমপিওভুক্তি আবেদনের সময় প্রেরিত স্বীকৃতিপত্র, বিষয়ে অনুমতি, শিক্ষক নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ ও এমপিওভুক্ত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ প্রদান ও এমপিওভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা।   শুধু অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হক কিংবা নাসরিন আক্তার নন, কলেজটির ৭৬ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার মধ্যে ৭৩ জনই একাডেমিক কিংবা এনটিআরসিএর সনদ জালিয়াতি, নিয়োগ প্রতারণা করে চাকরি করছেন। বিভাগ খোলার অনুমতি না থাকলেও অবৈধভাবে বিভাগ খুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চাকরিকালে নেওয়া বেতন-ভাতার পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ফেরত আনার সুপারিশ করেছে ডিআইএ। এতসব অনিয়ম করে চাকরি করলেও পড়াশোনা করাতে মন নেই শিক্ষক-কর্মকর্তাদের। কলেজটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই নাজুক। রোববার এ প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে এত শিক্ষকের প্রতারণার কথা শুনে হতবাক শিক্ষা বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, এটি কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, যেন দুর্নীতির কারখানা। সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকরা শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ সবার।   সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে নিম্ন মাধ্যমিক, ২০১৪ সালে মাধ্যমিক এবং ২০১৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ৪১৫ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এর মধ্যে ৮৫ জন কলেজে, আর বাকি ৩৩০ জন মাধ্যমিক বিভাগে পড়াশোনা করছেন। এত শিক্ষার্থী থাকলেও নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। আবার বার্ষিক বা নির্বাচনি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হাতেগোনা। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো পাঠাগার। বিজ্ঞান বিভাগ থাকলেও নেই ল্যাবরেটরি। নেই পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিও। আয়-ব্যয়ের হিসাব ঠিকমতো না করায় আরও লাখ লাখ টাকার অনিয়ম হয়।   প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখায় ৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি ৬১ জনই এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে দুজন শিক্ষকের তথ্য না পাওয়ায় অধ্যক্ষসহ বাকি ৫৯ জনের নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি বেতন ফেরত আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪ জন প্রভাষক, একজন সহকারী শিক্ষক, পাঁচজন প্রদর্শক, দুজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, দুজন হিসাব সহকারী, চারজন ল্যাব সহকারী, একজন কম্পিউটার অপারেটর, বাকিরা অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী। আর মাধ্যমিক শাখায় ১৬ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ১৫ জনই এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ডিআইএ। তাঁদের মধ্যে একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক, বাকিরা অন্যান্য পদে কর্মরত। আপত্তি আসা বাকি তিনজনও বিভিন্ন পদে কর্মরত।   ডিআইএ সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক সনজয় চন্দ্র মণ্ডল, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মো. নুরুল আফছার ও অডিটর মো. সিরাজুল ইসলাম গত বছরের ১৫ ও ১৬ অক্টোবর বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শনকালে তাঁদের সনদ ও নিয়োগ জালিয়াতি নিয়ে সন্দেহ হয়। এরপর সনদগুলো অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠায় ডিআইএ। এরপর সনদ ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান সেগুলো ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ছাড়া নিয়োগের সময় নানা প্রতারণার বিষয়ও উঠে আসে।   সার্বিক বিষয়ে জানতে কলেজটির অধ্যক্ষ মো. ইমদাদুল হকের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।   ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক এম এ ম সহিদুল ইসলাম বলেন, এক প্রতিষ্ঠানে এত শিক্ষকের অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা মন্ত্রণালয়কে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় তাঁদের বরখাস্তের পাশাপাশি টাকা ফেরত আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।   এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ কালবেলাকে বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় অবহেলা করে কিংবা বাইরে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সনদগুলো যাচাই না করার কারণে এসব হয়েছে। এটা কাঙ্ক্ষিত নয়। চাকরিতে যোগদানের সময় কেন সনদ যাচাই হয়নি—সে বিষয় খুঁজে বের করে জড়িতদেরসহ সনদ জালিয়াতি করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৯, ২০২৬
বিএনপি ও জামায়াতের লোগো

বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি ‘লোকদেখানো’

ছবি-সংগৃহীত

দেশে ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকা ৮০ ভাগ পুরুষের উচ্চ রক্তচাপ: জরিপ

হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাত: জামায়াত নিয়ে বার্তা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর

'নিষিদ্ধ ঘোষিত' ছাত্রলীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখাসহ চারটি ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। শনিবার রাত পৌনে দশটার দিকে সংগঠনটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন ঘোষিত চার ইউনিটের মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আওতাধীন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ পৌর এবং সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। প্রতিটি কমিটি আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত। সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে রবিউল ইসলাম রুবেলকে সভাপতি ও আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে সহ-সভাপতি পদে ৫৯ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ১১ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১৪ জন রয়েছেন। এছাড়া একজন করে প্রচার ও দপ্তর সম্পাদকও মনোনীত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ছয় সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে রেজাউল করিম রাব্বিকে সভাপতি ও রাসেল সেখ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে মিজানুর রহমান সম্রাটকে সহ-সভাপতি, রেদুয়ান রাফিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে শিপন আহসান কাব্যকে সভাপতি ও আলামিন সরকার হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এতে ১০ জনকে সহ-সভাপতি, সাতজনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ছয়জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ২২ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিতে জীবন সেখকে সভাপতি ও জিম আহম্মেদ আকাশকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সহ-সভাপতি পদে আটজন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছয়জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সেরাজুল ইসলাম সেরাজ জাগো নিউজকে বলেন, ওই সংগঠনটি নিষিদ্ধ এবং তাদের নেতৃত্বও পলাতক। তারা শিক্ষার্থীদের থেকেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় কমিটি ঘোষণা নিছকই হাস্যকর ও বাস্তবতা বিবর্জিত। আমরা তাদের এই কমিটি ঘোষণাকে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছি না। তারা মূলত অনলাইন বা ফেসবুকে কমিটি ঘোষণার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এসব কর্মকাণ্ড এদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বেসিসের নেতৃত্বে ফিরছে আওয়ামী সিন্ডিকেট

ছবি: সংগৃহীত

জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন: ইবাদতের বিশেষ মৌসুম

ছবি: সংগৃহীত

এক পরিবারের কব্জায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স

0 Comments