প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই। ছবি : পিএমও
বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই। আজ বুধবার জাপানে এ সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাপান সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাতে আকাজাওয়া রিয়োসেই বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের আরো উন্নয়ন এবং দেশটিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জাপান আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত সহযোগিতার বিভিন্ন খাত এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
বৈঠকে জাপানি ব্যবসায়ী মহলে বাংলাদেশের প্রতি বিদ্যমান বিনিয়োগ-আগ্রহ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে আরো জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া—উভয়েই দুইবার করে জাপান সফর করেছেন। তাদের সময় থেকেই বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের বিকাশ ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। তিনি এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে চান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শুধু সার্টিফিকেট প্রদানের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি, বরং সকলের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকের শিক্ষাজীবন শুরু হয়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা শেষ করতে পারেন না। তাদেরকে লেখাপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আর এটাই উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করে গড়ে তোলার ধারাবাহিকতায় বাউবিকে (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) আরও যুগোপযোগী করা হবে। শিক্ষাকে আরো সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাউবি প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে শিক্ষাজীবনে অনিয়মিত শিক্ষার্থীরাও বয়সের বাধা পেরিয়ে শিখতে পারেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে কিভাবে আরো আধুনিক ও উন্নত করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন আরো বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রুপান্তরিত করতে সরকার টিভেট বা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে। সে লক্ষ্যে সম্প্রতি আমরা ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছি, যার ফলে চীনের সাথে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে এই সেক্টরে আমরা আরো এগিয়ে যেতে পারি। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত 'ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং (আইটিভেট)' এর শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য ৯ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। মন্ত্রী তাদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধা মিলনায়তনে পাঁচ জেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী নন। নাহিদ ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে জোটের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির অবস্থান পরিষ্কার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐক্য বজায় থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে এনসিপি নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জোটের সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরাজয় ঘটেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বিভিন্ন পর্যায়ে আগের শাসনব্যবস্থার সহযোগীরা সক্রিয় রয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন করে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগও সামনে আসছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের সম্পর্কে পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, অপরাধের তথ্য প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব হলো অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। সংবাদে ভুল তথ্য থাকলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করা উচিত নয়। দেশে মাদক কারবার বিস্তারের পেছনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবশালী মহলের একটি অংশ জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া বড় মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অতীতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এ ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ছিল এবং বর্তমানে বিএনপির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তোলেন তিনি। মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন এনসিপির এই নেতা। দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গুলি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। পাশাপাশি সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে এনসিপি সোচ্চার থাকবে এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সংসদেও তুলে ধরবে। দেশের ব্যাংকিং খাতে কার্যকর সংস্কারের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আর্থিক খাত সংস্কারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উঠে আসেনি। ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ গ্রহণ ও অর্থ পাচারের প্রবণতা বন্ধ না হলে ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটানো কঠিন হবে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন শেষে পাঁচ জেলার নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা বিভাগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান অপু এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইয়েদ জামিল। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্বমানের কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন । রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যা নিরসনে উচ্চশিক্ষাসহ সর্বস্তরে কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। আজ বঙ্গভবনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাফায়েত মোহাম্মদ রাজু, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করে। তারা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি জেসাপ আন্তর্জাতিক কোর্ট প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ রাউন্ডে ২০২৬ সালসহ চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে এ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে প্রতিনিধিদল। রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদল ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।