সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর আল-টিনায় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহতদের বেশিরভাগই নারী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সোমবার স্থানীয় বাজার এলাকায় একত্রে বসে থাকা নারী ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। সেখানে তারা খাবার ও চা বিক্রি করছিলেন। হঠাৎ ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ নিহত হন।
সরকারি এক কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হতাহতের সংখ্যা যাচাই করার কাজ চলছে। তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হামলার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা নাম প্রকাশ করেননি।
এই হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা যায়নি।
উল্লেখ্য, সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির দারফুর অঞ্চল বর্তমানে তীব্র খাদ্য সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল মংবওয়ালুতে রোগটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে আতঙ্ক, অন্যদিকে অবিশ্বাস ও সন্দেহও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা লরেন সাকিয়া বলেন, প্রতিবেশীদের মৃত্যু দেখার পরই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে ইবোলা সত্যিই রয়েছে। তবে অনেক মানুষ এখনো রোগটির অস্তিত্ব ও সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ কিন্তু সংঘাত-বিধ্বস্ত ইতুরি অঞ্চলে স্বর্ণখনির শ্রমিক ও হকারদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। উগান্ডা সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং অস্থিতিশীল দক্ষিণ সুদান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মংবওয়ালুতে কাদামাখা মোটরবাইকে চলাচলকারী ভ্রমণকারীদের দৃশ্য খুবই পরিচিত। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রাদুর্ভাবটি আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা উগান্ডাতেও পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির গুরুতরতা বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মংবওয়ালুতে সন্দেহভাজন ৩৩৯ জন রোগীর মধ্যে ৮৮ জন মারা গেছেন। দেশজুড়ে মোট ৮৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২০৪ জন। ২৬ বছর বয়সী সাকিয়া এএফপিকে বলেন, দকর্তৃপক্ষের উচিত আমাদের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া।’ মধ্য আফ্রিকার এই দেশটিতে চলমান ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ ইবোলা স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা এখনো নেই। কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সপ্তাহান্তের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মে রাজধানী কিনশাসা থেকে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮৬৭ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
মাঝে কিছুদিন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও গাজা থেকে নজর সরাননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র বাহিনী হামাসকে ‘নির্মূল’ করার লক্ষ্য থেকেও বিচ্যুত হয়নি ইসরায়েলি সেনা। এই ধারায় হামাসের সশস্ত্র বাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধানকে হত্যার দাবি করেছে তেল আবিব। আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। ইসরায়েলের সেনার হামলায় হামাসের সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন আল কাশেম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মেদ ওদেহ নিহত হয়েছেন। এমনটাই দাবি করেছে তেল আবিব। গত ১৫ মে ওদেহ’র পূর্বসূরি এজ্জেদিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের সশস্ত্র সংগঠনের কমান্ডারকে গতকাল গাজায় নির্মূল করে তার সহযোগীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য নরকে পাঠানো হয়েছে।’ গতকাল মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ওদেহকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনা ও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট। বিবৃতি মতে, ১৫ মে পূর্বসূরি এজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন মোহাম্মেদ ওদেহ। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য এএফপি হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংগঠনটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হামাস ওদেহ’র নিয়োগ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বা তার নিয়োগ নিশ্চিত করেনি। দীর্ঘদিন হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন ওদেহ। কাৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে নির্মূল করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমরা সেটাই করে দেখাব। তাদের সবার ওপর মৃত্যুর নিশানা ঝুলছে—তারা যেখানেই থাকুক না কেন।’ তিনি গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যের কথা আবারও পুনরাবৃত্তি করেন। পাশাপাশি, গাজার বাসিন্দাদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করারও ইঙ্গিত দেন তিনি।তিনি বলেন, ‘গাজা থেকে স্বেচ্ছায় অভিবাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে—সব কিছুই সঠিক সময়ে, সঠিক উপায়ে কার্যকর করা হবে।’ গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরিয়ে নেওয়ার প্রকল্পের পেছনে সমর্থন যোগাচ্ছেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ।এর আগে একবার এই পরিকল্পনায় সায় দিলেও পরবর্তীতে সে অবস্থান থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় হামাস। ওই হামলায় এক হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫০ ব্যক্তিকে জিম্মি করে হামাস। ওই ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার নেপথ্যে থাকা হামাস নেতাদের চিহ্নিত করে হত্যার অঙ্গীকার করেন। সেদিন থেকেই গাজার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলা ৭১ হাজার ৮০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়া ও গাজা প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করে।পরবর্তীতে আল কাশেম প্রিগেডের দীর্ঘসময়ের প্রধান মোহাম্মদ দেইফ এবং ইয়াহিয়া সিনওয়ারের উত্তরসূরি ও আপন ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ারকেও হত্যা করে দেশটি। লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা ও হামাস নেতাদেরও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন।
ইরানে আটক থাকা ১০ জন ভারতীয় নাবিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের শিপিং কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি তেলবাহী জাহাজ আটক হওয়ার পর তারা আটক ছিলেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং জানায়, এমভি হারবার ফিনিক্স নামের জাহাজটি জাস্ক বন্দরের কাছে আটক করার সময় ওই নাবিকদের আটক, গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারত ও ইরানের মধ্যে জ্বালানি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও, ভারত একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহনকে ঘিরে প্রায়ই জাহাজ আটক ও নিরাপত্তা ইস্যু দেখা দেয়, যার কারণে অনেক সময় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হয়।