প্রবাসী

স্ত্রী ও দুই শিশুকে হত্যা করে প্রবাসি বাংলাদেশীর পুলিশে ফোন

মারিয়া রহমান মে ১৯, ২০২৬
ক্রাইম সিনে পুলিশে তৎপরতা। সংগৃহীত
ক্রাইম সিনে পুলিশে তৎপরতা। সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। নিহত দুই শিশুর বয়স ১২ ও ৫ বছর। তারা দুজনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় জরুরি নম্বরে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পরে পুলিশ ক্যাম্পবেল টাউন এলাকার ওই বাসায় গিয়ে তার ৪৬ বছর বয়সী স্ত্রী ও দুই শিশুপুত্রের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের অ্যাক্টিং সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল মরোনি বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও সহিংস। নিহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে, তবে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। পরিবারটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, তিনি ঘরে থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দুই সন্তানের দেখাশোনা করতেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী চাকরি করে পরিবারের ব্যয় বহন করতেন।

গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতাজনিত তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ক্যাম্পবেল টাউন আদালতে তাকে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন আইনজীবী জাওয়াদ হোসাইন।

আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে অভিযুক্তের অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি বা মানসিক অসুস্থতার কোনো ইতিহাস ছিল কি না—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি সমাজকল্যাণ বা শিশু সুরক্ষা সংস্থার সঙ্গেও তাদের কোনো পূর্ব যোগাযোগ ছিল না।

ঘটনার পর পুরো ক্যাম্পবেল টাউন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের বাড়ির সামনে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এক প্রতিবেশী বলেন, শিশুদুটিকে প্রায়ই বাইরে খেলতে দেখা যেত। এমন নির্মম ঘটনা বিশ্বাস করা কঠিন।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সমাজের মতো তিনিও গভীরভাবে ব্যথিত। একই সঙ্গে তিনি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ জোরদারের ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ ‘অপারেশন আমারক’ নামে পারিবারিক সহিংসতাবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যেই ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।

ভুক্তভোগী শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে আইনি কারণে অভিযুক্ত ও নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: সিডনি মর্নিং হেরাল্ড

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইতালির ভেনিসে আরআইসি একাডেমির নতুন এডুকেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু

ইতালির ভেনিসে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘আরআইসি একাডেমির’ নতুন এডুকেশন সেন্টার উদ্বোধন এবং অফলাইন ক্লাশ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।    শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   ​আরআইসি সল্যুশনের পরিচালক নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আরআইসি একাডেমির পরিচালক ড. ঋতু মিয়া। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- আব্দুল আজিজ সেলিম, পলাশ রহমান, তানভীরুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, মারুফা, আরাফ এলেনা প্রমুখ।   ​দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ড. ঋতু মিয়া বলেন, আরআইসি একাডেমি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অভিবাসী বাংলাদেশিদের ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতদিন এই কার্যক্রম শুধু অনলাইনে পরিচালিত হলেও সম্প্রতি ভেনিসে বসবাসকারী অভিবাসীদের সুবিধার্থে অফলাইনে ভাষা শিক্ষা, সার্টিফিকেট প্রদান এবং ড্রাইভিং কোর্স শুরু করা হয়েছে। এই কার্যক্রমগুলো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই নতুন এই এডুকেশন সেন্টারটি উদ্বোধন করা হলো।    তিনি বলেন, ইন্টিগ্রেশন মানে বৈচিত্র্যকে ধারণ করা; কারো নিজস্ব সংস্কৃতি বা ধর্মকে গলাটিপে হত্যা করা নয়। নিজের স্বকীয়তা বিলীন করে অন্য সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হওয়ার নাম ইন্টিগ্রেশন নয়। তাই নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে ইতালীয় ভাষা জানা অত্যন্ত প্রয়োজন।   উল্লেখ্য, ড. ঋতু মিয়া ভেনিসের রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি স্থানীয় নির্বাচনে ইতালির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল পিডি (পার্টাতো ডেমোক্রেটিকো) থেকে সিটি কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। তিনি ভেনিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের ইতালীয় ভাষা শিক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   ​অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে আরআইসি একাডেমি থেকে ভাষা পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের সেবায় চালু হলো দেশের প্রথম থানাভিত্তিক ‘প্রবাসী হেল্প ডেস্ক’

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা, দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকতে দূতাবাসের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১৪৬ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং

কোনো দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ‘উদ্বেগের বিষয়’ মন্তব্য করে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য গ্রেস মেং বলেছেন, এ ধরনের প্রবণতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ‘দুর্বল’ করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি এবং প্রবাসী বাঙালিদের অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।   বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে গ্রেস মেং বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তবে অবশ্যই তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের বিষয় এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।   গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিৎ বলে মত দেন তিনি।   কুইন্সে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত চীনা বংশদ্ভূত গ্রেস মেং মার্কিন কংগ্রেসে নিউ ইয়র্ক থেকে যাওয়া প্রথম এশিয়ান। বাংলাদেশ ককাসের (মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের একটি অনানুষ্ঠানিক দল, যা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে) সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির এই কংগ্রেস সদস্য।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে অভিবাসীদের উদ্দেশে আপনার কোনো বার্তা আছে?   গ্রেস মেং: যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই অভিবাসীদের দেশ এবং অভিবাসীরা এ দেশের সাফল্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা আমেরিকার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছেন, যার সুফল আজ আমরা সবাই ভোগ করছি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যান্য সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মত বাংলাদেশি আমেরিকানরাও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। অভিবাসীর সন্তান হিসেবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা ও আমেরিকার ইতিহাস একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি, তখন অভিবাসীরা আমেরিকাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রে পরিণত করতে যে অবদান রেখেছেন, সেটিও যথাযথভাবে উদযাপন করা উচিত।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রমে যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে অভিবাসীবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের সুরক্ষার জন্য কী করণীয়?   গ্রেস মেং: অভিবাসীদের ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য করা মানবিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। আইসের (মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিভিন্ন অভিযানের কারণে অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই আমার নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাই, যারা আইসের অভিযানের ভুক্তভোগী। আমি এবং আমার দল পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছি। গুরুতর অপরাধীদের পরিবর্তে কঠোর পরিশ্রমী ও আইন মেনে চলা মানুষদের আটক করা কোনভাবেই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।   আমি মনে করি, বর্তমান কাঠামোয় আইসের কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এ কারণে আমি আইসের অতিরিক্ত অর্থায়নের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছি এবং সংস্থাটির জবাবদিহিতা নিশ্চিতে একটি আইনের প্রস্তাব করেছি। এর মাধ্যমে আইস কর্মকর্তাদের ব্যাজ নম্বর দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করা হবে, সংস্থাটিকে বিচার বিভাগের প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে, ২৬ ফেডারেল প্লাজার মত স্থানে রুটিন চেকিংয়ের সময় ব্যাপক আটক এড়াতে অভিবাসীদের ভার্চুয়াল চেক-ইনের সুযোগ দেওয়া হবে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে নথিপত্রহীন অবস্থায় বসবাসরত অনেকেই কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের জন্য গ্রিনকার্ডের ব্যবস্থা করতে কংগ্রেসের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?   গ্রেস মেং: যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি ব্যাপক অভিবাসন সংস্কার অপরিহার্য। কংগ্রেসের সদস্য হওয়ার পর থেকেই আমি এ ধরনের সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছি।   এই সংস্কারের মধ্যে থাকবে অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈধ আবেদনগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা কমান, মানবিক উপায়ে আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন নিষ্পত্তি, লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য বৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে একদিন তারা গর্বিত মার্কিন নাগরিক হতে পারেন।   দুঃখজনকভাবে কার্যকর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরা এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি অভিবাসন সংস্কারের পক্ষে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব এবং এ বিষয়ে দ্বিদলীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে যাব।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। এটিকে আবার কার্যকরের বিষয়ে কোনো আগ্রহ আছে কি?   গ্রেস মেং: কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষা করা। এই ককাসের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করি, ভবিষ্যতে ককাসের আরও সভা, আলোচনা ও কার্যক্রম হবে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায় সম্পর্কে রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের মূল্যায়ন কি?   গ্রেস মেং: কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমি বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছি। তাদের স্বার্থ রক্ষায় আমি সবসময় সক্রিয় থেকেছি, গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে সমর্থন দিয়েছি। বিভিন্ন উদ্বেগের সমাধানে কাজ করেছি এবং ফেডারেল প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সহায়তা করেছি।   প্রতি বছর আমি অসংখ্য বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির অনুষ্ঠান, সামাজিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় নেতাদের আয়োজনে অংশগ্রহণ করি। এমন একটি প্রাণবন্ত ও কর্মঠ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের কণ্ঠস্বর হতে পেরে আমি গর্বিত। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশি আমেরিকানদের পক্ষে আপনি কোন বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন?   গ্রেস মেং: বাংলাদেশি আমেরিকান সম্প্রদায়ের স্বার্থে আমি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে রয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ফেডারেল ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সরকারি স্বীকৃতির জন্য আইন প্রস্তাব। এ ছাড়া ইসলামোফোবিয়াসহ সব ধরনের ঘৃণাজনিত অপরাধ মোকাবিলার জন্য আইন প্রণয়নে আমি কাজ করেছি।   হালাল খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার এবং মসজিদ, অলাভজনক সংস্থা ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোকে সুরক্ষিত রাখার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছি। আমি এশিয়ান আমেরিকান, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার সম্প্রদায়ের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথম জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিল পাসে ভূমিকা রেখেছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও সে অবস্থান বজায় রাখব।   বর্তমানে আমি ‘কংগ্রেশনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাস এর চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছি এবং দেশজুড়ে এশিয়ান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:  রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?   গ্রেস মেং:  আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে কথা বলে আসছি এবং ক্ষমতায় কে রয়েছে তার ভিত্তিতে আমার অবস্থান পরিবর্তিত হবে না। মানবাধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি একটি সার্বজনীন মূল্যবোধ। যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অন্যদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করে।   যে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাক। সেই লক্ষ্যেই দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার পক্ষে আমার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:  বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?   গ্রেস মেং:  চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনেকের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং পর্যবেক্ষকদের মতে তা তুলনামূলকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। কোনো ব্যক্তি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তবে অবশ্যই তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের বিষয় এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।   বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম:  যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে অভিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কী?   গ্রেস মেং:  নিশ্চয়ই। ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারে, তাহলে আমরা নির্বাহী বিভাগের ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক তদারকি আরো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করব। আমরা আইসসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেব। একইসঙ্গে অভিবাসন সংস্কার, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং আমার প্রস্তাবিত আইস সংস্কার বিলের মত গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের লক্ষ্য হবে এমন একটি অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা একইসঙ্গে মানবিক, কার্যকর এবং ন্যায়ভিত্তিক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি দমনে অভিযান, আটক হচ্ছেন বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা

ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ের বিগ টিকিটে ২৫ হাজার দিরহাম জিতলেন ওমানপ্রবাসী ভারতীয়

ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসের মেয়রের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনি

ছবি: সংগৃহীত
ইউএইতে ভিসা ও এমআরপি পাসপোর্ট সংকট নিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের মতবিনিময়

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা এবং এমআরপি পাসপোর্ট সংকট নিরসনের দাবি নিয়ে দেশটির বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই রাষ্ট্রদূত তারেক আহমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে। সভায় প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও সংকটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এ সভায় সাংবাদিক নেতারা জানান, নতুন ভিসা পাওয়া এবং সময়মতো এমআরপি পাসপোর্ট নবায়ন করতে না পারায় অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী বৈধতার সংকটে পড়েছেন। এতে তারা জরিমানা, চাকরি হারানো এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।   সভায় আরও বলা হয়, পাসপোর্ট জটিলতার কারণে অনেকেই ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, চিকিৎসা সুবিধা এবং বৈধভাবে দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব কারণে প্রবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।   সাংবাদিক নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।   রাষ্ট্রদূত তারেক আহমদ প্রবাসীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের সমস্যার সমাধানে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভিসা ও পাসপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করছে।   তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। অচিরেই প্রবাসীরা চলমান সংকট থেকে মুক্তি পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর সভাপতি মামুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল শাহীন নেতৃত্ব দেন। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাফায়াত উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহজাহান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইরফানুল ইসলাম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আশিকুর ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম করিম, শামসুল হক ও কাজী নাজিম উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শারজাহর কালবা ইংলিশ স্কুলে ‘স্টাফ অব দ্য ইয়ার’ সম্মান পেলেন বাংলাদেশি প্রবাসী মুহাম্মদ ইউনুস

সংগৃহীত ছবি

লেবাননে আরও ১৭০ বাংলাদেশির এক্সিট ভিসা অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া, পরে যুদ্ধক্ষেত্রে : দেশে ফিরতে আকুতি বাংলাদেশি সোহেলের

0 Comments