খেলাধুলা

স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল রাতে শিরোপা নির্ধারণী এল ক্লাসিকো

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১১, ২০২৬

বছরের প্রথম এল ক্লাসিকোতে রাতে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ সুপার কাপের মেগা ফাইনালে লড়বে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। রিয়াল শিবিরে স্বস্তির খবর চোট কাটিয়ে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, আত্নবিশ্বাসের তুঙ্গে জয়ের ছন্দে রয়েছে কাতালানরা।

 

গত বছর রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতেছিলো বার্সা। তবে তার আগে, ২০২৪ সালে সোনালি অতীত ছিলো মাদ্রিদের। দুই জায়ান্টের চোখে একই স্বপ্ন, লড়াইয়ে থাকবে সেই চির প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ।

 

মূলত, নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে রিয়াল। তবে চোটের কারণে সে ম্যাচে খেলতে পারেননি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল সমর্থকদের জন্য সুখবর হলো, শুক্রবার সৌদি আরবে পৌঁছে শনিবার জেদ্দায় দলের ট্রেনিং সেশনে যোগ দিয়েছেন এমবাপ্পে।

 

তবে, ফাইনালে কি তবে খেলছেন কিলিয়ান? রিয়াল কোচ আলনসো আগেই জানিয়েছেন, সতর্কতার সঙ্গে নেয়া হবে সিদ্ধান্ত। রিয়াল মাদ্রিদ রাইট ব্যাক দানিয়েল কারভাহাল এল ক্লাসিকোর জানিয়েছেন সবটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত তারা।

 

কারভাহাল বলেন, 'বছরের শেষ দিকে দল তার সেরা ছন্দে খেলছিলো না। আমরা অনেক ইনজুরির কবলে পড়েছিলাম, যার ফলে নিয়মিত খেলোয়াড়রা খেলার সুযোগ পাচ্ছিলো না। বড়দিনের ছুটি আমাদের সবার জন্যই কাজে লেগেছে। জাবি এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা রয়েছে এবং আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব।'

 

এদিকে, বার্সেলোনার সাম্প্রতিক রেকর্ড রিয়ালের বিরুদ্ধে ঈর্ষণীয়। সবশেষ পাঁচ এল ক্লাসিকোর চারটিতেই জয় পেয়েছে কাতালানরা। তবে সবশেষ দেখায় এমবাপ্পে বেলিংহ্যামরা হারিয়ে দিয়েছিল ইয়ামাল র‍্যাশফোর্ডদের। এরপর ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আর হারেনি বার্সা।

 

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সা জিতেছে টানা ৯ ম্যাচ। এই আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা এবার নতুন শিরোপা জেতার মিশনে।

 

বার্সার সেন্টার ব্যাক এরিক গার্সিয়া বলেন, 'এই চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা আমাদের জন্য একটি বাড়তি অনুপ্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাস যোগাবে। আমাদের জন্য আরেকটি শিরোপা জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই খুব তরুণ, তাই এই জয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় শক্তি হবে।'

 

উল্লেখ্য, গত মৌসুমে লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দেল রে'তে ছিলো বার্সার উল্লাস আর রিয়ালের কান্না। এবার হাসবে কারা? ফুটবলপ্রেমীদের চোখ উত্তর খোঁজা শুরু করবে রাত ১টায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আলজেরিয়া-জর্ডান ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে জর্ডান ও আলজেরিয়া। ম্যাচটিকে সামনে রেখে দুই দলই তাদের শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন এনেছে।   জর্ডানের কোচ জামাল সেলামি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পরাজয়ের ম্যাচ থেকে দুটি পরিবর্তন করেছেন। রক্ষণভাগে আকাশপথের লড়াইয়ে বাড়তি শক্তি যোগ করতে মোহাম্মদ আবু আলনাদির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন সেন্টার-ব্যাক হুসাম আবু দাহাব। এছাড়া উদীয়মান ফুটবলার ওদেহ আল-ফাখৌরি বেঞ্চে চলে যাওয়ায় আক্রমণভাগে অভিজ্ঞ মাহমুদ আল-মার্দিকে একাদশে রাখা হয়েছে।   জর্ডানের শুরুর একাদশে রয়েছেন গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা। রক্ষণে ইয়াজান আল-আরাব, আবদাল্লাহ নাসিব ও হুসাম আবু দাহাব। মিডফিল্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদ, সঙ্গে আছেন নিজার আল-রাশদান, নুর আল-রাওয়াবদেহ ও মোহান্নাদ আবু তাহা। আক্রমণভাগে খেলছেন মাহমুদ আল-মার্দি, মুসা আল-তামারি ও আলি অলওয়ান।   অন্যদিকে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা দল থেকে দুটি পরিবর্তন এনেছেন। দীর্ঘদিনের তারকা উইঙ্গার ও অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ আবারও শুরুর একাদশে ফিরেছেন। তার জায়গা করে দিতে বেঞ্চে যেতে হয়েছে আনিস হাজ মুসাকে। এছাড়া মিডফিল্ডে পরিবর্তন এনে রামিজ জেরুকিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ফলে নাবিল বেনতালেবকে রাখা হয়েছে বদলি তালিকায়।   আলজেরিয়ার একাদশে গোলবারের নিচে রয়েছেন লুকা জিদান। রক্ষণে রাফিক বেলঘালি, আইসা মান্দি, রামি বেনসেবাইনি ও রায়ান আইত-নুরি। মাঝমাঠে খেলছেন হিচাম বুদাউই, রামিজ জেরুকি ও ইব্রাহিম মাজা। সামনে আক্রমণের দায়িত্বে রয়েছেন অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ, ফারেস শাইবি ও আমিন গুয়েরি।   উল্লেখ্য, আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান কিংবদন্তি ফরাসি ফুটবলার ও বিশ্বকাপজয়ী কোচ জিনেদিন জিদানের ছেলে। ম্যাচটিতে দুই দলের লক্ষ্যই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করে পরবর্তী পর্বের পথে এগিয়ে যাওয়া।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের যে নতুন নিয়ম প্রথম দেখা গেল বেলজিয়াম-ইরান ম্যাচে

ছবি: সংগৃহীত

কেন স্থগিত ছিল ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ?

ছবি: সংগৃহীত

মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে গোলের রাজা মেসি: এক রাতেই গড়লেন একাধিক রেকর্ডের ইতিহাস

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়তে এক গোলের প্রয়োজন ছিল লিওনেল মেসির। ডালাসে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সেই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।   তবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় অপেক্ষা বাড়ে তার। পরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শুধু রেকর্ড গোলই পাননি, সংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন ৮বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। বিশ্বকাপ গোলের রাজা হওয়ার রাতে আরও কিছু কীর্তি গড়েছেন তিনি। চলুন দেখে নেওয়া যাক সে সব কীর্তি। ১৮  বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তাতে পেছনে পড়ল জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোল।   শুধু গোলের নন, খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের রাজাও হয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৮ জয় পাওয়া খেলোয়াড়ও এখন তিনি। এখানেও পেছনে ফেলেছেন ১৭ জয় পাওয়া ক্লোসাকে।    ১০ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোলটি করে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে প্রথম গোল করা খেলোয়াড় তিনি। ৭ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়ও মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬টি নিয়েছেন ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ৬ বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন মেসি। তার আগে সমান ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্স কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জেয়ারজিনহো। ৫ এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা। আর্জেন্টিনার নামের পাশেও গোল সংখ্যা ৫। অর্থাৎ, দলের সব গোলই তার। এমন কীর্তি এর আগে শুধু গড়েছেন রাশিয়ার ওলেগ সালেঙ্গার। ১৯৯৪ রাশিয়ার প্রথম ৫ গোলের প্রতিটাই করেন তিনি। ৩ আনন্দময়ের বিপরীতে বিব্রতকর রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৩ পেনাল্টি মিস করা ফুটবলারও এখন তিনি। আজকের আগে সমান ২ মিস নিয়ে ঘানার সাবেক স্ট্রাইকার আসামোয়া জিয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মেসি ফুটবলের মাইকেল জর্ডান, সে এক অতিমানব: জাভি

ছবি: সংগৃহীত

মেসি আমার চেয়ে এগিয়ে’, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড প্রসঙ্গে এমবাপে

ছবি : সংগৃহীত

ড্রেসিংরুমে চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ল ইরান, লাল কালিতে লেখা বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত
গেইলের রেকর্ড ভেঙে পোলার্ডের বার্তা, ‘সরি, ইউনিভার্স বস

ক্রিস গেইলের সঙ্গে কাইরন পোলার্ডের সম্পর্ক দারুণ। দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এবার রানের তালিকায় গেইলকে ছাড়িয়ে একটু মজা করার উপলক্ষ পেয়ে গেলেন পোলার্ড। পাশাপাশি তিনি শোনালেন গর্বের কথাও। মিডল অর্ডার ও লোয়ার মিডল অর্ডারে খেলে টি-টোয়েন্টির রানের তালিকায় চূড়ায় ওঠা তো চাট্টিখানি কথা নয়!   ২০১৪ সালের মার্চ থেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটি ছিল গেইলের। ‘ছিল’ বলতে হচ্ছে, কারণ এখন আর নেই। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে তাকে ছাড়িয়ে গেছে পোলার্ড। মেজর লিগ ক্রিকেটের ম্যাচে ৫৬ বলে ১০০ রানের ইনিংসটির পথে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন তিনি।   ১৪ হাজার ৫৬২ রান নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে গেইলের। পোলার্ডের রান এখন ১৪ হাজার ৫৬২।   রেকর্ডের পর গেইলের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে একটু মজাও করলেন পোলার্ড।   ক্রিস গেইলকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা বিশেষ কিছু, যাকে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে একটা সময় ধরে আদর্শ হিসেবে দেখতাম। তিনি ক্রিকেটের সব সংস্করণেই দুর্দান্ত করেছেন, তাই আবারও বলছি, ‘সরি ইউনিভার্স বস’, কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা দুজনেই শীর্ষে আছি।   রানের রেকর্ড তো এমনিতেই বিশেষ কিছু। পোলার্ডের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি স্পেশাল আরেকটি কারণে। ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় যে মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করেছেন তিনি! টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওসব পজিশনে ব্যাট করে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ এসেছে কালেভদ্রে। বেশির ভাগ সময়ই ক্রিজে গিয়ে ঝুঁকি নিতে হয়েছে। তার পরও রেকর্ডটি তিনি গড়েছেন। সেই গর্ব মিশে থাকল তার প্রতিক্রিয়ায়।   একথা ঠিক যে, ৬ বা ৭ নম্বরে ব্যাটিং করা খুবই কঠিন। কিন্তু অপ্রিয় কাজটা তো কাউকে না কাউকে করতেই হয়! যদিও সবাই টপ অর্ডারে ব্যাট করার জন্য উঠেপড়ে লেগে থাকে, একটি ক্রিকেট ম্যাচে ১১ জন খেলোয়াড় থাকে এবং প্রত্যেকেরই একটি ভূমিকা পালন করার থাকে।   আমার মনে হয়, সময় যত গড়িয়েছে, আমার ভূমিকা ছিল ম্যাচ শেষ করা এবং আমি তা সানন্দে গ্রহণ করেছিলাম। একবার চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করে সেজন্য অনুশীলন শুরু করলে, ভালো কিছু ঘটেই যায়।   গেইল তার ৪৫৫ ইনিংসের ক্যারিয়ারে স্রেফ ৬টি ইনিংস ছাড়া বাকি সব খেলেছেন টপ অর্ডারেই। পোলার্ড চার নম্বরে ব্যাট করেছেন ৯৭ ইনিংসে, পাঁচ ও ছয় নম্বরে ব্যাট করেছেন ৪৬১ ইনিংসে, এমনকি সাত ও আট মিলিয়ে খেলেছেন ৭৩ ইনিংস।   ওসব পজিশন থেকে বড় ইনিংস খেলা কঠিনই ছিল। এজন্যই গেইলের সেঞ্চুরি যেখানে ২২টি, পোলার্ডের সেখানে মাত্র দুটি। কিন্তু পোলার্ড বিন্দু বিন্দু করেই সিন্ধু রচনা করেছেন।   গেইলের রান ছাড়িয়ে যেতে ১৯৮ ইনিংস বেশি লেগেছে পোলার্ডের। কিন্তু সেখানেই মিশে আছে তার দীর্ঘ পথচলা, অধ্যবসায় ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ।   পোলার্ড অবশ্য একসময় ভাবতেও পারেননি, এই রেকর্ড তার হাতে পারে। তবে পেছন ফিরে তাকিয়ে তিনি সংশয়বাদী ও সমালোচনাকারীদের দিকে তির ছুড়তে ভুললেন না।   গেইল, পোলার্ড, ডোয়াইন ব্রাভোর মতো ক্রিকেটাররা পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটার হয়ে ওঠার অগ্রপথিক। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে তারা ‘ফ্রিল্যান্স’ ক্রিকেটার হয়েছিলেন। পরে সুনিল নারাইন, আন্দ্রে রাসেলরাও একই পথে পা বাড়ান। সেসব তাদেরকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে প্রবলভাবে। এখন এটিই খুব স্বাভাবিক চিত্র। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলার জন্য বোর্ডের চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানো, তরুণ বয়সেই অবসর নেওয়া, এসব এখন হরহামেশাই হচ্ছে।   সেটিই মনে করিয়ে দিয়ে পোলার্ড বললেন পরির্তনকে আলিঙ্গন করে নেওয়ার মানসিকতা রাখতে।   নাহ, কোনোভাবেই না। যদি বলি যে, এটা (এত রান করার কথা) ভাবনায় ছিল, তাহলে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এবং ক্রিসের মতো আপনার উল্লেখ করা অন্য সবার সঙ্গে যে বিষয়টি নিয়ে গর্বিত, তা হলো আমরা বিশ্বাসের উপর ভরসা করে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলাম এবং এর জন্য আমাদের অনেক উপহাসের শিকার হতে হয়েছিল। এখন আপনি দেখতে পাবেন যে অল্প বয়সেই ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছে, কারণ ক্রিকেট এখন আর শুধু একটি খেলা নয়; এটি একটি ব্যবসাও।   মানুষ সম্পর্কে জীবনে একটি জিনিস বুঝেছি যে, যখন কেউ ভিন্ন কিছু করে, সেই পরিবর্তনটা অনেকে মেনে নিতে পারে না। আমি খুশি যে আমি এই দিনটি দেখার জন্য বেঁচে আছি, এবং আশা করি, যারা বছরের পর বছর ধরে আমাদের সমালোচনা করেছেন, তারা এখন বলতে পারেন, ‘চিয়ার্স।’ কাউকে বলছি না যে ক্ষমা চাইতে হবে। শুধু খেলার প্রতিটি সংস্করণকে সম্মান করুন এবং বুঝুন যে, প্রযুক্তির মতোই সবকিছুই পরিবর্তন হচ্ছে।   পোলার্ডের বয়স এখন ৩৯ পেরিয়ে গেছে। আইপিএলে খেলা ছেড়ে দিয়ে গত তিন মৌসুম ধরেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটিং কোচ। দা হান্ড্রেডে তিনি প্রধান কোচ। ইংল্যান্ড জাতীয় দলেও সহকারী কোচ ছিলেন। এই তো, পাঁচ দিন পরই তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের বয়স পূর্ণ হবে ২০ বছর। তবে খেলা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত এখনও নেননি তিনি।   আমার মনে হয়, এটা ব্যক্তিগত গর্ব, অনুপ্রেরণা, খেলাটি খেলার ইচ্ছা এবং আমি যে দলের হয়েই খেলি না কেন, সেখানকার তরুণদের সাহায্য করার ইচ্ছার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। এই আকাঙ্ক্ষাটা থাকলে খেলা চালিয়ে যাব। আমি শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি।   শারীরিকভাবে নিজেকে ফিট রাখতে পারলে, ক্রিকেটের ‘মাসল মেমোরি’ সবসময় থেকে যায়। আইপিএলের পর বাড়ি গিয়ে তিন-চার দিন ছুটি নিয়েছিলাম এবং তারপর আড়াই সপ্তাহ ধরে খুব ভোরে কঠোর অনুশীলন করেছি। যেমনটা আমি বলেছি, আমার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে ব্যক্তিগত গর্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো টুর্নামেন্টে অপ্রস্তুত হয়ে এসে শুধু নামের খাতিরে খেলব, এমনটা হতে পারে না। উঠতি তরুণদের জন্য এটা সঠিক উদাহরণ নয়।   ১৪ হাজার ৫৮২ রানের পাশাপাশি পোলার্ড টি-টোয়েন্টিতে উইকেট নিয়েছেন ৩৩৩টি। এছাড়া এই সংস্করণে চারশ ক্যাচ নেওয়া (৪০৫) একমাত্র ক্রিকেটারও তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পেলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল

সবার জুতা এক রঙের হলেও মেসিরটা কেন আলাদা?

একাদশ থেকে বাদ পড়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শেখ মেহেদীর

0 Comments