প্রবাসী

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজার ৯৭০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

রোববার (২৬ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৪৩৭ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৯৯১ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩ হাজার ৫৪২ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ৬২৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩৭ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টা করার অভিযোগে আরও ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, নিয়োগ বা অন্যভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৫৭ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৮৯ জন নারী।

 

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৭ হাজার ৭৪৭ জনকে ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ১১৩ জনের নিজ দেশে ফেরার ভ্রমণ বুকিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ২৫১ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন কার্যকর রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার ‘মিনি ঢাকা’য়, ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৭২

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ‘মিনি ঢাকা’ খ্যাত কোতারায়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ ও ৩৩ জন নারী রয়েছেন।   স্থানীয় সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ অভিযান চালায় ইমিগ্রেশন বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার পাঁচশ’র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ সময় সন্দেহভাজন আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হয়।   মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে স্থানীয়ভাবে ‘বাংলা মার্কেট’ ও ‘মিনি ঢাকা’ খ্যাত হিসেবে পরিচিত কোতারায়া এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকে প্রবাসীদের সমাগম ছিল। অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   পরে অভিযান চালিয়ে ৪৭২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ৩৬৪ জন। এছাড়া মিয়ানমারের ৫৭, ফিলিপাইনের ১৮, পাকিস্তানের ৭, নেপালের ৮, ইন্দোনেশিয়ার ৭, ভারতের ৬, জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিক আটক হয়েছেন।   কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় কাজে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।   দেশটির অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইঞ্জাউ গণমাধ্যমকে জানান, সপ্তাহান্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কুয়ালালামপুরে আসেন। এবার অভিযানে তল্লাশি করা আড়াই হাজারের বেশি অভিবাসীর মধ্যে ৪৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যথাযথ তদন্ত শেষে এবং আইনি ব্যবস্থার জন্য আটক ব্যক্তিদের ডিটেনশন ডিপোতে নেওয়া হচ্ছে।   উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে অবস্থান করা কর্মী ছাড়াও তাদের নিয়োগকর্তা বা আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে যাওয়ার দুই মাসেই কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন আলিফ

ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে যুবদলের কর্মীসভা

ছবি: সংগৃহীত

৮ মাসের অপেক্ষার পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত
রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল, দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল সৌদি কোস্ট গার্ড

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলের রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল হয়ে সাগরে আটকে পড়া দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। উদ্ধার অভিযান শেষে তাদের নিরাপদে তীরে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাবিগ উপকূলে দায়িত্ব পালনরত সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল একটি নৌযান সাগরে বিকল হয়ে পড়ার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।   পরে সাগরের মাঝামাঝি এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর সমুদ্রযাত্রীদের জন্য সতর্কতাও জারি করেছে সৌদি সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সাগরে যাত্রার আগে নৌযানের ফিটনেস ও চলাচলের উপযোগিতা ভালোভাবে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   এ ছাড়া সমুদ্রে কোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ওমানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে মাদক সরবরাহের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, চাকরি হারালে কমবে সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রায় ৪৫০ অভিযোগ, সমাধান ৩৩০টির বেশি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এর মধ্যে ৩৩০টির বেশি অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইকমিশন।   ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এসব অভিযোগ আসতে থাকে। নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় বেশিরভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।   প্রবাসে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে চান অনেক বাংলাদেশি। তবে বৈধ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরও কেউ কেউ নিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ, বেতন বকেয়া, ভিসা ও অভিবাসন জটিলতাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এমনকি দেশে ফেরত পাঠানোর পরও অনেককে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।   এসব বিষয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হাইকমিশনের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনায়।   গত ৮ সেপ্টেম্বর Responsible Business Alliance (RBA) আয়োজিত ‘From Commitment to Action: Best Practices of Human Rights Due Diligence Across Supply Chain’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন। সেখানে মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।   আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকা অভিবাসী কর্মীদের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।   তিনি জানান, কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে অভিযোগের সমাধান, ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে হাইকমিশন।   একই সঙ্গে সমস্যায় থাকা কর্মীদের কল্যাণমূলক সহায়তা এবং প্রয়োজন হলে মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রেও হাইকমিশন সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।   হাইকমিশনের এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মদিনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের অধিকার ও দেশের সংকট নিয়ে এনসিপির মতবিনিময়

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়াতে হাইকমিশনের বৈঠক

0 Comments