সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য হজ মৌসুম ঘিরে নতুন সুবিধার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আসন্ন হজ মৌসুমে সৌদি আরবে হজযাত্রী নামিয়ে বাংলাদেশ বিমান ফিরতি ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ রুটে ফিরতি টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হজ কার্যক্রমে সৌদি আরবে যাত্রী পৌঁছে দেওয়ার পর ফিরতি ফ্লাইটগুলো সাধারণত খালি বা সীমিত যাত্রী নিয়ে ফেরে। এবার সেই সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ যাত্রী বহন করা হবে, যাতে প্রবাসীরা তুলনামূলক কম খরচে দেশে ফিরতে পারেন।
উপদেষ্টার দাবি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমানের অতিরিক্ত আয় হতে পারে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, “মাত্র ২০ হাজার টাকায় টিকিট কেটে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা যাবে”—এতে একদিকে প্রবাসীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটিও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

এ ছাড়া দায়িত্ব ছাড়ার আগে নিজের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে সরকারি গাড়ি বা বাসভবন নেননি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারও করেননি; দায়িত্বকাল শেষে সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন।
বাংলাদেশ বিমানে “ডিজিটাল জালিয়াতি” প্রতিরোধে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে বিমানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে নিউইয়র্ক সিটির ময়লা-আবর্জনা বহনের ট্র্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়েছেন ১৯ বছর বয়েসি বাংলাদেশি কলেজছাত্রী নিশাত জান্নাত। পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ১২টায় জ্যাকসন হাইটসের কাছে উডসাইড এলাকায় ৬২ স্ট্রিট এবং রুজভেল্ট এভিনিউতে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের নিচে পড়েন নিশাত। অকুস্থলেই তিনি মারা যান বলে জরুরি চিকিৎসা সেবা দপ্তরের নার্স পুলিশকে জানিয়েছেন। নিহতের বড়বোন নওশিন জান্নাত জানান, নিউইয়র্ক সিটি কলেজের ছাত্রী নিশাত জ্যামাইকায় পারসন্স বুলেভার্ডে একটি পার্কিং গ্যারেজে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন এবং কালো ইউনিফর্ম পরতেন। রাত ১১টার দিকে ডিউটি শেষ করার পরও বাড়ি না ফেরায় তিনি খোঁজে বের হন। নওশিন বলেন, রাত প্রায় ২টার দিকে ফোনের লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। চারদিকে পুলিশ ছিল। বোনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার বোন খুব আশাবাদী ছিল। সবার সঙ্গে কথা বলত এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে বলত। নিশাত দুই ছোট বোন (বয়স ৯ ও ৪ বছর) এবং বড়বোন নওশিনকে রেখে গেছেন। নিশাত সিলেটের গোলাপগঞ্জের উত্তর ঘরগাঁওয়ের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিনের মেয়ে ও স্থানীয় উডসাইডে বায়তুল জান্নাহ মসজিদের ইমাম। তিনি বলেন, সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় ৮ বছর আগে এসেছি নিউইয়র্কে। চার কন্যার দ্বিতীয় ছিল নিশাত। সিটি কলেজ অব নিউইয়র্কে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ বাংলাদেশি গ্রোসারি স্টোর ‘ফুডফেয়ার’-এর সামনেই ঘাতক ট্রাকের নিচে পড়েছিল।
ওমানে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের এক প্রবাসী তরুণ। তার নাম মোহাম্মদ সাগর সান, যিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বাসিন্দা। গত ২৩ মার্চ ওমানের বারকা এলাকায় আকস্মিক বন্যায় একটি প্রাইভেট কার পানির স্রোতে আটকে পড়ে। গাড়ির ভেতরে থাকা দুই আরোহী তখন মারাত্মক বিপদের মধ্যে ছিলেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই প্রবল স্রোতের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাগর সান। তার সঙ্গে ছিলেন এক পাকিস্তানি সহকর্মী। তারা দুজন মিলে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে আটকে পড়া দুই ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাহসিকতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকেই এটিকে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে সাগর সান জানান, তিনি কোনো পুরস্কার বা স্বীকৃতির আশায় নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই কাজ করেছেন। তার এই বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশির এমন সাহসিকতা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার অন্তত আট যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. আজিজুর রহমান শনিবার রাতে বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, দিরাই ও জগন্নাথপুরের আটজন মারা গেছেন। তবে লোকজন আরও দুজন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন। সব বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চারজন ও জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে এসেছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই অনেকেই এসব তথ্য পেয়েছেন। দিরাই উপজেলায় যাদের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন, তারা হলেন— কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের নূরুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদ, শাহান এবং রাজানগর ইউনিয়নের ররনারচরের মুজিবুর রহমান। ময়নার মামা উমেদ আলী বলেন, তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে ময়না ছিল সবার আদরের। তার বাবা ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে তাকে ইতালি পাঠানোর জন্য জমি-গরু বিক্রি করে দালালের হাতে তুলে দেন। এখন টাকাও গেল, ছেলেও চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল। আমরা দালাল চক্রের বিচার চাই। স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহনুর মিয়া বলেন, ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে জমিজমা, গরু ও গয়না বিক্রি করে তরুণরা দালালের ফাঁদে পড়েছিল। লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে তাদের সাগরে পাঠানো হয়, সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারগুলোতে শোকের মাতম চলছে। দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলায় যাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা হলেন— পাইলগাঁও গ্রামের আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম আহমদ ও মনির হোসেন। নাঈম আহমদের ভাই ঝিনুক মিয়া জানান, দালালের মাধ্যমে তাকে ‘গেইম ঘরে’ রেখে পরে নৌকায় তোলা হয়েছিল। কয়েকদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে তারা মৃত্যুর খবর পান। চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, তার ইউনিয়নের নাঈম আহমদ ও মনির মিয়া গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন। এখন তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের ফাহিম নামের আরেক যুবকের মৃত্যুর খবরও ছড়িয়েছে।