প্রবাসী

১,৩০৬ কর্মীর ভিসা বাতিলের ঘোষণা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার (মাইআইএমএমএস) হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অনুমোদিত ১ হাজার ৩০৬টি অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। একই সঙ্গে এসব পাসধারী বিদেশি কর্মীকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান শুক্রবার (৩১ জুলাই) মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (এসপিআরএম) সদর দপ্তরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

 

তিনি বলেন, মাইআইএমএমএস সিস্টেমে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে যেসব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অবৈধভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, সেগুলো থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আসেনি। তাই এসব কর্মী পাস অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

 

জাকারিয়া শাবান বলেন, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদিত সব অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিল করা। এরপর সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকরা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা শনাক্ত করা হবে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের অবস্থান এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ এতে তারা পালিয়ে যেতে পারেন।

 

তিনি আরও জানান, এসব বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, তদন্তে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের ভেতরের কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। কারণ, অভিযুক্তরা বিভাগের কম্পিউটারে বিশেষ ধরনের ‘ডংল’ (ইউএসবি ডিভাইস) ও নির্দিষ্ট সফটওয়্যার স্থাপন করে প্রশাসনিক (অ্যাডমিন) আইডি ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন এবং সেগুলোর মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী পাস অনুমোদন দেন।

 

তার ভাষায়, যারা সিস্টেম সম্পর্কে জানতেন এবং অভ্যন্তরীণ প্রবেশাধিকার ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না।

 

তিনি জানান, সাইবার সিকিউরিটি মালয়েশিয়া-এর সঙ্গে যৌথ ফরেনসিক তদন্তে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন সিস্টেমটি বাইরে থেকে হ্যাক করা সম্ভব হয়নি। বরং অভ্যন্তরীণ অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার ব্যবহার করেই সিস্টেমের অপব্যবহার করা হয়েছে।

 

এর আগে মালয়েশিয়ার হারিয়ান মেট্রো জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইমিগ্রেশন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিশেষ ধরনের ডংল ব্যবহার করে মাইআইএমএমএস সিস্টেমে প্রবেশ করে অবৈধভাবে অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস অনুমোদন দেয়। সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা পরীক্ষা, নেটওয়ার্ক বাইপাস বা যোগাযোগ সংকেত অনুকরণের মতো কাজে ব্যবহৃত বিশেষ হার্ডওয়্যার হিসেবেও এ ধরনের ডংল পরিচিত।

 

জাকারিয়া শাবান জানান, গত মে মাস থেকেই ইমিগ্রেশন বিভাগ এ চক্রের তৎপরতা শনাক্ত করেছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ‘অপস ক্র্যাক’ পরিচালনা করে চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়।

 

মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার দাতুক সেরি আব্দ হালিম আমান জানান, অভিযানে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, তিনজন বিদেশি নাগরিক, ইমিগ্রেশন বিভাগের চার কর্মকর্তা, বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার দুই কর্মকর্তা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

 

তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি এসব সন্দেহভাজনকে বৃহস্পতিবার বিকাল ২টা থেকে ৫টার মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দপ্তর এবং পেনাং ইমিগ্রেশন দপ্তর থেকে আটক করা হয়।

 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ২০১১ সালের কর্মী কোটার অপব্যবহার করে কোনো ধরনের লেভি পরিশোধ ছাড়াই ১ হাজার ৩০৬টি ভুয়া অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিজিট পাস ইস্যু করেছে। এতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে আরও বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নাজরান অঞ্চলে ভিক্ষা করার অভিযোগে ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   আটকের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর মাত্র কয়েক দিন আগেই মদিনা অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগে আরেক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করার তথ্য প্রকাশ করেছিল সৌদি জননিরাপত্তা বিভাগ। পরপর এমন ঘটনায় সৌদিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   সৌদি আরবে প্রবাসীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন নয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।   জননিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে সৌদি নাগরিক ও প্রবাসীদের রাস্তাঘাট বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি ভিক্ষুকদের অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে অনুমোদিত সরকারি ও দাতব্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সৌদি আইনে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কারাদণ্ড ও জরিমানা—দুই ধরনের শাস্তিই হতে পারে।   এ ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিক এ অপরাধে দণ্ডিত হলে সাজা শেষ করার পর তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিসাইল আতঙ্কে দ্রুত নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধ, বাংলাদেশি যুবক নিহত

শ্রমিকদের ভুয়া পাসপোর্ট ও পাশ তৈরির দায়ে মালয়েশিয়ায় ২৭ বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঘিরে জাল কাগজপত্র ও ওয়ার্ক পারমিট অনিয়ম

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঘিরে জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া ই-পি এল কে এস (অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ অনুমতিপত্র) এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরির দুটি পৃথক ঘটনা সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে দুই ঘটনায় মোট ৩৩৭ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনই বাংলাদেশি।   একদিকে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগে ১৭৩ বিদেশি আটক হয়েছেন। দুটি ঘটনাতেই তদন্তের আওতায় এসেছে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা, নিয়োগকর্তা ও নথিপত্রের ব্যবহার।   মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানান, কুয়ালালামপুরের জালান চানসাউলিনের একটি বাণিজ্যিক এলাকা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুমোদিত পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদানকারী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর সেন্টারের আশপাশে ‘অপস সারকাপ’ পরিচালনা করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে একযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।   অভিযানে ২৩ থেকে ৪৮ বছর বয়সি ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন নারী। প্রাথমিক তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানে জাল নথি তৈরির কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।    তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিটি জাল ই-পি এল কে এস তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ রিঙ্গিত এবং জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রায় ৭০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অর্থাৎ সামান্য অর্থের বিনিময়ে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা ও পরিচয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরির ব্যবস্থা করছিল একটি চক্র।   অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ১০টি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি তৈরি জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন উদ্ধার করা হয়।   অভিবাসন বিভাগের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব জাল নথি বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক পাসপোর্টের আবেদনে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট কীভাবে ও কার মাধ্যমে চক্রটির হাতে পৌঁছেছে। জাল নথি তৈরির সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।   অভিযানের আশপাশ থেকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৯ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি ১৫ পুরুষ ও একজন নারী। এ ছাড়া মিয়ানমারের একজন এবং ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী নাগরিক রয়েছেন। দুই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় তদন্ত চলছে।   এদিকে সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে চালানো আরেক অভিযানে উঠে এসেছে ভিন্ন ধরনের অনিয়ম। একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত পিএলকেএস ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।   সোমবার সেপাংয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের মোটরস্পোর্টস কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণস্থল, গুদাম এবং উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পরীক্ষার বিভিন্ন স্থাপনায় এ অভিযান চালানো হয়।   জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর পুত্রজায়া অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী শাখা অভিযানটি পরিচালনা করে। এতে অভিবাসন বিভাগের ৮৮ কর্মকর্তা অংশ নেন। তারা মোট ২৬১ জনকে তল্লাশি করেন। এর মধ্যে ২১৭ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন মালয়েশীয় নাগরিক।   তল্লাশির পর ২৩ থেকে ৪০ বছর বয়সি ১৭৩ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৯ জন পাকিস্তানি নাগরিক।    অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এমন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের পিএলকেএস অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে বিদেশিদের সামাজিক ভ্রমণ অনুমতিপত্রেরও অপব্যবহার করা হচ্ছিল।   আটকদের পরবর্তী তদন্তের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য পাঁচ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশও দেওয়া হয়েছে।    জাকারিয়া শাবান বলেন, নির্মাণ, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট সহায়ক স্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করছে। বৈধ নিয়মনীতি না মেনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, তাদের আশ্রয় বা সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   মালয়েশিয়ায় একই সময়ে সামনে আসা এ দুটি ঘটনা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্যও নতুন সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, পিএলকেএস বা বৈধতার সমস্যা সমাধানের নামে দালাল কিংবা অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে মূল পাসপোর্ট তুলে দেওয়া এবং জাল নথি ব্যবহার করার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে।   একই সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করলেও কর্মী যেমন আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন, তেমনি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে।   দুটি অভিযানের তথ্য বলছে, বিদেশি কর্মীদের বৈধতা নিয়ে অনিয়ম শুধু কর্মস্থলে নয়; নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট, পাসপোর্ট এবং সরকারি নথিপত্রের পুরো প্রক্রিয়াজুড়েই নজরদারি জোরদার করছে মালয়েশিয়া।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে ফেরেন ১৬৮ বাংলাদেশি। ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ার বন্দিদশা শেষে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার ‘মিনি ঢাকা’য়, ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ আটক ৪৭২

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে যাওয়ার দুই মাসেই কফিনবন্দী হয়ে ফিরলেন আলিফ

ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে যুবদলের কর্মীসভা

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল করার লক্ষ্যে কর্মীসভা করেছে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত সভায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।   যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।   সংগঠনের নেতা জাকির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন আমানত হোসেন ও রেজাউল আজাদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।   সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং মিজানুর রহমান মিল্টন।   নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে নিউইয়র্কের হিলটন ও শেরাটন হোটেলসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনাও হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মীসভায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ সার্বিক প্রস্তুতি আরও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।   স্থান ও সময় চূড়ান্ত করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ঐকমত্য এবং পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ভিত্তিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই অনুষ্ঠানটির স্থান ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৮ মাসের অপেক্ষার পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

রাবিগ উপকূলে নৌযান বিকল, দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করল সৌদি কোস্ট গার্ড

ছবি: সংগৃহীত

ওমানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা

0 Comments