আন্তর্জাতিক

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘সংবেদনশীল’, আইনি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে: জয়সওয়াল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারের তরফে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়টি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিবেচনা করার কথা বলেছে ভারত।

 

শুক্রবার নয়া দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণা নিয়ে ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের মনোভাব জানতে চান সে দেশের রিপাবলিক টিভির এক সাংবাদিক।

 

ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে বাংলাদেশ আবারও ভারতকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের ফিরিয়ে দিতে বলেছে। শেখ হাসিনা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কি কোনো যোগাযোগ হয়েছে?”

 

জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের একটি অনুরোধ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমরা আগেও বলেছিলাম। অনুরোধটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যে কোনো দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বেশ সংবেদনশীল এবং তা সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আলোকে বিবেচনা করে ভারত। এই অনুরোধের ক্ষেত্রেও প্রচলিত আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাধ্যবাধকতা খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

 

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়।

 

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার আইনজীবীরা।

 

ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ঢাকা বারবার তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।

 

ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা বলেছেন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।

 

গেল ৯ জুলাই রাতে টেলিফোনে দেওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, কেবল তিনি একাই নন, নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন।

 

সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করে বলেন, বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যর্পণের আরেকটি অনুরোধ এসেছে। তিনি বলেছেন, তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্ত নথি পাঠিয়েছেন। একজন ব্যক্তির প্রত্যর্পণের বিষয়ে যিনি বর্তমানে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন এবং নির্বাচনের ঠিক আগে তাকে একজন রাজনীতিবিদের হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান অবস্থা কী।”

 

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারত এই অনুরোধ পেয়েছে কি না, তা তিনি জানাতে পারছেন না।

 

“তবে আমি আপনাদের জানাতে পারি যে আইনি দিক এবং বিচারিক প্রক্রিয়াগুলো বিবেচনা করেই যেকোনো প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হবে।”

 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি গণসংযোগে গিয়ে গুলিতে আহত হন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অব্স্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

প্রায় আড়াই মাস পর গেল মার্চে ভারতে হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও উত্তাল ফ্রান্স, বিক্ষোভে সংঘর্ষ

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও সরকারি নীতির প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবারও রাজপথে নেমেছেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও কয়েকটি শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে।   গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ মোকাবেলায় শুক্রবার দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য ও বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েন করা হয়।   এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা দলে দলে রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় নেমেছে।   দেশজুড়ে বিক্ষোভের অংশ হিসাবে ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ রাজধানীর রাস্তায় মিছিল করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পতাকা হাতে সমবেত বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছিল ‘রাষ্ট্র, পুলিশ এবং ফ্যাসিস্টদের পতন হোক’।   ওদিকে, মার্সেই এবং লিওঁ শহরে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। লিওঁতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ করার চেষ্টাকালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং নিস শহরে জলকামান ব্যবহার করে।   বিভিন্ন নগরীতে চলা বিক্ষোভে অন্তত ১৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। প্যারিসসহ মন্টপেলিয়ার, রুয়া ও নিসের মতো শহরগুলোর কেন্দ্রস্থলে সভা-সমাবেশ ও মিছিলের ওপর কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।   ওর্লেয়াঁ শহরে কট্টর ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির (আরএন) বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে প্রায় ১১ হাজার মানুষ অংশ নেয়।   কয়েকটি নগরীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলেও রাজধানী প্যারিসের বড় সমাবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং গত সপ্তাহের তুলনায় পরিস্থিতি কম গুরুতর ছিল।   প্যারিস পুলিশ এবং গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, মূল মিছিল শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষভাগে কিছু জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ জানিয়েছেন, গত ১৭ অক্টোবরের তুলনায় এবার ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়।   আগের সপ্তাহে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাট ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবার পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নুনিয়েজের দাবি, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের তৎপরতায় সহিংসতার ঝুঁকি বেড়েছে।   প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় শনিবার কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। নগরী লকডাউনের মতো অবস্থায় ছিল। ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং লুভর জাদুঘর, মুসে দর্সে ও প্যারিস অপেরাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।   আগের সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের ঘটনার পর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও দোকান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।   প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের মিছিলের পথ নির্ধারণ নিয়েও গোল বেঁধেছে। পুলিশের নির্দেশে মূল মিছিলের পথ শহরের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে নেওয়া হয়।   পুলিশের যুক্তি ছিল, আগের সপ্তাহে যেসব বাণিজ্যিক এলাকায় ভাঙচুর হয়েছিল, সেগুলোর কাছ দিয়ে মিছিল গেলে নতুন করে সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কায় পথ সরানো হয়েছে।   তবে বামপন্থী রাজনীতিবিদদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে পথ পরিবর্তনের ফলে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং তাদেরকে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ। বিক্ষোভকারীদের সংযমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ফ্রান্সের সংকট সমাধানে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলন চলবে।   ২০২৭ সালের ১৮ এপ্রিল ও ২ মে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে দেশটিতে এই বিক্ষোভ নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এডেনে সৌদি সামরিক বহরে হামলার দাবি হুতিদের

ছবি: সংগৃহীত

মক্কা-মদিনার দিকে ছোড়া জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদির

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকদের পানি ও খাবার মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্য সরকারের

আবহাওয়া, সাইবার হামলা বা অন্য কোনও গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলো যেন টিকে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন নির্দেশনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে নয় লিটার বোতলজাত পানি এবং তিন দিনের খাবার মজুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   জলবায়ু সংকট, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর হুমকির প্রভাব নিয়ে সরকারি উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মানুষকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা চলার মতো জরুরি রসদ মজুত রাখতে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে শুরু করা হয়েছে এই ‘বি রেডি’ প্রচারাভিযান।   ব্রিটিশ নিরাপত্তা মন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেছেন, “যারা এই পরামর্শ মেনে চলতে সক্ষম, তাদের এটি মানা উচিত। জাতীয় সহনশীলতা গড়ে তোলার বৃহত্তর ও সম্প্রদায়ভিত্তিক চেষ্টার অংশ হিসেবে এটি মূলত দৈনন্দিন জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সাধারণ কিছু পদক্ষেপ।”   প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, মানুষের প্রতিদিনের কাজে লাগে এমন কিছু অবকাঠামো যেমন: বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি, ইন্টারনেট বা যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে রাশিয়া বা অন্যান্য শত্রুভাবাপন্ন শক্তির "রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসবাদের" হুমকির বিরুদ্ধেও যুক্তরাজ্যের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।   তিনি বলেন, “হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার এবং গ্রে জোন থ্রেটস এর মতো পরিভাষা সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি সঠিক ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে না। আমি বরং একে 'রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে বর্ণনা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।   “সুতরাং, এই বাস্তব হুমকির মুখে, যা কাল্পনিক নয় বরং একেবারে বাস্তব, এবং অন্য কোথাও নয় বরং দিন দিন আমাদের এখানেই বেড়ে চলেছে; আমাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি আমাদের জাতীয় প্রতিরোধ ক্ষমতাকে খবই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।   তিনি আরও বলেন, “আমাদের পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রশ্ন করা সত্যিই জরুরি যে, তারা প্রস্তুত কিনা, তারা তৈরি কিনা দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ কোনও সংকট উপস্থিত হলে তারা কীভাবে এর মুখোমুখি হবে, তা কি তাদের জানা আছে?”   ব্রিটিশ সরকারের নতুন নির্দেশনায় মানুষজনকে বাড়িতে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, ব্যাটারিসহ টর্চ এবং একটি হ্যান্ড-ক্র্যাংক বা উইন্ড-আপ এফএম রেডিওর পাশাপাশি কম্বল ও নগদ অর্থ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   তাছাড়া, পানীয় হিসেবে প্রতিজনের জন্য দৈনিক ৩ লিটার করে পানি মজুত রাখা এবংয় রান্না ও ধোয়ামোছার জন্য আরও পানির প্রয়োজন বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।   সরকার গত অগাস্টেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের টিনজাত খাবার মজুতের পরামর্শ দেওয়া হবে, তবে মন্ত্রিসভা কার্যালয়ের 'বি রেডি' (প্রস্তুত থাকুন) প্রচার আরও বেশি সুনির্দিষ্ট। এই প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেতারে বিজ্ঞাপন প্রচার করা শুরু হবে।   যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের যে কোনও বড় ধরনের দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থার (যেমন: বিদ্যুৎ বিপর্যয়, তীব্র ঝড় বা সাপ্লাই চেইন বন্ধ হওয়া) জন্য অন্তত ৩ দিনের খাবার, পানি ও জরুরি ওষুধ ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়াটা বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর প্রস্তাব বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।   ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেমন ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস তাদের নাগরিকদের এ ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যও এখন সেই কাতারে চলে আসবে।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে একাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের পর, আসন্ন শীতকালীন ঝড়-ঝঞ্ঝার মৌসুম শুরুর আগেই মন্ত্রীরা এই প্রচার শুরু করলেন। গত জানুয়ারিতে ঘন্টায় প্রায় ১০০ মাইল বেগে ধেয়ে যাওয়া 'ঝড় গুরেত্তি'-র আঘাতে মিডল্যান্ডস, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এবং ওয়েলসের হাজার হাজার বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল।   তাছাড়া "সুপার এল-নিনিও" এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ফলে ২০২৭ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারে এবং জলবায়ু নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাত মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।   ওদিকে, বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ধরা পড়ার পর, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ৩২টি সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে বলে খবর বেরোনোর মধ্যেই জনসাধারণের জন্য এই নতুন নির্দেশনা সামনে এল।   ইন্টারনেট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ওপর আধুনিক সমাজের ব্যাপক নির্ভরশীলতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৫০ হাজার সতর্কতা বার্তা পাঠিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই সেনা নিহতের ঘটনায় পশ্চিম তীরে বড় অভিযানের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

চীনের জনগণ (ছবি: সংগৃহীত)

জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা চীনের, পরিবারগুলোকে দেবে বাড়তি সুবিধা

প্রতীকী ছবি।

নাগরিকদের ঘরে তিন দিনের খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত
অরুণাচল সীমান্তে এখনও মুখোমুখি ভারত-চীন, স্বীকার করল আইটিবিপি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তজুড়ে চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ভারত। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশ (আইটিবিপি)-এর মহাপরিচালক শত্রুজীত কাপুর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানিয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে একাধিক স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।   রাজস্থানের আলোয়ারে আইটিবিপির সেন্ট্রাল ট্রেনিং কলেজে আয়োজিত বার্ষিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ‘হিমবীর সম্মান সমারোহ’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় কাপুর জানান, আইটিবিপির কমান্ডোরা বর্তমানে এই সীমান্ত উত্তেজনার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।   তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কয়েকটি স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আমাদের সদ্য গঠিত ‘শৌর্য’ কমান্ডোরা এতে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করেছেন।   মহাপরিচালক কাপুর আরও জানান, আইটিবিপি মূলত পাহাড়ি গেরিলা বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠেছিল এবং ২০০৪ সালে এদের চীন সীমান্তে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাহিনীটি তাদের মূল ভূমিকা থেকে সরে আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বাইরে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য বিশেষায়িত একটি ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। শিগগিরই ‘শৌর্য’ কমান্ডোদের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় মোতায়েনই এই বাহিনীর শক্তি।   চীন সীমান্তে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে ভারত আইটিবিপি প্রধান জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তে যতগুলো উপরিভাগের বা ওভারগ্রাউন্ড অবকাঠামো রয়েছে, ঠিক ততসংখ্যক ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড আশ্রয়কেন্দ্র বা শেল্টার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটির ওপরের যেকোনও স্থাপনাই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাই ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে প্রতিটি কোম্পানিতে পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত বাথরুম, বায়ু চলাচল ও ড্রেনেজ সুবিধাসহ সুবিধাজনক স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরি করা। নকশা চূড়ান্ত হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি বর্ডার আউটপোস্টে সমসংখ্যক ভূগর্ভস্থ ও মাটির ওপরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।   তাকসিংয়ের কাছে চীনের তাঁবু? সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতের বার্তা সংস্থা দ্য হিন্দু জানিয়েছে, গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের ‘মাজা কোম্পানি অপারেটিং বেস’-এর কাছে ‘আসাফিলা’ এলাকায় ভারত ও চীন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) নিয়ে ভারতের ধারণার ৬ থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে একটি উচ্চতায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাঁবু খাটিয়েছে বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই মাসে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় মাজার কাছে ভারত ও চীনের সেনারা মুখোমুখি হন। সংক্ষিপ্ত তর্কের পর উভয় পক্ষই পিছু হটলেও কয়েক দিন পর চীন বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়ে ফিরে আসে এবং তাঁবু স্থাপন করে। এর জবাবে ভারতও সেখানে তাদের সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি করেছে।   কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও এই সীমান্ত অচলাবস্থা বজায় রয়েছে। গত ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এছাড়া গত জুলাই থেকে দুই দেশের মধ্যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬ আগস্ট ৩৬তম ডব্লিউএমসিসি বৈঠক, ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের উপস্থিতিতে ২৫তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠক এবং ৬ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশের বাচা-দামাই পয়েন্টে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ইস্টার্ন সেক্টরের কর্পস কমান্ডার স্তরের বৈঠক। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে এ ধরনের বৈঠকগুলো প্রধানত পূর্ব লাদাখের চুসুল-মোলদো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিলো।    সূত্র: উইয়ন নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭৫ বছরে একবারও কর্মী ছাঁটাই করেনি যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরের হেবরনে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ধ্বংস করছে ইসরায়েলি বাহিনী

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় নিহত ১,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি

0 Comments