বিশ্ব

জর্জিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিত করল ইইউ

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ২০, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপীয় কমিশন জর্জিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ইউরোপে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। মাসের শেষ দিকে নতুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে কমিশন সতর্ক করেছে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই নিষেধাজ্ঞা জর্জিয়ার সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। খবর রেডিও ফ্রি ইউরোপের।

 

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে অ-ইইউ দেশগুলোর একটি তালিকা তুলে ধরা হয়, যাদের নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের সুবিধা পান। এই সুবিধা শুধু ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতেই নয়, বরং আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো সহযোগী দেশগুলোতেও প্রযোজ্য।

২০১৭ সাল থেকে জর্জিয়ার নাগরিকরা এই ভিসা-মুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছেন। তবে নতুন বছরের শুরুতে অনুমোদিত সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু অভিবাসনসংক্রান্ত অনিয়ম নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণেও কোনো দেশের ভিসা-মুক্ত সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি স্থগিত করতে পারবে ইউরোপীয় কমিশন।

নতুন বিধানে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে কমিশনের জন্য ইইউ সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন বাধ্যতামূলক নয়। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় জর্জিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার শালভা পাপুয়াশভিলি ইইউর এই পদক্ষেপকে “ব্ল্যাকমেইল” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইইউর অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্র জর্জিয়ার নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে অন্তত ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আপাতত সাধারণ নাগরিকদের এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে তারা আগ্রহী।

তবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জর্জিয়ান কর্তৃপক্ষ যদি উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরবর্তী ধাপে এই স্থগিতাদেশ সাধারণ নাগরিকদের ওপরও প্রয়োগ করা হতে পারে। এমনকি চূড়ান্ত পর্যায়ে জর্জিয়া সম্পূর্ণভাবে ভিসা-মুক্ত মর্যাদা হারিয়ে ইইউর ভিসা-প্রয়োজনীয় দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ইরানে স্থল অভিযানের খবরে ক্ষুব্ধ মার্কিন আইনপ্রণেতারা, বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন—এ খবর প্রকাশ্যে আসার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। এমন এক সময়ে পরিকল্পনাটির কথা জানা গেল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মার্কিন সেনা জড়ো করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলমান যুদ্ধ একটি নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।   বিষয়টির সঙ্গে জানাশোনা আছে এমন মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, সম্ভাব্য কোনো স্থল অভিযান পূর্ণমাত্রার হবে না। বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে সীমিত অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও পেন্টাগনের এমন কোনো পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কবে নাগাদ অনুমোদন দেবেন, সেটা স্পষ্ট নয়।   ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড এনবিসি চ্যানেলের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের সেনা সমাবেশে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘এই সেনাদের উদ্দেশ্য কী এবং তারা আসলে কী করছে, সেসব আমাদের জানতে হবে।’   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের গোয়েন্দা–বিষয়ক কমিটিতে রয়েছেন জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড। সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, ‘কাজটি শেষ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা কেন সেনা পাঠাচ্ছি, সেটা জানাও জরুরি।’   ‘যদি বিশেষ বাহিনীর কাজ হয় কোনো নির্দিষ্ট অভিযান চালানো—কোথাও প্রবেশ করা ও বেরিয়ে আসা, তবে দীর্ঘস্থায়ী দখলদারির চেয়ে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন’—বলেন জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড। তাঁর মতে, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো, সংঘাত শেষ না করে অসমাপ্ত রেখে দেওয়া। জেমস বলেন, ‘আমাদের এটা শেষ করতেই হবে।’ এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘সর্বাধিনায়ককে (কমান্ডার ইন চিফ) যেকোনো সর্বোচ্চ বিকল্পের সুযোগের জন্য প্রস্তুত করাই পেন্টাগনের কাজ। এর মানে এটা নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।’   এর মাঝেই রোববার মার্কিন রণতরি ইউএসএস ত্রিপোলির নেতৃত্বাধীন একটি ইউনিটের অংশ হিসেবে আরও ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা (মেরিন সেনাও রয়েছে) মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। এ বহরে আক্রমণ পরিচালনাকারী ও পরিবহন সরঞ্জাম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সচরাচর এ অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করে রাখে।   এভাবে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিকল্প কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া, ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম জব্দ করা, ইরানের তেল স্থাপনাগুলো দখল করা।   যদিও এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি কোথাও ‘সেনা পাঠাচ্ছেন না’। মূলত বিদেশে সামরিক সম্পৃক্ততা এবং এ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প এ কথা বলেছিলেন।   ইরানে সেনা পাঠাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে কি না—রোববার জেমস ল্যাঙ্কফোর্ডের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি সরাসরি কোনো জবাব দেননি। বলেন, এটা নির্ভর করছে মার্কিন সেনাদের কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তার ওপর। রিপাবলিকান এই রাজনীতিক আরও বলেন, ‘যদি একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলত, যেমনটা ইরাক বা আফগানিস্তানে হয়েছিল, তাহলে “হ্যাঁ”। কিন্তু এর উদ্দেশ্য যদি হয় মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করা এবং এটা নিশ্চিত করা যে আমরা সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থাকব, এরপর সেখান থেকে বেরিয়ে আসব, তাহলে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।’   কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার জন্য আনা একাধিক প্রস্তাব এর আগে মার্কিন সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজেটের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে পেন্টাগন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিষয়ে ‘আমরা যা আলোচনা করছি, তার বাইরেও আরও অনেক কারণে’ বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।   এমন এক সময়ে এ বিষয়টি সামনে এল, যখন সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূমিতে থাকা একটি মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। ৩০০ মিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজটি ধ্বংসের এ ঘটনা যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এমন আকাশযান হারানোর প্রথম নজির। ধারণা করা হয়, এ মডেলের প্রায় আটটি উড়োজাহাজ এখন মোতায়েন করা রয়েছে।   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রিপাবলিকান পার্টির স্টিভ স্ক্যালিস রোববার জানান, এই অভিযানে নিজেদের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্ব জানে যে পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরান বিশ্বের জন্য একটি বিপদ। ইরান এখন যেটা করছে, শুধু সেদিকেই দেখুন। ইরান যে বিপদ সৃষ্টি করেছে, তার কারণে দেশটি শুধু ইসরায়েলকেই নয় বরং চারপাশের সব আরব দেশকে নিজেদের বিরুদ্ধে এককাট্টা করেছে।’   ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের উদ্দেশ্যগুলো স্পষ্ট করেনি—এমন দাবি মানতে নারাজ স্টিভ স্ক্যালিস। তিনি বলেন, ট্রাম্প ‘কী করা দরকার’ সেটা বোঝেন। সেই সঙ্গে তাঁর (ট্রাম্প) চারপাশে চমৎকার একটি দল রয়েছে।   ইরানে চলমান সংঘাত আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে, যা আমাদের সময়ের অন্যতম বড় ভুল এবং প্রেসিডেন্টের নিজের ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।’   এই রাজনীতিক আরও বলেন, ‘কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়েই ট্রাম্প আমাদের এমন এক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো দৃশ্যমান পথ নেই।’   কোরি বুকারের মতে, ‘ইরানের সঙ্গে মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা স্পষ্টতই শুধু একটি যুদ্ধ নয়। এটা আফগানিস্তান যুদ্ধের পর আমাদের সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততা।’ এদিকে মেরিল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে পেন্টাগনের দেওয়া প্রস্তাব কংগ্রেসে পাস হবে না বলে তিনি আশা করছেন।   এই আইনপ্রণেতা আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এমন একজন প্রেসিডেন্টকে তাঁর ইচ্ছাকৃত একটি অবৈধ যুদ্ধের জন্য আরও অর্থ দেওয়া উচিত, যিনি নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি দেশকে নতুন কোনো যুদ্ধে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না।’   ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, ‘এ যুদ্ধ এখন আমাদের আরও নিরাপদ করার পরিবর্তে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত কোটি ডলার খরচ হচ্ছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামও বাড়ছে।’    

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

“টানা ৯ বছর শীর্ষে ফিনল্যান্ড, সুখের সূচকে নর্ডিক দেশগুলোর দাপট”এগিয়েছে বাংলাদেশ

পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর নতুন পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পোপ চতুর্দশ লিও। ছবি: সংগৃহীত

সহিংসতার বিরুদ্ধে পোপ লিওর শক্তিশালী বার্তা

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে স্থল অভিযান মানেই ‘মরণফাঁদ’, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা

সংগৃহীত ছবি
ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু

মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।    সম্প্রতি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ইরানের নিজস্ব শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান ও ইসরায়েলি ঘনিষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।  এই হুমকির পর নিরাপত্তার খাতিরে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি (এইউবি) সোমবার ও মঙ্গলবার তাদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ রিমোট বা অনলাইনে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে লেবানিজ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি। তারা তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আসা ব্যাপক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তারাও আগামী দুই দিন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এই যুদ্ধের শুরু থেকেই অনলাইনে পাঠদান করছে।  কাতার নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার দিনই কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিস্টেন্স লার্নিং বা দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও চলতি মাসের শুরুর দিকে একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  আইআরজিসির এই সরাসরি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা এখন এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানি হামলার সরাসরি হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে লেবানন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখন ঘরবন্দি অবস্থায় অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ডামাডোলে হঠাৎ করে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গবেষণাগারের কাজ এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং শিক্ষাবিদগণ জানিয়েছেন, যুদ্ধের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে শিক্ষাঙ্গনকে টেনে আনা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অনেক শিক্ষার্থীই এখন নিরাপত্তার অভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। সূত্র: সিএনএন

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নেপালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধের ঘোষণা

ইসরায়েলের একটি এলাকায় ইরানের হামলা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ হামলা, বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভ দমন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আটকাদেশ বাড়াল নেপালের আদালত

ছবি : সংগৃহীত
ইরানে নিহত বেড়ে ২০৭৬, আহত সাড়ে ২৬ হাজার

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ রোববার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।   ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ২১৬ শিশুসহ মোট ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজার মানুষ। আহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি শিশু।   এ ছাড়া হামলায় ৩৩৬টি স্বাস্থ্য ও জরুরীসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সূত্র: আল–জাজিরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব অস্ট্রেলিয়ায়, সংকট মোকাবিলায় ফ্রি গণপরিবহন

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে আরও এক ফিলিস্তিনির মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে ইসরায়েল: রেশনিং করে চলছে আকাশ প্রতিরক্ষা

0 Comments