জাতীয়

সংস্কৃতিই মানুষে–মানুষে সেতুবন্ধ গড়ে তোলে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১০, ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দ্বন্দ্ব–সংঘাতপূর্ণ ও বিভক্ত এই বিশ্বে সংস্কৃতিই মানুষে–মানুষে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয় এবং মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

 

বৃহস্পতিবার ঢাকায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে চতুর্বিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি ৯ দিনব্যাপী ঢাকার বিভিন্ন ভেন্যুতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পর্যায়েও আয়োজন করা যেতে পারে। এবার প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে উৎসবের চলচ্চিত্র প্রদর্শনকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষায় সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অতিরিক্ত আলোকসজ্জা ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

চলচ্চিত্র তালিকায় পরিবেশবিষয়ক চলচ্চিত্র রয়েছে কি না জানতে চেয়ে তিনি আয়োজকদের অন্তত কয়েকটি পরিবেশভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুরোধ করেন এবং উৎসবের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি কমিশনের চেয়ারম্যান ও উৎসব কমিটির নির্বাহী সদস্য জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ক্রোয়েশিয়ান–যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শিওপেং। উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

 

উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চীনা পরিচালক চেন শিয়াং পরিচালিত ‘উ জিন ঝি লু’ (দি জার্নি টু নো এন্ড)। এবছর এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরামা, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্ম সেশন, ওমেন ফিল্ম মেকার, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম, স্পিরিচুয়াল ফিল্ম এবং ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি থাকছে ওয়েস্ট মিটস ইস্ট, স্ক্রিনপ্লে ল্যাব, মাস্টারক্লাস ও আর্ট এক্সিবিশন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
দুটি আসন দেখভালের দায়িত্ব আমার ওপর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: জেবা আমিন

রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিন খান। এ সময় তিনি শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।   বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মদনখালীর জাফরপাড়া বাবনপুর এলাকায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন জেবা আমিন। পরে শহীদের বাবা মকবুল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শেষে আবু সাঈদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।   শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জেবা আমিন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। বিশেষ করে আবু সাঈদের অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে তিনি যেভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন, তা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার আত্মত্যাগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”   তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে রংপুর-৫ ও রংপুর-৬ সংসদীয় আসনের উন্নয়ন তদারকি, দেখভাল এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করব। এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”   এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহামুদুন নবী চৌধুরী পলাশসহ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।   উল্লেখ্য, রংপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. গোলাম রব্বানী এবং রংপুর-৬ আসনে মো. নুরুল আমীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনগুলোতে উন্নয়ন তদারকি ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী জেবা আমিন খান রংপুর-৫ ও রংপুর-৬ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সময় টিভির পরিচালক আহমেদ জোবায়ের কারাগারে

পদ্মা সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটার কারণ জানালেন মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানালেন ঢাবি অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক

‘চৌর্যবৃত্তির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইবিএর অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক।   বুধবার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নতুন কোনো বিষয় নয়; বরং ২০১৮ সালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।   অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সহ-উপাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মত দেয়। পরে বোর্ড অব গভর্ন্যান্সও সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে এবং তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।   তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত একটি বিষয়কে পুনরায় সামনে এনে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রে তিনজন লেখক থাকলেও নতুন করে উত্থাপিত অভিযোগে শুধুমাত্র তাঁর নামকে কেন্দ্র করে আলোচনা হচ্ছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়।   এ ছাড়া তাঁর বক্তব্য গ্রহণ না করেই কিছু সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র পাঠকের সামনে আসেনি।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া একটি গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী শ্রীলংকা

ছবি: সংগৃহীত

জাহাজ থেকে নামানো এক ট্রাক ইলেকট্রনিকস পণ্যসহ দুই চোরাকারবারি আটক

ছবি: সংগৃহীত

মাতারবাড়ী-চট্টগ্রামে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ছে সরকার - মন্ত্রিপরিষদ সচিব

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত, স্বস্তিতে স্থানীয়রা

ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা-এর উদ্যোগে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায় এবং রেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয়।   খবরটি প্রকাশের পর মানিকগঞ্জ জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এটিকে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।   স্থানীয়দের মতে, এই রেল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে মানিকগঞ্জসহ আশপাশের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও পাবনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গত ২ এপ্রিল মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা রেলমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও (আধা-সরকারি) পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসে।   মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলার সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন। রাজধানীর খুব কাছে হলেও এখনো জেলা রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে সড়কপথে যানজট ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।   ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেলপথ চালু হলে কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পজাত পণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।   এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুস সালাম বাদল বলেন, রেল সংযোগ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।   ক্যাব মানিকগঞ্জের সভাপতি এবিএম সামছুন্নবী তুলিপ বলেন, এটি জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।   এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, রুট নির্ধারণ এবং প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।   তাদের মতে, ঢাকা-মানিকগঞ্জ রেলপথ চালু হলে ভবিষ্যতে দেশের মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় করের বোঝা বাড়ছে, নতুন মূলধনি মুনাফা করের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ প্রধান সমস্যা চিহ্নিত বিদেশি গবেষকের, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

সময় টিভির সাবেক এমডি ও পরিবারের ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

0 Comments