সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী মোহাম্মদ আলওয়ার উদ্দিন হাজী আবু সৈয়দ ‘বিগ টিকিট আবু ধাবি’র সাপ্তাহিক ড্র-তে ১ মিলিয়ন দিরহাম জিতেছেন। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ছয় বছর নিয়মিত চেষ্টা চালানোর পর এবার তার ভাগ্য সহায় হয়—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমান।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, আলওয়ার উদ্দিন গত ২১ বছর ধরে আল আইনে বসবাস করছেন। তিনি একা নয়, ৯ বন্ধুর একটি দলের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতি মাসে লটারির টিকিট কিনতেন। ধারাবাহিকভাবে অংশ নেওয়ার পর সিরিজ ২৮৩-তে তাদের টিকিটটি বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়।
জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আলওয়ার উদ্দিন বলেন, খবরটি পেয়ে তিনি মুহূর্তের জন্য ‘স্তব্ধ’ হয়ে গিয়েছিলেন এবং এতদিন চেষ্টা করেও এমন পুরস্কার জয়ের কথা কল্পনা করেননি। অর্থের ব্যবহার নিয়ে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, তবে এই সাফল্য তাকে ভবিষ্যতেও অংশগ্রহণে আরও উৎসাহিত করেছে বলে জানান।
এদিকে বিগ টিকিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বিশেষ প্রচারণা চলছে। আগামী ৩ মার্চের মেগা ড্র-তে গ্র্যান্ড প্রাইজ হিসেবে থাকছে ১৫ মিলিয়ন দিরহাম। পাশাপাশি পাঁচজন বিজয়ী পাবেন ১ লাখ দিরহাম করে সান্ত্বনা পুরস্কার, এবং পুরো মাসে সাপ্তাহিক ই-ড্র’র মাধ্যমে চারজনকে ৫০ হাজার দিরহাম করে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একসাথে দুই বা তার বেশি টিকিট কিনলে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ৩ মার্চের লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিশ্চিত ক্যাশ পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ড্রিম কার সিরিজে রেঞ্জ রোভার ও মাসেরাতির মতো বিলাসবহুল গাড়ি জয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সেখানে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চলমান উদ্যোগের কথা জানান তিনি। ত্রিপলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, গত ১৭ মে রাষ্ট্রদূত তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করেন। সফরকালে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সচেতন করেন। ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অনেক বাংলাদেশি তাদের দুর্ভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিটেমাটি বিক্রি করে লিবিয়ায় এসে দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন আটক থাকা, অমানবিক জীবনযাপন ও নানা ধরনের কষ্টের কথাও জানান তারা। রাষ্ট্রদূত তাদের অভিজ্ঞতাগুলো দেশে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার করে অন্যদের সচেতন করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনের সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে সেখানে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩১ মে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি বাংলাদেশিদেরও দ্রুত প্রত্যাবাসনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সফরকালে রাষ্ট্রদূত ডিটেনশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবাসন, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক কল্যাণ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দুই পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়।
মালয়েশিয়ায় ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন এক বাংলাদেশি যুবক। গত ১২ মে দুপুর থেকে নিখোঁজ হন তিনি। এতে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে দেশে থাকা তার পরিবার ও স্বজনরা। নিখোঁজ বিল্লাল শেখ (৪০) জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মফিজ উদ্দিন শেখের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান বিল্লাল। সেখানে কেলেন্তান কাজাং এলাকায় জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ করতেন তিনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ২ মাসের ছুটি কাটিয়ে আবারও কর্মের টানে মালেয়শিয়া যান। গত ১২ মে দুপুরে বিল্লাল শেখের সঙ্গে স্ত্রী পারুল বেগমের ভিডিও কলে কথা হয়। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত ইমো, মেসেঞ্জারসহ সব যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ দেখাচ্ছে। গত ৯ দিনে তার কোনো হদিস না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে বিল্লাল শেখের মা, স্ত্রী ও চার সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির নিখোঁজের খবরে ভেঙে পড়েছেন সবাই। স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, আমার স্বামী ৯ দিন ধরে নিখোঁজ। গত ১২ মে দুপুরে আমার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। এরপর থেকে আর যোগাযোগ নেই। আমরা খুব টেনশনে আছি, কষ্টে আছি। সরকারের কাছে দাবি আমার স্বামীর সন্ধান যেন দেওয়া হয়। আমি ৪ সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করতেছি। মা মোছা. বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আদরের একমাত্র ছেলে বিল্লাল শেখ। আজ ৯ দিন ধরে তার সঙ্গে কথা বলতে পারি না। আমার বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আপনারা আমার ছেলেকে বের করে দেন। মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে জেনেছি, মালয়েশিয়ায় প্রবাসী মাদারগঞ্জের বিল্লাল শেখ গত ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পরিবারের প্রতি আমার বার্তা তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। যাতে তার অবস্থানটি কোথায় জানার চেষ্টা করা যায়। সেক্ষেত্রে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব যেন পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি গবেষক ড. মো. আবু জায়েদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক গবেষণায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি লাভ করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘২০২৬ গ্লোবাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড।’ তিনি মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনস্থ রিসার্চ সেন্টার ফর ন্যানো-ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজি (আরসিএনএমইটি)-এর গবেষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক এ পুরস্কারটি তাকে প্রদান করা হয়েছে জ্বালানি ও পরিবেশ গবেষণায় অসাধারণ অবদান, আন্তঃবিষয়ক উদ্ভাবন এবং নৈতিক একাডেমিক নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ। তার গবেষণায় শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনের চেষ্টা করা হয়েছে। ড. মো. আবু জায়েদের গবেষণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধু গবেষণাগারভিত্তিক নয়, বরং শিল্প ও সমাজে বাস্তব প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে তার কাজ আন্তর্জাতিক গবেষণা মহলে প্রশংসিত হয়েছে। গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষার্থী কল্যাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা এবং মূল্যবোধনির্ভর নেতৃত্বের প্রতিও তার অঙ্গীকার তাকে একজন উদীয়মান বৈশ্বিক একাডেমিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্লোবাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ডসের মুখপাত্র অ্যালেক্স স্টার্লিং বলেন, ড. মোহাম্মদ আবু জায়েদ বৈজ্ঞানিক কঠোরতা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং দূরদর্শী উদ্ভাবনের এক অনন্য সমন্বয়ের উদাহরণ। টেকসই জ্বালানি ও পরিবেশগত সমাধান নিয়ে তার কাজই এই পুরস্কারের মূল চেতনাকে প্রতিনিধিত্ব করে। এর আগে ড. মো. আবু জায়েদ ‘ওবাদা ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ’ অর্জন করেও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। নতুন এই স্বীকৃতি তার গবেষণা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে টেকসই জ্বালানি গবেষণায় বিশ্বসেরার আসন ধরে রেখে নতুন ইতিহাস গড়া সানওয়ে ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট বিজ্ঞানী বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, ড. মো. আবু জায়েদ একজন বাংলাদেশি গবেষকের এ অর্জন দেশের জন্যও গৌরবের। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের অঙ্গনে বাংলাদেশি তরুণ গবেষকদের সম্ভাবনা তুলে ধরতেও এ সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।