জাতীয়

সাংবাদিকতার আড়ালে অপরাধ করলে কোনো ছাড় নেই: তথ্যমন্ত্রী

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
 

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকতার আড়ালে কোনো ধরনের অপরাধ করলে তার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, অতীতে যেমন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাহসী সাংবাদিকতা হয়েছে, তেমনি ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান তৈরির মতো সাংবাদিকতার উদাহরণও ছিল—যা এখন নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।

 

সোমবার (৪ মে) দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

কারাগারে থাকা সাংবাদিকদের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম চলবে। তিনি উল্লেখ করেন, কারাবন্দি কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আমলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর দমন-পীড়নে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল নিয়েও কিছু অভিযোগ বিদ্যমান।

 

তবে তিনি স্বীকার করেন, অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে ও পেশাগত নীতিমালা মেনে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। মূল্যবোধের সংকট এবং ক্ষমতাসীনদের অপশাসনের কারণে দেশ অতীতে যে অধঃপতনের দিকে গিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান সরকার শিক্ষা নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি।

 

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে সাংবাদিকতাকে যেভাবে কখনও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে গভীর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।

 

তিনি আশ্বস্ত করেন, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকদের জন্য ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। “আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে কোনো ধরনের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

 

পরে মন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
‘বসবাউবি-প্রাস’-এর নিবন্ধন প্রাপ্তি ও বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে

বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রীদের সংগঠন বসবাউবি-প্রাস-এর নিবন্ধন প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও বিশেষ সাধারণ সভা   ০১ মে, শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ফোর সিজন রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।   সম্প্রতি সংগঠনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন লাভ করেছে। সংগঠনের নিবন্ধন নম্বর ঢ-০১০১৩৯। উল্লেখ্য, বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ইতোমধ্যে ১০৩ বছরের গৌরবময় পথচলা অতিক্রম করেছে এবং বসবাউবি-প্রাস বিদ্যালয়ের প্রথম নিবন্ধিত প্রাক্তন ছাত্রী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের আনন্দ সকল প্রাক্তন ছাত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এ বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকাল ৯:৩০টায় রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর শুভ উদ্বোধন, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, সংগঠনের পটভূমি ও লক্ষ্য উপস্থাপন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত মেজর প্রফেসর ডা. লায়লা আঞমান বানুর স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষিকাবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ প্রাক্তন ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান, কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি এবং বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. কোহিনূর বেগম। সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সেক্রেটারি প্রফেসর সায়মা ডেইজি। বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর রওশান জাহান এবং ডা. সুফিয়া বেগম, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) ও পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।   অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশে অবস্থানরত স্বনামধন্য, কৃতী ও প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সদস্যভুক্তি কার্যক্রম, পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রাক্তন ছাত্রীদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়।   দুপুরে কেক কেটে সংগঠনের শুভ সূচনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রফেসর ডা. সামসুন নাহার রেনুর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।   বসবাউবি-প্রাস-এর নেতৃবৃন্দ বলেন, এই আয়োজন প্রাক্তন ছাত্রীদের পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করা, বিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে ঢাকায় আসছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকতার আড়ালে অপরাধ করলে কোনো ছাড় নেই: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিকভাবে কৃষকদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে আবারও বিশৃঙ্খলা ফিরে এসেছে

রাজধানী ঢাকা-তে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংস ঘটনার ঘটনায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে সংগঠিত অপরাধচক্র—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা।   একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দেয়। সেই সুযোগেই দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা ও জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ অপরাধীরা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে ধারাবাহিক সহিংসতা, গ্যাং দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির ঘটনা।   🔫 প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা গত প্রায় ২১ মাসে অন্তত ২৩টি ঘটনায় পেশাদার অপরাধীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যেই সংঘটিত হয়েছে, যা নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ঘটনায়, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ অপরাধী খন্দকার নোয়ীম আহমেদ টিটনকে গত ২৮ এপ্রিল নিউ মার্কেট এলাকায় প্রতিপক্ষ গুলি করে হত্যা করে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই আধিপত্য বিস্তার ও ‘ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ’কে কেন্দ্র করে ঘটছে বলে জানা গেছে।   চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার অপরাধচক্রগুলো এখন শুধু হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বাস্তবায়ন তদন্তে উঠে এসেছে, অনেক হামলা ও পরিকল্পনা দেশের বাইরে থাকা পলাতক গ্যাং লিডারদের মাধ্যমে সমন্বিত হচ্ছে। তারা ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে স্থানীয় অপরাধীদের দিয়ে এসব অপরাধ ঘটাচ্ছে। এদিকে স্থানীয়ভাবে এসব গ্যাংয়ে যুক্ত হচ্ছে বেকার ও ঝুঁকিপূর্ণ তরুণরা, যারা দ্রুত আয়ের আশায় অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ছে।   পুলিশের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এমন অভিযান দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি সফল হয়নি। আরও বলা হয়েছে, জামিনে মুক্ত অপরাধীদের পর্যবেক্ষণে ঘাটতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা এই চক্রকে আবারও শক্তিশালী হতে সুযোগ দিয়েছে।    

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির সঙ্গে কোনো 'কম্প্রোমাইজ নয়':ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে পৌঁছালেন প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

ছবি: সংগৃহীত
বাতিল হওয়া ৩১ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নে যাচ্ছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল হওয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ৩১টি বিদ্যুৎ প্রকল্প আবারও পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এসব প্রকল্পের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) পুনর্বহাল করা হবে কি না, তা যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।   সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।   মন্ত্রী বলেন, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর কারণ ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।   তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মোট ৩৭টি এলওআই বাতিল করা হয়েছিল, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   সরকার এখন এসব প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে কার্যকর প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর কথা ভাবছে বলে জানান তিনি।   মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি, যদিও সরকার দ্রুত এগিয়ে যেতে চায়।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রকল্পের এলওআই বাতিল করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।   বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট, যার অধিকাংশই সৌরবিদ্যুৎ। এছাড়া প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বায়ু এবং ২৫ মেগাওয়াট বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন গতি আসতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে।

আক্তারুজ্জামান মে ০৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

‘সোনালি’ নামে ব্রয়লার বিক্রি: বাজারজুড়ে প্রতারণার ফাঁদ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ: কোন দেশে কত রিঅ্যাক্টর, উৎপাদনে কারা শীর্ষে

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা চালু করতে যাচ্ছে ভারত

0 Comments