রাজনীতির ময়দানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম হলেও সম্পদের হিসাবে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন তার বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাবার তুলনায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা বেশি সম্পদের মালিক ইয়াসির আব্বাস।
ঢাকা-০৮ আসন থেকে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র ও হলফনামা দাখিল করেছেন মির্জা আব্বাস। সেখানে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, তার নিজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, তার বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসের একক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়। পরিবারিকভাবে হিসাব করলে মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী ও সন্তানদের সম্মিলিত সম্পদের অঙ্ক প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, মির্জা আব্বাসের হাতে নগদ রয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রা হিসেবে রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ মার্কিন ডলার। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের কাছে নগদ রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও ৬৮ হাজার ৯৬০ মার্কিন ডলার। ব্যাংকে মির্জা আব্বাসের জমা রয়েছে ৭১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৯ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৯ টাকা। পাশাপাশি মির্জা আব্বাসের নামে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) দেখানো হয়েছে।
ব্যবসা ও বিনিয়োগের দিক থেকে মির্জা আব্বাসের বড় অংশ ব্যাংকিং খাতে। তার নামে একটি বেসরকারি ব্যাংকের অর্জনকালীন শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এছাড়া বিও অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ রয়েছে ৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বেশি। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের নামেও একই ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় মির্জা আব্বাসের দুটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অলংকার বাবদ তার নিজের নামে ৩০ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ২২ লাখ টাকার তথ্য রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের হিসাবেও উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে—নিজের নামে তিনটি ও স্ত্রীর নামে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা। পাশাপাশি ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ২২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রীর তথ্য দেওয়া হয়েছে।
ভূমি ও আবাসন সম্পদের ক্ষেত্রে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, মির্জা আব্বাসের কোনো কৃষিজমি নেই। তবে তার নামে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকার অকৃষি জমি এবং যৌথ মালিকানায় প্রায় ৯৫ লাখ টাকার জমি রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৬ হাজার ১০৬ বর্গফুটের একটি ভবন, ছয়টি ফ্ল্যাট, দুটি পার্কিং স্পেস এবং একটি ভবনে ৮ হাজার ৩০ বর্গফুট ফ্লোর স্পেসের মালিকানা রয়েছে তার।
আয়ের হিসাবে দেখা যায়, মির্জা আব্বাসের বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৩ টাকা। বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬০২ টাকা। তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসের মোট সম্পদ ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং তার বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৮১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। মেয়ে নাবিলা মির্জার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, যার বার্ষিক আয় ৪৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
ঋণের তথ্য অনুযায়ী, মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা। তবে কোনো সরকারি পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতায় নিজেকে স্নাতক হিসেবে উল্লেখ করা এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ৩২টি মামলা রয়েছে বলেও হলফনামায় জানানো হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী আব্বাস পরিবারে রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগের শক্ত অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যেখানে সম্পদের দিক থেকে বাবাকেও ছাড়িয়ে গেছেন বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি হবে প্রথম ভারত সফর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দিনের এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সফরটি মূলত দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকেন্দ্রিক হবে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও কর্মসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতেই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় দশটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা ব্রিকসের আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা কালবেলায় ‘দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বেশ কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ারও ইঙ্গিত মিলেছে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন। দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাদির হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন আসামিদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়, ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকেও প্রত্যর্পণের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে দুই দেশই চাইবে, এই বিরোধ যেন সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন বাস্তব ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত এবং ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও দ্রুত ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির নবায়ন নিয়ে আলোচনা সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়ে আসছে ঢাকা। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত। ঢাকা-নয়াদিল্লি; দুই পক্ষই বর্তমানে সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরেই সব বিরোধের সমাধান হয়ে যাবে; এমন প্রত্যাশা নেই। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার প্রয়োজন হবে। তবে মোদি ও তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠক দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন যোগাযোগের পথ তৈরি করতে পারে। সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একইভাবে নরেন্দ্র মোদিও নতুন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ভারতের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবেন। সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি হলে আগামী সপ্তাহের তারেক রহমানের দিল্লি সফরই হতে পারে বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাবেক চেয়ারপারসন মরহুম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এসব দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের এসব আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।
প্রতিদিনের যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, বাড়ছে ভোগান্তি। যানজট নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পর এবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। এরই অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক এই সিগন্যাল সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরও ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই আধুনিক সিগন্যাল সিস্টেম চালুর লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ডিএসসিসির আওতাধীন আরও ২২টি ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’ নতুন এই ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও চালকেরা বলেন, ‘সবাই এখন সিগন্যাল ফলো করছে। যে সময় রেড সিগন্যাল, তখন সবাই অটোমেটিকভাবে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যে সময় সবুজ সিগন্যাল দিচ্ছে, আবার চলে যাচ্ছে। ডাইরেক্টলি এনফোর্স করার চেয়ে এই যে প্রযুক্তির সুবিধা, এই প্রযুক্তির সুবিধাগুলো এখানে আমরা সরাসরি দেখলাম। একটা প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা কীভাবে লাভবান হতে পারি।’ এদিকে বিজয় সরণির ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সুজা চৌধুরী বলেন,‘ভয় পাচ্ছে যে তাদের মামলা হচ্ছে এবং মামলার কপি তাদের ঠিকানায় চলে যাচ্ছে। এজন্য যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা একটু সতর্ক হচ্ছে।’ তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার সুফল পেতে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। শুধু স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু করলেই হবে না; সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এআইকে শতভাগ কার্যকরী করতে হলে বৈধ যানবাহন সড়কে থাকতে হবে। তার নাম্বার প্লেটটা থাকতে হবে। যে নাম্বার প্লেটটা আমার এআই লেন্সের মধ্যে ধরা পড়বে। কিন্তু যেহেতু অটোরিকশাগুলোর নাম্বার প্লেটের সমস্যা আছে, নাম্বার প্লেটই আসলে নাই। এখন পর্যন্ত সে জায়গায় আসলে আমরা এখন যেভাবে কাজটা করছি, পুলিশ এখানে এনগেজড আছে। মূলত আমরা এআই সাপোর্টের একটা সফটওয়্যার বানানো হয়েছে, সেখানে পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সড়কে কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, তখন একটা ভিডিও ট্রিগার করে। ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ডের একটা ভিডিও চলে আসে। সেটা অ্যানালাইসিস করে, তারপরে মামলাটা দেয়া হচ্ছে।’ প্রযুক্তির এই ব্যবহার রাজধানীর যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।